ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

চীনে পাচারের চেষ্টা, ১২ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নারী উদ্ধার


চীনে পাচারের চেষ্টা, ১২ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নারী উদ্ধার

চীনে পাচারের উদ্দেশ্যে আটকে রাখা ১২ নারীকে উদ্ধার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-১)। এই নারীদের উচ্চ বেতনে চাকরি ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার প্রলোভনে সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।

উদ্ধার হওয়া নারীদের মধ্যে রয়েছেন— মেমাচি মারমা (১৫), মাংশানু মগনি (১৮), রেখা চাকমা (২৮), ক্যানচি চাকমা (২২), বিরুপতি চাকমা (২৮), পূণ্যরেখা চাকমা (২৮), চাইছাইও মার্মা (২২), কৃষ্টিনা রোয়ালময় বৈল্টুং (১৯), পুষ্পিতা চাকমা (২১), পিংকি চাকমা (১৫), ববিতা চাকমা (২৭) ও আদর্শী চাকমা (২১)।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) এসআরবি-১-এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (অপস্ এবং মিডিয়া অফিসার) শাহ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গত ১৮ অক্টোবর চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী থানায় এই নারীদের নিখোঁজের বিষয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। সেই জিডির প্রেক্ষিতে ২৬ অক্টোবর বিকেল ৩টার দিকে রাজধানীর উত্তরার যমযম টাওয়ার-সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মেমাচি মারমা ও মাংশানু মগনিকে উদ্ধার করা হয়। এরপর তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন রাত ৮টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত ভাটারা থানাধীন এল ব্লকের ৫৬ নং রোডের ২৯৪১ নম্বর বাসায় অভিযান চালিয়ে বাকি ১০ জনকে উদ্ধার করা হয়।

আরও পড়ুন: জাতিসংঘে মানবাধিকারভিত্তিক অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণের আহ্বান বাংলাদেশ

তিনি আরও জানান, উদ্ধার হওয়া নারী ও কিশোরীদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, তাদের চীনে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি উচ্চ বেতনে চাকরি ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার প্রলোভন দেখিয়ে চট্টগ্রাম থেকে নিয়ে আসা হয়েছিল। পরে তাদের বৈধ ভ্রমণ-সংক্রান্ত কাগজপত্র ও পাসপোর্ট ছাড়াই বিদেশে পাচারের উদ্দেশ্যে জোর করে ওই বাসায় আটকে রাখা হয়। এ সময় তাদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয় এবং নানা অনৈতিক কাজে জড়ানোর প্রলোভন দেখানো হয়।

উদ্ধার হওয়া নারী ও কিশোরীদের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শেষে তাদের পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এই ঘটনার জন্য ভুক্তভোগীদের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার কার্যক্রম চলছে বলেও জানান এসআরবির এই কর্মকর্তা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঈশ্বরদীতে বাড়িঘর ভাঙচুর-লুটপাট, খোলা আকাশের নিচে দুই পরিবার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:২০ এম


ঈশ্বরদীতে বাড়িঘর ভাঙচুর-লুটপাট, খোলা আকাশের নিচে দুই পরিবার

পাবনার ঈশ্বরদীতে জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের কারণে দুই ব্যবসায়ীর বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও জোরপূর্বক উচ্ছেদের অভিযোগ উঠেছে তাদের প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী পরিবার দাবি করেছে, এ ঘটনায় নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও গরু লুটসহ প্রায় ২২ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

বসতভিটা হারিয়ে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছেন দুই পরিবার। তারা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য দাবি জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার সকালে উপজেলার পাকশী ইউনিয়নের বাঘইল কাঁঠালতলা মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। একই দিন রাতে সংবাদ সম্মেলন করে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা এসব অভিযোগ তুলে ধরে ন্যায়বিচার দাবি করেন।

ভুক্তভোগী পরিবারে ব্যবসায়ী জামিরুল ইসলাম শান্ত ও তার ভাই শিহাব উদ্দিন রয়েছেন। তাদের অভিযোগ, একই এলাকার খোকন হোসেন, রবি হোসেন, মতিয়ার রহমান, আবুল খায়ের, সিরাজুল ইসলামসহ আরো কয়েকজন এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত। এ ঘটনার পর রাতেই প্রধান অভিযুক্ত খোকন হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে ঈশ্বরদী থানার পুলিশ।

জামিরুলের অভিযোগ, মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে আদালতের কোনো আদেশ ছাড়াই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি দল তাদের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলার সময় বাড়িঘর ভাঙচুর করে তাদের জোরপূর্বক উচ্ছেদ করা হয়।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার পর ঈশ্বরদী থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও তারা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর প্রতিকার পাননি। বর্তমানে পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে।

অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করে খোকন বলেন, বিরোধপূর্ণ জমিটি তাদের পৈতৃক সম্পত্তি। তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অতীতে তাদের বাপ-দাদার ভিটা জবরদখল করা হয়েছিল। এ বিষয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ হলেও প্রতিপক্ষ তা মানেনি।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশাদুর রহমান বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। ভুক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান অভিযুক্ত খোকন হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তার ও প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এমই

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকার বাতাস সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর, ১২৩ স্কোরে ১৩তম স্থান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:২১ এম


ঢাকার বাতাস সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর, ১২৩ স্কোরে ১৩তম স্থান

চলতি মাসের অধিকাংশ সময় ঢাকার বাতাস অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় রয়েছে। আজও এটি ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। বায়ুমান সূচকে ১২৩ স্কোর নিয়ে ঢাকা বিশ্বের দূষিত বায়ুর শহরের তালিকায় ১৩তম স্থানে অবস্থান করছে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল ১০টায় সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান বিষয়ক ওয়েবসাইট আইকিউএয়ারে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

বায়ুদূষণের কারণে ওইদিন বিশ্বের দূষিত শহরগুলোর মধ্যে প্রথম স্থানে রয়েছে পাকিস্তানের শহর লাহোর, যার স্কোর ২৯৭। ভারতের রাজধানী শহর দিল্লি এবং মিশরের শহর কায়রো যথাক্রমে ২২৭ ও ২০২ স্কোর নিয়ে তালিকার দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে।

সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ার একটি শহরের বাতাস কতটা নির্মল বা দূষিত, তা লাইভ বা তাৎক্ষণিক সূচক হিসেবে জানিয়ে থাকে।

প্রতিষ্ঠানটির মানদণ্ড অনুযায়ী, স্কোর ০ থেকে ৫০ হলে বায়ুর মান ‘অনেক ভালো’ হিসেবে বিবেচিত হয়। ৫১ থেকে ১০০ স্কোর হলে বায়ুর মান ‘মাঝারি বা সহনীয়’ ধরা হয়।

আর ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে গণ্য হয়। ১৫১ থেকে ২০০ স্কোর ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে চিহ্নিত হয়। স্কোর ২০১ থেকে ৩০০ হলে তা ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়। অতিরিক্ত, স্কোর ৩০১-এর বেশি হলে তা ‘দুর্যোগপূর্ণ’ হিসেবে ধরা হয়।

যখন বায়ুমান অস্বাস্থ্যকর হয়ে যায়, তখন শিশু, বৃদ্ধ এবং শ্বাসকষ্ট বা হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের দীর্ঘ সময় বাইরে থাকার পরামর্শ দেয়া হয়। বাইরে বের হলে মাস্ক ব্যবহার করা আবশ্যক।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবার মধ্যে তীব্র বাগবিতণ্ডা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:২২ এম


জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবার মধ্যে তীব্র বাগবিতণ্ডা

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভায় যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবার প্রতিনিধিদের মধ্যে তীব্র বাগবিতণ্ডা দেখা গেছে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) কিউবার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে বার্ষিক আলোচনার সময় এই ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে, দুই দেশের প্রতিনিধিরা পরস্পরের দিকে চিৎকার করে কথা বলতে শুরু করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বৈঠকটি সাময়িকভাবে স্থগিত করতে হয়।

বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি মাইক ওয়াল্টজ কিউবার সরকারের কঠোর সমালোচনা করতে থাকেন। এ সময় কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ পারিয়া এবং তার প্রতিনিধিদল সভাকক্ষে ওয়াল্টজের বক্তব্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেন। তারা চিৎকার করে কথা বলছিলেন এবং হাতের ইশারায় আপত্তি জানাচ্ছিলেন। পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য বৈঠকের সভাপতি বারবার হাতুড়ি দিয়ে শব্দ করেন এবং তাদের থামতে বলেন।

ওয়াল্টজ তখন বলেন, ‘আমি আশা করি, সভাপতি, সবাই এখন কিউবার প্রতিনিধিদলের আচরণ দেখছেন। ভাবুন তো, হাভানায় কেউ এমন প্রশ্ন করলে তার কী হতো!’

পরে দুই পক্ষের মধ্যে আরও কথা-কাটাকাটি হয়। ওয়াল্টজ বলেন, ‘এটা আমেরিকা, এটা জাতিসংঘ। এটি আপনাদের কমিউনিস্ট একনায়কতন্ত্র নয়। আপনারা আমাকে বা আমার সহকর্মীদের চুপ করাতে পারবেন না।’

এরপর কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সভাকক্ষের সামনের দিকে এগিয়ে গেলে ওয়াল্টজ তাকে পেছনে সরে যেতে বলেন। তিনি চিৎকার করে বলেন, ‘এই ব্যক্তি বক্তৃতামঞ্চ থেকে দূরে সরে যান। যুক্তরাষ্ট্রে তিনি আমাকে ভয় দেখাতে পারবেন না। আমি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি। পেছনে যান!’

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বৈঠকের সভাপতি অধিবেশন স্থগিত করেন। পরে বৈঠকের নিয়ম ব্যাখ্যা করে তিনি কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেন। তবে তাকে ওয়াল্টজের বক্তব্যের বিষয়বস্তু নয়, কেবল প্রক্রিয়াগত বিষয়ে আপত্তি জানাতে বলা হয়।

নিজের আসনে ফিরে রদ্রিগেজ পারিয়া ওয়াল্টজের বক্তব্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান এবং তার বিরুদ্ধে ‘নির্লজ্জ মিথ্যাচারের’ অভিযোগ তোলেন।

পরে ওয়াল্টজ আবার বক্তব্য শেষ করেন। বুধবারের (২৮ অক্টোবর) ভোটে কিউবার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা-সংক্রান্ত প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিতে সদস্যদেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে রদ্রিগেজ পারিয়া ওয়াল্টজের ঔদ্ধত্যের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ওয়াল্টজ ভুলে গেছেন যে তিনি জাতিসংঘে আছেন, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদে বা বিশেষ বাহিনীর কোনো ইউনিটে নন। ইয়েমেনে হুতিদের ওপর হামলার পরিকল্পনা নিয়ে গোপন আলোচনার একটি বার্তাগোষ্ঠীতে সাংবাদিককে ভুল করে যুক্ত করার ঘটনাতেও ওয়াল্টজের অযোগ্যতা প্রকাশ পেয়েছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সাবেক বিশেষ বাহিনীর সদস্য ওয়াল্টজ গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা থাকাকালে ওই বার্তাগোষ্ঠীতে এক সাংবাদিককে ভুলবশত যুক্ত করার ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। গোষ্ঠীটিতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সসহ শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তারা ইয়েমেনে হুতিদের বিরুদ্ধে হামলার বিষয়ে আলোচনা করছিলেন।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওয়াল্টজকে জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি হিসেবে মনোনয়ন দেওয়ার সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার দায়িত্ব দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেছিলেন।

সূত্র: এবিসি নিউজ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জেন-জি আন্দোলনের মডেল হিসেবে আন্তর্জাতিক যুব আন্দোলনে প্রভাব: বাংলাদেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:২২ এম


জেন-জি আন্দোলনের মডেল হিসেবে আন্তর্জাতিক যুব আন্দোলনে প্রভাব: বাংলাদেশ

"আপনাদের কাছ থেকে আমরা অনুপ্রেরণা নিই, আপনারা যে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তা থেকে শিক্ষা নিই"—এই মন্তব্য করেছেন ভারতের জেন-জি আন্দোলনের পরিচিত মুখ নেহা বোরা।

গত বছর নেপাল ও মাদাগাস্কারে তীব্র জেন-জি আন্দোলনের ফলে সরকার পতন ঘটে। টোগো, কেনিয়া ও মরক্কোয় তরুণরা নিজেদের অধিকারের জন্য লড়াই করেছে। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তরুণদের বিক্ষোভ চলছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ২০২৫ সালকে ‘প্রতিবাদের বছর’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এশিয়া ও আফ্রিকার তরুণদের রাজপথে নামার অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে ২০২৪ সালের বাংলাদেশের জুলাই বিপ্লবের উল্লেখ করা হয়। বাংলাদেশের চব্বিশের জুলাই বিপ্লবের পর ২০২৫ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া জেন-জি আন্দোলনে বাংলাদেশ একটি অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে। শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের সময় বুলেটের সামনে অসীম সাহসে বুক চিতিয়ে দাঁড়ানো আবু সাঈদের প্রসারিত দুই হাত আজ বিশ্বের অনেক তরুণের কাছে সাহস ও অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে রয়েছে। নয়াদিল্লিসহ বিশ্বের বিভিন্ন শহরে তরুণ প্রজন্মের সরকারবিরোধী আন্দোলনে বাংলাদেশের জুলাই বিপ্লবের ভাষা ও অভিজ্ঞতার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।

যদিও বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে জেন-জি আন্দোলনের ফলে কর্তৃত্ববাদী ও স্বৈরাচারী সরকারের পতন ঘটেছে, তথাপি কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন সব ক্ষেত্রে আসেনি। এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন গণআন্দোলনে জেন-জি প্রজন্মের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং বাংলাদেশের জুলাই বিপ্লবের অভিজ্ঞতা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

১৯৯৭ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া এই প্রজন্ম জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অনিশ্চয়তা, অর্থনৈতিক চাপ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যাপক ব্যবহারের যুগে বেড়ে উঠেছে। তাই তাদের ‘উদ্বেগের প্রজন্ম’ (Generation Anxiety) বলেও অভিহিত করা হয়। তবে বহু দেশে দুর্নীতি ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের মূল কারণ হলো ভবিষ্যৎ নিয়ে জেন-জিদের শঙ্কা, রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন এবং আপাতদৃষ্টিতে ছোট মনে হওয়া কিছু ঘটনা, যা দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভকে বিস্ফোরিত করেছে।

যেমন : টোগোতে দুর্নীতিবিরোধী গানের জন্য পরিচিত এক র‍্যাপারকে গ্রেপ্তারের পর তরুণরা বিক্ষোভে নামেন। কেনিয়ায় এক ব্লগারকে আইনি হেফাজতে হত্যা করার অভিযোগের পর জুনে বিক্ষোভ শুরু হয়। আন্দোলনের সম্মুখসারিতে ছিলেন ২৯ বছর বয়সি হানিফা আদান সাফিয়া। নেপালে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করার প্রতিবাদে সেপ্টেম্বরে আন্দোলন তীব্র হয়ে ওঠে এবং সরকারের পতন ঘটে। মাদাগাস্কারে দুর্নীতিবিরোধী জেন-জি বিক্ষোভের মুখে অক্টোবরে সরকারের পতন ঘটে। মরক্কোতে হাসপাতালে অন্তঃসত্ত্বা নারীদের মৃত্যুর পর অক্টোবরে তরুণদের বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

ইন্টারনেট সেন্সরশিপ, দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার, কর্মসংস্থানের ঘাটতি ও জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ে অতিষ্ঠ তরুণ প্রজন্ম আফ্রিকা ও এশিয়া থেকে ইউরোপ পর্যন্ত একের পর এক আন্দোলন গড়ে তুলেছে। তাদের কাছে প্রতিবাদ শুধু বর্তমান শাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ নয়, বরং নিজেদের ভবিষ্যৎ ফিরে পাওয়ার লড়াই।

বাংলাদেশের তরুণদের গণভবন দখলের ঘটনাকে অনেকে শ্রীলঙ্কার আন্দোলন ও সরকার পতনের সঙ্গে তুলনা করেছেন। পলাতক আওয়ামী লীগ নেতা ওবায়দুল কাদেরও বলেছিলেন, "কারফিউ না দিলে ‘শ্রীলঙ্কা স্টাইলে’ গণভবন দখলের ষড়যন্ত্র ছিল।" এই বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, একটি দেশের গণআন্দোলন কীভাবে অন্য দেশের মানুষের কল্পনা, কৌশল ও প্রতিবাদের ভাষাকে প্রভাবিত করতে পারে।

২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তরুণদের আন্দোলন নতুন মাত্রা পেয়েছে। জেন-জিরা দেখেছে, শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে শুরু হওয়া একটি আন্দোলন কীভাবে রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন অতিক্রম করে বৃহত্তর গণঅভ্যুত্থানে রূপ নিতে পারে। বাংলাদেশের আন্দোলনের ছবি, স্লোগান ও প্রতিরোধের ভাষা আন্তর্জাতিক পরিসরে ছড়িয়ে পড়েছে।

করোনা মহামারি ও ইউক্রেন যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদি এবং ধ্বংসাত্মক প্রভাবের পর বর্তমানে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে জ্বালানির দাম, আবাসন সংকট ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে অসন্তোষ বাড়ছে। ফ্রান্স, ইতালি, স্পেন, বেলজিয়াম ও পর্তুগালে অর্থনৈতিক চাপের বিরুদ্ধে জনঅসন্তোষ ক্রমেই বাড়ছে। অন্যদিকে পোল্যান্ড ও গ্রিসেও রাজনৈতিক অসন্তোষ এবং আসন্ন নির্বাচন ঘিরে তরুণদের প্রতিবাদ সামনে এসেছে। দেশগুলোর আন্দোলনের কারণ ও গতিপথ এক না হলেও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, বৈষম্য এবং রাষ্ট্রীয় নীতির প্রতি অসন্তোষের সঙ্গে বাংলাদেশের ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের অভিজ্ঞতার কিছু গুরুত্বপূর্ণ মিল রয়েছে।

এসব প্রতিবাদের প্রতিটিতে বাংলাদেশের মতো সরকার পতনের দাবি না থাকলেও অর্থনৈতিক সংকট কীভাবে বৃহত্তর রাজনৈতিক অসন্তোষের জন্ম দিতে পারে, তার দৃষ্টান্ত দেখা যায়।

বাংলাদেশের ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের সূচনা হয়েছিল সরকারি চাকরিতে কোটা পুনর্বহালের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। কিন্তু আন্দোলনটি দ্রুত বৃহত্তর রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনে পরিণত হয়। দীর্ঘদিনের রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন, গুম-খুন, বৈষম্য ও অগণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা নিয়ে পুঞ্জীভূত জনঅসন্তোষ আন্দোলনকে সর্বজনীন করে তোলে। শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে শুরু হওয়া আন্দোলনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যুক্ত হন। কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া প্রতিবাদ ক্রমে রাষ্ট্রীয় সহিংসতা, জবাবদিহির অভাব ও কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধে রূপ নেয়। শেষ পর্যন্ত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটে।

এরপর থেকে বিশ্বের নানা দেশে বাংলাদেশের জুলাই বিপ্লব আলোচনায় এসেছে। জেন-জিরা বাংলাদেশের আন্দোলন থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে রাজপথে নেমেছে, কিংবা নিজেদের আন্দোলনের সঙ্গে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতার মিল খুঁজে পেয়েছে। অর্থনৈতিক সংকট, সামাজিক বৈষম্য ও রাষ্ট্রীয় নীতির প্রতি মানুষের ক্ষোভ কখন বিচ্ছিন্ন প্রতিবাদকে বৃহত্তর রাজনৈতিক আন্দোলনে রূপ দেয়, বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা থেকে তারা সে শিক্ষা পেয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের জুলাই বিপ্লব দেখিয়েছে, তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা আন্দোলন তখনই ব্যাপক গণআন্দোলনে পরিণত হয়, যখন তা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সংকট, অধিকারহীনতা ও দীর্ঘদিনের ক্ষোভের সঙ্গে যুক্ত হয়।

বিশ্বজুড়ে জেন-জির এই প্রতিবাদকে তাই শুধু একটি প্রজন্মের ক্ষোভ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে রাষ্ট্রের জবাবদিহি, অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, গণতান্ত্রিক অধিকার এবং মর্যাদাপূর্ণ ভবিষ্যতের প্রশ্ন। বাংলাদেশের জুলাই বিপ্লব এসব প্রশ্নকে একটি শক্তিশালী ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে সামনে এনেছে। আবু সাঈদের প্রসারিত দুই হাত থেকে শুরু করে রাজপথে সাধারণ মানুষের সম্মিলিত প্রতিরোধ—সবকিছুই মনে করিয়ে দেয়, ভয় ও দমন-পীড়নের দেয়াল ভেঙে মানুষ যখন একসঙ্গে দাঁড়ায়, তখন পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়। সেই সম্ভাবনাই জুলাই বিপ্লবকে আন্দোলনের একটি মডেল হিসেবে আলোচনায় এনেছে, যা থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তরুণরা অনুপ্রেরণা নিচ্ছেন।

এ দেশের মানুষ বারবার মুক্তির স্বপ্ন দেখেছে, কিন্তু প্রতিবারই তারা বঞ্চিত হয়েছে। অগণিত মানুষের জীবন, বিপুল ধ্বংসযজ্ঞ ও সীমাহীন ত্যাগের পর ১৯৭১ সালে এ দেশের মানুষ নতুন একটি দেশ পেলেও স্বাধীনতার স্বপ্ন দ্রুতই তাদের জন্য চরম দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার দেশের মুক্তিকামী মানুষকে উপহার দিয়েছিল দুর্ভিক্ষ আর অবর্ণনীয় দুঃশাসন। কাঙ্ক্ষিত মুক্তির আশায় এ দেশের মানুষ এরপরও বারবার রাজপথে নেমে রক্ত দিয়েছে, জীবন দিয়েছে। কিন্তু প্রতিবারই তার সুবিধা নিয়েছে একটি বিশেষ শ্রেণি। যুগ যুগ ধরে বঞ্চিত মানুষের এই ক্ষোভ শেষ পর্যন্ত চব্বিশের জুলাই মাসে শেখ হাসিনার দীর্ঘ দুঃশাসনের বিরুদ্ধে বাঁধভাঙা জোয়ারে রূপ নেয়।

ভারতের সহায়তায় ক্ষমতায় থাকা শাসক শেখ হাসিনা বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয় প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছিলেন—এমন অভিযোগ রয়েছে। ক্ষমতা স্থায়ী করার জন্য তার সরকার বিরোধীদের বিরুদ্ধে হত্যা ও দমনের নীতি বেছে নিয়েছিল বলে সমালোচকরা অভিযোগ করেন। প্রতিবাদ দমনের ক্ষেত্রে হত্যা ও রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের অভিযোগও সামনে এসেছে। এভাবে দেশে ভীতি ও ত্রাসের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল বলে আন্দোলনকারীদের বক্তব্য। এ ধরনের স্বৈরাচারী শাসকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ গড়ে তোলাও একপর্যায়ে কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু তারপরও বাংলাদেশের মানুষ সম্মিলিতভাবে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করে। বাংলাদেশের মানুষ বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছে, একজন শাসক রাষ্ট্রযন্ত্রের ওপর যতই নিয়ন্ত্রণ আরোপ করুন না কেন, জনগণের সম্মিলিত প্রতিরোধের মুখে তার পক্ষে অনির্দিষ্টকাল ক্ষমতায় টিকে থাকা সম্ভব নয়। সে কারণেই বাংলাদেশের জেন-জি আজ রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন, শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তরুণদের আন্দোলনে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে।

লেখক : সহ-সম্পাদক, আমার দেশ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%