শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৪:৫৭ এম
বাগেরহাটে গলদা চিংড়ির রেণুর সংকটের কারণে উপকূলীয় অঞ্চলের হাজার হাজার চাষি চরম বিপদের সম্মুখীন হয়েছেন। জেলার ৫৪ হাজারেরও বেশি ঘেরে প্রতি বছর ৫৮ কোটি ৬০ লাখ রেণুর বিশাল চাহিদা থাকা সত্ত্বেও, স্থানীয় হ্যাচারিগুলোর উৎপাদন ক্ষমতা চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য।
সরকারি ও বেসরকারি ৯টি হ্যাচারির মধ্যে চারটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় সংকট আরো তীব্র রূপ ধারণ করেছে। ফলে, ভরা মৌসুমেও প্রয়োজনীয় রেণু না পেয়ে চাষিরা আড়তে আড়তে ঘুরছেন। একদিকে চড়া দাম ও বাড়তি যাতায়াত খরচ, অন্যদিকে সময়মতো পোনা ছাড়তে না পারায় বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন তারা। ভুক্তভোগী চাষিরা অবিলম্বে বন্ধ হ্যাচারিগুলো চালুর দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় মৎস্য অফিসের তথ্য অনুযায়ী, বাগেরহাট জেলায় বর্তমানে ৫৪ হাজার ৮৪৮টি গলদা চিংড়ির ঘের রয়েছে। এসব ঘেরে প্রতি বছর প্রায় ৫৮ কোটি ৬০ লাখ রেণুর প্রয়োজন হয়। তবে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, বর্তমানে সচল স্থানীয় হ্যাচারিগুলো থেকে উৎপাদিত রেণু দিয়ে মোট চাহিদার মাত্র ৪ শতাংশ পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে। বাকি ৯৬ শতাংশ চাহিদা অপূর্ণ থেকে যাচ্ছে অথবা ভিন্ন উপায়ে সংগ্রহ করতে হচ্ছে।
বাগেরহাট সদর উপজেলার খানপুর এলাকার চিংড়িচাষি বোরহান মল্লিক তার হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে আমি চিংড়ি চাষ করছি। কিন্তু এবারের মতো সংকটে কখনো পড়িনি। বছরের শুরুতে ধারদেনা করে বাগদা চিংড়ি চাষ শুরু করেছিলাম, কিন্তু ভাইরাসের মড়কে সব শেষ হয়ে যায়। ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এবার ১০০ বিঘার ঘেরে দেড় লাখ গলদা রেণু ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেই। কিন্তু পাঁচ-সাতবার আড়তে গিয়েও একসঙ্গে পোনা পাইনি। ভেঙে ভেঙে ১০-১৫ হাজার করে বেশি দামে কিনতে হয়েছে। এতে উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে গেছে।’
একই পরিস্থিতিতে পাশের চাকশ্রী গ্রামের চাষি বদিউজ্জামানের অবস্থাও একই। এপ্রিল থেকে জুন মাস গলদার রেণু ছাড়ার উপযুক্ত সময় হলেও, মৌসুমের শেষ দিকে এসেও তিনি প্রয়োজনীয় পোনা সংগ্রহ করতে পারেননি।
সরেজমিনে বাগেরহাট-খুলনা মহাসড়কের ফুলবাড়ী এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ব্র্যাক হ্যাচারিটি দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। এর চারপাশ ঝোপঝাড়ে ছেয়ে গেছে, মূল্যবান অবকাঠামো ও যন্ত্রপাতি নষ্ট হচ্ছে। একই দশা বাগেরহাট প্রন হ্যাচারি এবং মোরেলগঞ্জের রূপা গলদা হ্যাচারির। লোকসানের মুখে পড়ে হ্যাচারিগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানান বন্ধ একটি হ্যাচারির দায়িত্বরত কর্মী রহিম গাজী।
বাগেরহাট চিংড়িচাষি সমিতির সভাপতি ফকির মহিতুল ইসলাম সুমন বলেন, ‘বাস্তবে রেণুর চাহিদা সরকারি হিসেবের চেয়েও বেশি। বন্ধ বেসরকারি হ্যাচারিগুলো জরুরি ভিত্তিতে সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে সচল করা না গেলে এই শিল্প টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে।’
বাগেরহাট জেলা মৎস্য কর্মকর্তা রাজ কুমার বিশ্বাস জানান, জেলার ৯টি হ্যাচারির মধ্যে পাঁচটি চালু এবং চারটি বন্ধ রয়েছে। বন্ধ হ্যাচারিগুলো চালু থাকলে চাহিদার অন্তত ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পূরণ করা সম্ভব হতো। তিনি আরো বলেন, ‘আমরা বন্ধ হ্যাচারিগুলোর মালিকদের লাইসেন্স নবায়ন করে কার্যক্রম শুরু করতে বারবার চিঠি দিয়েছি। কিন্তু কোনো সাড়া না পাওয়ায় তাদের লাইসেন্স বাতিলের চূড়ান্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চাঁপাইনবাবগঞ্জ, যা আমের রাজধানী হিসেবে পরিচিত, সেখানে এবার ‘ম্যাংগো পিল টি’ বা আমের খোসার চা তৈরির মাধ্যমে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। ফেলে দেওয়া আমের খোসাকে প্রক্রিয়াজাত করে এই ব্যতিক্রমী চা তৈরি করছেন জেলার ভোলাহাট উপজেলার তিন শিক্ষিত বন্ধু—মাইনুল ইসলাম, মিঠুন ও মাসুম। উদ্যোক্তাদের দাবি, দেশে আমের খোসা দিয়ে বাণিজ্যিকভাবে চা তৈরির এই উদ্যোগ প্রথমবারের মতো শুরু হয়েছে।
এখন পর্যন্ত অল্প পরিসরে শুরু হয়েছে এই চায়ের উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ। বর্তমানে মান ও প্যাকেজিং অনুযায়ী প্রতি কেজি ম্যাংগো পিল টি দুই হাজার থেকে চার হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এর ব্যতিক্রমী স্বাদের কারণে স্থানীয় চা-প্রেমী ও ক্রেতাদের মধ্যে পণ্যটি নিয়ে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে।
উদ্যোক্তা মাইনুল ইসলাম জানান, আমের মৌসুমে আম খাওয়ার পর খোসার একটি বড় অংশ ফেলে দেওয়া হয়। সেই বর্জ্যকে সম্পদে রূপ দেওয়ার চিন্তা থেকেই তারা এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। তারা রোদে শুকিয়ে ও বিশেষ প্রক্রিয়ায় এটি তৈরি করছেন। বিদেশ থেকে দামি মেশিন আমদানি না করে, স্থানীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে অর্ধেক খরচে একটি বিশেষ হিটার মেশিন তৈরি করেছেন। তবে প্রয়োজনীয় মূলধন ও আধুনিক প্রযুক্তির অভাবে তারা বড় পরিসরে উৎপাদনে যেতে পারছেন না। সরকারি ও বেসরকারি সহায়তা পেলে এটি দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও রপ্তানি সম্ভব হবে।
এদিকে, এই কৃষিভিত্তিক উদ্যোগে দারুণ সম্ভাবনা দেখছেন স্থানীয় কৃষি বিভাগ। ভোলাহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুলতান আলী বলেন, ‘কৃষিপণ্যের অব্যবহৃত অংশ কাজে লাগিয়ে নতুন পণ্য তৈরি করা গেলে অপচয় কমবে এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।’
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা মোমিনুল হক বলেন, ‘প্রয়োজনীয় মান নিয়ন্ত্রণ, আকর্ষণীয় প্যাকেজিং ও ব্র্যান্ডিং নিশ্চিত করা গেলে দেশীয় বাজারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও পণ্যটি জায়গা করে নিতে পারবে। এতে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের নতুন পথও খুলতে পারে।’
আমকে ঘিরে আচার, আমসত্ত্ব বা জুস তৈরি হলেও ফেলে দেওয়া খোসা থেকে চা তৈরির এই উদ্যোগ চাঁপাইনবাবগঞ্জের অর্থনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তবে ম্যাংগো পিল টির বাণিজ্যিক প্রসারে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো—পণ্যের পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্যগত উপকারিতার বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন এবং একটি শক্তিশালী বাজারব্যবস্থা গড়ে তোলা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দীর্ঘ সময় ধরে দাঁড়িয়ে কাজ করার ফলে হাঁটু এবং কোমরে ব্যথা অনুভূত হতে পারে। তবে, দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলে বাতের সমস্যা দেখা দেওয়ার কোনো প্রমাণ নেই।
একটানা কাজ করা, শরীর ভুল ভঙ্গিতে বাঁকানো এবং পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাব হাঁটু, কোমর ও গোড়ালিতে ব্যথা বাড়াতে পারে। বয়স, বংশগত প্রবণতা, শরীরের অতিরিক্ত ওজন, পেশির দুর্বলতা এবং পুরনো চোটের কারণে অস্টিওআর্থ্রাইটিসের আশঙ্কা বৃদ্ধি পেতে পারে।
ব্যথা কি শুধুই ক্লান্তি?
দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে কাজ করার ফলে কোমরে, হাঁটু এবং গোড়ালিতে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়। অস্টিওআর্থ্রাইটিসের ফলে অস্থিসন্ধির হাড়ের প্রান্তে থাকা তরুণাস্থি ধীরে ধীরে ক্ষয়ে যায়। বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে অতিরিক্ত ওজন, পুরনো আঘাত এবং পেশির দুর্বলতা এই সমস্যার সঙ্গে যুক্ত হয়ে থাকতে পারে।
কাজের পর সামান্য ক্লান্তি এবং বারবার ফিরে আসা ব্যথাকে একত্রে দেখা উচিত নয়। গাঁট ফুলে যাওয়া, শক্ত হয়ে থাকা বা ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
সিঁড়ি ভাঙতে গিয়ে হাঁটুতে ব্যথা?
সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামার সময় হাঁটুতে ব্যথা অস্টিওআর্থ্রাইটিসের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে। হাঁটু ভাঁজ করে শরীরের ভার বহন করার সময় জয়েন্টে চাপ বৃদ্ধি পায়। তবে, এই ব্যথা মানেই বাত নয়। হাঁটুর হাড়ের অবস্থান, পেশি বা টেন্ডনের সমস্যার কারণে এমন হতে পারে।
দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকলে হাঁটুর চারপাশের পেশিতে ক্লান্তি আসতে পারে। কিন্তু শুধুমাত্র দাঁড়িয়ে থাকার অভ্যাসই তরুণাস্থির ক্ষয় বাড়ায়, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য যথেষ্ট প্রমাণ নেই। তাই ব্যথার কারণ বুঝতে উপসর্গের ধরন ও অস্থিসন্ধির অবস্থা খতিয়ে দেখা জরুরি।
ঘরের কাজেও প্রয়োজন বিরতি
ঘরের কাজের শারীরিক চাপকে অনেক সময় গুরুত্ব দেওয়া হয় না। একটানা দাঁড়িয়ে থাকা, বেসিনের সামনে ঝুঁকে বাসন মাজা বা নিচু তাক থেকে ভারী জিনিস তোলার ফলে কোমর ও হাঁটুতে অস্বস্তি বাড়তে পারে। চাকরির পাশাপাশি সংসারের দায়িত্ব সামলানো মহিলাদের ক্ষেত্রে বিশ্রামের অভাব এই সমস্যা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
বদল আনুন কাজের অভ্যাসে
রান্নার সময় একটানা দাঁড়িয়ে না থেকে কাজের ধরন পরিবর্তন করুন। সবজি কাটার সময় টুলে বসুন, প্রয়োজনীয় বাসনপত্র হাতের নাগালে রাখুন এবং প্রতি ৩০-৪০ মিনিট অন্তর অল্প সময়ের বিরতি নিন। ভারী পাত্র তোলার সময় তা শরীরের কাছাকাছি রাখুন। আরামদায়ক জুতো পরার পাশাপাশি উরু, কোমর ও পেটের পেশি শক্তিশালী রাখার ব্যায়ামও উপকারী।
ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হলে, গাঁট ফুলে গেলে বা হাঁটাচলায় অসুবিধা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। সংসারের কাজ এড়ানো সব সময় সম্ভব নয়, কিন্তু কাজের মাঝে বিরতি নেওয়া এবং শরীরের ভঙ্গিতে নজর রাখা জরুরি। ক্লান্তিকে স্বাভাবিক ভেবে ব্যথা উপেক্ষা করা উচিত নয়, অস্থিসন্ধির সুস্থতার জন্য প্রয়োজন সচেতনতা ও সময়মতো চিকিৎসা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার বানাই গ্রামে কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরির অভিযোগ উঠেছে, যা পরিবেশের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, চেঁচরীরামপুর ইউনিয়নের ওই এলাকায় দীর্ঘকাল ধরে এ কার্যক্রম চললেও এটি বন্ধ করার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে না। ফলে, পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সরেজমিনে পরিদর্শন করার সময় দেখা যায়, উপজেলার চেঁচরীরামপুর ইউনিয়নের তফসেরের খেয়াঘাটের পশ্চিম পাড় থেকে উত্তর দিকে বাকার খালের পাশে কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরির জন্য প্রায় ৫০টি চুল্লি স্থাপন করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এসব চুল্লিতে নিয়মিত কাঠ পোড়ানো হচ্ছে। এলাকাবাসীরা আশঙ্কা করছেন যে, এ কার্যক্রমের ফলে আশপাশের পরিবেশ এবং মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।
স্থানীয় সূত্রে অভিযোগ রয়েছে যে, রবিউল ইসলাম, রাসেল এবং সাবেক ইউপি সদস্য ফারুকের সংশ্লিষ্টতায় সেখানে কয়লা তৈরির কার্যক্রম চলছে। তবে, এই ব্যবসার প্রকৃত মালিকানা এবং এর পেছনে কারো পৃষ্ঠপোষকতা রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, শিশুদের মধ্যে অপরাধপ্রবণতা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে, কারণ তারা বিভিন্ন বাগান থেকে কাঠ কেটে এনে এসব চুল্লির মালিকদের কাছে বিক্রি করছে। স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিরা মনে করছেন, এভাবে চলতে থাকলে শিশুদের মধ্যে অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি পাবে।
এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এ কার্যক্রম চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারি নেই। তারা পরিবেশের ক্ষতি ও সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নভেম্বরের নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে মার্কিন সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে আসার বিষয়ে উচ্ছ্বাস তুঙ্গে রয়েছে, তবে বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়। মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং ইরান যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রিপাবলিকানদের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। তবে সিনেটের আসনগুলোর ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক হিসাব ডেমোক্র্যাটদের জন্যও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সিএনএনের এসএসআরএস পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, নিজ নিজ কংগ্রেসনাল আসনে পছন্দের প্রার্থীর ক্ষেত্রে রিপাবলিকানদের চেয়ে ১০ শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছেন ডেমোক্র্যাটরা। একই জরিপ অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন মাত্র ৩৩ শতাংশ।
নর্থ ক্যারোলাইনা
নর্থ ক্যারোলাইনার সিনেট আসনটি ডেমোক্র্যাটদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দলের সাবেক গভর্নর রয় কুপার রিপাবলিকান প্রার্থী মাইকেল হোয়াটলির চেয়ে জরিপে এগিয়ে রয়েছেন। প্রচারের শেষ দুই সপ্তাহে ডেমোক্র্যাটরা বিজ্ঞাপনে ১ কোটি ৩২ লাখ ডলার ব্যয়ের পরিকল্পনা করেছে। বিপরীতে রিপাবলিকানদের বরাদ্দ মাত্র ২৫ লাখ ডলার।
ওহাইও
ওহাইওতে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ও সাবেক সিনেটর শেরড ব্রাউন এবং রিপাবলিকান সিনেটর জন হুস্টেডের মধ্যে লড়াইটি হাড্ডাহাড্ডি। সিএনএনের জরিপগুলোর গড় হিসাবে ব্রাউন ৪৯ শতাংশ এবং হুস্টেড ৪৪ শতাংশ সমর্থন পেয়েছেন। নির্বাচনের শেষ দুই সপ্তাহে এই রাজ্যে দুই দল মিলিয়ে প্রায় ৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার বিজ্ঞাপনে ব্যয় করতে পারে।
আলাস্কা
আলাস্কায় ডেমোক্র্যাট সাবেক কংগ্রেস সদস্য মেরি পেলটোলা রিপাবলিকান সিনেটর ড্যান সুলিভানের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নিউইয়র্ক টাইমস ও সিয়েনার এক জরিপে পেলটোলা সাত পয়েন্টে এগিয়ে ছিলেন। ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির সমালোচনা করে সুলিভান বলেছেন, "যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়া প্রয়োজন।" কারণ এর অর্থনৈতিক প্রভাব রাজ্যটিতে পড়েছে, যার ফলে রাজ্যের গ্যাসের দাম ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে।
মেইন
মেইনে রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্সের সঙ্গে ডেমোক্র্যাট ট্রয় জ্যাকসনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা জমে উঠেছে। সাম্প্রতিক জরিপে কোনো প্রার্থীই স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে নেই। ট্রাম্পের প্রতি অসন্তোষ এবং গর্ভপাতের অধিকার নিয়ে কলিন্সের অবস্থান নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ২০২৪ সালে সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের জেতা একটি রাজ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী একমাত্র রিপাবলিকান সিনেটর হলেন কলিন্স।
টেক্সাস
টেক্সাসে ডেমোক্র্যাট জেমস টালারিকো ও রিপাবলিকান অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটনের লড়াইয়ে পরিস্থিতি হাড্ডাহাড্ডি। সিএনএনের জরিপগুলোর গড় হিসাবে টালারিকো ৪৯ শতাংশ এবং প্যাক্সটন ৪৭ শতাংশ সমর্থন পেয়েছেন।
এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা এমন তীব্র করে তোলার ক্ষেত্রে টালারিকোর দক্ষতা এবং প্যাক্সটনের রাজনৈতিক বুঝ ডেমোক্র্যাটদের আশা জাগাচ্ছে যে, তারা হয়তো অবশেষে রাজ্যব্যাপী নির্বাচনে তাদের ৩২ বছরের পরাজয়ের ধারা ভাঙতে পারবে। কিন্তু তা করতে হলে, টালারিকোকে এমন একটি রাজ্যে জিততেই হবে যেখানে ২০২৪ সালে ট্রাম্প প্রায় ১৪ পয়েন্টের ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন।
তবে নির্বাচনি বিজ্ঞাপনে রিপাবলিকানদের ব্যয় ডেমোক্র্যাটদের তুলনায় অনেক বেশি। প্রাইমারি ও সাধারণ নির্বাচন মিলিয়ে প্যাক্সটনের পক্ষে ৩৮ কোটি ডলারের বেশি বিজ্ঞাপন ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে।
মিশিগান
মিশিগানে ডেমোক্র্যাট আবদুল এল-সাইয়েদ ও সাবেক রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য মাইক রজার্সের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র হয়েছে। সিএনএনের জরিপগুলোর গড় হিসাবে এল-সাইয়েদ ৪৯ শতাংশ এবং রজার্স ৪৭ শতাংশ সমর্থন পেয়েছেন।
মিশিগানের সিনেট নির্বাচনে মুসলিম ব্রাদারহুড একটি বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। রিপাবলিকানরা ডেমোক্র্যাটিক মনোনীত প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদকে ইসলামী সন্ত্রাসের সঙ্গে জড়িত স্বার্থের প্রতি সহানুভূতিশীল হিসেবে চিত্রিত করার চেষ্টা করছে এবং এর বিপরীতে এল-সায়েদ যুক্তি দিচ্ছেন যে, সাবেক প্রেসিডেন্ট জন এফ. কেনেডি ও বারাক ওবামার মতো একই ‘দ্বৈত আনুগত্যের’ জন্য তাকে অন্যায়ভাবে অভিযুক্ত করা হচ্ছে।
শেষ দুই সপ্তাহে রিপাবলিকানদের প্রায় ২ কোটি ৭২ লাখ ডলার এবং ডেমোক্র্যাটদের দেড় কোটি ডলার ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে।
আইওয়া
আইওয়ায় ডেমোক্র্যাট জশ টুরেক ও রিপাবলিকান অ্যাশলি হিনসনের মধ্যে প্রতিযোগিতা কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে। সিএনএনের জরিপগুলোর গড় হিসাবে টুরেক ৪৭ শতাংশ এবং হিনসন ৪৬ শতাংশ সমর্থন পেয়েছেন। রাজ্যটিতে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রভাব নির্বাচনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিন-চতুর্থাংশ ভোটারের ধারণা, ট্রাম্পের নীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে।
কানসাস
কানসাসে ডেমোক্র্যাট অ্যাডাম হ্যামিল্টন রিপাবলিকান সিনেটর রজার মার্শালের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নিউইয়র্ক টাইমস ও সিয়েনার জরিপে দুজনের সমর্থন সমান দেখা গেছে। ৯৪ বছর ধরে রাজ্যটিতে কোনো ডেমোক্র্যাট সিনেটর নির্বাচিত না হওয়ায় এই লড়াই বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। অর্থনীতি ও ইরান যুদ্ধ নিয়ে অসন্তোষ মার্শালের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
নিউ হ্যাম্পশায়ার
নিউ হ্যাম্পশায়ারে ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য ক্রিস পাপাস রিপাবলিকান সাবেক সিনেটর জন সুনুনুর বিরুদ্ধে লড়ছেন। ইউনিভার্সিটি অব নিউ হ্যাম্পশায়ারের এক জরিপে পাপাস আট পয়েন্টে এগিয়ে ছিলেন। রাজ্যটিতে ট্রাম্পের কম জনপ্রিয়তা ডেমোক্র্যাট প্রার্থীর জন্য সুবিধা তৈরি করতে পারে।
জর্জিয়া
নভেম্বরে হাতবদল হওয়ার সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনা রয়েছে এমন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাজ্যগুলোর তালিকায় জর্জিয়া একেবারে তলানিতে রয়েছে, কারণ ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর জন অসফ সেই রাজ্যটিতে নিজের জয় প্রায় নিশ্চিত করে ফেলেছেন বলে মনে হচ্ছে, যেটিতে ট্রাম্প ২০২৪ সালে জয়ী হয়েছিলেন। জর্জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে পরিচালিত আটলান্টা জার্নাল-কন্সটিটিউশনের এক জরিপে দেখা গেছে, রিপাবলিকান প্রতিনিধি মাইক কলিন্সের চেয়ে অসফ ৮ পয়েন্টে এগিয়ে আছেন (৪৮% বনাম ৪০%)। এই অবস্থানের কারণে রাজ্যটি রিপাবলিকানদের হাতছাড়া হওয়ার ঝুঁকিতে থাকা আসনগুলোর তালিকায় নিচের দিকে রয়েছে।
সিএনএনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে এসব রাজ্যের ফল গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে জরিপ ও নির্বাচনি প্রচারের বর্তমান পরিস্থিতি চূড়ান্ত ফল নিশ্চিত করে না; নির্বাচনের আগের দিনগুলোতে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে যেতে পারে।
সব মিলিয়ে, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন ডেমোক্র্যাটরা। ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ভাটা, মূল্যস্ফীতি ও ইরান যুদ্ধের অর্থনৈতিক চাপ দলটির প্রার্থীদের জন্য সুযোগ তৈরি করেছে। তবে নর্থ ক্যারোলাইনা, ওহাইও, আলাস্কা ও টেক্সাসের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা কতটা তীব্র হবে, তার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। অন্যদিকে, রিপাবলিকানদের শক্তিশালী নির্বাচনি অবস্থান, বিজ্ঞাপনে বিপুল ব্যয় এবং রাজ্যভিত্তিক রাজনৈতিক সমীকরণ ডেমোক্র্যাটদের পথ কঠিন করে তুলতে পারে। ফলে জনমত জরিপে এগিয়ে থাকলেও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ শেষ পর্যন্ত কার হাতে যাবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ