ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মদনে শিশু ধর্ষণ ও গর্ভধারণ মামলা, রায় ১১ নভেম্বর


মদনে শিশু ধর্ষণ ও গর্ভধারণ মামলা, রায় ১১ নভেম্বর

নেত্রকোনার মদনে ১২ বছর বয়সী মাদ্রাসাছাত্রীকে একাধিকবার ধর্ষণ ও গর্ভবতী করার অভিযোগে দায়ের করা আলোচিত মামলার যুক্তিতর্ক শেষ হয়েছে। এ মামলায় আগামী ১১ নভেম্বর রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেছেন আদালত।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) নেত্রকোনা জেলা ও দায়রা জজ এবং শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. আব্দুছ সালামের আদালতে যুক্তিতর্ক শেষে এ দিন ধার্য করা হয়।

মামলার প্রধান আসামি মাদ্রাসাশিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী ওরফে সাগর বিচারকের প্রশ্নের জবাবে নিজের ১২ শতাংশ জমি থাকার কথা জানান। একই সঙ্গে নিজের সব সম্পদের বিনিময়ে মামলা থেকে অব্যাহতি পাওয়ার আকুতি জানান তিনি।

আরও পড়ুন: কাউনিয়া থানা পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান, টার্গেটে মাদক ব্যবসায়ী ও কিশোর গ্যাং

শুনানির একপর্যায়ে আসামিপক্ষের আইনজীবী আনিসুর রহমান আপসের বিষয়ে কথা বলতে চাইলে বিচারক তা নাকচ করে দেন। বিচারক জানান, তাঁরা কখনো আপসের বিষয়ে কথা বলেননি। এ সময় ঘটনাস্থলের আশপাশে সিসি ক্যামেরা ছিল কি না, তা-ও জানতে চান আদালত।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. নূরুল কবীর রুবেল আদালতে জানান, ভুক্তভোগী শিশুটিকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়েছিল।

মামলার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে সিআইডির ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদনে ভুক্তভোগী শিশুর জন্ম দেওয়া নবজাতকের সঙ্গে অভিযুক্ত শিক্ষক সাগরের ডিএনএর ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ মিল পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া পুলিশ আদালতে চূড়ান্ত অভিযোগপত্র দাখিল করেছে।

রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, এসব প্রমাণের ভিত্তিতে মামলার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করা সম্ভব হয়েছে। তারা আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি প্রত্যাশা করছে।

আরও পড়ুন: বরিশালে হাফেজ শিক্ষার্থীদের স্পোকেন ইংলিশ কোর্স সম্পন্ন, সনদ ও বই বিতরণ

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. নূরুল কবীর রুবেল বলেন, “রায়ের আগে গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়াটি আজ সম্পন্ন হয়েছে। ১১ নভেম্বর মামলার রায়ের দিন ধার্য করা হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেছি। আমরা মনে করি, মামলাটি প্রমাণ করতে সমর্থ হয়েছি।”

তিনি আরও বলেন, মামলার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে বলে তাঁরা মনে করছেন। এ মামলায় আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

আগামী ১১ নভেম্বর মামলার রায়ের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও পড়ুন: বিয়ের মাত্র ১৫ দিন পরই সড়ক দুর্ঘটনায় ঝরল প্রাণ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বর্ষপূর্তিতে ম্যাগাজিন বর্ষবার্তা বের হচ্ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:০২ পি.এম


বর্ষপূর্তিতে ম্যাগাজিন বর্ষবার্তা বের হচ্ছে

দৈনিক মুন্সিগঞ্জের বার্তার সম্পাদক আশরাফ ইকবালের সম্পাদনায় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে প্রকাশিত হচ্ছে বিশেষ ম্যাগাজিন বর্ষবার্তা। ৫৬ পৃষ্ঠার এই সংকলনে মুন্সিগঞ্জ-বিক্রমপুরের ইতিহাস-ঐতিহ্য, সাহিত্য, ব্যক্তিত্ব, সমাজ ও সমকালীন বিষয়ে নানা লেখা স্থান পেয়েছে।
ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদ নিবন্ধ মুন্সিগঞ্জকে নতুন করে ভাবার সময় এখন। লিখেছেন মুন্সিগঞ্জ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইমরান আহম্মেদ পিপিএম। লেখায় জেলার ভৌগোলিক অবস্থান, উচ্চশিক্ষা, পর্যটন ও নগর ব্যবস্থাপনাসহ ভবিষ্যৎ উন্নয়নের নানা সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়েছে।
বিশেষ নিবন্ধ বিভাগে রয়েছে সালেহীন তুহিনের এই জনপদে, সেই সমতটে, যেখানে বিক্রমপুরের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, মনীষী ও ইতিহাস-ঐতিহ্যের কথা এসেছে।
ইতিহাস-ঐতিহ্য বিভাগে আটটি লেখা আছে। এর মধ্যে আছে আশরাফ ইকবালের বিক্রমপুরের ঐহিত্য, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ জমির হোসেনের লেখা মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুতুলনাচের ইতিকথা ও বিক্রমপুরের গাওদিয়া গ্রাম, গোলাম আশরাফ খান উজ্জ্বলের মুন্সিগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী মসজিদ, যাকির সাইদের মুন্সিগঞ্জের মেয়েলী গীত, সাধন সরকারের মুন্সিগঞ্জের মাটিতে লেখা হাজার বছরের ইতিহাস, মিজান আহমেদ বিক্রমপুরীর লৌহজংয়ের বানকাইজ বারোয়ারিতলা এবং শোভন সারোয়ারের বিক্রমপুরের নবজাগরণ ও চট্টোপাধ্যায় পরিবার।
সাহিত্যপ্রেমীদের জন্য আছে সাহিত্য বার্তা বিভাগ। এতে ইমন চৌধুরী, সাইফুল ইসলাম জুয়েল, জনি হোসেন কাব্য ও মুহাম্মদ ফজলুল হকের গল্প, ছড়া, কবিতা, কার্টুন এবং সাহিত্যবার্তার লেখক ও পাঠক রিভিউ ছাপা হয়েছে।
জীবনদর্শন বিভাগে আরাফাত শাহীনের জীবনের জন্য আত্মবিশ্বাস ও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি এবং সাইয়্যেদুল বাশারের মহৎ কাজেই আত্মতৃপ্তি, জীবনের পরিপূর্ণতা স্থান পেয়েছে।
সমাজ, স্বাস্থ্য ও প্রযুক্তি বিভাগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে নজরুল ইসলামের লেখা, শীতকালীন সর্দি-কাশি ও হোমিওপ্যাথি নিয়ে ডা. মো. মোস্তফা কামালের নিবন্ধ এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মো. গোলাম মাওলা পিএফএম (এস)-এর অগ্নি-সচেতনতামূলক লেখা রয়েছে।
ব্যক্তিত্ব বিভাগে আলোচিত হয়েছেন আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু, ইব্রাহিম খলিল ও বীরশ্রীসহ বিক্রমপুরের কয়েকজন গুণী মানুষ। লিখেছেন ড. মো. সাইদুল ইসলাম খান অপু, শহীদ-ই-হাসান তুহিন, আলম শহিদ, সুমন্ত রায় ও রাসেল শেখ।
মতামত পাতায় আছে মাদকের বিরুদ্ধে গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে আবু নাসের লিমনের লেখা এবং নির্বাচনে সংবাদপত্রের দায়িত্ব নিয়ে সায়িদ আহমেদের লেখা। দেশ-বিদেশ বিভাগে আছে আতিকুর রহমান নয়নের পরিবর্তিত বাংলাদেশ: কূটনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত এবং এক বছরের আলোচিত ঘটনাপঞ্জি।
এ ছাড়া ম্যাগাজিনে বিনোদনের পাতা এবং দৈনিক মুন্সিগঞ্জের বার্তার এক বছরের আলোকচিত্র নিয়ে অ্যালবাম রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাকেরগঞ্জে পল্টন হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে জামায়াতের বি-ক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আবিদ ইসলাম আশিক বাকেরগঞ্জ প্রতিনিধি

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:১৭ পি.এম


বাকেরগঞ্জে পল্টন হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে জামায়াতের বি-ক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর ঢাকার পল্টনে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ এবং ঘটনায় জড়িতদের বিচারের দাবিতে বরিশালের বাকেরগঞ্জে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বাকেরগঞ্জ উপজেলা শাখা।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় উপজেলা জামায়াতের কার্যালয়ের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি পৌর শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বাকেরগঞ্জ কলেজের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বরিশাল জেলা শাখার সেক্রেটারি মাওলানা মাহমুদুন্নবী তালুকদার। উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক ফিরোজ আলমের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আবুল হোসেন ও ইসলামী ছাত্রশিবির বরিশাল জেলা শাখার সভাপতি মো. সাইয়েদ আহমেদ। সমাবেশটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা জামায়াতের অফিস সেক্রেটারি মো. রেদোয়ানউল্লাহ শাহেদী।

কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা ব্যানার ও দলীয় পতাকা নিয়ে বিক্ষোভ মিছিলে অংশগ্রহণ করেন।সমাবেশে বক্তারা ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর পল্টনে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা এবং সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আলফাডাঙ্গায় প্রবাসী আকাশ মিয়ার বিরুদ্ধে বানোয়াট কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ করায় একই পরিবারের তিনজনকে কুপিয়ে জখম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কবির হোসেন, আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:১৮ পি.এম


আলফাডাঙ্গায় প্রবাসী আকাশ মিয়ার বিরুদ্ধে বানোয়াট কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ করায় একই পরিবারের তিনজনকে কুপিয়ে জখম

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় মরিশাসপ্রবাসী ও সমাজসেবক আকাশ মিয়ার বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ করায় তাঁর পরিবারের তিন সদস্যের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রবাসীর আপন ভাই ও বোন এবং চাচাতো ভাই আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে চাচাতো ভাই উজ্জ্বল মিয়া নাটুর (৪০) অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

গত মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার সদর ইউনিয়নের জাটিগ্রাম পশ্চিমপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পাঁচজনকে অভিযুক্ত করে আলফাডাঙ্গা থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন জাটিগ্রাম পশ্চিমপাড়া এলাকার ছিরু খন্দকারের মুদি দোকানের সামনে পাকা রাস্তায় দাঁড়িয়ে কয়েকজন ব্যক্তি মরিশাসপ্রবাসী আকাশ মিয়াকে নিয়ে আপত্তিকর ও অপমানজনক কথাবার্তা বলছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ওই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় তাঁর চাচাতো ভাই উজ্জ্বল মিয়া নাটু বিষয়টি শুনতে পান। পরে তিনি তাঁদের এ ধরনের কথাবার্তা ও কুৎসা রটানো থেকে বিরত থাকতে বলেন। এ নিয়ে বাগ্‌বিতণ্ডার একপর্যায়ে হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ছিরু খন্দকারের নেতৃত্বে কামরুল খন্দকার, হাবিব খন্দকারসহ কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে উজ্জ্বল মিয়া নাটুর ওপর হামলা চালান। এ সময় তাঁর মাথায় কোপ দেওয়া হলে তিনি গুরুতর আহত হন। তাঁকে রক্ষা করতে প্রবাসী আকাশ মিয়ার আপন ভাই শাওন মিয়া ও বোন জোসনা বেগম এগিয়ে গেলে তাঁদের ওপরও হামলা চালানো হয়। এতে তাঁরাও আহত হন।

পরে স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উজ্জ্বল মিয়া নাটুকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। অন্যদিকে, শাওন মিয়া ও জোসনা বেগম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

খবর পেয়ে আলফাডাঙ্গা থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) অপূর্ব সাহা হাসপাতাল ও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ঘটনার পর অভিযুক্তরা এলাকায় না থাকায় তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেল সারোয়ার বলেন, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিএনপির বিরুদ্ধে টাকা বিতরণের অভিযোগ জামায়াত প্রার্থীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ জিয়াউর রহমান, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৩০ পি.এম


বিএনপির বিরুদ্ধে টাকা বিতরণের অভিযোগ জামায়াত প্রার্থীর

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটারদের মধ্যে ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা বিতরণ এবং অর্থের বিনিময়ে ভোট কেনার প্রস্তুতির অভিযোগ তুলেছেন জামায়াতের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন। একই সঙ্গে নির্বাচনি প্রচারণায় বাধা, নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধার প্রলোভন দেখিয়ে ভোটারদের তথ্য সংগ্রহের অভিযোগও করেছেন তিনি।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) ঠাকুরগাঁও শহরের লারোজা রেস্টুরেন্টে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন জামায়াতের প্রার্থী। এ সময় তিনি অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।

দেলাওয়ার হোসেন বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে বিভিন্ন সরকারি সুবিধার কার্ড দেওয়ার কথা বলে ভোটারদের নাম ও জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে তাঁরা অভিযোগ পেয়েছেন। পাশাপাশি ধানের শীষে ভোট দিলে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড, বয়স্ক ভাতা ও বিধবা ভাতাসহ বিভিন্ন সুবিধা দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

জামায়াতের এই প্রার্থীর দাবি, ভোটার স্লিপ বিতরণের পাশাপাশি ভোটারদের ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা করে দেওয়া হচ্ছে বলে তাঁদের কাছে তথ্য এসেছে। এ ছাড়া বুধবার রাতেও বিভিন্ন ইউনিয়নে, বিশেষ করে নিম্নবিত্ত ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বসবাসের এলাকায় অর্থের বিনিময়ে ভোট কেনার প্রস্তুতি চলছে বলে তাঁরা খবর পেয়েছেন। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে দেলাওয়ার হোসেন অভিযোগ করেন, গত ৮ অক্টোবর প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমিনের সমর্থকদের একটি অংশ পেশিশক্তি ও দলীয় ক্ষমতা ব্যবহার করে নির্বাচনি কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তাঁর দাবি, প্রতীক বরাদ্দের আগেই ঠাকুরগাঁও শহরের বিভিন্ন স্থানে বিএনপির প্রার্থীর ব্যানার ও ফেস্টুন লাগানো হয়েছিল।

ভোটার, ভোটকর্মী ও সাধারণ মানুষের বাড়িতে গিয়ে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও তোলেন তিনি। এ ছাড়া কয়েকজন কৃষি কর্মকর্তার সঙ্গে বিএনপির প্রার্থীর গোপন বৈঠক, নির্বাচনি প্রচারণায় সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি, ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে অনুদান দেওয়ার আশ্বাস এবং একজন সরকারি চাকরিজীবীর প্রচারণায় অংশ নেওয়ার অভিযোগ করেন তিনি।

দেলাওয়ার হোসেনের অভিযোগ, গত ১৩ অক্টোবর ঠাকুরগাঁও পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে এশার নামাজের পর ভোটার ও দোকানদারদের সঙ্গে গণসংযোগের সময় তাঁকে বাধা দেওয়া ও লাঞ্ছিত করা হয়। পরে ২০ অক্টোবর রুহিয়া উপজেলার ২ নম্বর আখানগর ইউনিয়নে নির্বাচনি বৈঠক শেষে তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে তাঁদের একজন কর্মী গুরুতর আহত হন এবং ডেকোরেশনের চেয়ার ভাঙচুর করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।

এ ছাড়া ২১ অক্টোবর সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের বড় মাঠে তাঁদের নির্বাচনি জনসভার মঞ্চ তৈরির সময় মাঠের বিভিন্ন অংশ বিএনপির ব্যানার ও ফেস্টুন দিয়ে ঘিরে ফেলার অভিযোগ করেন জামায়াতের প্রার্থী। তাঁর ভাষ্য, পরে রিটার্নিং কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে সমাবেশের আগের রাতে সেগুলো সরানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে নারী কর্মীর পরিবারকে হুমকি এবং আরেক কর্মীর বাসায় গিয়ে সশস্ত্র ব্যক্তিদের প্রচারণা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগও করেন দেলাওয়ার হোসেন। তাঁর দাবি, এসব ঘটনায় নির্বাচনি এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

সরকারি প্রতিষ্ঠান ও সম্পদ নির্বাচনি কাজে ব্যবহারের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ২৭ অক্টোবর সকাল ৮টায় প্রচারণার সময়সীমা শেষ হওয়ার পর স্থানীয় এনজিও ইএসডিওর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তাঁর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একত্র করে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন বলে তাঁরা অভিযোগ পেয়েছেন। এ ছাড়া ২৪ ও ২৫ অক্টোবর ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালের প্রায় ২৪ জন সরকারি চিকিৎসককে দিয়ে তিনটি মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনার অভিযোগও করেন তিনি।

দেলাওয়ার হোসেন আরও বলেন, ২৮ অক্টোবর ‘মানব কল্যাণ’ প্রতিষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক ও আপ্যায়নের আয়োজন করা হয়েছে বলে তাঁরা অভিযোগ পেয়েছেন। এসব অভিযোগের পক্ষে ভিডিও ফুটেজ, স্থিরচিত্র ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক প্রমাণ রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং জুডিশিয়াল ইনকোয়ারি কমিটির কাছে জমা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে জামায়াতের প্রার্থী বলেন, তাঁদের অভিযোগের ক্ষেত্রে কার্যকর পদক্ষেপের ঘাটতি রয়েছে। নেতাকর্মীদের ওপর হামলা ও নির্বাচনি বৈঠকে চেয়ার ভাঙচুরের অভিযোগে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। অভিযোগের ক্ষেত্রে দল-মতনির্বিশেষে একই মানদণ্ড অনুসরণ এবং প্রমাণের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ভোটারদের নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে দেলাওয়ার হোসেন বলেন, ভোটারদের ভোটাধিকার রক্ষার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভোটাররা কোনো চাপ বা ভয়ভীতি ছাড়াই নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন।

নির্বাচন বর্জনের কোনো পরিকল্পনা আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তাঁরা নির্বাচন বর্জন করতে আসেননি; বরং প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে এবং শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকতে চান। প্রশাসনের প্রস্তুতির ওপর তাঁদের এখনো আস্থা রয়েছে। তবে ১৯৯৪ সালের মাগুরা নির্বাচনের মতো পরিস্থিতি তৈরি হলে তাৎক্ষণিক অবস্থা বিবেচনায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

ভোটার উপস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন জামায়াতের এই প্রার্থী। তাঁর মতে, উপনির্বাচন হওয়ায় ঢাকার বাইরে অবস্থানরত অনেক ভোটারের আগ্রহ কম থাকতে পারে। পাশাপাশি বাড়িতে গিয়ে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগের কারণে ভোটাররা নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে আসতে পারবেন কি না, তা নিয়েও শঙ্কা রয়েছে।

সংখ্যালঘু ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আসতে বাধা দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে বিএনপির অভিযোগের জবাবে দেলাওয়ার হোসেন বলেন, এ অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সব নাগরিকের নিরাপদে ভোট দেওয়ার অধিকার রয়েছে। সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ সব ভোটারকে নির্ভয়ে কেন্দ্রে এসে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানান তিনি।

দেলাওয়ার হোসেন বলেন, এই নির্বাচন শুধু একটি আসনের জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের বিষয় নয়; বরং নির্বাচনি ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠারও পরীক্ষা। দলীয় সরকারের অধীনেও অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব—আগামীকালের ভোটের মাধ্যমে সেই দৃষ্টান্ত স্থাপনের দায়িত্ব প্রশাসনের।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%