ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ঢাকার বাতাস সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর, ১২৩ স্কোরে ১৩তম স্থান


ঢাকার বাতাস সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর, ১২৩ স্কোরে ১৩তম স্থান

চলতি মাসের অধিকাংশ সময় ঢাকার বাতাস অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় রয়েছে। আজও এটি ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। বায়ুমান সূচকে ১২৩ স্কোর নিয়ে ঢাকা বিশ্বের দূষিত বায়ুর শহরের তালিকায় ১৩তম স্থানে অবস্থান করছে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল ১০টায় সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান বিষয়ক ওয়েবসাইট আইকিউএয়ারে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

বায়ুদূষণের কারণে ওইদিন বিশ্বের দূষিত শহরগুলোর মধ্যে প্রথম স্থানে রয়েছে পাকিস্তানের শহর লাহোর, যার স্কোর ২৯৭। ভারতের রাজধানী শহর দিল্লি এবং মিশরের শহর কায়রো যথাক্রমে ২২৭ ও ২০২ স্কোর নিয়ে তালিকার দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে ইউনিক্লোর প্রতি উদ্যোগ: প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ার একটি শহরের বাতাস কতটা নির্মল বা দূষিত, তা লাইভ বা তাৎক্ষণিক সূচক হিসেবে জানিয়ে থাকে।

প্রতিষ্ঠানটির মানদণ্ড অনুযায়ী, স্কোর ০ থেকে ৫০ হলে বায়ুর মান ‘অনেক ভালো’ হিসেবে বিবেচিত হয়। ৫১ থেকে ১০০ স্কোর হলে বায়ুর মান ‘মাঝারি বা সহনীয়’ ধরা হয়।

আর ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে গণ্য হয়। ১৫১ থেকে ২০০ স্কোর ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে চিহ্নিত হয়। স্কোর ২০১ থেকে ৩০০ হলে তা ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়। অতিরিক্ত, স্কোর ৩০১-এর বেশি হলে তা ‘দুর্যোগপূর্ণ’ হিসেবে ধরা হয়।

যখন বায়ুমান অস্বাস্থ্যকর হয়ে যায়, তখন শিশু, বৃদ্ধ এবং শ্বাসকষ্ট বা হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের দীর্ঘ সময় বাইরে থাকার পরামর্শ দেয়া হয়। বাইরে বের হলে মাস্ক ব্যবহার করা আবশ্যক।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের দশম স্থলবাহিনী সংলাপ ঢাকা সেনানিবাসে সফলভাবে সম্পন্ন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবার মধ্যে তীব্র বাগবিতণ্ডা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:২২ এম


জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবার মধ্যে তীব্র বাগবিতণ্ডা

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভায় যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবার প্রতিনিধিদের মধ্যে তীব্র বাগবিতণ্ডা দেখা গেছে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) কিউবার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে বার্ষিক আলোচনার সময় এই ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে, দুই দেশের প্রতিনিধিরা পরস্পরের দিকে চিৎকার করে কথা বলতে শুরু করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বৈঠকটি সাময়িকভাবে স্থগিত করতে হয়।

বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি মাইক ওয়াল্টজ কিউবার সরকারের কঠোর সমালোচনা করতে থাকেন। এ সময় কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ পারিয়া এবং তার প্রতিনিধিদল সভাকক্ষে ওয়াল্টজের বক্তব্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেন। তারা চিৎকার করে কথা বলছিলেন এবং হাতের ইশারায় আপত্তি জানাচ্ছিলেন। পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য বৈঠকের সভাপতি বারবার হাতুড়ি দিয়ে শব্দ করেন এবং তাদের থামতে বলেন।

ওয়াল্টজ তখন বলেন, ‘আমি আশা করি, সভাপতি, সবাই এখন কিউবার প্রতিনিধিদলের আচরণ দেখছেন। ভাবুন তো, হাভানায় কেউ এমন প্রশ্ন করলে তার কী হতো!’

পরে দুই পক্ষের মধ্যে আরও কথা-কাটাকাটি হয়। ওয়াল্টজ বলেন, ‘এটা আমেরিকা, এটা জাতিসংঘ। এটি আপনাদের কমিউনিস্ট একনায়কতন্ত্র নয়। আপনারা আমাকে বা আমার সহকর্মীদের চুপ করাতে পারবেন না।’

এরপর কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সভাকক্ষের সামনের দিকে এগিয়ে গেলে ওয়াল্টজ তাকে পেছনে সরে যেতে বলেন। তিনি চিৎকার করে বলেন, ‘এই ব্যক্তি বক্তৃতামঞ্চ থেকে দূরে সরে যান। যুক্তরাষ্ট্রে তিনি আমাকে ভয় দেখাতে পারবেন না। আমি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি। পেছনে যান!’

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বৈঠকের সভাপতি অধিবেশন স্থগিত করেন। পরে বৈঠকের নিয়ম ব্যাখ্যা করে তিনি কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেন। তবে তাকে ওয়াল্টজের বক্তব্যের বিষয়বস্তু নয়, কেবল প্রক্রিয়াগত বিষয়ে আপত্তি জানাতে বলা হয়।

নিজের আসনে ফিরে রদ্রিগেজ পারিয়া ওয়াল্টজের বক্তব্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান এবং তার বিরুদ্ধে ‘নির্লজ্জ মিথ্যাচারের’ অভিযোগ তোলেন।

পরে ওয়াল্টজ আবার বক্তব্য শেষ করেন। বুধবারের (২৮ অক্টোবর) ভোটে কিউবার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা-সংক্রান্ত প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিতে সদস্যদেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে রদ্রিগেজ পারিয়া ওয়াল্টজের ঔদ্ধত্যের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ওয়াল্টজ ভুলে গেছেন যে তিনি জাতিসংঘে আছেন, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদে বা বিশেষ বাহিনীর কোনো ইউনিটে নন। ইয়েমেনে হুতিদের ওপর হামলার পরিকল্পনা নিয়ে গোপন আলোচনার একটি বার্তাগোষ্ঠীতে সাংবাদিককে ভুল করে যুক্ত করার ঘটনাতেও ওয়াল্টজের অযোগ্যতা প্রকাশ পেয়েছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সাবেক বিশেষ বাহিনীর সদস্য ওয়াল্টজ গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা থাকাকালে ওই বার্তাগোষ্ঠীতে এক সাংবাদিককে ভুলবশত যুক্ত করার ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। গোষ্ঠীটিতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সসহ শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তারা ইয়েমেনে হুতিদের বিরুদ্ধে হামলার বিষয়ে আলোচনা করছিলেন।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওয়াল্টজকে জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি হিসেবে মনোনয়ন দেওয়ার সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার দায়িত্ব দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেছিলেন।

সূত্র: এবিসি নিউজ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জেন-জি আন্দোলনের মডেল হিসেবে আন্তর্জাতিক যুব আন্দোলনে প্রভাব: বাংলাদেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:২২ এম


জেন-জি আন্দোলনের মডেল হিসেবে আন্তর্জাতিক যুব আন্দোলনে প্রভাব: বাংলাদেশ

"আপনাদের কাছ থেকে আমরা অনুপ্রেরণা নিই, আপনারা যে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তা থেকে শিক্ষা নিই"—এই মন্তব্য করেছেন ভারতের জেন-জি আন্দোলনের পরিচিত মুখ নেহা বোরা।

গত বছর নেপাল ও মাদাগাস্কারে তীব্র জেন-জি আন্দোলনের ফলে সরকার পতন ঘটে। টোগো, কেনিয়া ও মরক্কোয় তরুণরা নিজেদের অধিকারের জন্য লড়াই করেছে। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তরুণদের বিক্ষোভ চলছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ২০২৫ সালকে ‘প্রতিবাদের বছর’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এশিয়া ও আফ্রিকার তরুণদের রাজপথে নামার অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে ২০২৪ সালের বাংলাদেশের জুলাই বিপ্লবের উল্লেখ করা হয়। বাংলাদেশের চব্বিশের জুলাই বিপ্লবের পর ২০২৫ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া জেন-জি আন্দোলনে বাংলাদেশ একটি অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে। শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের সময় বুলেটের সামনে অসীম সাহসে বুক চিতিয়ে দাঁড়ানো আবু সাঈদের প্রসারিত দুই হাত আজ বিশ্বের অনেক তরুণের কাছে সাহস ও অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে রয়েছে। নয়াদিল্লিসহ বিশ্বের বিভিন্ন শহরে তরুণ প্রজন্মের সরকারবিরোধী আন্দোলনে বাংলাদেশের জুলাই বিপ্লবের ভাষা ও অভিজ্ঞতার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।

যদিও বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে জেন-জি আন্দোলনের ফলে কর্তৃত্ববাদী ও স্বৈরাচারী সরকারের পতন ঘটেছে, তথাপি কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন সব ক্ষেত্রে আসেনি। এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন গণআন্দোলনে জেন-জি প্রজন্মের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং বাংলাদেশের জুলাই বিপ্লবের অভিজ্ঞতা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

১৯৯৭ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া এই প্রজন্ম জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অনিশ্চয়তা, অর্থনৈতিক চাপ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যাপক ব্যবহারের যুগে বেড়ে উঠেছে। তাই তাদের ‘উদ্বেগের প্রজন্ম’ (Generation Anxiety) বলেও অভিহিত করা হয়। তবে বহু দেশে দুর্নীতি ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের মূল কারণ হলো ভবিষ্যৎ নিয়ে জেন-জিদের শঙ্কা, রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন এবং আপাতদৃষ্টিতে ছোট মনে হওয়া কিছু ঘটনা, যা দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভকে বিস্ফোরিত করেছে।

যেমন : টোগোতে দুর্নীতিবিরোধী গানের জন্য পরিচিত এক র‍্যাপারকে গ্রেপ্তারের পর তরুণরা বিক্ষোভে নামেন। কেনিয়ায় এক ব্লগারকে আইনি হেফাজতে হত্যা করার অভিযোগের পর জুনে বিক্ষোভ শুরু হয়। আন্দোলনের সম্মুখসারিতে ছিলেন ২৯ বছর বয়সি হানিফা আদান সাফিয়া। নেপালে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করার প্রতিবাদে সেপ্টেম্বরে আন্দোলন তীব্র হয়ে ওঠে এবং সরকারের পতন ঘটে। মাদাগাস্কারে দুর্নীতিবিরোধী জেন-জি বিক্ষোভের মুখে অক্টোবরে সরকারের পতন ঘটে। মরক্কোতে হাসপাতালে অন্তঃসত্ত্বা নারীদের মৃত্যুর পর অক্টোবরে তরুণদের বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

ইন্টারনেট সেন্সরশিপ, দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার, কর্মসংস্থানের ঘাটতি ও জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ে অতিষ্ঠ তরুণ প্রজন্ম আফ্রিকা ও এশিয়া থেকে ইউরোপ পর্যন্ত একের পর এক আন্দোলন গড়ে তুলেছে। তাদের কাছে প্রতিবাদ শুধু বর্তমান শাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ নয়, বরং নিজেদের ভবিষ্যৎ ফিরে পাওয়ার লড়াই।

বাংলাদেশের তরুণদের গণভবন দখলের ঘটনাকে অনেকে শ্রীলঙ্কার আন্দোলন ও সরকার পতনের সঙ্গে তুলনা করেছেন। পলাতক আওয়ামী লীগ নেতা ওবায়দুল কাদেরও বলেছিলেন, "কারফিউ না দিলে ‘শ্রীলঙ্কা স্টাইলে’ গণভবন দখলের ষড়যন্ত্র ছিল।" এই বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, একটি দেশের গণআন্দোলন কীভাবে অন্য দেশের মানুষের কল্পনা, কৌশল ও প্রতিবাদের ভাষাকে প্রভাবিত করতে পারে।

২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তরুণদের আন্দোলন নতুন মাত্রা পেয়েছে। জেন-জিরা দেখেছে, শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে শুরু হওয়া একটি আন্দোলন কীভাবে রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন অতিক্রম করে বৃহত্তর গণঅভ্যুত্থানে রূপ নিতে পারে। বাংলাদেশের আন্দোলনের ছবি, স্লোগান ও প্রতিরোধের ভাষা আন্তর্জাতিক পরিসরে ছড়িয়ে পড়েছে।

করোনা মহামারি ও ইউক্রেন যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদি এবং ধ্বংসাত্মক প্রভাবের পর বর্তমানে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে জ্বালানির দাম, আবাসন সংকট ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে অসন্তোষ বাড়ছে। ফ্রান্স, ইতালি, স্পেন, বেলজিয়াম ও পর্তুগালে অর্থনৈতিক চাপের বিরুদ্ধে জনঅসন্তোষ ক্রমেই বাড়ছে। অন্যদিকে পোল্যান্ড ও গ্রিসেও রাজনৈতিক অসন্তোষ এবং আসন্ন নির্বাচন ঘিরে তরুণদের প্রতিবাদ সামনে এসেছে। দেশগুলোর আন্দোলনের কারণ ও গতিপথ এক না হলেও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, বৈষম্য এবং রাষ্ট্রীয় নীতির প্রতি অসন্তোষের সঙ্গে বাংলাদেশের ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের অভিজ্ঞতার কিছু গুরুত্বপূর্ণ মিল রয়েছে।

এসব প্রতিবাদের প্রতিটিতে বাংলাদেশের মতো সরকার পতনের দাবি না থাকলেও অর্থনৈতিক সংকট কীভাবে বৃহত্তর রাজনৈতিক অসন্তোষের জন্ম দিতে পারে, তার দৃষ্টান্ত দেখা যায়।

বাংলাদেশের ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের সূচনা হয়েছিল সরকারি চাকরিতে কোটা পুনর্বহালের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। কিন্তু আন্দোলনটি দ্রুত বৃহত্তর রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনে পরিণত হয়। দীর্ঘদিনের রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন, গুম-খুন, বৈষম্য ও অগণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা নিয়ে পুঞ্জীভূত জনঅসন্তোষ আন্দোলনকে সর্বজনীন করে তোলে। শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে শুরু হওয়া আন্দোলনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যুক্ত হন। কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া প্রতিবাদ ক্রমে রাষ্ট্রীয় সহিংসতা, জবাবদিহির অভাব ও কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধে রূপ নেয়। শেষ পর্যন্ত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটে।

এরপর থেকে বিশ্বের নানা দেশে বাংলাদেশের জুলাই বিপ্লব আলোচনায় এসেছে। জেন-জিরা বাংলাদেশের আন্দোলন থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে রাজপথে নেমেছে, কিংবা নিজেদের আন্দোলনের সঙ্গে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতার মিল খুঁজে পেয়েছে। অর্থনৈতিক সংকট, সামাজিক বৈষম্য ও রাষ্ট্রীয় নীতির প্রতি মানুষের ক্ষোভ কখন বিচ্ছিন্ন প্রতিবাদকে বৃহত্তর রাজনৈতিক আন্দোলনে রূপ দেয়, বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা থেকে তারা সে শিক্ষা পেয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের জুলাই বিপ্লব দেখিয়েছে, তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা আন্দোলন তখনই ব্যাপক গণআন্দোলনে পরিণত হয়, যখন তা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সংকট, অধিকারহীনতা ও দীর্ঘদিনের ক্ষোভের সঙ্গে যুক্ত হয়।

বিশ্বজুড়ে জেন-জির এই প্রতিবাদকে তাই শুধু একটি প্রজন্মের ক্ষোভ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে রাষ্ট্রের জবাবদিহি, অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, গণতান্ত্রিক অধিকার এবং মর্যাদাপূর্ণ ভবিষ্যতের প্রশ্ন। বাংলাদেশের জুলাই বিপ্লব এসব প্রশ্নকে একটি শক্তিশালী ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে সামনে এনেছে। আবু সাঈদের প্রসারিত দুই হাত থেকে শুরু করে রাজপথে সাধারণ মানুষের সম্মিলিত প্রতিরোধ—সবকিছুই মনে করিয়ে দেয়, ভয় ও দমন-পীড়নের দেয়াল ভেঙে মানুষ যখন একসঙ্গে দাঁড়ায়, তখন পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়। সেই সম্ভাবনাই জুলাই বিপ্লবকে আন্দোলনের একটি মডেল হিসেবে আলোচনায় এনেছে, যা থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তরুণরা অনুপ্রেরণা নিচ্ছেন।

এ দেশের মানুষ বারবার মুক্তির স্বপ্ন দেখেছে, কিন্তু প্রতিবারই তারা বঞ্চিত হয়েছে। অগণিত মানুষের জীবন, বিপুল ধ্বংসযজ্ঞ ও সীমাহীন ত্যাগের পর ১৯৭১ সালে এ দেশের মানুষ নতুন একটি দেশ পেলেও স্বাধীনতার স্বপ্ন দ্রুতই তাদের জন্য চরম দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার দেশের মুক্তিকামী মানুষকে উপহার দিয়েছিল দুর্ভিক্ষ আর অবর্ণনীয় দুঃশাসন। কাঙ্ক্ষিত মুক্তির আশায় এ দেশের মানুষ এরপরও বারবার রাজপথে নেমে রক্ত দিয়েছে, জীবন দিয়েছে। কিন্তু প্রতিবারই তার সুবিধা নিয়েছে একটি বিশেষ শ্রেণি। যুগ যুগ ধরে বঞ্চিত মানুষের এই ক্ষোভ শেষ পর্যন্ত চব্বিশের জুলাই মাসে শেখ হাসিনার দীর্ঘ দুঃশাসনের বিরুদ্ধে বাঁধভাঙা জোয়ারে রূপ নেয়।

ভারতের সহায়তায় ক্ষমতায় থাকা শাসক শেখ হাসিনা বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয় প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছিলেন—এমন অভিযোগ রয়েছে। ক্ষমতা স্থায়ী করার জন্য তার সরকার বিরোধীদের বিরুদ্ধে হত্যা ও দমনের নীতি বেছে নিয়েছিল বলে সমালোচকরা অভিযোগ করেন। প্রতিবাদ দমনের ক্ষেত্রে হত্যা ও রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের অভিযোগও সামনে এসেছে। এভাবে দেশে ভীতি ও ত্রাসের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল বলে আন্দোলনকারীদের বক্তব্য। এ ধরনের স্বৈরাচারী শাসকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ গড়ে তোলাও একপর্যায়ে কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু তারপরও বাংলাদেশের মানুষ সম্মিলিতভাবে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করে। বাংলাদেশের মানুষ বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছে, একজন শাসক রাষ্ট্রযন্ত্রের ওপর যতই নিয়ন্ত্রণ আরোপ করুন না কেন, জনগণের সম্মিলিত প্রতিরোধের মুখে তার পক্ষে অনির্দিষ্টকাল ক্ষমতায় টিকে থাকা সম্ভব নয়। সে কারণেই বাংলাদেশের জেন-জি আজ রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন, শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তরুণদের আন্দোলনে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে।

লেখক : সহ-সম্পাদক, আমার দেশ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মরিয়া জনতা ব্যাংক, আরব আমিরাতে কার্যক্রম চালু রাখতে চায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:২৩ এম


মরিয়া জনতা ব্যাংক, আরব আমিরাতে কার্যক্রম চালু রাখতে চায়

সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) পরিচালিত জনতা ব্যাংক পিএলসি-এর কার্যক্রম বন্ধ বা গুটিয়ে নেওয়ার (উইন্ড-ডাউন) প্রক্রিয়া শুরু করেছে সে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক (সিবিইউএই)। রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী এই ব্যাংকের ইউএই অপারেশনের সংকট থেকে উত্তরণের সম্ভাব্য উপায় নির্ধারণে ঢাকা ও আবুধাবির নীতিনির্ধারকদের অংশগ্রহণে একটি জরুরি উচ্চপর্যায়ের সভা আয়োজনের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছে জনতা ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

সম্প্রতি জনতা ব্যাংক পিএলসির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান মুহঃ ফজলুর রহমান অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিবের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এই জরুরি তাগিদ দেওয়া হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, সেন্ট্রাল ব্যাংক অব ইউএই এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্তৃপক্ষের মধ্যে দ্রুত দ্বিপাক্ষিক সমন্বয় জোরদার করা না গেলে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবাসরত প্রায় ১০ লাখ প্রবাসীর রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় পাঠানোর প্রবাহ মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হবে। একই সঙ্গে এই শাখাটি বন্ধ হয়ে গেলে তা বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যকার দীর্ঘদিনের দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

ইউএইতে প্রশাসক নিয়োগ ও

ব্যাংকটির পদক্ষেপ

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সেন্ট্রাল ব্যাংক অব ইউএই কর্তৃক উইন্ড-ডাউন বা কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করার পর জনতা ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রম সচল রাখতে মূলধন ঘাটতি পূরণের তাৎক্ষণিক উদ্যোগ নেওয়া হয়। ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত এবং সরকারের উচ্চপর্যায়ের অনুমোদন সাপেক্ষে গত ৮ সেপ্টেম্বর ৩০০ মিলিয়ন ইউএই দিরহাম সমপরিমাণ ৮ কোটি ১৫ লাখ ৭৭ হাজার ১০৩ মার্কিন ডলার আবুধাবি শাখায় পাঠানো হয়। একই সঙ্গে গত ২২ সেপ্টেম্বর অর্থ বিভাগের পক্ষ থেকে সিবিইউএই-এর গভর্নর বরাবর জনতা ব্যাংকের মূলধন পর্যায়ক্রমে ২ বিলিয়ন বা সমপরিমাণে উন্নীত করার একটি দৃঢ় প্রতিশ্রুতিপত্র পাঠানো হয়। কিন্তু এতসব পদক্ষেপের পরও গত ১ অক্টোবর সেন্ট্রাল ব্যাংক অব ইউএই এক চিঠির মাধ্যমে ক্রো ইউএই’কে জনতা ব্যাংকের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয়। যারা গত ৮ অক্টোবর থেকে ইউএই অপারেশনে তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে।

ঝুঁকিতে ১০ লাখ প্রবাসীর ব্যাংকিং সেবা

বাংলাদেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ১৯৭৪ সাল থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে দীর্ঘ ৫২ বছর ধরে অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে জনতা ব্যাংক। বর্তমানে এই বৈদেশিক শাখাসমূহে প্রায় ৭০ হাজার সক্রিয় আমানত হিসাবধারী এবং ৩,৪০০ ঋণ ও অগ্রিম সুবিধাভোগী গ্রাহক রয়েছেন, যার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িয়ে আছেন প্রায় ১০ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশি। ফলে এই শাখাগুলোর কার্যক্রম কোনো কারণে বন্ধ হয়ে গেলে রেমিট্যান্স প্রবাহ থমকে যাওয়ার পাশাপাশি প্রবাসীদের কষ্টার্জিত আমানত ও সামগ্রিক ব্যাংকিং সেবা চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে, যা দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সম্পর্কের জন্য একটি বড় ধাক্কা হবে।

উচ্চপর্যায়ের জরুরি সভার তাগিদ

এমন কঠিন সংকট থেকে উত্তরণের সম্ভাব্য উপায় নির্ধারণ, সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝির অবসান এবং ব্যাংকিং কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে একটি উচ্চপর্যায়ের সভা ডাকার তাগিদ দিয়েছে জনতা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক, জনতা ব্যাংকের প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূতের সমন্বয়ে জরুরি ভিত্তিতে একটি ভিডিও কনফারেন্স বা সরাসরি দ্বিপাক্ষিক আলোচনা সভা আয়োজন করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছেন ব্যাংকের চেয়ারম্যান।

ব্যাংকের বক্তব্য

জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান মুহঃ ফজলুর রহমান আমার দেশকে বলেন, বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ব্যাংকের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পাশাপাশি উভয় দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করতে একটি সভা আয়োজনের দাবি জানিয়েছি।

জানা গেছে, ২০২১ সালে ইউএইর কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিদেশি ব্যাংকগুলোর ন্যূনতম মূলধনের শর্ত ৪০ মিলিয়ন দিরহাম থেকে বাড়িয়ে ৪০০ মিলিয়ন দিরহাম করে। কিন্তু জনতা ব্যাংকের ইউএই ইউনিটের পরিশোধিত মূলধন ছিল ১০০ মিলিয়ন দিরহাম। এর সঙ্গে ৮৩ মিলিয়ন দিরহাম অবণ্টিত মুনাফা থাকলেও নতুন নির্ধারিত সীমার তুলনায় বড় ঘাটতি থেকে যায়।

এ ঘাটতির পরিপ্রেক্ষিতে গত ৮ জুলাই ২০২৬ থেকে জনতা ব্যাংকের ইউএইর কেন্দ্রীয় ব্যাংকে রক্ষিত রিজার্ভ হিসাব থেকে ডেবিট লেনদেনের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। এর এক সপ্তাহ পর, ১৫ জুলাই, ব্যাংকটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে তিন বছরের মধ্যে তা সম্পন্ন করার নির্দেশ দেয় ইউএইর নিয়ন্ত্রক সংস্থা। একই সঙ্গে প্রশাসক নিয়োগের নির্দেশনাও দেওয়া হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চুয়াডাঙ্গায় মাটির নিচে ঘাঁটি গেড়ে সাধনা করছেন নারী লাভলী শাহ ফকির রানী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:২৩ এম


চুয়াডাঙ্গায় মাটির নিচে ঘাঁটি গেড়ে সাধনা করছেন নারী লাভলী শাহ ফকির রানী

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার ঘোলদাড়ী গ্রামের নির্জন মাঠে মাটির নিচে সুড়ঙ্গসদৃশ কক্ষে ২৬ বছর ধরে সাধনা করে চলেছেন লাভলী শাহ ফকির রানী নামে এক নারী। ‘বিশ্ব ধ্যান মঞ্জিল’ নামে পরিচিত আশ্রমে ধ্যানের পাশাপাশি এতিম ও পথশিশুদের লালন-পালন এবং মানবসেবায় তিনি তার জীবন কাটানোর দাবি করেছেন।

আশ্রমটি ঘোলদাড়ী গ্রামের জনবসতিহীন ‘বেইলের মাঠে’ সাড়ে সাত শতক জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত। টিনের চালার নিচে সিঁড়ি বেয়ে নামলেই অন্ধকার সুড়ঙ্গের মতো একটি কক্ষ দেখা যায়। লাভলী শাহ ২০০০ সালে সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। তার সঙ্গে রয়েছেন রাজবাড়ীর মাহবুব আলম বাচ্চু এবং রংপুরের আলভী বেগম নামে দুই খাদেম।

মাহবুব আলম বাচ্চু জানিয়েছেন, তিনি ও লাভলী শাহ দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে সেখানে সাধনা করে আসছেন। আশ্রমে সাধুসঙ্গ ও ফলসেবার আয়োজনও করা হয়। যদিও লাভলী শাহর নিজের গর্ভে সন্তান নেই, তবে তিনি জীবনে কুড়িয়ে পাওয়া ২০ জনের বেশি এতিম ও পথশিশুকে লালন-পালন করে বড় করেছেন। বর্তমানে বয়সজনিত নানা অসুস্থতায় ভুগলেও তিনি সাধনা চালিয়ে যাচ্ছেন।

লাভলী শাহর দাবি, শৈশবে তিনি ইরাকে ছিলেন। পরে পাকিস্তান ও ভারত হয়ে বাংলাদেশে আসেন। পাঁচ বছর বয়সে ইরাকে থাকার স্মৃতি তার মনে আছে। ১১ বছর বয়সে এক সাধু তার নাম লাভলী রাখেন এবং তার কাছ থেকেই আধ্যাত্মিক দীক্ষা গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে তিনি লালন শাহের দর্শনে অনুপ্রাণিত হন। তবে নিজের বয়স, বাবা-মা ও জন্মপরিচয় সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য দিতে পারেন না এই সাধক।

তিনি জানান, ১৯৭৯ সাল থেকে নির্দিষ্ট স্থানটির সন্ধান করছিলেন। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর ২০০০ সালে ঘোলদাড়ীর এই নির্জন মাঠে আসেন। দিনবেলা শিশুদের সঙ্গে সময় কাটান, আর রাতে মাটির নিচের কক্ষে সাধনা করেন।

আশ্রমে হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মের দেবদেবীর মূর্তি ও ছবি রয়েছে। লাভলী শাহর ভাষ্য, মানবধর্মই বড় ধর্ম। জাতপাত কিংবা ধর্মীয় পরিচয়ের ভেদাভেদ নয়, মানুষের প্রতি ভালোবাসাই আশ্রমের মূল শিক্ষা।

তবে নির্জন আশ্রমে সাধনার পথ সহজ ছিল না। লাভলী শাহ জানান, অতীতে একাধিকবার ডাকাত ও সন্ত্রাসীদের কবলে পড়েছেন তিনি। পিস্তল ঠেকিয়ে ভয় দেখানোর ঘটনাও ঘটেছে। এ ছাড়া লালন শাহকে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সংগ্রহ করা একটি মূল্যবান ডায়েরিও হারিয়ে গেছে।

সরকারের কাছ থেকে কোনো অনুদান পাননি বলে জানিয়েছেন লাভলী শাহ। এ নিয়ে তার কোনো অভিযোগ নেই। মানুষের ভালোবাসা নিয়েই বাকি জীবন কাটাতে চান তিনি। মৃত্যুর পর আশ্রমেই তাকে রেখে দেওয়ার ইচ্ছার কথাও জানিয়েছেন এই সাধক।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%