০২:২৯ পি.এম
আফগানিস্তানের তালেবান সরকার কর্নিয়া প্রতিস্থাপন নিষিদ্ধ করেছে। চিকিৎসকরা দ্য টেলিগ্রাফকে জানিয়েছেন, এর ফলে প্রতিবছর শত শত মানুষ দৃষ্টিশক্তি রক্ষাকারী এই অস্ত্রোপচার থেকে বঞ্চিত হবেন।
কর্তৃপক্ষের দাবি, কর্নিয়া প্রতিস্থাপনের প্রক্রিয়া ইসলামের শিক্ষার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। এ কারণে চিকিৎসকদের অস্ত্রোপচার বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তালেবান সরকার ২০২১ সালে ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগ সীমিত করে একের পর এক নির্দেশ জারি করেছে। নতুন এই নিষেধাজ্ঞা সেই ধারাবাহিকতার সর্বশেষ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কাবুল ও পূর্বাঞ্চলীয় শহর জালালাবাদে কর্নিয়া প্রতিস্থাপনের অস্ত্রোপচার চালু করতে স্থানীয় চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজে একটি চিকিৎসা সহায়তা সংস্থা সহযোগিতা করেছিল। এই উদ্যোগের মাত্র কয়েক মাস পরেই নতুন নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলো।
আরও পড়ুন: জ্বালানি ব্যয় বাড়ায় থমকে গেল বিলাসবহুল প্রমোদতরি, কম্বোডিয়ায় আটকা ২০০ যাত্রী
চিকিৎসকেরা বলছেন, আফগানিস্তানে বিস্ফোরণ ও বিভিন্ন দুর্ঘটনায় আহত মানুষের দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে আনতে কর্নিয়া প্রতিস্থাপনের ব্যাপক প্রয়োজন রয়েছে। কাবুলের নূর চক্ষু হাসপাতালের চিকিৎসক নূর জামান হাশিম জানান, তালেবানের নির্দেশে কর্মসূচিটি বন্ধ হওয়ার আগে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তাদের কর্মীরা ৯০টি কর্নিয়া প্রতিস্থাপন করেছিলেন।
তিনি আরও জানান, হাসপাতালে কর্নিয়া প্রতিস্থাপনের জন্য অপেক্ষমাণ রোগীর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। তাদের অধিকাংশই তরুণ-তরুণী। আঘাত, জখম, বিস্ফোরণ এবং ঝালাইয়ের কাজ করতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে তারা দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন।
নূর জামান হাশিম বলেন, ‘কয়েক দশকের সহিংসতায় আফগানিস্তানের স্বাস্থ্যব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কর্নিয়া প্রতিস্থাপনের চাহিদা মেটানোর মতো পর্যাপ্ত চক্ষুবিশেষজ্ঞ আমাদের নেই। স্থানীয়ভাবেও প্রয়োজনীয় কর্নিয়া পাওয়া যায় না।’ তিনি আরো বলেন, ‘তালেবান কর্তৃপক্ষ মৌখিকভাবে আমাদের কর্নিয়া প্রতিস্থাপন বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে। কঠোর শাস্তির ভয়ে কেউ তাদের নির্দেশ অমান্য করার সাহস পাচ্ছেন না।’
যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যে অবস্থিত একটি দাতব্য সংস্থা ‘অ্যাসোসিয়েশন অব ফিজিশিয়ানস অব পাকিস্তানি ডিসেন্ট অব নর্থ আমেরিকা’ (এপিপিএনএ) ২০১৭ সাল থেকে পাকিস্তানে কর্নিয়া প্রতিস্থাপনের জন্য বিনা মূল্যে কর্নিয়া সরবরাহ করে আসছে। এসব কর্নিয়া অঙ্গদানের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয় এবং দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে আনতে রোগীদের শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয়।
আরও পড়ুন: নেপালে পর্বতজয়ের পর ৫০০০ ফুট নিচে পড়ে জার্মান পর্বতারোহীর মৃত্যু
চলতি বছরের শুরুতে সংস্থাটি পাকিস্তানের বাইরে আফগানিস্তানেও এই কর্মসূচি চালু করে। এর ফলে দেশটিতে ১৫০টিরও বেশি কর্নিয়া প্রতিস্থাপনের অস্ত্রোপচার করার সুযোগ তৈরি হয়েছিল। এসব অস্ত্রোপচার পরিচালনার জন্য তিনজন আফগান চক্ষু বিশেষজ্ঞকে পাকিস্তানের পেশোয়ারে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
এপিপিএনএর কর্নিয়া কর্মসূচির প্রধান এবং যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক জাফর মীর ফাউন্ডেশনের প্রধান ডা. ফাওয়াদ জাফর বলেন, ‘২০১৭ সাল থেকে আমরা পাকিস্তানে বিনা মূল্যে কর্নিয়া সরবরাহ করে আসছি। এ পর্যন্ত ১০ হাজার মানুষ এই কর্মসূচি থেকে উপকৃত হয়েছেন।’
তিনি আরো বলেন, ‘প্রায় চার মাস আগে আমরা আফগানিস্তানেও এই কর্মসূচি সম্প্রসারণ করি। দেশটিতে শত শত মানুষের কর্নিয়া প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন ছিল। কিন্তু তালেবান সরকারের নির্দেশে কর্মসূচিটি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
আরও পড়ুন: ইসরাইলের নির্বাচনে ১৯ আসন নিয়ে কিংমেকার ফিলিস্তিনি দলগুলো
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন