ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ইসরাইলের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ৭৭.৭ শতাংশ, ১৯৯৯ সালের পর সর্বোচ্চ


ইসরাইলের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ৭৭.৭ শতাংশ, ১৯৯৯ সালের পর সর্বোচ্চ

ইসরাইলের পার্লামেন্ট নেসেট নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ৭৭.৭ শতাংশে পৌঁছেছে। ১৯৯৯ সালের পর এই নির্বাচনে এটি সর্বোচ্চ ভোটদানের হার হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির সর্বশেষ পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে মোট ৭৩ লাখ ৩০ হাজার যোগ্য ভোটারের মধ্যে ৫৬ লাখ ৯০ হাজারেরও বেশি ভোট প্রদান করেছেন।

আরও পড়ুন: মালদ্বীপের স্পিকারের সঙ্গে বাংলাদেশের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ, আলোচনা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে

২০২২ সালের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল ৭০.৬৩ শতাংশ। এবারের নির্বাচনে ভোটদানের হার গত নির্বাচনের তুলনায় প্রায় ৭.১ শতাংশ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়েছে।

১৯৯৯ সালের নেসেট নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল ৭৮.৭ শতাংশ। প্রায় ২৭ বছর পর এবারের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি সেই রেকর্ডের কাছাকাছি পৌঁছেছে।

এর আগে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সকাল ৭টায় শুরু হয়ে রাত ১০টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয় ইসরাইলের পার্লামেন্ট নেসেটের ২৬তম নির্বাচনে।

আরও পড়ুন: ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৪৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢামেকে অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘটে মরদেহ পরিবহনে বিপাকে স্বজনরা, রোগীরাও ভোগান্তিতে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:৩২ এম


ঢামেকে অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘটে মরদেহ পরিবহনে বিপাকে স্বজনরা, রোগীরাও ভোগান্তিতে

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থায়ী পার্কিংসহ পাঁচ দফা দাবিতে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতি। তাদের ধর্মঘটের কারণে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। চিকিৎসা নিতে আসা রোগী এবং মরদেহ পরিবহনের জন্য অ্যাম্বুলেন্স না পাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়ছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা। অন্যদিকে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা করেও কোনো সমাধান না হওয়ায় বাধ্য হয়ে ধর্মঘট পালন করছেন বলে দাবি করেছেন মালিক সমিতির সদস্যরা।

অন্তঃসত্ত্বা এক আত্মীয়কে নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসেন আব্দুর রহমান। চিকিৎসক ওই রোগীকে মৃত ঘোষণা করার পর বিপাকে পড়েন তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা। মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্স না পেয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় তাদের।

আব্দুর রহমান বলেন, "অন্তঃসত্ত্বা নারীর বৃহস্পতিবার সন্তান জন্ম দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু রাত ১২টার দিকে তিনি মারা যান। মরদেহ গোসল করানো হয়েছে। এর আগে বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করে অ্যাম্বুলেন্স সংগ্রহের চেষ্টা করেছি, কিন্তু পাইনি। পরে বাইরের একটি অ্যাম্বুলেন্স ও ফ্রিজিং গাড়ির ব্যবস্থা করার চেষ্টা করি। কিন্তু গাড়ি হাসপাতালের ভিতরে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। মরদেহ নিয়ে কীভাবে বাড়ি যাব, বুঝতে পারছি না।"

হাসপাতাল চত্বরে পার্কিংয়ের জায়গা বরাদ্দের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট শুরু করেছে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতি। এতে দূরদূরান্ত থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা ভোগান্তিতে পড়েছেন। হাসপাতালের বাইরে থেকে অ্যাম্বুলেন্স আনলেও ভেতরে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন তারা।

এক রোগীর স্বজন বলেন, "আমরা অ্যাম্বুলেন্স ও ফ্রিজিং গাড়ি-কোনোটিই পাচ্ছি না। বাইরে থেকে একটি গাড়ির ব্যবস্থা করেছি, কিন্তু সেটিও ভেতরে ঢুকতে দিচ্ছে না।"

আরেক রোগীর স্বজন জানান, "ঢাকা মেডিকেলে রোগী ভর্তি করিয়েছিলাম। রাত ১১টা ১৫ মিনিটে তিনি মারা যান। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত অ্যাম্বুলেন্স খুঁজছি, কিন্তু কোনো গাড়ি পাচ্ছি না। ভেতরে যাদেরই জিজ্ঞেস করছি, তারা বলছেন, বাইরে খুঁজতে। তারা কেউ যাবেন না।"

আরেক রোগীর স্বজন জানান, "রাত ১০টার দিকে রোগীর মৃত্যু হওয়ার পর মরদেহ বাড়িতে নেয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্স খুঁজতে শুরু করি। বিভিন্নভাবে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করতে পারিনি।"

এদিকে, বাংলাদেশ অ্যাম্বুলেন্স মালিক কল্যাণ সমিতি বলছে, স্থায়ী পার্কিংয়ের জায়গা বরাদ্দসহ পাঁচ দফা দাবিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। তবে কোনো সমাধান না আসায় বাধ্য হয়ে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন তারা।

সমিতির সাধারণ সম্পাদক বাদল মাদবর বলেন, "আগে যে নীতিমালা ছিল, তাতে অ্যাম্বুলেন্সের পার্কিংয়ের বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু বিভিন্ন হাসপাতালে গেলে পার্কিংয়ের ব্যবস্থা পাওয়া যায় না। রোগী ওঠানোর জন্য হাসপাতালের সামনে গেলেও আমাদের বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হয়। সরকারি-বেসরকারি প্রায় সব হাসপাতালের সামনেই একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। আমরা সুন্দর ও সুশৃঙ্খল পার্কিংয়ের ব্যবস্থা চাই। একজন সার্জেন্ট মামলা করলে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা দিতে হয়। আমরা এই পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ চাই।"

এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ভোগান্তি কমাতে দ্রুত সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন অ্যাম্বুলেন্স চালক ও ভুক্তভোগীরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পারিবারিক নিয়ন্ত্রণ কমাতে ব্যাংক পর্ষদে নতুন ব্যবস্থা নিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:৩৩ এম


পারিবারিক নিয়ন্ত্রণ কমাতে ব্যাংক পর্ষদে নতুন ব্যবস্থা নিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক

বাংলাদেশ ব্যাংক বেসরকারি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে পারিবারিক নিয়ন্ত্রণ কমানোর সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে। ব্যাংক মালিকদের চাপ সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় ব্যাংক পরিচালকদের মেয়াদ হ্রাস এবং একই পরিবারের সদস্যসংখ্যা সীমিত রাখার প্রস্তাব বহাল রেখেছে।

গত সপ্তাহে অর্থ বিভাগে প্রেরিত ব্যাংক কম্পানি আইনের খসড়া সংশোধনীতে একটি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে একই পরিবারের সদস্যসংখ্যা তিনজন থেকে কমিয়ে দুজন করার প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি, পরিচালকদের টানা মেয়াদ ১২ বছর থেকে কমিয়ে ছয় বছর করার পাশাপাশি পুনর্নিয়োগের আগে তিন বছরের বিরতি বাধ্যতামূলক করার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নেওয়া সংস্কার প্রস্তাবে এসব পরিবর্তন অন্তর্ভুক্ত ছিল। গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সেই অবস্থান বজায় রেখেছে।

তবে, পরিচালনা পর্ষদের আকার ও স্বতন্ত্র পরিচালকের সংখ্যা নিয়ে পূর্বের প্রস্তাবে কিছু পরিবর্তন এসেছে। নতুন খসড়ায় পর্ষদের সদস্যসংখ্যা সর্বোচ্চ ২০ জন রাখার পাশাপাশি স্বতন্ত্র পরিচালকের সংখ্যা দুইজন থেকে বাড়িয়ে পাঁচজন করার প্রস্তাব করা হয়েছে। পূর্বের প্রস্তাবে পর্ষদের সদস্যসংখ্যা ১৫ জনে সীমাবদ্ধ রাখার কথা ছিল, যেখানে অন্তত অর্ধেক আসন স্বতন্ত্র পরিচালকদের জন্য নির্ধারিত ছিল।

নতুন প্রস্তাবে ঋণ বিতরণে রাজনৈতিক প্রভাব কমানোর জন্য সংসদ সদস্য, মন্ত্রী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ব্যাংকের পরিচালক হওয়ার সুযোগ বন্ধ করার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে, কৌশলগত প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের জন্য শেয়ার ধারণের ১০ শতাংশ সীমা শিথিল করার ক্ষমতা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হাতে রাখার প্রস্তাব রয়েছে।

এদিকে, ব্যাংক মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি) সংস্কারের বিরোধিতা করে আসছে। তাদের দাবি, পর্ষদে পরিবারের সদস্য সর্বোচ্চ তিনজন রাখা এবং পরিচালকদের মেয়াদ নয় বছর করা হোক।

মন্দ ঋণে বিপর্যস্ত ব্যাংকিং খাত পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে এসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মুডি’সের ১৫ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের মোট ঋণের ৩২ দশমিক ৮ শতাংশ খেলাপি।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা দ্য ডেইলি স্টারকে জানিয়েছেন, মন্ত্রিসভায় উত্থাপনের আগে আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠকে খসড়াটি পর্যালোচনা করা হবে। আসন্ন সংসদ অধিবেশনে বিলটি উত্থাপন ও পাস করাই সরকারের লক্ষ্য।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আমনের মাঠে ইঁদুরের হানায় কৃষকের স্বপ্নে দুশ্চিন্তার ছায়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:২১ এম


আমনের মাঠে ইঁদুরের হানায় কৃষকের স্বপ্নে দুশ্চিন্তার ছায়া

সবুজে মোড়ানো মাঠের দৃশ্য। আমন ধানের গাছ বাতাসে দুলছে। কৃষকরা ধানগাছে শীষ আসার অপেক্ষায় বুক বেঁধে আছেন। সেচ, সার, শ্রম এবং পরিচর্যায় গড়ে তোলা সেই স্বপ্নের ফসল ঘরে তোলার দিন গুনছেন তারা। কিন্তু মাঠের সবুজের আড়ালে এখন দুশ্চিন্তার কালো ছায়া বিরাজ করছে। রাতের আঁধারে ইঁদুরের হানা ঘটছে। ধারালো দাঁতে কেটে ফেলছে ধানগাছের গোড়া। কৃষকের চোখের সামনে নষ্ট হচ্ছে সম্ভাবনাময় ফসল, আর দুলতে থাকা সোনালি স্বপ্নে ভর করছে অনিশ্চয়তা।

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলায় চলতি মৌসুমে আমন ধানের খেতে ইঁদুরের উপদ্রব কৃষকদের নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে। বাড়তি খরচ করে সেচ দেওয়া, জমি তৈরি, চারা রোপণ ও পরিচর্যার পর এখন যখন ভালো ফলনের আশায় বুক বাঁধার কথা, তখনই ইঁদুরের আক্রমণে সেই আশায় পড়ছে ভাটা। জমির মালিকের সঙ্গে ফসল ভাগাভাগি করে নেওয়ার হিসাবেও এখন যেন তৃতীয় ভাগ বসিয়েছে ইঁদুর। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের কণ্ঠে তাই আক্ষেপ, চোখেমুখে উদ্বেগ। তাদের দাবি, ইঁদুর দমনে কার্যকর উদ্যোগ নিয়ে পাশে দাঁড়াক কৃষি বিভাগ।

ডাকাতিয়া নদীর পাড়ের কৃষিপ্রধান জনপদ ফরিদগঞ্জ। এ উপজেলার মানুষের জীবন-জীবিকার বড় একটি অংশ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। প্রায় ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ পরিবার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত। ফলে মাঠের ফসল ভালো হওয়া মানে শুধু কৃষকের মুখে হাসি ফোটা নয়, বরং অনেক পরিবারের সারা বছরের খাদ্য ও জীবিকার নিশ্চয়তা।

এবারের আমন মৌসুমেও সেই প্রত্যাশা নিয়ে মাঠে নেমেছিলেন কৃষকেরা। কেউ নিজের জমিতে, কেউবা অন্যের জমি বর্গা নিয়ে চাষ করেছেন। অনেকেই বাড়তি খরচ করে সেচ দিয়েছেন। পরিচর্যায় রেখেছেন বাড়তি মনোযোগ। ধানগাছের বেড়ে ওঠা দেখে তাদের মনে জেগেছিল ভালো ফলনের স্বপ্ন। কিন্তু কিছু এলাকায় পোকামাকড়ের আক্রমণের পাশাপাশি ইঁদুরের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় সেই স্বপ্ন এখন শংকার মুখে।

কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে ফরিদগঞ্জ উপজেলায় ৮ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিআর-২২, বিআর-২৩, ব্রি ধান-৮৭, ব্রি ধান-৪৯, ব্রি ধান-৫১ ও হাইব্রিড জাতের ধান। বিস্তীর্ণ এই আবাদি জমির কোনো কোনো অংশে ইঁদুরের আক্রমণ কৃষকদের দুশ্চিন্তা বাড়িয়ে দিয়েছে।

হর্নি দুর্গাপুর গ্রামের কৃষক ছলেমানের চোখেমুখে এখন উৎকণ্ঠা। নিজের ২০ শতাংশ জমির পাশাপাশি আরও ১০ শতাংশ জমি বর্গা নিয়ে আমন আবাদ করেছেন তিনি। জমিতে ধানের ডগা বেরিয়েছে। ভালো ফলনের আশায় বাড়তি খরচ করে সেচও দিয়েছেন। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে ইঁদুরের আক্রমণে তার সেই আশায় ভাটা পড়েছে। ছলেমান বলেন, "ধানের ডগা বেরিয়েছে। বাড়তি খরচ করে খেতে পানি দিচ্ছি। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে ইঁদুরের আক্রমণ দেখা যাচ্ছে। বিভিন্ন ধরনের কীটনাশক প্রয়োগ করেও কাজ হচ্ছে না। বিষয়টি নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছি।"

একই দুশ্চিন্তা ইসলামপুর গ্রামের কৃষক ইউসুফ মিয়ারও। অন্যের ২০ শতাংশ জমি বর্গা নিয়ে আমন চাষ করেছেন তিনি। জমির মালিকের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী, উৎপাদিত ধান দুই ভাগে ভাগ হওয়ার কথা। ধানগাছের বেড়ে ওঠা দেখে ভালো ফলনের আশাও করেছিলেন। কিন্তু ইঁদুরের আক্রমণ তার হিসাব-নিকাশ ওলটপালট করে দিচ্ছে।

ইউসুফ মিয়ার কণ্ঠে আক্ষেপ, "জমির মালিক আর আমি দুই ভাগে ফসল ভাগ করে নিতাম। এখন মাঝখানে ইঁদুর তৃতীয় ভাগ বসিয়েছে। ইঁদুরের আক্রমণে অনেক ক্ষতি হচ্ছে। ইঁদুর দমনে কৃষি বিভাগ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে আমাদের পাশে দাঁড়াক।"

কৃষকের এই কথায় যেন ফুটে ওঠে মাঠের বাস্তবতা। ফসলের পেছনে শ্রম দেন কৃষক, বিনিয়োগ করেন অর্থ; কিন্তু ফসল ঘরে তোলার আগেই ক্ষতির মুখে পড়লে সেই লোকসানের চাপ সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে বর্গাচাষিদের জন্য ক্ষতির বোঝা আরও উদ্বেগের, কারণ উৎপাদিত ফসলের ভাগ দিতে হয় জমির মালিককেও। কমলকান্দি গ্রামের কৃষক হারুনুর রশিদের দুশ্চিন্তার কারণও সেই ইঁদুর। তার ভাষ্য অনুযায়ী, "ধানগাছ থেকে শীষ বের হওয়ার সময়ই ইঁদুর গাছ কেটে ফেলে দিচ্ছে। প্রতিকূলতার মধ্যেও ভালো ফলনের আশায় জমিতে নিবিড় পরিচর্যা চালিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু ইঁদুরের আক্রমণ তার সেই পরিশ্রমের ফল নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।"

হারুনুর রশিদ বলেন, "এ বছর ভালো ফলনের জন্য অনেক কষ্ট করে জমিতে ধানের পরিচর্যা করছি। কিন্তু ইঁদুরের আক্রমণে আমাদের স্বপ্ন ভেস্তে যেতে বসেছে। ইঁদুর দমনের দাবিতে কৃষি কর্মকর্তাদেরও দেখা মিলছে না।" ইঁদুরের আক্রমণ ঠেকাতে কৃষকেরা বিভিন্ন উপায়ে চেষ্টা চালাচ্ছেন। কেউ কীটনাশক প্রয়োগ করছেন, কেউ আবার বাঁশের তৈরি ডোঙা ফাঁদ পেতে ইঁদুর নিধনের চেষ্টা করছেন। তবে তাদের অভিযোগ, এসব উদ্যোগে প্রত্যাশিত ফল মিলছে না। ফলে জমিতে ফসলের ক্ষতি ঠেকানো এবং অবশিষ্ট ধানগাছ রক্ষা করাই এখন তাদের বড় চ্যালেঞ্জ।

কৃষকের উদ্বেগের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কৃষি বিভাগের জনবলসংকট। উপজেলা কৃষি বিভাগে অনুমোদিত জনবল ৪৬ জন থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১৮ জন। অর্থাৎ প্রয়োজনীয় জনবলের অর্ধেকেরও কম কর্মী নিয়ে চলছে কৃষিসেবা কার্যক্রম। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কল্লোল কিশোর সরকার জানান, জনবলসংকটের কারণে কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তবে গত কয়েক দিনের তুলনায় ইঁদুরের উপদ্রব অনেকটা কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। এখনো কিছু এলাকায় ইঁদুরের উপস্থিতি রয়েছে।

ইঁদুরের উপদ্রব বাড়ার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, "আগে এ সময়ে মাঠে বৃষ্টির পানি থাকত। জমিতে পানি থাকলে ইঁদুরের আনাগোনা তুলনামূলক কম হয়। এবার বৃষ্টি না হওয়ায় অনেক জমিতে পানি নেই। ফলে জমিতে ইঁদুরের উপদ্রব বেড়েছে।" কৃষি কর্মকর্তা আরও জানান, ইঁদুর দমনে বিষটোপ প্রয়োগসহ বিভিন্ন পদ্ধতি নিয়ে কৃষি বিভাগের কর্মীরা মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন। কৃষকেরা সম্মিলিতভাবে উদ্যোগ নিলে ইঁদুরের উপদ্রব আরও কমানো সম্ভব হবে। ভালো ফলন নিশ্চিত করতে কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতাও দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

আমন মৌসুমের এই সময়ে ফরিদগঞ্জের কৃষকদের কাছে প্রতিটি ধানগাছই সম্ভাব্য খাদ্য, আয় আর পরিবারের নিরাপত্তার প্রতীক। একটি গাছ কেটে পড়া মানে শুধু জমির ক্ষতি নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে কৃষকের শ্রম, বিনিয়োগ ও প্রত্যাশা। তাই ইঁদুরের আক্রমণ তাঁদের কাছে নিছক মাঠের সমস্যা নয়; এটি ফসল ঘরে তোলার নিশ্চয়তা নিয়েও বড় উদ্বেগ। একদিকে ইঁদুরের উপদ্রব, অন্যদিকে কৃষি বিভাগের সীমিত জনবল, দুইয়ের চাপে মাঠপর্যায়ে কৃষিসেবা কতটা কার্যকরভাবে পৌঁছাবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কৃষকেরা চান, ক্ষতিগ্রস্ত জমি পরিদর্শন, ইঁদুর দমনে কার্যকর পরামর্শ এবং সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে তাদের পাশে দাঁড়াক সংশ্লিষ্ট বিভাগ।

ফরিদগঞ্জের মাঠে এখনো সবুজ ধানের গাছ দুলছে। কৃষকেরা হাল ছাড়েননি। তাদের আশা, সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া গেলে ক্ষতি কমিয়ে ফসল ঘরে তোলা সম্ভব হবে। কিন্তু সেই আশাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে মাঠের সমস্যার দ্রুত সমাধান যেমন জরুরি, তেমনি প্রয়োজন কৃষকের দোরগোড়ায় কৃষিসেবা পৌঁছে দেওয়া। কারণ, আমনের মাঠে ইঁদুরের থাবা যতটা ভয় ধরাচ্ছে, তার চেয়ে বড় ভয়, সারা মৌসুমের পরিশ্রম শেষে কৃষকের ঘরে কাঙ্ক্ষিত ধান উঠবে তো?

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কিশোরীকে উত্ত্যক্ত করাকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তুমুল মারামারি, পুলিশ মোতায়েন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:২১ এম


কিশোরীকে উত্ত্যক্ত করাকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তুমুল মারামারি, পুলিশ মোতায়েন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে এক কিশোরীকে উত্ত্যক্ত করার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে রাকিব নামের এক যুবক এবং তার স্বজনদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যার দিকে উপজেলার সিঙ্গারবিল ইউনিয়নের কাশিনগর এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটে।

স্থানীয় ও পরিবারের সূত্রে জানা যায়, দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ওই কিশোরীকে দীর্ঘদিন ধরে উত্ত্যক্ত করে আসছিল প্রতিবেশী হুমায়ুন মিয়া ওরফে লক্ষিন্দরের ছেলে রাকিব। পরিবারের অভিযোগ, রাকিব কিশোরীকে বিয়ের প্রস্তাব দিলেও তার পরিবার এতে রাজি হয়নি। এই বিরোধের কারণে কিশোরীর পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায় এবং তাকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে।

পরিবারের অভিযোগ, কিশোরীর সঙ্গে দেখা করতে না পেরে রাকিব তার পরিবারের সদস্যদের গালিগালাজ করেন বাড়ির সামনের রাস্তায়। প্রতিবাদ জানালে দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়, যা পরে হাতাহাতি ও মারামারিতে রূপ নেয়। এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন।

পরবর্তীতে অভিযোগ উঠেছে যে, রাকিবের পরিবারের লোকজন কিশোরীর পরিবারের পাঁচটি বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করেন। এই হামলায় নারী-পুরুষসহ অন্তত ১০ জন আহত হন এবং একটি নতুন মোটরসাইকেল আগুন ধরিয়ে পুড়ে যায়।

বিজয়নগর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাহবুবের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তিনি জানান, "খবর পাওয়ার পর আমরা এখানে এসেছি। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

সিঙ্গারবিল বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক মানিক মিয়া বলেন, "মেয়ে সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ঘটনা ঘটে। আমি চেয়ারম্যান ও পুলিশসহ ঘটনাস্থলে যাই। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।"

সিঙ্গারবিল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, "খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে যাই। গিয়ে দেখি পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক। উভয় পক্ষের ১০ জনের মতো আহত হয়েছেন। কিছু বাড়ি ভাঙচুর দেখতে পেয়েছি।"

বিজয়নগর থানার ওসি (তদন্ত) রাজিব চন্দ্র সরকার বলেন, "মেয়ে সংক্রান্ত বিষয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। বাড়িঘর ভাঙচুর হয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন আছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ থানায় অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%