ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মালিবাগ মোড়ের এসটিএস সরাতে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে: ডিএসসিসি প্রশাসক


মালিবাগ মোড়ের এসটিএস সরাতে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে: ডিএসসিসি প্রশাসক

রাজধানীর মালিবাগ মোড়ের রাস্তার ওপর অবস্থিত সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) সরানোর জন্য দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম। তিনি উল্লেখ করেন, একই এলাকার কাছাকাছি নতুন এসটিএস স্থাপন করা হবে।

আজ শনিবার, রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি কার্যালয়সংলগ্ন এলাকায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে সাপ্তাহিক বিশেষ মশকনিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশগ্রহণ করে তিনি এই তথ্য জানান।

ডিএসসিসি প্রশাসক আরও জানান, সিআইডির অনুরোধের প্রেক্ষিতে কার্যালয়ের সামনে অবস্থিত এসটিএসের জায়গাটি গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য ইজারা দেওয়া হয়েছে। একইসাথে, যদি এলাকায় হকাররা আবারও রাস্তা দখল করে বসে, তবে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।

আরও পড়ুন: নাহিদ ইসলাম: বিএনপি-ছাত্রদলের দুর্দিনে বহু কান্ডারী ভুক্তভোগী

প্রশাসক বলেন, ‘নগরীর পরিবেশ রক্ষা এবং যানজট কমানোর লক্ষ্যে হকার এবং অটোরিকশার সমস্যা সমাধানে সিটি করপোরেশন কাজ করছে।’

এছাড়া, ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতার ওপর গুরুত্বারোপ করে নগরবাসীকে নিজেদের ঘরবাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার আহ্বান জানান তিনি।

পরে মালিবাগ এলাকায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়ার পাশাপাশি ফুটপাত দখল করে বসা হকার ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

আরও পড়ুন: ঘোষণা দিয়েও নিরাপত্তার কারণে ঢাকা-রিয়াদ সরাসরি ফ্লাইট চালু করতে পারল না সৌদি এয়ারলাইন্স

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বগুড়ার শেরপুরে ৩ হাজার কোটি টাকার ফ্লাইওভার প্রকল্পের অনুমোদন, প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ হারেজের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:০০ পি.এম


বগুড়ার শেরপুরে ৩ হাজার কোটি টাকার ফ্লাইওভার প্রকল্পের অনুমোদন, প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ হারেজের

বগুড়ার শেরপুর উপজেলাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত ফ্লাইওভার নির্মাণ প্রকল্পের অনুমোদন ও অর্থ বরাদ্দের ঘোষণায় আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছেন, প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে উপজেলার ধুনট মোড় থেকে হাজীপুর পর্যন্ত ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হবে।

প্রকল্পের ঘোষণার পর, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও শেরপুর স্বার্থরক্ষা পরিষদের নেতা কেএম মাহবুবার রহমান হারেজ। এ উপলক্ষে তিনি শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাতে শেরপুর শহরের স্যানালপাড়ায় নিজের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বগুড়ার হোটেল মম ইন-এর কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ধুনট মোড় থেকে হাজীপুর পর্যন্ত ফ্লাইওভার নির্মাণের ঘোষণা দেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কথা জানানো হলে শেরপুর উপজেলাজুড়ে আনন্দ ও আশার সঞ্চার হয়।

শেরপুরবাসীর দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত ফ্লাইওভার নির্মাণের দাবিতে ২০২৩ সাল থেকে আন্দোলন চালিয়ে আসছিল শেরপুর স্বার্থরক্ষা পরিষদ। বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য কেএম মাহবুবার রহমান হারেজ এই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। প্রায় তিন বছর ধরে চলা দাবি আদায়ের প্রচেষ্টার পর ফ্লাইওভার নির্মাণের ঘোষণা আসায় সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। শেরপুর বাসস্ট্যান ব্যবসায়ী সমিতি, শেরপুর নাগরিক কমিটি সহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকেও আন্দোলন কর্মসূচি পালন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে হারেজ বলেন, "শেরপুরবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত ফ্লাইওভার নির্মাণের ঘোষণা এলাকার মানুষের জন্য আশাব্যঞ্জক।" এ প্রকল্পের অনুমোদন ও অর্থ বরাদ্দের উদ্যোগে যারা ভূমিকা রেখেছেন, তাঁদের প্রতি তিনি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাচ্ছেন।

হারেজ আরো বলেন, "দীর্ঘদিন ধরে বগুড়া উন্নয়নবঞ্চনার শিকার হয়েছে।" বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার বগুড়ার উন্নয়নে হাজার হাজার কোটি টাকার মেগা প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এসব উদ্যোগের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

এছাড়া, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার জন্য স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এবং বগুড়া জেলার অন্যান্য জাতীয় সংসদ সদস্যদের ধন্যবাদ জানান হারেজ।

শেরপুরের ফ্লাইওভার নির্মাণের উদ্যোগে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার জন্য শেরপুর-ধুনট নির্বাচনী এলাকার সংসদ সদস্য আলহাজ্ব গোলাম মোহাম্মদ সিরাজের প্রতিও আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

শেরপুরের ধুনট মোড় থেকে হাজীপুর পর্যন্ত প্রস্তাবিত ফ্লাইওভারটি নির্মিত হলে এলাকার যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, যানজট নিরসন এবং মানুষের যাতায়াত সহজ করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে স্থানীয়দের প্রত্যাশা। দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলের মানুষের উত্থাপিত দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রকল্পটির ঘোষণা স্থানীয়ভাবে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।

শেরপুরবাসীর প্রত্যাশা, ঘোষিত প্রকল্পের পরবর্তী প্রশাসনিক ও বাস্তবায়ন কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হবে এবং দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত ফ্লাইওভার নির্মাণের মাধ্যমে এলাকার যোগাযোগব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নাইরোবিতে নির্মাণাধীন বহুতল ভবন ধসে সাতজন নিখোঁজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:০০ পি.এম


নাইরোবিতে নির্মাণাধীন বহুতল ভবন ধসে সাতজন নিখোঁজ

ঢাকা, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬ : নাইরোবির নির্মাণাধীন একটি বহুতল ভবন ধসে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে সাতজন আটকা পড়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, শুক্রবারের এই দুর্ঘটনার পর তাদের উদ্ধার করার জন্য অভিযান শুরু করা হয়েছে।

এএফপি সংবাদ সংস্থার খবর অনুযায়ী, অনলাইনে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, ১৬ তলা ভবনটি বিকট শব্দে ধসে পড়ছে এবং চারপাশে ধুলোর বিশাল মেঘ ছড়িয়ে পড়ছে।

ঘনবসতিপূর্ণ বাণিজ্যিক ও আবাসিক এলাকা ইস্টলেইয়ে এই ঘটনা ঘটে। ভবনটি ধসে পড়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর, আশপাশে উঁচু ভবন থাকায় ধ্বংসস্তূপের কাছে পৌঁছাতে তাদের বেগ পেতে হয়।

শুক্রবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কিপচুম্বা মুরকোমেন জানান, ভবনটির নিচতলা ও বেসমেন্টে থাকা ১১টি দোকান দুর্ঘটনার সময় খোলা ছিল। এছাড়া সাতজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

তিনি আরও বলেন, ভবন নির্মাণের কাজে নিয়োজিত ৬৭ জনের মধ্যে ৬৬ জন অক্ষত অবস্থায় বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছেন। একজন আহত হয়েছেন।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ধ্বংসস্তূপ থেকে একজন নারীকে উদ্ধার করা হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে আরও একজনের কণ্ঠস্বর শোনা যাচ্ছিল বলেও তারা জানান।

কেনিয়ার ইনস্টিটশন অব ইঞ্জিনিয়ারিং টেকনোলজির সভাপতি বিবিয়ে মাহমুদ এএফপিকে বলেন, ‘নির্মাণকাজ যথাযথভাবে হচ্ছে কি না— তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব ঠিকাদার ও প্রকৌশলীদের। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা করা হয় না।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ কারণেই আমরা এ ধরনের বিপর্যয় দেখছি। এখানে জবাবদিহির অভাব রয়েছে।’

কেনিয়ার ন্যাশনাল বিল্ডিং ইনস্পেক্টরেটের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর দেশজুড়ে পরিদর্শন করা ভবনগুলোর ৮৭ শতাংশই নির্ধারিত মান পূরণ করতে পারেনি অথবা এতে প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছিল না।

নাইরোবির গভর্নর জনসন সাকাজা সাংবাদিকদের জানান, ‘আমাদের প্রধান লক্ষ্য মানুষের জীবন রক্ষা করা।’ তিনি আরও জানান, ধসে পড়া ভবনটির ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতিপত্র ছিল না।

সাকাজার ভাষায়, ‘এর কারণে মানুষের প্রাণহানি ঘটে থাকতে পারে।’ ভবনের ব্যবহার-অনুমতিপত্র হলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ছাড়পত্র, যা নিশ্চিত করে যে ভবনটি নিরাপদ এবং আইনগতভাবে ব্যবহারের উপযোগী।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত কেনিয়ার ইনস্টিটশন অব ইঞ্জিনিয়ার্সের ভাইস প্রেসিডেন্ট জন ওগালো সাংবাদিকদের বলেন, ভবনটি ধসে পড়ার আগেই কিছু সতর্কসংকেত দেখা গিয়েছিল। তিনি বলেন, ‘এখানকার লোকজন বলছেন, ভবনটিতে ফাটলের মতো সমস্যার লক্ষণ দেখা গিয়েছিল।’

নির্মাণে ভুল উপকরণ ব্যবহার করা হলে ভবনটি ‘একটি টাইম বোমায়’ পরিণত হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

নাইরোবিতে দ্রুতগতিতে নির্মাণকাজ চলছে। শহরের বিভিন্ন এলাকায়, বিশেষ করে ব্যস্ত বাজার ও সোমালি সম্প্রদায়ের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ইস্টলেইয়ে, একের পর এক বহুতল ভবন গড়ে উঠছে।

পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, নাইরোবিতে বছরে সম্পন্ন হওয়া ভবনের সংখ্যা ২০২২ সালের ২০ হাজার ২৫ থেকে বেড়ে গত বছর ২৫ হাজার ৯০টিতে দাঁড়িয়েছে। পূর্ব আফ্রিকার অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র হওয়ায় গ্রামাঞ্চল ও প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে বহু মানুষ এখানে আসছেন।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, দুপুরের দিকে ভবনটি ধসে পড়ার পরপরই সেখানে লুটপাটের ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলের কাছে জড়ো হওয়া জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশকে কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করতে দেখা গেছে।

কেনিয়া ইনস্টিটিউট ফর পাবলিক পলিসি রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিসিসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৯ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত নাইরোবিতে ৮৬টি ভবন ধসের ঘটনা ঘটে। এতে আনুমানিক ২০০ জনের প্রাণহানি ঘটে।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, দুর্নীতির কারণে ঠিকাদারদের অনেকে নির্মাণকাজে নিয়মকানুন এড়িয়ে চলার কিংবা নিম্নমানের কাজ করার সুযোগ পান। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে নাইরোবির উপকণ্ঠের একটি শহরে ছয়তলা ভবন ধসে পাঁচজন মারা যায়।

এর আগে ২০১৬ সালের এপ্রিলে রাজধানীর উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ছয়তলা একটি আবাসিক ভবন ধসে ৪৯ জনের মৃত্যু হয়। কয়েক দিন ধরে ভারী বৃষ্টির কারণে বন্যা ও ভূমিধসের পর ওই দুর্ঘটনা ঘটেছিল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ডিআর কঙ্গোতে ইবোলার টিকার ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:০১ পি.এম


ডিআর কঙ্গোতে ইবোলার টিকার ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু

ঢাকা, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬ : গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে (ডিআর কঙ্গো) ছড়িয়ে পড়া ইবোলা মহামারি মোকাবিলার জন্য প্রথমবারের মতো টিকার ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু করা হয়েছে।

শুক্রবার এই তথ্য জানিয়েছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রধান।

খবরটি বার্তা সংস্থা এএফপি’র মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

ডিআর কঙ্গোতে বর্তমান ইবোলার প্রাদুর্ভাবটি দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ইতোমধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা ৯ হাজার ৭০০ ছাড়িয়ে গেছে এবং মৃতের সংখ্যা ৪ হাজার ৬০০-এর বেশি হয়েছে।

এই মহামারি মোকাবিলার ক্ষেত্রে একটি বড় বাধা হলো বান্দিবুগিও প্রজাতির ইবোলা ভাইরাসের বিরুদ্ধে কোনো অনুমোদিত টিকা বা চিকিৎসা না থাকা।

ইবোলার তুলনামূলকভাবে বেশি পরিচিত জাইরে প্রজাতির বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য অনুমোদিত ‘এরভেবো’ টিকা এবার ডিআর কঙ্গোতে ব্যাপকভাবে মানবদেহে পরীক্ষার জন্য ব্যবহার করা হবে। এই পরীক্ষার মাধ্যমে বান্দিবুগিও প্রজাতির ভাইরাসের বিরুদ্ধে টিকাটি কিছুটা সুরক্ষা প্রদান করতে পারে কি না— তা যাচাই করা হবে।

শুক্রবার ডিআর কঙ্গোর উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশের রাজধানী বুনিয়ায় প্রথম ব্যক্তিকে এরভেবো টিকা দেওয়ার মাধ্যমে এই পরীক্ষা শুরু হয়। ইতুরি প্রদেশ বর্তমানে ইবোলা প্রাদুর্ভাবের অন্যতম কেন্দ্র।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান তেদরোস আধানম গেব্রেয়াসুস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘বিজ্ঞান আমাদের আশা জোগায়। আজ ডিআর কঙ্গোর বুনিয়ায় ‘তুমাইনি’ নামে নতুন ইবোলা টিকার পরীক্ষায় প্রথম অংশগ্রহণকারীদের টিকা দেওয়া হয়েছে। সোয়াহিলি ভাষায় ‘তুমাইনি’ শব্দের অর্থ ‘আশা’।’

তিনি উল্লেখ করেন, ‘এই পরীক্ষার মাধ্যমে বান্দিবুগিও ভাইরাসের জন্য তৈরি সম্ভাব্য টিকাগুলোর মধ্যে কোনোটি কার্যকর কি না— তা বোঝা যাবে।’

এছাড়া, বিদ্যমান এরভেবো টিকাটিও পরীক্ষা করা হবে বলে তিনি জানান।

তেদরোস আরও বলেন, ‘সমাধান খুঁজে বের করা ও মানুষের জীবন বাঁচানোর লক্ষ্যে ডিআর কঙ্গোর নেতৃত্বে পরিচালিত এই উদ্যোগে সহায়তা করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।’

‘তুমাইনি’ নামের এই পরীক্ষার আওতায় একটি সমন্বিত কাঠামোর মধ্যে একাধিক টিকার নিরাপত্তা, কার্যকারিতা ও শরীরে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা তৈরির সক্ষমতা যাচাই করা হবে।

এই পরীক্ষায় ‘রিং ভ্যাকসিনেশন’ পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে, অর্থাৎ, সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা আক্রান্ত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে আসা মানুষদেরকে এই টিকা দেওয়া হবে।

বান্দিবুগিও ভাইরাসের জন্য বিশেষভাবে তৈরি আরও দুটি সম্ভাব্য টিকা পরীক্ষায় যুক্ত করার প্রস্তুতি চলছে। বর্তমানে টিকা দুটি ছোট পরিসরে প্রাথমিক পর্যায়ের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

একটি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের তৈরি ‘চ্যাডক্স১’ অ্যাডেনো ভাইরাসভিত্তিক টিকা এবং অন্যটি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মডার্না প্রতিষ্ঠানের তৈরি এমআরএনএ প্রযুক্তির টিকা।

মহামারি মোকাবিলায় প্রস্তুতি জোরদার করার লক্ষ্যে কাজ করা সংস্থা ‘কোয়ালিশন ফর এপিডেমিক প্রিপেয়ার্ডনেস ইনোভেশনস’ (সিইপিআই) উভয় টিকার গবেষণায় অর্থায়ন করেছে।

সংস্থাটি জানিয়েছে, শিগগিরই টিকা দুটি এ পরীক্ষায় যুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সিইপিআইয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আক্রান্ত জনগোষ্ঠী, স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ও মহামারি মোকাবিলায় নিয়োজিত অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে তুমাইনি ট্রায়াল। এর মাধ্যমে টিকার কার্যকারিতা সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ সংগ্রহ করা হবে, যা মহামারি নিয়ন্ত্রণ, মানুষের জীবন রক্ষা এবং ভবিষ্যতে বান্দিবুগিও ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলার প্রস্তুতি জোরদারে সহায়তা করতে পারে।

এ পরীক্ষায় গর্ভবতী নারী ও ১২ বছর বা তার বেশি বয়সী শিশু-কিশোরদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হবে। ফলে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে যেসব জনগোষ্ঠীকে প্রায়ই বাদ রাখা হয়, তাদের ক্ষেত্রেও টিকার নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যাবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জরুরি স্বাস্থ্য পরিস্থিতিবিষয়ক পরিচালক চিকওয়ে ইহেকওয়াজু বলেন, ঝুঁকিতে থাকা মানুষকে পরীক্ষাধীন টিকাগুলো সুরক্ষা দিতে পারবে কি না— তা নির্ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ সংগ্রহ করাই এই পরীক্ষার উদ্দেশ্য।

তিনি আরও বলেন, ‘পরীক্ষাটি সফল হলে বান্দিবুগিও ভাইরাসের বিরুদ্ধে টিকার কার্যকারিতা সম্পর্কে এই প্রথমবারের মতো সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যাবে। এটি হবে বড় ধরনের অগ্রগতি, যা বর্তমান প্রাদুর্ভাব মোকাবিলার পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনতে পারে, ভবিষ্যতের প্রাদুর্ভাবের প্রস্তুতি জোরদার করতে পারে ও মানুষের জীবন বাঁচাতে সহায়তা করতে পারে।’

শরীরের বিভিন্ন তরলের সংস্পর্শে ছড়ানো ইবোলা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে রক্তক্ষরণজনিত জ্বর হতে পারে। গত ৫০ বছরে আফ্রিকায় এই ভাইরাসে ১৫ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

ডিআর কঙ্গোতে ইবোলা মোকাবিলার কার্যক্রমের দায়িত্বে থাকা স্টিভ আহুকা-মুন্দেকে বলেন, ‘আক্রান্ত জনগোষ্ঠীর জরুরি প্রয়োজন মেটানোর লক্ষ্যে ইবোলা মোকাবিলার কার্যক্রমে এই পরীক্ষাকে যুক্ত করা একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।’

গত ১৫ মে ডিআর কঙ্গোতে দেশটির ইতিহাসে ইবোলার ১৭তম প্রাদুর্ভাব ঘোষণা করা হয়।

এর দুই দিন পর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এ পরিস্থিতিকে আন্তর্জাতিক উদ্বেগের জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা হিসেবে ঘোষণা করে। এটি সংস্থাটির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সতর্কতার স্তর।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইলিশ রক্ষায় যমুনায় অভিযান, ১২লাখ টাকার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল পুড়িয়ে ধ্বংস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:০১ পি.এম


ইলিশ রক্ষায় যমুনায় অভিযান, ১২লাখ টাকার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল পুড়িয়ে ধ্বংস

মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে সিরাজগঞ্জের চৌহালীর যমুনা নদীতে অভিযান পরিচালনা করে উপজেলা মৎস্য বিভাগ ৮০ হাজার মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল এবং ৩ কেজি ইলিশ মাছ জব্দ করেছে। জব্দ করা এসব জালের আনুমানিক বাজারমূল্য ১২ লাখ টাকা। এ সময় প্রায় ৩ কেজি ইলিশ মাছ বিতরণ করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২৬-এর আওতায় চৌহালী উপজেলার যমুনা নদীতে অভিযানটি পরিচালনা করেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো: রকিবুল ইসলাম। অভিযানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সহযোগিতা প্রদান করেন। এ সময় সিনিয়র ক্ষেত্র সহকারী মো: শফিকুল ইসলামসহ মৎস্য বিভাগের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

অভিযান শেষে জব্দ করা অবৈধ কারেন্ট জাল জনসম্মুখে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। অন্যদিকে, জব্দ করা ইলিশ মাছ অসহায় দরিদ্র ব্যক্তিদের মধ্যে বিতরণ করা হয়।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো: রকিবুল ইসলাম জানান, মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ, মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করা এবং ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অবৈধভাবে মাছ আহরণ বন্ধে আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে।

তিনি আরও জানান, মা ইলিশ রক্ষায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন এবং নদীতে অবৈধ জালের ব্যবহার বন্ধে মৎস্য বিভাগের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%