ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মরক্কোর সাত শতাব্দীর প্রাচীন বু ইনানিয়া মাদ্রাসা


মরক্কোর সাত শতাব্দীর প্রাচীন বু ইনানিয়া মাদ্রাসা

মরক্কোর প্রাচীন নগরী ফেজের আঁকাবাঁকা অলিগলি পেরিয়ে তালাআ কাবিরা সড়কে পৌঁছালে দর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এক অসাধারণ স্থাপত্যের প্রবেশদ্বার। ঘোড়ার নালের আকৃতির খিলান, দেয়ালে সূক্ষ্ম স্টাকোর কারুকাজ, সিডার কাঠে খোদাই করা নান্দনিক নকশা এবং জ্যামিতিক নকশার মোজাইক—এসব দেখে মনে হয়, যেন কোনো রাজপ্রাসাদের দরজায় এসে দাঁড়িয়েছেন দর্শনার্থী। কিন্তু এটি কোনো রাজপ্রাসাদ নয়; বরং ইসলামী শিক্ষা, ধর্মীয় জ্ঞানচর্চা ও মরক্কোর ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্যকলার এক অনন্য নিদর্শন—ঐতিহাসিক বু ইনানিয়া মাদরাসা।

বু ইনানিয়া মাদরাসার ইতিহাস মরক্কোর মারিনিদ রাজবংশের রাজনৈতিক উত্থান-পতনের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। চতুর্দশ শতকে এই রাজবংশ উত্তর আফ্রিকার অন্যতম প্রভাবশালী শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়। তাদের শাসনামলে ফেজ শহর ধর্মীয় শিক্ষা, সাহিত্য, শিল্পকলা ও বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হয়। বিশেষত মাদরাসা নির্মাণের মাধ্যমে শাসকরা ধর্মীয় জ্ঞানচর্চার প্রসার ঘটানোর পাশাপাশি নিজেদের রাজনৈতিক কর্তৃত্ব ও ধর্মীয় বৈধতাও সুদৃঢ় করতে চেয়েছিলেন।

এই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটেই উঠে আসে সুলতান আবু ইনান ফারিসের নাম। তিনি মারিনিদ শাসক আবুল হাসানের পুত্র ছিলেন। ১৩৪৮ সালে পিতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে তিনি ক্ষমতা দখল করেন এবং নিজেকে সুলতান ঘোষণা করেন। তাঁর শাসনামলে রাজ্য পরিচালনা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর পৃষ্ঠপোষকতা এবং ফেজের মর্যাদা বৃদ্ধির নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়। বু ইনানিয়া মাদরাসা নির্মাণও ছিল সেই বৃহত্তর প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

আরও পড়ুন: বিল গেটসের ৭১তম জন্মদিনে দানের ঘোষণা, সম্পদের প্রায় সবটাই মানবকল্যাণে

বু ইনানিয়া মাদরাসার নির্মাণকাজ শুরু হয় ৭৫১ হিজরির ২৮ রমজান, আনুমানিক ১৩৫০ খ্রিস্টাব্দে। নির্মাণকাজ শেষ হয় ৭৫৬ হিজরিতে, অর্থাৎ ১৩৫৫ খ্রিস্টাব্দের কাছাকাছি সময়ে। প্রায় পাঁচ বছরের এই নির্মাণযজ্ঞে তৎকালীন মরক্কোর দক্ষ কারিগর ও স্থপতিরা অসাধারণ নৈপুণ্যের পরিচয় দেন। মাদরাসাটির নির্মাণে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছিল। কথিত আছে, নির্মাণকাজ শেষে ব্যয়ের হিসাব দেখে সুলতানের সামনে তা পেশ করা হলে তিনি হিসাবের খাতা ছিঁড়ে ফেলে মন্তব্য করেন, ‘যা সুন্দর, তা কখনো বেশি দামি নয়; খরচ যত বেশিই হোক।’

বু ইনানিয়া মাদরাসার ভেতরে প্রবেশ করলে প্রথমেই চোখে পড়ে একটি আয়তাকার উন্মুক্ত প্রাঙ্গণ। মার্বেল পাথরে সজ্জিত এই উঠানের মাঝখানে রয়েছে ফোয়ারা। প্রাঙ্গণকে ঘিরে থাকা গ্যালারি, ওপরের তলায় শিক্ষার্থীদের আবাসিক কক্ষ এবং দুই পাশে অবস্থিত বড় বড় পাঠকক্ষ মাদরাসাটির পরিকল্পিত স্থাপত্যের পরিচয় বহন করে। প্রাঙ্গণের দেয়ালে রয়েছে একাধিক স্তরের অলংকরণ। নিচের দিকে জেলিজ নামে পরিচিত রঙিন জ্যামিতিক নকশার মোজাইক টাইলস, তার ওপরে আরবি ক্যালিগ্রাফির শৈল্পিক বিন্যাস এবং আরো ওপরে খোদাই করা স্টাকোর নকশা। কোথাও আরাবেস্ক অলংকরণ, কোথাও মুকারনাসের সূক্ষ্ম কারুকাজ, আবার কোথাও কোরআনিক বাণী ও শৈল্পিক লিপির সমন্বয়। সবশেষে সিডার কাঠের ছাদে খোদাই করা নকশা পুরো স্থাপত্যকে দিয়েছে এক অনন্য মাত্রা।

এখানে প্রতিটি উপাদান যেন আলাদা আলাদা শিল্পকর্ম, অথচ সব মিলিয়ে তৈরি হয়েছে এক সুসংহত নান্দনিক পরিবেশ। পাথর, কাঠ, প্লাস্টার ও রঙিন টাইলসের সমন্বয়ে নির্মিত এই স্থাপত্য মরক্কোর ঐতিহ্যবাহী শিল্পকলার উচ্চমানের সাক্ষ্য বহন করে। মাদ্রাসাটির পাঠকক্ষগুলোর আকার ও বিন্যাসও উল্লেখযোগ্য। কিছু গবেষক এর স্থাপত্য পরিকল্পনার সঙ্গে কায়রোর সুলতান হাসান মাদরাসার ইওয়ানভিত্তিক স্থাপত্যের তুলনা করেছেন।

মাদরাসার ঠিক বিপরীতে অবস্থিত দার আল-মাগানা বা ‘ঘড়ির ঘর’ ফেজের আরেকটি ঐতিহাসিক বিস্ময়। একসময় ভবনটির সম্মুখভাগে একটি জটিল যান্ত্রিক ঘড়ি স্থাপন করা হয়েছিল বলে জানা যায়। কথিত আছে, ঘড়িটির নির্দিষ্ট সময়ে ধাতব গোলক পিতলের পাত্রে পড়ে শব্দ সৃষ্টি করত এবং একই সঙ্গে জানালার মতো কিছু অংশ খুলে যেত।

আরও পড়ুন: ‘ইসলামবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে আফগানিস্তানে চোখের কর্নিয়া প্রতিস্থাপন নিষিদ্ধ

বু ইনানিয়া মাদরাসার পাঠ্যক্রমের কেন্দ্রে ছিল ইসলামী জ্ঞানচর্চা। মারিনিদ শাসকদের অনুসৃত মালেকি মাজহাবের ফিকহ ছিল এর শিক্ষার অন্যতম ভিত্তি। কোরআন, ইসলামী আইনশাস্ত্র এবং ধর্মীয় বিষয়াবলির পাশাপাশি ভাষা, ব্যাকরণ, অলংকারশাস্ত্র, যুক্তিবিদ্যা ও অন্যান্য জ্ঞানশাখার চর্চাও মধ্যযুগীয় ফেজের শিক্ষাব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার করেছিল।

সাত শতকেরও বেশি সময় ধরে নানা রাজনৈতিক পরিবর্তন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও নগরজীবনের রূপান্তরের মধ্য দিয়ে বু ইনানিয়া মাদরাসা টিকে আছে। বিভিন্ন সময়ে ভবনটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং একাধিকবার সংস্কার করা হয়েছে। বিশেষ করে ভূমিকম্প ও দীর্ঘদিনের ক্ষয়ক্ষতির কারণে এর বিভিন্ন অংশে মেরামত ও পুনরুদ্ধারের প্রয়োজন দেখা দেয়।

পরবর্তী শতকগুলোতে পরিচালিত সংস্কারকাজের লক্ষ্য ছিল ভবনের মূল স্থাপত্যরীতি ও কারুকাজ যথাসম্ভব সংরক্ষণ করা। আধুনিক সংরক্ষণ কার্যক্রমের ফলে এর জেলিজ মোজাইক, কাঠের অলংকরণ, স্টাকোর নকশা ও অন্যান্য স্থাপত্য উপাদানের উল্লেখযোগ্য অংশ আজও দর্শনার্থীদের সামনে উন্মুক্ত রয়েছে। ১৯৮১ সালে ফেজের প্রাচীন মদিনা ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়।

মরক্কোর বু ইনানিয়া মাদরাসা এমন একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা, যেখানে শিক্ষা, ধর্মীয় জীবন, রাজনীতি ও শিল্পকলার ইতিহাস একসূত্রে গাঁথা। এর নির্মাণের পেছনে যেমন ছিল মারিনিদ শাসকদের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় আকাঙ্ক্ষা, তেমনি এর প্রতিটি খিলান, মোজাইক, কাঠের খোদাই ও ক্যালিগ্রাফিতে ফুটে উঠেছে তৎকালীন মুসলিম কারিগরদের অসাধারণ সৃজনশীলতা। কিংবদন্তি ও ঐতিহাসিক তথ্যের পার্থক্য বিবেচনায় রেখেও বলা যায়, এই মাদরাসা মধ্যযুগীয় ফেজের জ্ঞানচর্চা ও স্থাপত্য ঐতিহ্যের এক অনন্য সাক্ষী।

আরও পড়ুন: পাকিস্তান-আফগান সীমান্তে তালেবানের হামলায় ১ নিহত, ৫ আহত

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে প্রথমবার ভিএআর প্রযুক্তির ব্যবহার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৩৪ এম


সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে প্রথমবার ভিএআর প্রযুক্তির ব্যবহার

প্রথমবারের মতো সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ভিডিও অ্যাসিসটেন্স রেফারি (ভিএআর) প্রযুক্তি যুক্ত করা হচ্ছে। সাউথ এশিয়ান ফুটবলের (সাফ) সাধারণ সম্পাদক পুরুষোত্তম কাট্টেল জানিয়েছেন, টুর্নামেন্টের শুরুতে সম্ভব না হলেও সেমিফাইনাল এবং ফাইনালে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। ভারত সাফে অংশগ্রহণ নিয়ে যে অনিশ্চয়তা ছিল, তা কাট্টেল উড়িয়ে দিয়ে বলেন, নির্ধারিত সময়েই আসবে টিম ইন্ডিয়া।

আধুনিক ফুটবলের কোনো টুর্নামেন্টে ভিএআর ছাড়া চিন্তা করাও কঠিন। মাঠে ঘটে যাওয়া ভুল ত্রুটি-সংশোধন এবং অনাকাঙ্খিত ঘটনার যথাযথ সমাধানে ভিএআর অপরিহার্য। যদিও কিছু ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে বিতর্ক রয়েছে, তবে এবার সাউথ এশিয়ার ফুটবল ভিএআর প্রযুক্তির সাক্ষী হতে যাচ্ছে।

এখন পর্যন্ত ভিএআর সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সব কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে সাফ। আনুষ্ঠানিক চুক্তি দু এক দিনের মধ্যে সম্পন্ন হবে। টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচ থেকেই পরীক্ষামূলকভাবে ভার প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে সেমিফাইনাল এবং ফাইনালে ভিডিও অ্যাসিসটেন্স রেফারির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেবেন ম্যাচ অফিসিয়ালরা।

সাফের সাধারণ সম্পাদক পুরুষোত্তম কাট্টেল বলেন, "আমরা সব কার্যক্রম গুছিয়ে এনেছি। দুই এক দিনের মধ্যেই ভিএআর সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক চুক্তি হবে। এটা ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত হতে চলেছে। প্রথমবারের মতো সাফে দেখা যাবে ভিডিও অ্যাসিসটেন্স রেফারি। তবে আমরা সবগুলো ম্যাচে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারবো না। সেমিফাইনাল এবং ফাইনালে ভার ব্যবহার করা হবে তা নিশ্চিত।"

এদিকে, গত কয়েকদিন ধরে গুঞ্জন উঠেছে যে আসন্ন সাফ থেকে ভারত নাম প্রত্যাহার করে নিতে পারে। টুর্নামেন্ট চলাকালীন ফিফা উইন্ডোতে টিম ইন্ডিয়া নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলতে যাবে। বাংলাদেশে পাঠানো হতে পারে অনূর্ধ্ব-২৩ দল। তবে ফলাফল বিপর্যয়ের আশঙ্কা থেকেই অল ইন্ডিয়া ফুটবল সাফে না খেলার পক্ষে। কিন্তু সেই গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়ে সাফ সাধারণ সম্পাদক দাবি করেছেন, ভারত নির্ধারিত সময়েই আসবে।

কাট্টেল বলেন, "আমি আসলে বুঝতে পারছি না এই খবর কারা ছড়ালো। কারণ এর কোন ভিত্তি নেই। অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশনের সঙ্গে আমার প্রতিনিয়ত যোগাযোগ হচ্ছে। তারা কখনোই বলেনি ভারত সাফ খেলতে আসবে না। তবে এটা ঠিক ফিফা উইন্ডোতে তাদের মূল দল নিউজিল্যান্ড খেলতে যাবে। সাফের জন্য তারা বিকল্প দলও তৈরি রেখেছে। সুতরাং ভারত আসছে এবং তা নির্ধারিত সময়েই।"

আগামী ২৯ অক্টোবর থেকে সাফের টিকিট বিক্রি কার্যক্রম শুরু হবে। তবে সরাসরি সাউথ এশিয়ান ফুটবল টিকিট বিক্রি না করে একটি অনলাইন প্লাটফর্মের কাছে ছেড়ে দিয়েছে। সাফের ম্যাচ দেখতে গুনতে হবে সর্বনিম্ন ১ হাজার টাকা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পূর্বাচলে ডিআইজির ভাড়া বাসায় অভিযান, ৮৫ জনের সাজা নিয়ে বিতর্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৩৬ এম


পূর্বাচলে ডিআইজির ভাড়া বাসায় অভিযান, ৮৫ জনের সাজা নিয়ে বিতর্ক

ঢাকার পূর্বাচলে পুলিশের এক অতিরিক্ত ডিআইজির ভাড়া দেওয়া বাসায় অভিযান চালিয়ে ৮৫ জনকে কারাদণ্ড দেওয়ার ঘটনায় নানা প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মাদক গ্রহণের পরীক্ষা ছাড়াই সাজা দেওয়া, অভিযানের ভিডিও ছড়িয়ে পড়া এবং সিসিটিভি ক্যামেরার মেমোরি কার্ড জব্দ তালিকায় না রাখাসহ একাধিক বিষয় নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

১৯ অক্টোবর দিবাগত রাতে ভাটারার পুলিশ অফিসার্স হাউজিং সোসাইটি-১ এলাকার ‘গোল্ডেন সানরাইজ’ নামের তিনতলা বাড়িতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) অভিযান চালায়। অভিযানে আটক ৮৫ জনের মধ্যে ২৬ জন নারী ছিলেন। নারীদের ১৫ দিন এবং পুরুষদের এক মাস করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে নারীদের ৫০০ ও পুরুষদের এক হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের মধ্যে একজন বাদ্যযন্ত্রশিল্পী রয়েছেন। তার বাবার দাবি, অনুষ্ঠানে বাদ্যযন্ত্র বাজানোর কাজ পেয়ে ছেলে সেখানে গিয়েছিলেন। মাদক গ্রহণের পরীক্ষা ছাড়াই তাকে সাজা দেওয়া হয়েছে। কয়েকজন সাজাপ্রাপ্তের স্বজনের অভিযোগ, মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার কথা বলে তাদের কাছ থেকে কাগজে সই নেওয়া হয়েছিল।

পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, রাত সাড়ে ১২টার দিকে ডিবির ৪০ থেকে ৫০ সদস্যের একটি দল বাড়িটিতে প্রবেশ করে। পরে উপস্থিত ৮৫ জনকে দুটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। তল্লাশির সময় প্রথম দফায় কোনো মাদক পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। দ্বিতীয় দফায় দুটি খালি মদের বোতল উদ্ধার করা হয়।

তবে ডিবির জব্দ তালিকায় চারটি মদের বোতল— একটি খালি, একটি পূর্ণ ও দুটি আংশিক পূর্ণ উদ্ধারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি একটি ইয়াবা বড়ি, ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম ও সামান্য পরিমাণ কুশ উদ্ধারের তথ্যও রয়েছে।

অভিযানের সময় বাড়ির ছয়টি সিসিটিভি ক্যামেরার মধ্যে চারটি খুলে নেওয়া হয় এবং বাকি দুটির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে মেমোরি কার্ড নেওয়া হয় বলে সূত্রের দাবি। তবে এসব কার্ড জব্দ তালিকায় উল্লেখ না থাকার বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

ডিএমপির উত্তরা বিভাগের স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুজ্জামান আটক ব্যক্তিদের সাজা দেন। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(৫) ধারায় মাদক গ্রহণ করে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় জনশান্তি বিঘ্নিত করা, বিরক্তিকর আচরণ কিংবা গাড়ি চালানোর জন্য শাস্তির বিধান রয়েছে।

ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুজ্জামান বলেন, আসামিরা দোষ স্বীকার করায় তাদের সাজা দেওয়া হয়েছে। তবে সাজা দেওয়ার আগে মাদক গ্রহণের পরীক্ষা করা হয়নি বলে তিনিও উল্লেখ করেন।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, শুধু দোষ স্বীকারের ভিত্তিতে মাদক গ্রহণের দায়ে সাজা দেওয়া যথেষ্ট নয়। মাদক পরীক্ষার মাধ্যমে অভিযোগ প্রমাণের সুযোগ ছিল।

অভিযানে আটক ব্যক্তিদের ভিডিও পুলিশ সদস্যরা ধারণ করেন। পরে ভিডিওগুলো ছড়িয়ে পড়লে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও আইনগত সীমাবদ্ধতা নিয়ে বিতর্ক দেখা দেয়।

সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এহসানুল হক সমাজী বলেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে এসব ভিডিও ছড়িয়ে থাকলে তা আইনগত সীমা লঙ্ঘন করেছে কি না, খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

বাড়িটির মালিক অতিরিক্ত ডিআইজি আবদুল্লাহ আল জহির। অভিযান ও তা নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে।

পুলিশের সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বদলি ও পদায়ন নিয়ে পুলিশের প্রভাবশালী একটি পক্ষের সঙ্গে তার বিরোধ ছিল। তবে এ বিরোধের সঙ্গে অভিযানের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না সেটি নিশ্চিত হয়নি।

ডিবির উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার ইলিয়াস কবীরের দাবি, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে অভিযান চালানো হয়েছে। বাড়িটিতে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ মাদক সেবন ও ডিজে পার্টি চলছিল। অন্যদিকে আবদুল্লাহ আল জহির বলেন, তার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে সেটি যাচাই করা যেত।

এ ঘটনায় স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ১০১ জন নাগরিক। ব্লাস্ট, হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি, নারীপক্ষ ও সপ্রাণ যৌথভাবে দেওয়া বিবৃতিতে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কেন্দুয়ায় ৩২ বস্তা সার ও অটোরিকশা জব্দ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৩৬ এম


কেন্দুয়ায় ৩২ বস্তা সার ও অটোরিকশা জব্দ

পুলিশ নেত্রকোনার কেন্দুয়া থেকে তাড়াইলে পাচারের সময় ৩২ বস্তা ডিএপি সারসহ একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা জব্দ করেছে।

মঙ্গলবার দুপুরে চিরাং-তাড়াইল সড়কে স্থানীয়রা অটোরিকশাটি আটক করেন। চালক পালিয়ে যাওয়ার সময় ঘটে এই ঘটনা।

পুলিশ পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে সার ও অটোরিকশাটি জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়। তবে এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, তারা চাহিদামতো সার না পেয়ে বাড়তি দামে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। কিছু ডিলার কৃষকদের জন্য বরাদ্দকৃত সার অন্য উপজেলায় বিক্রি করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ৩২ বস্তা ডিএপি সার জব্দ করেছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

এমই

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শক্তিশালী ডানপন্থি সরকার গঠন করতে হবে: নেতানিয়াহুর আহ্বান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৩৭ এম


শক্তিশালী ডানপন্থি সরকার গঠন করতে হবে: নেতানিয়াহুর আহ্বান

দখলদার ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, মঙ্গলবারের নির্বাচনে দেশের ডানপন্থি দলগুলো একটি ‘নির্ধারক সংখ্যাগরিষ্ঠতা’ অর্জনের পথে রয়েছে। তিনি একইসঙ্গে একটি শক্তিশালী ‘জাতীয় ডানপন্থি সরকার’ গঠনের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।

নেতানিয়াহুর এই বক্তব্যটি ভোটগ্রহণ শেষে প্রকাশিত বুথফেরত জরিপের পর এসেছে, যেখানে কোনো পক্ষই পরিষ্কার জয় পাবে না বলে ইঙ্গিত করা হয়েছে। জরিপগুলোতে দেখা যাচ্ছে, নেতানিয়াহুর বর্তমান জোট এবং প্রধান বিরোধী দলগুলোর শিবিরের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছে, এবং দুপক্ষই সমান আসনে অবস্থান করছে। তবে, কোনো পক্ষই এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে সক্ষম হয়নি।

বুধবার জেরুজালেমে লিকুদ পার্টির সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী জানান, তার দল ‘লিকুদ পার্টি’ এখনও ইসরাইলের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে টিকে রয়েছে। তিনি বলেন, "আমরা একটি শক্তিশালী নতুন জাতীয় ডানপন্থি সরকার গড়ব।"

দেশটির দুটি প্রধান গণমাধ্যমের সংশোধিত জরিপ অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর ডানপন্থি জোট এবং আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট—উভয় শিবিরই সমান ৫১টি করে আসন পেয়ে সমানে-সমান অবস্থানে রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে ১২০ আসনের পার্লামেন্টে (নেসেট) কোনো পক্ষই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা (৬১ আসন) নিশ্চিত করতে পারছে না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%