শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১০:১৪ পি.এম
ঢাকা আবাহনী টানা চার ম্যাচে অপরাজিত থাকার পর শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বাংলাদেশ ফুটবল লিগে ব্রাদার্স ইউনিয়নের কাছে ২-১ গোলে পরাজিত হয়েছে।
গোপালগঞ্জ জেলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে তিনজন খেলোয়াড় লাল কার্ড দেখেছেন, যার মধ্যে দুজন ব্রাদার্সের। প্রথমার্ধে ব্রাদার্স লিড নেয়। ২৭ মিনিটে আলী রাজার গোলে তারা এগিয়ে যায়। আবাহনী দ্বিতীয়ার্ধে রবিউলের গোলে সমতা ফেরায়। তবে তারা এই স্কোরলাইন ধরে রাখতে পারেনি।
৭৬ মিনিটে ম্যাচের প্রথম গোলদাতা হাসান ব্রাদার্সকে ২-১ গোলে আবারও এগিয়ে নেন। এবারের মৌসুমে ব্রাদার্সের এটি প্রথম জয়, যা তারা ৫ ম্যাচে অর্জন করেছে। বাকি চার ম্যাচের মধ্যে তারা দুটিতে ড্র এবং দুটিতে পরাজিত হয়েছে। টেবিলের অবস্থান আট নম্বরে রয়েছে তাদের। অন্যদিকে, আবাহনী ৭ পয়েন্ট নিয়ে পাঁচ নম্বরে অবস্থান করছে।
চাঁদপুর স্টেডিয়ামে দিনের অন্য একটি ম্যাচে রহমতগঞ্জ ফকিরেরপুলকে ৩-২ গোলে পরাজিত করেছে। রহমতগঞ্জের পক্ষে গোলদাতা সাজ্জাদ হোসেন, অভিষেক লিম্বু এবং ইব্রাহিমা সেনে, অপরদিকে ফকিরেরপুলের জন্য দুটি গোল করেন সুলিমান দিয়াবাতে। এই জয়ের ফলে রহমতগঞ্জ ৬ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের সাত নম্বরে অবস্থান করছে। ফকিরেরপুল ৩ পয়েন্ট নিয়ে ১১ নম্বরে রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
খুলনা, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ : খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু মন্তব্য করেছেন যে, সরকার পরিবেশবান্ধব নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণে আন্তরিকভাবে কাজ করছে। তিনি উল্লেখ করেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি পেলে আমদানি নির্ভরতা হ্রাস পাবে। এর ফলে বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হবে এবং একইসাথে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিদ্যুৎ খাতের আর্থিক চাপ কমানোর সুযোগ সৃষ্টি হবে।
শুক্রবার বিকেলে মোংলার নারিকেলতলা মাঠে দ্রুত নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণের দাবিতে আয়োজিত জনসমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এ কথা বলেন।
‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি, এখনই’ শীর্ষক শ্লোগানের অধীনে ধরিত্রী রায় আমরা (ধরা), ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ এবং পশুর রিভার ওয়াটারকিপার এই জনসমাবেশের আয়োজন করে।
কেসিসি প্রশাসক আরও জানান, সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। আগামী ৫ বছরে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন ভবনসমূহ, স্কুল-কলেজের ভবনসহ সকল সরকারি ভবনে সৌর প্যানেল স্থাপনের জন্য নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এই কার্যক্রমের অংশ হিসেবে রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
জনসমাবেশের সভাপতিত্ব করেন ধরিত্রী রায় আমরা (ধরা) এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সচিব এবং ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ’র সমন্বয়কারী শরীফ জামিল।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন খ্যাতিমান গবেষক শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ আলী, রিভার বাংলা সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ, মোংলা পৌর বিএনপি’র সভাপতি সাবেক পৌর মেয়র মো. জুলফিকার আলী, উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি আব্দুল মান্নান হাওলাদার, সাধারণ সম্পাদক আবু হোসেন পনি, শ্রমিক নেতা মাহবুবুর রহমান মানিক, কৃষক নেতা বদরুল আলম, সুন্দরবন ও উপকূল সুরা আন্দোলনের নিখিল চন্দ্র ভদ্র, সচেতন ফাউন্ডেশনের মো. হাবিবুর রহমান, মিশন গ্রীণ বাংলাদেশ’র আহসান রনি, হাওর অঞ্চলবাসীর জাকিয়া শিশির, কসমস সংস্থার মেহনাজ মালা, ব্রাইটার্স’র সাইদুর রহমান সিয়াম, বেঙ্গল পিস ফাউন্ডেশন’র মাসফিকুল হাসান টনি, কাইমেট ফ্রন্টিয়ার’র জুবায়ের ইসলাম এবং ওয়েব ফাউন্ডেশন’র আসাদুজ্জামান তুহিন।
সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন সুন্দরবন রায় আমরা’র সমন্বয়কারী পশুর রিভার ওয়াটারকিপার মো. নুর আলম শেখ।
জনসমাবেশে জ্বালানি নিরাপত্তার স্বার্থে সারাদেশে দ্রুত নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণে সকলকে সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি সুন্দরবন সংরক্ষণে সরকারের কার্যকর ভূমিকা রাখার দাবি জানানো হয়। এছাড়া রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ আকরাম পয়েন্টে প্রস্তাবিত এলএনজি টার্মিনাল ও পাইপলাইন স্থাপন প্রকল্প বাতিলের দাবি করা হয়। সুন্দরবন সংরক্ষণে বিজ্ঞানভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উদ্যোগ গ্রহণ, বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনসহ প্রাণ—প্রকৃতির ক্ষতি হবে এমন কোনো প্রকল্প গ্রহণ না করা এবং জ্বালানি রূপান্তরকে সবুজ, ন্যায্য, জনকেন্দ্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার জন্য সরকারের নিকট দাবি জানানো হয়।
জনসমাবেশ শেষে বাঘ মহড়া, পুতুল খেলা, বাউল গান ও গাজীর গানের মাধ্যমে পরিবেশ সুরক্ষা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে চাঞ্চল্যকর গৃহবধূ হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। স্ত্রীকে হত্যার পর বস্তাবন্দি মরদেহ পুকুরে পাথর চাপা দিয়ে গুম করার চেষ্টা করেও শেষ রক্ষা হলো না ঘাতক স্বামীর। ঘটনার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাত ১টা ৫ মিনিটে উপজেলার ভলাকুট ইউনিয়নের খাগালিয়া এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত সুশীল দাশ (৩০) ওই এলাকার কুড়ের পাড়ের বাসিন্দা। তিনি মৃত মহরলাল দাশের ছেলে।
অভিযানটি পরিচালনা করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (SRB-৯), সিপিসি-১, ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং জেলা পুলিশের যৌথ টিম।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৯ বছর আগে সুশীল দাশের সাথে রত্না রানী দাশের (২৬) বিয়ে হয়। তাদের ঘরে একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের পর থেকেই যৌতুক ও পারিবারিক নানা বিষয় নিয়ে সুশীল স্ত্রীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন।
ঘটনার প্রায় এক মাস আগে তিনি স্ত্রীকে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তিনি আর সংসার করবেন না। বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বলেন। কিন্তু অবুঝ সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে সব নির্যাতন সহ্য করেও স্বামীর বাড়িতেই থেকে যান রত্না। আর সেই থেকে যাওয়াই তার জীবনে কাল হয়ে দাঁড়াল।
পুলিশ জানায়, গত ১৭ অক্টোবর রাতে মেয়েকে নিয়ে খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন রত্না। পরদিন সকালে তাকে ঘরে না পেয়ে সুশীল দাশ নিখোঁজের নাটক সাজান। তিনি শ্বশুরবাড়িতে খবর দেন এবং নাসিরনগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
এদিকে পরিবারের লোকজন বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও কোনো সন্ধান পাচ্ছিলেন না।
অবশেষে গত ২১ অক্টোবর দুপুর ১২টার দিকে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর আসে, সুশীল দাশের বাড়ির দক্ষিণ পাশের পুকুরে একটি বস্তা ভাসছে। খবর পেয়ে রত্নার ভাই ঘটনাস্থলে গিয়ে বস্তা খুলে বোনের মরদেহ শনাক্ত করেন।
মরদেহ উদ্ধারের পর পুলিশ দেখতে পায়, রত্নার দুই হাত রশি ও কাপড় দিয়ে শক্ত করে বাঁধা। মরদেহটি বস্তায় ভরে তার সাথে বড় পাথর বেঁধে পানির নিচে ডুবিয়ে রাখা হয়েছিল, যাতে কেউ খুঁজে না পায়।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই শ্রীনিবাস দাস বাদী হয়ে সুশীল দাশকে প্রধান আসামি করে ৬ জনের বিরুদ্ধে নাসিরনগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা নং- ২১, তারিখ- ২২ অক্টোবর ২০২৬। ধারা- দণ্ডবিধি ৩০২/২০১/৩৪।
মামলা রুজুর পরপরই SRB-৯ ছায়া তদন্ত শুরু করে। গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় আসামির অবস্থান শনাক্ত করে যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাকে আদালতে প্রেরণ করে রিমান্ডের আবেদন করা হবে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দুই পায়ে চলার শক্তি নেই, লাঠিতে ভর দিয়ে গ্রাম থেকে গ্রামে ঘুরে ভিক্ষা করে চলে জীবন। কেউ পাঁচ টাকা দেন, কেউ দশ টাকা। কখনো জোটে দুমুঠো খাবার, কখনো কাটে অনাহারে। এভাবেই একটু একটু করে জমিয়েছিলেন কিছু চাল আর সামান্য টাকা। কিন্তু সেই শেষ সম্বলটুকুও রক্ষা পেল না চোরের হাত থেকে। ঘরে একা ঘুমিয়ে থাকা অসহায় প্রতিবন্ধী আব্দুল জলিলের কুঁড়েঘরে সিঁধ কেটে চাল ও জমানো টাকা চুরি করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। সকালে ঘুম থেকে উঠে সব হারানোর শোকে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।
তবে অসহায় জলিলের এমন দুর্দশার খবর পেয়ে তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন মাদারীপুর-৩ (কালকিনি-ডাসার) আসনের সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-গণশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে তিনি জলিলের বাড়িতে গিয়ে তাঁর খোঁজখবর নেন এবং আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি চালসহ বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন।
জলিলের জীবনসংগ্রাম যেন প্রতিদিনের এক কঠিন বাস্তবতা। দীর্ঘ ৮ থেকে ১০ বছর ধরে পঙ্গুত্ব বরণ করে লাঠিতে ভর দিয়ে চলাফেরা করেন তিনি। শারীরিক ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী এই মানুষটির এক বোন ছাড়া আপনজন বলতে তেমন কেউ নেই। বোন এসে রান্না করে খাইয়ে যান। আর বাকি সময়টুকু নিজের মতো করেই বেঁচে থাকার লড়াই চালিয়ে যান তিনি।
মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার পূর্ব এনায়েতনগর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কালাই সরদারের চর বেপারীকান্দির বেপারীবাড়ি এলাকায় একটি ছোট্ট কুঁড়েঘরে বসবাস করেন আব্দুল জলিল। মানুষের কাছে হাত পেতে যা পান, তা দিয়েই চলে তাঁর জীবন। ভিক্ষা করে পাওয়া চাল আর সামান্য টাকা ছিল তাঁর অনিশ্চিত জীবনের একমাত্র ভরসা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক দিন আগে রাতে জলিল যখন ঘরে একা ঘুমিয়ে ছিলেন, তখন দুর্বৃত্তরা তাঁর ঘরের সামনের দরজায় তালা লাগিয়ে পেছনের অংশ দিয়ে সিঁধ কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর ঘরে থাকা চাল ও জমানো সামান্য টাকা নিয়ে পালিয়ে যায় তারা। শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কিংবা চোরদের বাধা দেওয়ার মতো সামর্থ্যও ছিল না তাঁর।
সকালে ঘুম থেকে উঠে ঘরের এমন অবস্থা দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন জলিল। যে চাল দিয়ে কয়েক দিন খাবারের ব্যবস্থা হতো, যে সামান্য টাকা ছিল তাঁর শেষ ভরসা, সব হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন তিনি। তাঁর কান্না দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন স্থানীয় অনেকেই।
এলাকাবাসীর মতে, একজন অসহায় প্রতিবন্ধী মানুষের ঘর থেকে তাঁর বেঁচে থাকার শেষ সম্বলটুকু চুরি করে নেওয়া অত্যন্ত অমানবিক। যিনি নিজেই অন্যের সহযোগিতা ছাড়া চলতে পারেন না, তাঁর সামান্য সম্পদটুকুও নিরাপদ নয়—এ ঘটনা সমাজের মানবিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
এদিকে জলিলের দুর্দশার কথা শুনে তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন। তিনি জলিলকে আর্থিক সহায়তা ও খাদ্যসামগ্রী দেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতেও তাঁর পাশে থাকার আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে জলিলের বসবাসের কুঁড়েঘরটি পাকা করে দেওয়ারও আশ্বাস দেন তিনি।
জীবনের শেষ সম্বল হারিয়ে যখন চোখের জলে দিন কাটছিল জলিলের, তখন এই সহায়তা তাঁর মনে কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়ে দিয়েছে। এখন অসহায় এই মানুষটির প্রত্যাশা, মাথা গোঁজার নিরাপদ একটি ঘর আর দুবেলা খাবারের নিশ্চয়তা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায় নেওয়ার পর, ক্লাব ফুটবলেও নেইমার জুনিয়রকে কতদিন দেখা যাবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে মাঠের ফুটবলকে বিদায় জানানোর পর তিনি কীভাবে নিজের জীবনকে সাজাবেন, সে বিষয়ে মুখ খুলেছেন এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। সান্তোসের এই তারকা অবসরের পর প্রথম পুরো একটি বছর কোনো পেশাদার দায়বদ্ধতা ছাড়া কেবল ‘অলস’ সময় কাটানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
ব্রাজিলে ‘ভারান্দা গুরমে’ নামক এক অনুষ্ঠানে মৌরিসিও মেইরেলেস ও ড্যানিয়েল জুকারম্যানের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে নেইমার তার অবসরোত্তর পরিকল্পনা এবং মাঠের বাইরের জীবন নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন। পেশাদার ফুটবলের দীর্ঘদিনের কঠোর নিয়মকানুন থেকে মুক্তি পেয়ে তিনি নিজের স্বাধীনতা পুরোপুরি উপভোগ করতে চান। অবসরের প্রথম বছরের পরিকল্পনা নিয়ে হাসতে হাসতে নেইমার বলেন, “অবশ্যই, আমি যখন খেলা ছেড়ে দেব, তখন প্রথম একটা বছর কিছু করব না। খালি বসে বসে অলস সময় পার করব। তখন আমার রুটিনটা হবে এমন—আজকে আমার ফুটবল খেলতে ইচ্ছা করছে, তাই খেলতে যাব। আজ আমার কিছু করতে ইচ্ছা করছে না, তো কিছু করব না।”
অবসরের পর কখন আনন্দের জন্য ফুটবলে ফিরবেন কিংবা কখন অলস সময় কাটাবেন—সে সিদ্ধান্তও সম্পূর্ণ নিজের মতো করে নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন এই তারকা। সাক্ষাৎকারে তিনি নিজের সন্তানদের সঙ্গে দৈনন্দিন জীবন নিয়েও কথা বলেন। নিয়মিত অনুশীলন ও ফিজিওথেরাপি সেশনের চরম ব্যস্ততার মধ্যেও তিনি পরিবারের জন্য সময় বের করে নেন। সন্তানরা যা পছন্দ করে, সে অনুযায়ী সময় কাটানোকে প্রাধান্য দেন এই ব্রাজিলিয়ান তারকা।
মেয়ের পছন্দ প্রসঙ্গে নেইমার জানান, তার মেয়ে ‘শ্রেক’ ও ‘দ্য গ্রিঞ্চ’-এর মতো অ্যানিমেটেড সিনেমা খুব পছন্দ করে। তাই ব্যস্ত রুটিনের ফাঁকে মেয়ের পাশে বসে সিনেমা দুটি উপভোগ করেন তিনি। মাঠের রাজত্ব শেষে নেইমার যে নিজের মতো করে সাধারণ এক পারিবারিক ও স্বাধীন জীবন উপভোগের অপেক্ষায় আছেন, তা তার এই সাক্ষাৎকারেই স্পষ্ট।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ