০৭:৩২ এম
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থায়ী পার্কিংসহ পাঁচ দফা দাবিতে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতি। তাদের ধর্মঘটের কারণে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। চিকিৎসা নিতে আসা রোগী এবং মরদেহ পরিবহনের জন্য অ্যাম্বুলেন্স না পাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়ছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা। অন্যদিকে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা করেও কোনো সমাধান না হওয়ায় বাধ্য হয়ে ধর্মঘট পালন করছেন বলে দাবি করেছেন মালিক সমিতির সদস্যরা।
অন্তঃসত্ত্বা এক আত্মীয়কে নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসেন আব্দুর রহমান। চিকিৎসক ওই রোগীকে মৃত ঘোষণা করার পর বিপাকে পড়েন তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা। মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্স না পেয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় তাদের।
আব্দুর রহমান বলেন, "অন্তঃসত্ত্বা নারীর বৃহস্পতিবার সন্তান জন্ম দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু রাত ১২টার দিকে তিনি মারা যান। মরদেহ গোসল করানো হয়েছে। এর আগে বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করে অ্যাম্বুলেন্স সংগ্রহের চেষ্টা করেছি, কিন্তু পাইনি। পরে বাইরের একটি অ্যাম্বুলেন্স ও ফ্রিজিং গাড়ির ব্যবস্থা করার চেষ্টা করি। কিন্তু গাড়ি হাসপাতালের ভিতরে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। মরদেহ নিয়ে কীভাবে বাড়ি যাব, বুঝতে পারছি না।"
আরও পড়ুন: ডা. জুবাইদা রহমানের উদ্যোগে অপসারিত হলো ইমাম হোসেনের পিঠের দুই কেজির টিউমার
হাসপাতাল চত্বরে পার্কিংয়ের জায়গা বরাদ্দের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট শুরু করেছে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতি। এতে দূরদূরান্ত থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা ভোগান্তিতে পড়েছেন। হাসপাতালের বাইরে থেকে অ্যাম্বুলেন্স আনলেও ভেতরে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন তারা।
এক রোগীর স্বজন বলেন, "আমরা অ্যাম্বুলেন্স ও ফ্রিজিং গাড়ি-কোনোটিই পাচ্ছি না। বাইরে থেকে একটি গাড়ির ব্যবস্থা করেছি, কিন্তু সেটিও ভেতরে ঢুকতে দিচ্ছে না।"
আরেক রোগীর স্বজন জানান, "ঢাকা মেডিকেলে রোগী ভর্তি করিয়েছিলাম। রাত ১১টা ১৫ মিনিটে তিনি মারা যান। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত অ্যাম্বুলেন্স খুঁজছি, কিন্তু কোনো গাড়ি পাচ্ছি না। ভেতরে যাদেরই জিজ্ঞেস করছি, তারা বলছেন, বাইরে খুঁজতে। তারা কেউ যাবেন না।"
আরেক রোগীর স্বজন জানান, "রাত ১০টার দিকে রোগীর মৃত্যু হওয়ার পর মরদেহ বাড়িতে নেয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্স খুঁজতে শুরু করি। বিভিন্নভাবে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করতে পারিনি।"
আরও পড়ুন: অর্থনীতির বিপদ টের পেতে শুরু করেছেন ক্ষমতাসীনরা
এদিকে, বাংলাদেশ অ্যাম্বুলেন্স মালিক কল্যাণ সমিতি বলছে, স্থায়ী পার্কিংয়ের জায়গা বরাদ্দসহ পাঁচ দফা দাবিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। তবে কোনো সমাধান না আসায় বাধ্য হয়ে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন তারা।
সমিতির সাধারণ সম্পাদক বাদল মাদবর বলেন, "আগে যে নীতিমালা ছিল, তাতে অ্যাম্বুলেন্সের পার্কিংয়ের বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু বিভিন্ন হাসপাতালে গেলে পার্কিংয়ের ব্যবস্থা পাওয়া যায় না। রোগী ওঠানোর জন্য হাসপাতালের সামনে গেলেও আমাদের বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হয়। সরকারি-বেসরকারি প্রায় সব হাসপাতালের সামনেই একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। আমরা সুন্দর ও সুশৃঙ্খল পার্কিংয়ের ব্যবস্থা চাই। একজন সার্জেন্ট মামলা করলে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা দিতে হয়। আমরা এই পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ চাই।"
এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ভোগান্তি কমাতে দ্রুত সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন অ্যাম্বুলেন্স চালক ও ভুক্তভোগীরা।
আরও পড়ুন: মায়ের ঠাঁই জীর্ণ ঘরে, বিলাসী জীবন কাটাচ্ছেন অধ্যক্ষ ছেলে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন