০৫:৪০ পি.এম
গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার টান কালিয়াকৈর এলাকায় অবস্থিত ৪০ বছরের পুরাতন ব্রিজটি বর্তমানে মরণফাঁদে পরিণত হয়ে গেছে। ব্রিজের নিচে ভয়াবহভাবে কচুরিপানা আটকে গিয়ে নদীর মুখ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে গেছে। স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, যেকোনো সময় ব্রিজটি ধসে পড়লে বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটতে পারে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, টান কালিয়াকৈর ব্রিজের নিচ থেকে শুরু করে তুরাগ নদীর মুখে ঘাটাখালির মোহনা এবং লতিফপুর জোড়া ব্রিজের নিচ পর্যন্ত প্রায় ২০০ মিটার এলাকাজুড়ে কচুরিপানার বিশাল চাদর বিছিয়ে রয়েছে। নদীর দুই পাশে বহুতল ভবন ও নদীর উপর টিনের দোকানপাট রয়েছে, কিন্তু মাঝখানে নদীটি সম্পূর্ণরূপে কচুরিপানায় ভর্তি হয়ে গেছে। পানির কোনো স্রোত নেই। ব্রিজের পিলারের সাথে কচুরিপানার স্তূপ আটকে যাওয়ার কারণে পানির প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হয়েছে। কচুরিপানার কারণে যেন কচুরিপানারই যানজট সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, বর্তমানে টান কালিয়াকৈর ব্রিজের অবস্থা অত্যন্ত ভয়াবহ। কচুরিপানা ভয়াবহভাবে আটকে যাচ্ছে এবং যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এই ব্রিজটি প্রায় ৪০ বছর আগে নির্মিত হয়েছে এবং নির্মাণের পর থেকে বড় ধরনের কোনো সংস্কার হয়নি। প্রতিদিন এই ব্রিজ দিয়ে কালিয়াকৈর বাজার, উপজেলা পরিষদ, স্কুল-কলেজ ও গার্মেন্টসগামী হাজার হাজার মানুষ, শিক্ষার্থী ও যানবাহন চলাচল করে।
আরও পড়ুন: শেরপুরে বাস-সিএনজির সংঘর্ষে জুয়েল মিয়া নিহত, আহত ৪
১. ভিত্তি দুর্বল- ৪০ বছরের পুরাতন ব্রিজ, পিলারে মরিচা ও ফাটল দেখা দিয়েছে। কচুরিপানার অতিরিক্ত চাপে যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে।
২. জলাবদ্ধতা- কচুরিপানায় পানি আটকে থাকায় বর্ষা মৌসুমে কালিয়াকৈর পৌর এলাকার টান কালিয়াকৈর, বাজার এলাকার তুরাগ নদীর পানি ঘাটাখালীতে ঢুকতে পারছে না আবার ঘাটাখালীর পানি তুরাগে নামতে পারছে না।
৩. পরিবেশ দূষণ ও দুর্গন্ধ- পচা কচুরিপানা থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। মশার উপদ্রবে ডেঙ্গুর ঝুঁকি বাড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ শাহীন আলম (৪৫) বলেন, "সুস্থ মানুষ এখন ব্রিজের উপর দিয়ে যেতে পারে না। দুর্গন্ধে দম বন্ধ হয়ে আসে। কচুরিপানার কারণে ব্রিজের নিচে পানি আটকে ভয়ংকর শব্দ হয়। রাতে ব্রিজ পার হতে ভয় লাগে। কবে না ভেঙে পড়ে।"
আরও পড়ুন: কেন্দুয়ায় পাচারের সময় ৩২ বস্তা সার জব্দ, চালক পালিয়েছে
আরেক বাসিন্দা দুলাল চন্দ্র রায় (৬০), ব্যবসায়ী: বলেন, "এই ঘাটাখালী নদী আমাদের কৃষকের আশীর্বাদ ছিল। কংসের মতোই আমাদের জীবন ছিল। এখন সংস্কারের অভাবে মৃতপ্রায়। দ্রুত পরিষ্কার না করলে ব্রিজ ভেঙে বড় দুর্ঘটনা ঘটবে।" অটো চালক রফিকুল ইসলাম (৩৮) বলেন, "তুরাগ নদীর মুখ থেকে লতিফপুর জোড়া ব্রিজ পর্যন্ত পুরোটা ব্লক। আগে এই নদীতে নৌকা চলতো, এখন কচুরিপানার জন্য নৌকা তো দূরের কথা, পানিও দেখা যায় না। আমরা চাই দ্রুত নদী পরিষ্কার হোক।"
গৃহিণী আলেয়া বেগম (৪২) বলেন, "আমাদের বাড়ি নদীর পাশে। কচুরিপানা পচে মশা হচ্ছে, বাচ্চারা জ্বরে ভুগছে। দুর্গন্ধে ঘরে থাকা যায় না। পৌরসভা কিছুই করে না।" এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে কালিয়াকৈর উপজেলা প্রকৌশলী (LGED) জনাব মাকসুদুন নবী বলেন, "টান কালিয়াকৈর ঘাটাখালী ব্রিজটি ৩০ বছরের পুরাতন, এটা সত্য। তবে এলাকাবাসী এটাকে ৪০ বছরের পুরাতন বলছেন, কারণ রক্ষণাবেক্ষণ দীর্ঘদিন হয়নি। আমরা বিষয়টি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি। টান কালিয়াকৈর ব্রিজের নিচে লতিফপুর জোড়া ব্রিজের নিচে প্রায় ২০০ মিটার এলাকায় কচুরিপানা আটকে থাকায় পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং ব্রিজের উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ছে। আমরা জরুরি ভিত্তিতে কচুরিপানা অপসারণের জন্য পৌরসভা ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে চিঠি দিয়েছি। একইসাথে ব্রিজটির স্থায়িত্ব যাচাই করে নতুন করে সংস্কার বা পুনঃনির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। জনগণের জানমালের নিরাপত্তাই আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার।"
এ বিষয়ে গাজীপুর-১ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য *জনাব মোঃ মজিবুর রহমান বলেন, "টান কালিয়াকৈর ব্রিজের বিষয়টি আমি শুনেছি। ৩০-৩৫ বছরের পুরাতন একটি ব্রিজ, যার নিচে কচুরিপানায় ভরে গেছে - এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি ইতিমধ্যে উপজেলা প্রকৌশলী, পৌর প্রশাসক ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে নির্দেশ দিয়েছি, আগামী কিছুদিনের মধ্যে কচুরিপানা পরিষ্কার করতে হবে। তুরাগ নদীর মুখ ও লতিফপুর জোড়া ব্রিজের নিচে যে ২০০ মিটার কচুরিপানার যানজট হয়েছে, তা দ্রুত অপসারণ করতে হবে। এই ব্রিজ দিয়ে আমার নির্বাচনী এলাকার হাজার হাজার মানুষ চলাচল করে। কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রয়োজনে এই পুরাতন ব্রিজ ভেঙে নতুন আধুনিক ব্রিজ নির্মাণ করা হবে। এলাকা বাসীর জোর দাবি, দ্রুত কচুরিপানা অপসারণ ও ৪০ বছরের পুরাতন এই ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজটি দ্রুত সংস্কার বা নতুন ব্রিজ নির্মাণ করা হোক।
আরও পড়ুন: উখিয়ায় ১৫ ঘণ্টা পরও জ্বলছে গ্যাসের আগুন, ১৫ কিলোমিটার এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন