ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বিয়ের মাত্র ১৫ দিন পরই সড়ক দুর্ঘটনায় ঝরল প্রাণ


বিয়ের মাত্র ১৫ দিন পরই সড়ক দুর্ঘটনায় ঝরল প্রাণ

মাদারীপুরে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে তানভীর হাওলাদার (২৫) নামে এক ইতালি প্রবাসী মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের মাদারীপুর সদর উপজেলার মস্তফাপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত তানভীর হাওলাদার সদর উপজেলার ঘটমাঝি ইউনিয়নের ঝিকরহাটি গ্রামের দেলোয়ার হাওলাদারের ছেলে। বিয়ের মাত্র ১৫ দিন পর তাঁর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে মস্তফাপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে মোটরসাইকেল চালিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন তানভীর। পথে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে একটি ট্রাকের সঙ্গে তাঁর মোটরসাইকেলের ধাক্কা লাগে। এতে তিনি মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে সড়কে পড়ে যান। এ সময় ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।

আরও পড়ুন: কক্সবাজারের টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে নিহত মুক্তার দাফন সম্পন্ন

এদিকে, মাত্র ১৫ দিন আগে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন তানভীর। নতুন জীবনের স্বপ্ন নিয়ে শুরু করা সংসার তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে মুহূর্তেই বিষাদে পরিণত হয়েছে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে এলাকার পরিবেশ।

মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় এক প্রবাসীর মৃত্যুর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বরিশালে হাফেজ শিক্ষার্থীদের স্পোকেন ইংলিশ কোর্স সম্পন্ন, সনদ ও বই বিতরণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক

বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:০৫ এম


বরিশালে হাফেজ শিক্ষার্থীদের স্পোকেন ইংলিশ কোর্স সম্পন্ন, সনদ ও বই বিতরণ

ইংরেজি ভাষার প্রতি ভীতি দূর করতে বরিশালে হাফেজ শিক্ষার্থীদের জন্য আয়োজিত সাত দিনব্যাপী স্পোকেন ইংলিশ শর্ট কোর্সের দ্বিতীয় ব্যাচ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। কোর্স শেষে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মাঝে সনদপত্র ও বই বিতরণ করা হয়েছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাত ৯টায় নগরীর কলেজ রোডে মাকসুদা-জহির ফাউন্ডেশন পরিচালিত জালীলুল কুরআন হাফেজী মাদ্রাসায় এ উপলক্ষে সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার বরিশাল জেলা সভাপতি ও দৈনিক বর্তমান’র ব্যুরো চিফ মো. মামুন-অর-রশিদ। সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক জহুরুল আলম। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ ও সার্জন ডা. মো. মাজহারুল রেজওয়ান রেজা।
কোর্স সম্পন্নকারী শিক্ষার্থীরা নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, “আমরা মাদ্রাসার ছাত্র। কিন্তু ইংরেজি ভাষা শেখা এত সহজ, তা এখানে না এলে জানতামই না। মাত্র সাত দিনের কোর্সে আমাদের ইংরেজিভীতি কেটে গেছে। এখন একটু অনুশীলন করলেই প্রাথমিক ইংরেজি বলতে ও বুঝতে পারব বলে আশা করছি।”
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাংবাদিক মো. মামুন-অর-রশিদ বলেন, বর্তমান যুগের চাহিদা পূরণে ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি ইংরেজি ভাষা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হাফেজ শিক্ষার্থীদের আধুনিক জ্ঞান ও দক্ষতায় সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলতে এ ধরনের উদ্যোগ প্রশংসনীয়। এ উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ পথচলায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
স্পোকেন ইংলিশ শর্ট কোর্সের কোর্স কো-অর্ডিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন হাফেজ মাওলানা আবদুল্লাহ ইমাম। প্রশিক্ষক হিসেবে ছিলেন হাফেজ মাওলানা মো. রায়হান।
অনুষ্ঠানে মাকসুদা-জহির ফাউন্ডেশনের পরিচালক ও শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক সার্জন (অর্থোপেডিক) ডা. মো. মাজহারুল রেজওয়ান রেজা ঘোষণা দেন, কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতায় স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে শিগগিরই আরও বেশ কয়েকটি সমসাময়িক বিষয়ে স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্স চালু করা হবে।
তিনি বলেন, যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত শিক্ষা ও কর্মদক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। শিক্ষার্থীরা যেন ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করে নিজেদের যোগ্যতা বিকাশের সুযোগ পায়, সে লক্ষ্যেই ফাউন্ডেশন কাজ করছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কাউনিয়া থানা পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান, টার্গেটে মাদক ব্যবসায়ী ও কিশোর গ্যাং

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল

বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:০৮ এম


কাউনিয়া থানা পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান, টার্গেটে মাদক ব্যবসায়ী ও কিশোর গ্যাং

বরিশাল নগরীতে মাদক ব্যবসা, কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও অপরাধপ্রবণতা নিয়ন্ত্রণে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে কাউনিয়া থানা পুলিশ। বুধবার (২৮ অক্টোবর) সন্ধ্যা থেকে কাউনিয়া থানাধীন পলাশপুর, মোহাম্মদপুরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আকস্মিক সাঁড়াশি অভিযান চালানো হয়।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) কাউনিয়া জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার পবিত্র কুমার হালদারের নেতৃত্বে কাউনিয়া থানার একটি বিশেষ আভিযানিক দল এ অভিযান পরিচালনা করে।

বিএমপি মিডিয়া সেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য, চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী, সন্ত্রাসী ও সন্দেহভাজন অপরাধীদের লক্ষ্য করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে তল্লাশি ও অভিযান চালানো হয়। নগরীর অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের এ তৎপরতা পরিচালিত হচ্ছে।

মাদক ব্যবসা ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা জননিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের বিষয়। এসব অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা, অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়ানো এবং সন্দেহভাজন অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার লক্ষ্যে পুলিশের এ ধরনের অভিযান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

কাউনিয়া থানা পুলিশের বিশেষ আভিযানিক দল পলাশপুর ও মোহাম্মদপুর এলাকাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের মাধ্যমে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে পুলিশের তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে বলে বিএমপি মিডিয়া সেল জানিয়েছে।


বিএমপি মিডিয়া সেলের তথ্য অনুযায়ী, শুধু কাউনিয়া থানা এলাকাতেই নয়, সমগ্র বরিশাল মহানগরীতে মাদক, সন্ত্রাস ও কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধ দমন এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

পুলিশের এ তৎপরতার ধারাবাহিকতা অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখে, তা নির্ভর করবে নিয়মিত নজরদারি, অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তকরণ এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বালিয়াডাঙ্গীতে পতিলাভাষা যুব সমাজের উদ্যোগে তাফসিরুল কুরআন মাহফিল অনুষ্ঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ জিয়াউর রহমান, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:১৯ এম


বালিয়াডাঙ্গীতে পতিলাভাষা যুব সমাজের উদ্যোগে তাফসিরুল কুরআন মাহফিল অনুষ্ঠিত

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় পতিলাভাষা যুব সমাজের উদ্যোগে এক বিশাল তাফসিরুল কুরআন মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। মাহফিলে হাজার হাজার মুসল্লির উপস্থিতিতে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ ও মনোমুগ্ধকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

মাহফিলে প্রধান বক্তা হিসেবে আলোচনা করেন হযরত মাওলানা আব্দুস সালাম যুক্তিবাদী। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন আব্দুল বারি রশীদি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আবু হায়াত নুরুন্নবী। গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব জিল্লুর রহমান।

মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন শরিফুল ইসলাম সুফি এবং সহ-সভাপতিত্ব করেন ফইজুল ইসলাম। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন হাফেজ আবু হাসান।

মাহফিলে বক্তারা পবিত্র কুরআনের শিক্ষা, ইসলামী জীবনবিধান এবং নৈতিক ও আদর্শিক জীবন গঠনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। এ সময় ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা গভীর মনোযোগের সঙ্গে কুরআনের তাফসির ও ইসলামী আলোচনা শোনেন।

পতিলাভাষা যুব সমাজের উদ্যোগে আয়োজিত এ মাহফিলে বিপুলসংখ্যক মুসল্লির উপস্থিতি অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত করে তোলে। আয়োজকেরা এ ধরনের ধর্মীয় আয়োজনের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে কুরআনের শিক্ষা ও ইসলামী মূল্যবোধ ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দেশে ধারাবাহিকভাবে বেড়েই চলেছে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মো: সাইফুল ইসলাম খান

বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:২০ এম


দেশে ধারাবাহিকভাবে বেড়েই চলেছে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা

দেশে ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা। মূলত উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে প্রকৃত আয় কমে যাওয়া এবং কর্মসংস্থানে ভাটাসহ নানা কারণে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। গত চার বছরে দেশে নতুন করে দরিদ্র হয়েছেন ৮০ লাখ মানুষ। বর্তমানে প্রায় ৬ কোটি ২০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার কিছুটা ওপরে থাকলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগ, জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাওয়াসহ যেকোনো অর্থনৈতিক ধাক্কায় তাঁরাও দরিদ্র হয়ে যেতে পারেন। বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট প্রতিবেদনে বাংলাদেশের দারিদ্র্য পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া যায়। বিশ্বব্যাংকের মতে, টানা চার বছর ধরে এ দেশে দারিদ্র্যের হার বাড়ছে। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাসংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, মূলত খাদ্য, বস্ত্র ও বাসস্থানের মতো মৌলিক চাহিদা পূরণের ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে বিবিএস দারিদ্র্য পরিমাপ করে। একজন মানুষের দৈনিক গড়ে ২ হাজার ১২২ ক্যালরি খাদ্যগুণসম্পন্ন খাবার কিনতে এবং খাদ্যবহির্ভূত খরচ মেটাতে যত টাকা প্রয়োজন হয়, সেই পরিমাণ আয় করতে না পারলেই ওই ব্যক্তিকে দরিদ্র হিসেবে ধরা হয়। তবে খাবারের দাম এলাকাভেদে ভিন্ন হয়।

সূত্রমতে, বাংলাদেশে ২০০১ সালে প্রায় অর্ধেক মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করতেন। তখন দারিদ্র্যের হার ছিল ৪৮ দশমিক ৯ শতাংশ। তবে পরবর্তী দুই দশকে বাংলাদেশ দারিদ্র্য বিমোচনে বেশ সফল হয়। ফলে ২০২২ সালে দারিদ্র্যের হার ১৮ শতাংশে নেমে আসে। কিন্তু গত দুই দশকে দারিদ্র্য ধারাবাহিকভাবে কমলেও ২০২২ সালের পর পরিস্থিতি পাল্টাতে শুরু করে। তখন দারিদ্র্যের হার কমার পরিবর্তে বাড়তে থাকে। বিবিএসের জনশুমারি অনুসারে, ২০২২ সালে দেশের জনসংখ্যা ছিল ১৬ কোটি ৯৮ লাখ। তখন পরিবারের সংখ্যা ছিল ৪ কোটি ১০ লাখ। জনসংখ্যার ওই হিসাব বিবেচনায় নিলে দেশে এখন কমপক্ষে পৌনে ৫ কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছেন। কারণ, গত তিন বছরে জনসংখ্যাও বেড়েছে। আর বিশ্বব্যাংকের হিসাব বিবেচনায় নিলে দেশে এখন দরিদ্র মানুষের সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৫ কোটি।

সূত্র আরও জানায়, বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২২ সালে দেশের দারিদ্র্যের হার ছিল ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ। ২০২৩ সালে তা বেড়ে ১৮ দশমিক ৯ শতাংশে দাঁড়ায়। ওই বছর নতুন করে ৮ লাখ মানুষ দরিদ্র হয়েছেন। ২০২৪ সালে দারিদ্র্যের হার বেড়ে সাড়ে ২০ শতাংশে দাঁড়ায়। ওই বছর নতুন করে মোট ৩৭ লাখ মানুষ দরিদ্র হয়েছেন। আর ২০২৫ সালে দারিদ্র্যের হার আরও বেড়ে ২১ শতাংশ ছাড়ায়। ওই বছর নতুন করে দরিদ্র হয়েছেন ১৪ লাখ মানুষ। চলতি বছর ইতিমধ্যে নতুন করে ২১ লাখ মানুষ দরিদ্র হয়েছেন। ফলে দেশে দারিদ্র্যের হার সাড়ে ২২ শতাংশে পৌঁছেছে। তবে চলতি অর্থবছর শেষে দারিদ্র্যের হার আরও বেড়ে ২২ দশমিক ৯ শতাংশ হতে পারে। তখন আরও কয়েক লাখ মানুষ দরিদ্র হবেন।

গত চার বছর ধরেই এ দেশে আয়বৈষম্য বাড়ছে। যদিও আগামী অর্থবছরে প্রায় ৬ লাখ ৩০ হাজার নিট কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে, তবে ওই কর্মসংস্থান দ্রুত দারিদ্র্য কমানোর জন্য যথেষ্ট হবে না। তা ছাড়া, প্রায় ৬ কোটি ২০ লাখ মানুষ এখন দারিদ্র্যসীমার একটু ওপরে বসবাস করলেও যেকোনো অর্থনৈতিক ধাক্কায় তাঁরা দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যেতে পারেন। মূলত বন্যাসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ, কাজের সুযোগ সীমিত হয়ে যাওয়া এবং চালসহ নিত্যপণ্যের দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যাচ্ছেন। কারণ, আয়ের সুযোগ কমে যাওয়ায় বিপুলসংখ্যক মানুষ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন।

এদিকে, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, এ দেশের সামাজিক সুরক্ষাব্যবস্থা এখনো মূলত মানুষ দরিদ্র হয়ে যাওয়ার পর সীমিত সহায়তা দেওয়ার মধ্যেই আটকে রয়েছে। কিন্তু ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারকে আগেই সুরক্ষা দেওয়া, সামাজিক বিমা এবং আয়-ঝুঁকি মোকাবিলার ব্যবস্থা দুর্বল। ফলে দারিদ্র্য বৃদ্ধি শুধু সাময়িক সংকট নয়, বরং প্রবৃদ্ধির গুণগত দুর্বলতা ও শ্রমবাজারের গভীর সমস্যার বহিঃপ্রকাশ। সে ক্ষেত্রে শুধু জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার নয়, বরং ওই প্রবৃদ্ধি কতটা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে, প্রকৃত আয় বাড়াচ্ছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ মানুষকে সুরক্ষা দিচ্ছে, তা-ই এখন নীতিনির্ধারণের প্রধান বিবেচ্য হওয়া জরুরি।

অন্যদিকে, এ প্রসঙ্গে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান জানান, বাংলাদেশের দারিদ্র্য পরিস্থিতির একটি উদ্বেগজনক চিত্র বিশ্বব্যাংক তুলে ধরেছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বিশেষ করে খাদ্যপণ্যের দামের চাপ, প্রকৃত মজুরির ক্ষয়, দুর্বল বেসরকারি বিনিয়োগ এবং পর্যাপ্ত উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান না হওয়ায় নিম্ন ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ভেঙে পড়ছে। অধিকাংশ কর্মসংস্থান অনানুষ্ঠানিক হওয়ায় চাকরি হারানো, অসুস্থতা বা নতুন করে মূল্যবৃদ্ধির মতো একটি ধাক্কাই অনেক পরিবারকে দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%