ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মায়ের ঠাঁই জীর্ণ ঘরে, বিলাসী জীবন কাটাচ্ছেন অধ্যক্ষ ছেলে


মায়ের ঠাঁই জীর্ণ ঘরে, বিলাসী জীবন কাটাচ্ছেন অধ্যক্ষ ছেলে

বাবা-মায়ের জমিতে গড়ে তোলা পাকা বাড়িতে বসবাস করে ছেলের সচ্ছল জীবনযাপন। কিন্তু সেই ছেলের ৮০ বছর বয়সি মায়ের ঠাঁই হয়েছে মেয়ের বাড়ির জরাজীর্ণ একটি ঘরে। ঘরের টিনের চাল ও বেড়ার অসংখ্য ফুটো দিয়ে দিনে সূর্যের আলো, রাতে চাঁদের আলো প্রবাহিত হয়। বৃষ্টি হলে বিছানা-বালিশ ভিজে যায়। চোখে ঝাপসা দেখলেও বৃদ্ধা কাঁথা সেলাই করে কোনোরকমে জীবন কাটাচ্ছেন।

এমন দুর্বিষহ জীবন কাটাচ্ছেন কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার উমরমজিদ ইউনিয়নের মমেনা বেগম। জমি নিয়ে বিরোধের কারণে প্রায় ১৪ বছর আগে তাকে ও তার স্বামী আব্দুস সাত্তারকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাদের ছেলে মোখলেছুর রহমানের বিরুদ্ধে। তিনি উপজেলার রাজমাল্লীরহাট সিদ্দিকীয়া ফাজিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ। তবে মোখলেছুরের দাবি, মাকে একাধিকবার বাড়িতে ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফেরেননি। তার মা মেয়েদের নামে জমি লিখে দিয়েছেন বলেও তিনি দাবি করেন।

মমেনা বেগমের অভিযোগ, বাবা-মায়ের জমিতে বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করছেন তার ছেলে। কিন্তু আরও জমি লিখে দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় বিরোধের সূত্রপাত ঘটে। কন্যাসন্তান থাকায় বাবা-মা তাকে কিছু জমি দিলেও মোখলেছুর এতে সন্তুষ্ট হননি। একপর্যায়ে তারা বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হন। এরপর মেয়ে খাদিজা বেগমের আশ্রয়ে তাদের নতুন জীবন শুরু হয়। চার বছর আগে সেখানেই মারা যান আব্দুস সাত্তার। স্বামীর মৃত্যুর পর মেয়ে খাদিজার বাড়িতে থেকে কাঁথা সেলাই করেই দিন কাটাচ্ছেন বৃদ্ধা মমেনা।

আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নকল ব্যান্ডরোলযুক্ত সিগারেট জব্দ, মূল্য ২৭ লাখ টাকা

জমি নিয়ে বিরোধের কথা তুলে ধরে মমেনা বেগম বলেন, ‘তোমরা তিন ভাইবোনে জমি খাইবেন। বোনদের কম দিবি, তুই বেশি খাবি।’ তার ভাষ্য, জমি লিখে না দিলে ছেলে তাকে বাড়িতে থাকতে না দেওয়ার কথা বলতেন। এ ছাড়া ছেলের বিরুদ্ধে তাকে ও তার স্বামীকে মারধরের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি। মমেনার অভিযোগ, ছেলের স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলতে শুনেছেন, ‘আয় তো আয়, ওই বুড়ার হাত-ঠ্যাং ভাঙি দিয়ে পুশুমো।’

মমেনা বেগম ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বাবার মৃত্যুর খবর পেয়েও জানাজা ও দাফনে অংশ নেননি মোখলেছুর রহমান। নিজের বসতভিটায় স্বামীকে দাফন করার ইচ্ছা থাকলেও তা পূরণ হয়নি বলে আক্ষেপ প্রকাশ করেন মমেনা। এসব অভিযোগ প্রকাশ করলে ছেলে তাকে মেরে ফেলতে পারেন বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।

মমেনার মেয়ে খাদিজা বেগমের অভিযোগ, ছোট বোনের জন্য নির্ধারিত জমিতে ঘর নির্মাণ করতে চেয়েছিলেন তাদের মা। কিন্তু মোখলেছুর রহমান এতে বাধা দেন। জমি লিখে দিতে অস্বীকৃতি জানালে বাড়ি নির্মাণে ব্যয় করা ১৩ লাখ টাকা ফেরত দিয়ে বাড়ি ছেড়ে যেতে হবে বলে দাবি করেন তিনি। খাদিজার দাবি, পারিবারিক বিরোধের কারণে তাদের বাবা-মাকে নির্যাতনের শিকার হতে হয় এবং শেষ পর্যন্ত মেয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিতে হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রশিদ বলেন, মোখলেছুরের মা-বাবা দীর্ঘদিন মেয়ের বাড়িতে আশ্রিত ছিলেন। সেখানেই তার বাবা মারা যান। এখন বৃদ্ধা মাও একই বাড়িতে কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। তার অভিযোগ, মা-বাবাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার পর মোখলেছুর আর তাদের খোঁজখবর রাখেননি।

আরও পড়ুন: জামায়াতের মহিলা বিভাগের প্রতিবাদ: নারী উদ্যোক্তা সাথী আক্তার গ্রেপ্তার

স্থানীয় বাসিন্দা সৈয়দ আলীর ভাষ্য, বাবার মৃত্যুর সময়ও মোখলেছুর জানাজা ও দাফনে উপস্থিত ছিলেন না। শিক্ষিত হয়েও মায়ের প্রতি এমন আচরণ দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আরেক বাসিন্দা ফারুক আহমেদ বলেন, একজন মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে নিজের মায়ের সঙ্গে এমন আচরণের অভিযোগ ওঠা অত্যন্ত দুঃখজনক। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘মাকে একাধিকবার ফিরতে বললেও তিনি আসেননি। অনেকবার আনার চেষ্টা করা হয়েছে, কিন্তু আসেননি। তার জমিজমা তিনি মেয়েদের লিখে দিয়েছেন।’

স্থানীয় উমর মজিদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আহসানুল কবির আদিল বলেন, ‘প্রতিটি সন্তানের উচিৎ সর্বস্ব দিয়ে বাবা-মায়ের সেবা করা। এটি আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য। ১৪ বছর আগে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার বিষয়টি সত্য হলে তা সমাজে অমানবিক একটি কাজ। এটা আমরা মানতে পারি না। তবে এ বিষয়ে কখনো কেউ আমার কাছে অভিযোগ করেনি। আপনার কাছে শুনলাম। কেউ অভিযোগ করলে আমি বিষয়টির সুষ্ঠু সুরাহার উদ্যোগ নিতাম।’

আরও পড়ুন: ঢাকার বাতাস সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর, ১২৩ স্কোরে ১৩তম স্থান

কুড়িগ্রামের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আহসান হাবিব নিলু বলেন, সমাজে পারিবারিক বন্ধন ও বৃদ্ধ বাবা-মায়ের প্রতি সন্তানের দায়িত্ব পালনে অবক্ষয় দেখা যাচ্ছে। বাবা-মায়ের নিরাপত্তা ও ভরণপোষণ নিশ্চিত করতে সরকার ২০১৩ সালে পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন প্রণয়ন করেছে। এ আইনে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার ক্ষেত্রে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা ও শাস্তির বিধান রয়েছে।

যে বয়সে সন্তানের কাছে আশ্রয়, যত্ন ও নিরাপত্তা পাওয়ার কথা, সেই বয়সে মমেনা বেগমের দিন কাটছে অনিশ্চয়তায়। একদিকে জরাজীর্ণ ঘরে তার কষ্টের জীবন, অন্যদিকে বাবা-মায়ের জমিতে নির্মিত বাড়িতে ছেলের বসবাস-এই বৈপরীত্য স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি করেছে। জীবনের শেষ সময়ে একটু নিরাপত্তা, যত্ন ও সম্মান নিয়ে বাঁচতে চান এই বৃদ্ধা মা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আলভারেজকে দলে নিতে ব্যর্থ বার্সেলোনা, জরিমানা গুনল স্প্যানিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:২৬ এম


আলভারেজকে দলে নিতে ব্যর্থ বার্সেলোনা, জরিমানা গুনল স্প্যানিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন

বার্সেলোনা দুই দিক থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হুলিয়ান আলভারেজকে দলে নিতে ব্যর্থ হওয়ার পাশাপাশি, এবার জরিমানা গুনতে হলো তাদের। স্প্যানিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন আতলেতিকো মাদ্রিদের অভিযোগের ভিত্তিতে বার্সেলোনাকে জরিমানা আরোপ করেছে।

জরিমানার পরিমাণ খুব বেশি নয়। কাতালান ক্লাবটির উপর বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৮৪ হাজার টাকা (৬০২ ইউরো) জরিমানা করেছে স্পেনের ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

আতলেতিকো মাদ্রিদের অভিযোগ, বার্সেলোনা তাদের সঙ্গে লিখিতভাবে যোগাযোগ না করেই আলভারেজের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তবে এই বিষয়টি নিয়ে ফিফার কাছে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পায়নি মাদ্রিদের ক্লাবটি। ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানায়, বিষয়টি তাদের এখতিয়ারের বাইরে।

ফিফার কাছে প্রতিকার না পেলেও, আতলেতিকো আলভারেজকে ধরে রেখেছে। ২০২৪ সালের আগস্টে ম্যানচেস্টার সিটি থেকে ৬ বছরের চুক্তিতে তিনি স্প্যানিশ ক্লাবে যোগ দেন। আতলেতিকোর হয়ে তিনি এখন পর্যন্ত ১১৫ ম্যাচে ৫১ গোল করেছেন। অন্যদিকে, সিটির হয়ে ১০৩ ম্যাচে তার গোল সংখ্যা ৩৬।

বার্সেলোনায় খেলার ইচ্ছা প্রকাশ করায় আতলেতিকোর সমর্থকদের কাছ থেকে দুয়ো শুনতে হয়েছে আলভারেজকে। শনিবার দেপোর্তিভো লা করুনার বিপক্ষে জয়সূচক গোলের পর কিছু সমর্থকের কাছ থেকে অভিবাদনও পেয়েছেন তিনি।

জয়ের পর সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন আলভারেজ। তিনি মন্তব্য করেছেন, ‘এটা আমার ভুল ছিল। সমর্থকরা কেন রাগ করেছেন, তা আমি বুঝতে পারছি। আমি যদি সমর্থক হতাম, আমারও রাগ হতো। বিশেষ করে এখানে আসার পর থেকে তারা যেভাবে আমাকে সমর্থন দিয়েছেন, সেটি বিবেচনায় নিলে।’

এই জয়ের ফলে শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার সঙ্গে ব্যবধানও কমে এসেছে আতলেতিকোর। এখন ব্যবধান ২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। সমান ১০ ম্যাচে আতলেতিকোর পয়েন্ট ২৫, অন্যদিকে বার্সেলোনার পয়েন্ট ২৭।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নতুন বেতন কাঠামোয় রবিবার বাড়তি বেতন প্রদান হবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:২৬ এম


নতুন বেতন কাঠামোয় রবিবার বাড়তি বেতন প্রদান হবে

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী, ১ নভেম্বর বেতন দেওয়ার প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে সরকার। কিন্তু, বেতন নির্ধারণে বিভিন্ন জটিলতা ও অসংগতির কারণে অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী এবারও নতুন কাঠামোর বর্ধিত বেতন এবং বকেয়া পাচ্ছেন না। তাদের জন্য আপাতত পুরনো কাঠামোয় বেতন প্রদান করা হতে পারে।

অর্থ বিভাগের সূত্রে জানা গেছে, দেশে প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী, আট লাখ পেনশনভোগী এবং ছয় লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক রয়েছেন। তাদের সবার বেতন নতুন কাঠামোয় নির্ধারণের কাজ এখনও সম্পন্ন হয়নি। এই কারণে নির্ধারিত সময়ে সবার বেতন কার্যকর করার ক্ষেত্রে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।

নতুন বেতন নির্ধারণের প্রক্রিয়ায় কোথাও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার চেয়ে জুনিয়রের বেতন বেশি হচ্ছে, আবার পদোন্নতির পরও কারো মোট আয় কমে যাচ্ছে। উচ্চতর গ্রেড এবং বাড়িভাড়া ভাতা নির্ধারণেও অসংগতি দেখা দিয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আইবাস++ ব্যবস্থার জটিলতা।

গত ১৭ সেপ্টেম্বর নতুন জাতীয় বেতনকাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। ৫ অক্টোবর থেকে বেতন নির্ধারণের কাজ শুরু হলেও অনেক মন্ত্রণালয় এবং বিভাগে তা শেষ হয়নি। এসব সমস্যা সমাধানে অর্থ বিভাগে আবেদন করেও অনেকে সুরাহা পাননি।

অর্থ বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রজ্ঞাপন তৈরি এবং বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিজ্ঞতার অভাব থেকে কিছু সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। এগুলো সমাধানের কাজ চলছে এবং অভিজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে। ফলে ১ নভেম্বর নতুন কাঠামোয় বেতন দেওয়ার প্রস্তুতি থাকলেও অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর বর্ধিত বেতন ও বকেয়া পাওয়ার বিষয়টি অনিশ্চিত রয়ে গেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অর্থনীতির বিপদ টের পেতে শুরু করেছেন ক্ষমতাসীনরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:২৭ এম


অর্থনীতির বিপদ টের পেতে শুরু করেছেন ক্ষমতাসীনরা

সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী এবং উপদেষ্টাদের কাছ থেকে অর্থনীতি নিয়ে কিছু উদ্বেগজনক মন্তব্য শোনা গেছে। সরকারের কঠিন বাস্তবতা উপলব্ধি করা দেশের জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত। নির্বাচনের পূর্বে বিএনপির পক্ষ থেকে জনগণকে বোঝানো হয়েছিল যে, নির্বাচন একটি মহৌষধ, যা বাংলাদেশের সব সমস্যার সমাধান করবে রাতারাতি। জুলাই বিপ্লবের পর বিএনপির প্রথম জনসভায় তিন মাসের মধ্যে নির্বাচনের দাবি উত্থাপন করা হয়েছিল। প্রফেসর ইউনূস ২০২৯ সাল পর্যন্ত ক্ষমতা ধরে রাখবেনÑ এমন ধারণা দলের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে তখন প্রবাহিত হয়েছিল।

অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রমে কখনো এরকম কিছু মনে হয়নি। বিএনপি গোষ্ঠী আমার বিরুদ্ধে প্রচার করেছিল যে, আমি নাকি নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে সম্মতি দিয়েছিলাম। যদিও আমার মতো একজন সাধারণ নাগরিকের জাতীয় নির্বাচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সম্মতি বা অসম্মতির কোনো মূল্য নেই, তবুও বিএনপির নতুন নেতৃত্ব কেন এমন প্রচারণা চালিয়েছিল, তা আমার জানা নেই। আমি তৎকালীন উপদেষ্টাদের সঙ্গে দেখা হলে তাদের প্রায়ই বলতাম, সফলভাবে সরকার পরিচালনা করতে না পারলে যত দ্রুত সম্ভব দায়িত্ব ছেড়ে দিতে হবে।

তখনকার ক্ষমতাবানদের মধ্যে খলিলুর রহমান (বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী), আসিফ নজরুল, মোস্তফা সরয়ার ফারুকী এবং আদিলুর রহমান খানকে সাক্ষী হিসেবে রাখতে পারি। এই চারজনের সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ অন্য উপদেষ্টাদের তুলনায় বেশি ছিল। উপদেষ্টাদের বাইরে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমের সঙ্গে কথাবার্তা হতো।

তিনি আমার অবস্থান জানতেন। এছাড়া, আমার লেখার নিয়মিত পাঠকদের হয়তো মনে থাকতে পারে, আমি প্রফেসর ইউনূসকে উদ্দেশ্য করে আমার দেশ পত্রিকায় একাধিকবার ‘Either Rule or Quit’ জাতীয় বার্তা লিখেছিলাম। ড. ইউনূসের রাজত্বকালে তার সঙ্গে আমার দেখা হয়নি, একুশে পদকপ্রাপ্তির অনুষ্ঠানে স্বল্প সময় ছাড়া।

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে দেশে ফেরার আগে বিএনপির একটি অনুষ্ঠানে মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবরের বিশেষ অনুরোধে যোগ দিয়েছিলাম। র‍্যাডিসন হোটেলে আয়োজিত সেই অনুষ্ঠানে আমি বলেছিলাম, প্রফেসর ইউনূসকে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে নির্বাচন দিতে হবে, নতুবা পদত্যাগ করতে হবে। তখন বিএনপির উপস্থিত সব নীতিনির্ধারক বেজায় অবাক ও আনন্দিত হয়েছিলেন। তাদের ধারণার সঙ্গে আমার বক্তব্যের কোনো মিল না পেয়ে তারা বিস্মিত হয়েছিল। একই অনুষ্ঠানে কবি ও কলামিস্ট ফরহাদ মজহার রাষ্ট্র সংস্কারের আগে নির্বাচন দেওয়ার বিপক্ষে তার মতামত ব্যক্ত করেছিলেন। বিএনপির লোকজন ভেবেছিল, আমিও সম্ভবত ফরহাদ ভাইয়ের মতামতই বলব। অনুষ্ঠানে বর্তমান রাষ্ট্রপতি এবং স্পিকার উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি, বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আমার স্পষ্ট ও ইতিবাচক অবস্থানের জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন।

বিএনপি নেতারা দ্রুত ক্ষমতা হাতে পাওয়ার জন্য কতটা ব্যাকুল হয়ে উঠেছিলেন, তা বোঝানোর জন্য এসব ঘটনার উল্লেখ করা হলো। দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসনে বিধ্বস্ত অর্থনীতি নিয়ে একটি জনবহুল দেশ পরিচালনা করা কতটা কঠিন, তা হয়তো এখন ক্ষমতায় এসে তারা বুঝতে পারছেন। বর্তমান ক্ষমতাসীনরা নিজেদের ভাগ্যবান মনে করতে পারেন যে, ৫ আগস্টের বিপ্লবের পর তাদের দায়িত্ব নিতে হয়নি। প্রফেসর ইউনূসের সরকার অন্তত একটি ভেঙে পড়া দেশ পরিচালনার বিপদ কাটিয়ে দিয়েছে। তবে, পাঠক নিশ্চয় বুঝতে পারছেন যে, আজকের মন্তব্য প্রতিবেদন মূলত দেশের অর্থনীতি নিয়ে।

পতনের কয়েক বছর আগে থেকেই শেখ হাসিনা বাংলাদেশের অর্থনীতির বারোটা বাজানো শুরু করেছিলেন। মেগা প্রজেক্টের নামে রাষ্ট্রের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার অপচয় হয়েছে। রাষ্ট্রীয় খাতে কোনো সমীক্ষা ছাড়া নেওয়া এসব বিপুল বিনিয়োগের ফলে আওয়ামী লুটেরাদের সম্পদের বৃদ্ধি ছাড়া দেশে কোনো প্রকৃত কর্মসংস্থান হয়নি। বিগত এক দশকে বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের পাঠানো রেমিট্যান্স প্রবাহের মাধ্যমে আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার উল্লেখযোগ্য মজুত গড়ে উঠেছিল, যা লুটেরা শ্রেণির লোলুপ দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

আইএমএফ এবং বিশ্বব্যাংকের আপত্তি উপেক্ষা করে রাষ্ট্রের রিজার্ভের অর্থ বেসরকারি খাতে ঋণ প্রদানের নামে তছরুপ করা হয়েছে। এক রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের অপচয় কিংবা ভাগাভাগির পরিমাণ কয়েক বিলিয়ন ডলার। আশা করি সেখানকার মহার্ঘ্য বালিশের দাম পাঠক ভুলে যাননি। এমন লুটপাটের পরিণামে কোভিড-পরবর্তী তিন বছরেরও কম সময়ের মধ্যে ফ্যাসিস্ট সরকার বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে ১৫ বিলিয়নে নামিয়ে এনেছিল।

এই পতনের ধারা আর বছর দুয়েক অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশ ঋণখেলাপি, ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হতে হতো। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ উড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি ইসলামী ব্যাংকসহ কয়েক ডজন সরকারি ও বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকে আমানতকারীদের গচ্ছিত হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করা হয়েছে, যা দেশের ব্যাংকিং খাতকে দেউলিয়া হওয়ার উপক্রম করেছে। অর্থনীতির এমন ভঙ্গুর অবস্থায় রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে প্রফেসর ইউনূস ও তার ‘ইকোনমিক টিম’ আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে পেরেছিলেন।

এ বছর ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের সময় আমাদের রিজার্ভ ১৫ বিলিয়ন থেকে বেড়ে প্রায় ৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছিল। সম্প্রতি বর্তমান সরকারের এক মন্ত্রী বক্তৃতায় বলেছেন, প্রফেসর ইউনূসের সরকার নাকি শেখ হাসিনার মতোই দেশের সর্বনাশ করে দিয়েছেন। সব দেশেই রাজনীতিবিদরা খানিকটা মিথ্যা কথা বলেন। তবে বিএনপির মন্ত্রীর এই অকৃতজ্ঞতা মেনে নেওয়া কঠিন।

যে অন্তর্বর্তী সরকারের আনুকূল্যে দুই দশক পর তারা গাড়িতে পতাকা ওড়াচ্ছেন, স্ত্রী-ছেলেমেয়েসহ ক্ষমতা উপভোগ করছেন, বিভিন্ন সরকারি সংস্থায় পরিবারের সদস্যদের বসাচ্ছেন, হাজার হাজার কোটি টাকার সরকারি ব্যবসা পারিবারিক করছেন, সেই সরকারটিকে ফ্যাসিস্ট হাসিনার কাতারে ফেলাটা উচিত হচ্ছে কি না, সেই বিচারের ভার পাঠকের ওপর। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ মানবচরিত্রের অকৃতজ্ঞতা নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করেছেন। নির্বাচনি ম্যানিফেস্টোতে বিএনপি অর্থনীতি সম্পর্কে কী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা পরীক্ষা করা যাক।

বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারের তৃতীয় অধ্যায়ের শিরোনাম, ‘ভঙ্গুর অর্থনীতির পুনর্গঠন ও পুনরুদ্ধার’। লেখাটি শুরু করার আগে আমি সরকারি দলের ইশতেহারের উপরোক্ত অধ্যায়টি একাধিকবার পড়েছি। আমার সীমিত অর্থনীতি-সংক্রান্ত জ্ঞানে মনে হয়েছে সরকার বাংলাদেশের জিডিপিকে ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করাকে প্রধান লক্ষ্য স্থির করেছে। ইশতেহার অনুযায়ী, সরকার ২০৩৪ সালের মধ্যে জিডিপি ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করতে চায়। বর্তমানে বাংলাদেশের জিডিপি ৫০০ বিলিয়ন ডলারের সামান্য উপরে।

অর্থাৎ, লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে আগামী ৮ বছরের মধ্যে আমাদের জিডিপি দ্বিগুণ করতে হবে। সেটা সম্ভব কি না বোঝার জন্য গত দশ বছরের জিডিপি বৃদ্ধির পরিসংখ্যান দেখা দরকার। ২০১৬ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের মোট জিডিপি ২৬৫ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ৪৫৬ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে। এর অর্থ হলো গড়ে প্রতিবছর জিডিপি বেড়েছে ১৯ বিলিয়ন ডলার। ২০৩৪ সালে যদি আমাদের ট্রিলিয়ন ডলারে যেতে হয়, তাহলে এখন থেকে প্রতিবছর জিডিপি ১৯ থেকে অন্তত ৬০ বিলিয়ন ডলার করে বাড়তে হবে, যা গত ১০ বছরের গড় বৃদ্ধির তিনগুণ।

ট্রিলিয়ন ডলার জিডিপির লক্ষ্যমাত্রার আরেক অর্থ হলো, ধারাবাহিকভাবে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ১০ শতাংশের ঊর্ধ্বে রাখতে হবে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ কখনো দুই অঙ্কের প্রবৃদ্ধি অর্জন করেনি। পৃথিবীর খুব কম দেশেই দুই অঙ্কের প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। এই শতাব্দীতে একমাত্র চীন ১৯৮৪ সাল থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত টানা তিন দশক গড়ে প্রতি বছর ৯ দশমিক ৫ থেকে ১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। ২০০৭ সালে চীন ১৪ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিল। চীন কিভাবে এই অসাধ্য সাধন করেছে, সে সম্পর্কে তেমন কোনো পড়াশোনা না করেই আমাদের দুই অঙ্কের প্রবৃদ্ধির স্বপ্ন দেখা সমীচীন নয়। তবে, বিএনপির অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা হয়তো এ বিষয়েও বিশদ পরিকল্পনা করে ফেলেছেন।

বর্তমানের খবর মোটেও ভালো নয়। আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক এবং এডিবির পূর্বাভাস অনুযায়ী চলমান অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হতে পারে যথাক্রমে ৩ দশমিক ২, ৩ দশমিক ৪ এবং ৪ শতাংশ। সুতরাং, ১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের কল্পনা বর্তমান পরিস্থিতিতে অবাস্তব মনে হচ্ছে। বরং আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতির বর্তমান অবস্থায় ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনই উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে গণ্য হবে।

শেখ হাসিনার মতো ‘পরিসংখ্যান ইঞ্জিনিয়ারিং’ করে উচ্চ প্রবৃদ্ধি দেখানো হলে ভিন্ন কথা। দেশের বাস্তবতা হলো, উচ্চ প্রবৃদ্ধির অন্যতম হাতিয়ার, বেসরকারি বিনিয়োগ এবং শিল্প খাতে দীর্ঘদিন ধরে কোনো সুখবর নেই। বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে শিল্প খাতে আমাদের জিডিপি বাড়ার পরিবর্তে সংকুচিত হওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী বিগত তিন মাসে শিল্পে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতির আমদানি এক-তৃতীয়াংশ হ্রাস পেয়েছে, যা বিশ্বব্যাংকের নেতিবাচক প্রতিবেদনকে সমর্থন করে। আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণে স্বল্প সময়ের মধ্যে শিল্প খাতে বিনিয়োগ পরিস্থিতির উন্নতির কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। বাংলাদেশের মতো ক্ষুদ্র, জনবহুল দেশে কৃষিতে অভাবনীয় প্রবৃদ্ধি অর্জনের সুযোগ নেই।

অধিকতর আধুনিক প্রযুক্তি প্রয়োগ করে কৃষি খাতে প্রবৃদ্ধি বাড়ানো সময়সাপেক্ষ। সেবা খাতে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধির সুযোগ থাকলেও তার জন্য সহায়ক বিনিয়োগ পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে, যা সহজ নয়। তাছাড়া, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ এবং বিশ্বব্যাপী রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সর্বত্র মন্দা যেন এগিয়ে আসছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জনগণের আয় কমে যাওয়ার কারণে আগামী ৩ নভেম্বরের কংগ্রেস এবং সিনেটের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকানদের ভরাডুবির সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। সব মিলিয়ে বিশ্ব অর্থনীতি একটি বিপজ্জনক এবং অনিশ্চিত পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চরম বর্ণবাদী, ইসলামোফোবিক ও যুদ্ধবাজ নীতি সংকটকে আরো বাড়াচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গতি না ফিরলে বাংলাদেশের মতো দরিদ্র দেশে অভ্যন্তরীণ ভোগ বাড়িয়ে প্রবৃদ্ধি অর্জনের পরিকল্পনা বাস্তবসম্মত নয়। বরং অনিয়ন্ত্রিত অভ্যন্তরীণ ভোগ হাসিনার আমলের মতো দুর্নীতি বাড়ানোর পাশাপাশি মুদ্রাস্ফীতিকে তুঙ্গে নিয়ে যাবে, যার লক্ষণ ইতোমধ্যে দৃশ্যমান। সাধারণ জনগণের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে দরিদ্র এবং মধ্যবিত্তের জীবনযাপন ক্রমেই কষ্টকর হয়ে পড়ছে।

উপরোক্ত মন্দা পরিস্থিতিতে সীমিত সম্পদের বণ্টন নিয়ে আলোচনা আবশ্যক। আমাদের অর্থনীতিবিদরা যতখানি প্রবৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা করেন, সম্পদের সুষম বণ্টন প্রসঙ্গে ততটা নীরব থাকেন। শেখ হাসিনার ১৫ বছরের দুঃশাসনে মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির কাগুজে গল্পের আড়ালে দেশের সম্পদ লুটেরা শ্রেণির হাতে পুঞ্জীভূত হয়েছে। এক এস আলম ব্যাংকিং সিস্টেম থেকে দুই লাখ কোটি টাকার অধিক লুট করেছে। সেই লুটের কিয়দংশ রাজনীতিবিদ ও আমলাদের পকেটেও গেছে। বাস্তবতা হলো, মাথাপিছু আয়ে ভারতকে ছাড়িয়ে যাওয়ার গল্প আমাদের শুনতে ভালো লাগলেও রাষ্ট্রের বর্ধিত আয় দেশের দরিদ্র মানুষের হাতে যায়নি। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার তিনভাবে দেশের মানুষকে প্রবঞ্চিত করেছে।

প্রথমত, জাতীয় আয় নিয়ে তারা ভুয়া পরিসংখ্যান বাজারে ছেড়েছে। দ্বিতীয়ত, যতটুকু আয় বৃদ্ধি পেয়েছে তার প্রায় পুরোটাই শেখ পরিবার এবং তাদের ঘনিষ্ঠ, রাজনৈতিক, ব্যবসায়িক ও সামরিক ও বেসামরিক আমলাতান্ত্রিক ক্ষমতাবানরা মেরে দিয়েছে। তৃতীয়ত, চট্টগ্রামের কর্ণফুলী টানেল এবং ঢাকার বিআরটি প্রকল্পের মতো তথাকথিত মেগা প্রজেক্ট গ্রহণ করে দেশের সম্পদ লুট করা হয়েছে এবং অপ্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করে দেশের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করা হয়েছে। বিআরটি প্রকল্প তৈরি করতে ৪ হাজার কোটি টাকা গচ্চা গেছে। এখন আবার সেই কুৎসিত শ্বেতহস্তী ভেঙে ময়মনসিংহগামী রাস্তা ব্যবহারযোগ্য করতে জনগণের করের কত কোটি টাকা ব্যয় হবে, সেটা আল্লাহই ভালো জানেন। এই প্রকল্পের সঙ্গে জড়িত সবাইকে বিচার করে যথোপযুক্ত সাজা দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে আহ্বান জানানো হচ্ছে।

বর্তমান সরকারকে ক্ষমতায় আসতে না আসতেই ইরানের বিরুদ্ধে ইসরাইল ও মার্কিন যৌথ হামলার পটভূমিতে বিশ্বব্যাপী তীব্র জ্বালানি সংকটের মুখোমুখি হতে হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির উচ্চ মূল্যজনিত লোকসান মেটাতে এবং আইএমএফের চাপে সরকার ইতোমধ্যে কয়েক দফায় দেশে জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে। ফলে জনগণের কাঁধে মূল্যস্ফীতির চাপ বেড়েছে। উপরন্তু, আমলাদের সন্তুষ্ট করতে সরকার সম্প্রতি তাদের বেতন-ভাতার বিপুল বৃদ্ধি ঘটিয়েছে। কিন্তু, দেশের মোট জনসংখ্যার তুলনায় আমলা এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের সংখ্যা একেবারেই কম। সুতরাং, আমলা গোষ্ঠীর অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধান হলেও দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের জীবনযাপন আরো কষ্টকর হয়ে উঠেছে।

বিশ্বব্যাংকের এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বাংলাদেশে দরিদ্র ও হতদরিদ্র মানুষের সংখ্যা বিপজ্জনক হারে বৃদ্ধির আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টাও একই কথা বলেছেন। ক্রমবর্ধমান দারিদ্র্য মোকাবিলা করার জন্য ফ্যামিলি কার্ডের সুফল দ্রুততার সঙ্গে প্রকৃত দরিদ্র মানুষের কাছে পৌঁছানো অত্যন্ত জরুরি।

বাংলাদেশের মন্দ রাজনৈতিক সংস্কৃতির ধারাবাহিকতায় যদি আবার সহায়তাপ্রাপ্তদের তালিকা তৈরি দলীয় বিবেচনা দ্বারা প্রভাবিত হয়, তাহলে একটি ভালো উদ্যোগ ব্যর্থ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হবে। এ দিকটায় সরকারের বিশেষ দৃষ্টি রাখা আবশ্যক। সব সমস্যার পেছনে ‘গুপ্ত’ খুঁজে বেড়ালে একসময় এ প্রচারণা হাসিনার ‘রাজাকারের’ মতো বুমেরাং হয়ে যেতে পারে। সরকারের অপচয়মূলক এবং উচ্চাভিলাষী প্রকল্প বন্ধ করে অন্তত আগামী এক বছর দারিদ্র্য বিমোচন এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করা উচিত।

বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের বিমান কেনার চুক্তির চাইতে রাষ্ট্রের সম্পদ উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির চাপে গলদঘর্ম সাধারণ জনগণের সহায়তায় ব্যয় করলে সরকার বরং প্রশংসিত হবে। আমাদের পরামর্শ সব সরকারের কাছে তিক্ত হলেও দেশ ও জনগণের স্বার্থে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভের দায়িত্ব সততার সঙ্গে পালন করে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে আজকের লেখায় সমাপ্তি টানছি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

২৮ অক্টোবর বাংলাদেশের ম্যাচসহ খেলার সূচি প্রকাশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:২৮ এম


২৮ অক্টোবর বাংলাদেশের ম্যাচসহ খেলার সূচি প্রকাশ

আজ (২৮ অক্টোবর) মিরপুরে শুরু হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যে সিরিজের প্রথম টেস্ট। এই ম্যাচটি ক্রিকেট প্রেমীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

রাতে ক্যারাবাও কাপের একটি হাই ভোল্টেজ ম্যাচে লিভারপুলের বিরুদ্ধে চেলসি মাঠে নামবে। এই ম্যাচটি ফুটবল ভক্তদের জন্য একটি আকর্ষণীয় প্রতিযোগিতা হতে চলেছে।

এছাড়া, মাঠে নামবে ম্যানচেস্টার সিটি, যারা তাদের শক্তিশালী দল নিয়ে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে লড়াই করবে।

মিরপুর টেস্ট: ১ম দিন

বাংলাদেশ–ওয়েস্ট ইন্ডিজ

সকাল ১০টা, টি স্পোর্টস

কেপটাউন টেস্ট: ২য় দিন

দক্ষিণ আফ্রিকা–অস্ট্রেলিয়া

দুপুর ২.৩০ মি., ট্যাপম্যাড

নারী ওয়ানডে

ভারত–জিম্বাবুয়ে

দুপুর ২.৩০ মি., স্টার স্পোর্টস ২

কারাবাও কাপ

ম্যান সিটি–ব্রাইটন

রাত ১–৩০ মি., ফ্যানকোড

ফুলহাম–প্যালেস

রাত ১–৪৫ মি., ফ্যানকোড

বোর্নমাউথ–অ্যাস্টন ভিলা

রাত ১–৪৫ মি., ফ্যানকোড

সান্ডারল্যান্ড–ব্রেন্টফোর্ড

রাত ১–৪৫ মি., ফ্যানকোড

লিভারপুল–চেলসি

রাত ২টা, ফ্যানকোড

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%