বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০২:০৭ এম
স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদনের সময়সীমা নির্বাচন কমিশন (ইসি) বাড়িয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভোটার স্থানান্তরের জন্য আবেদন আগামী ১ নভেম্বর পর্যন্ত করা যাবে।
বুধবার নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা এই তথ্য প্রকাশ করেছেন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছে ইসি।
নির্বাচন কমিশনের পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাচনের জন্য আবাসস্থল পরিবর্তনের কারণে ভোটার এলাকা স্থানান্তরের আবেদন জমা দেওয়ার শেষ দিন আগে ৩১ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়েছিল।
তবে, ৩০ ও ৩১ অক্টোবর যথাক্রমে শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় নির্ধারিত সময়ের পরিবর্তে পরবর্তী কর্মদিবস পর্যন্ত আবেদনের সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এই কারণে, আগামী ১ নভেম্বর (রোববার) পর্যন্ত ভোটার স্থানান্তরের আবেদন গ্রহণ করতে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
এআরবি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
২০২৭ সাল থেকে ভারতের ডিজেল রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে। রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগারগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা সম্প্রসারণের ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে দেশটির ভূমিকা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন শিল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
বিশ্ববাজারে ডিজেল রপ্তানিতে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ভারত উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগারগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে ২০২৭ সাল থেকে ডিজেল রপ্তানি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে পারে। এতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে ভারতের প্রভাব আরও বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন শিল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহের সংকটের প্রেক্ষাপটে ভারতের এই উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথে বিঘ্ন ঘটছে, এবং জাহাজ পরিবহনের খরচও বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে পরিশোধিত জ্বালানির বিকল্প সরবরাহকারী হিসেবে ভারতের গুরুত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ভারতের তেলমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি মন্তব্য করেন, ‘আমরা শুধু নিজেদের চাহিদা মেটানোর জন্য নয়, বিশ্বের জন্যও জ্বালানি পরিশোধন করতে পারব—এটি আমাদের জন্য আনন্দের বিষয়।’
ভারত ২০৩০ সালের মধ্যে বছরে ৩০ কোটি টন জ্বালানি পরিশোধনের সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। পরবর্তী সময়ে এই সক্ষমতা বাড়িয়ে ৪০ কোটি টনে নেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।
জ্বালানি সরবরাহ পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের জাহাজ চলাচলসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর সমুদ্রপথে ডিজেল রপ্তানিতে ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ হয়ে উঠেছে। এ ক্ষেত্রে দেশটির ওপরে রয়েছে শুধু যুক্তরাষ্ট্র।
রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলো উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াচ্ছে। ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগারগুলো ২০২৭ সালে সম্মিলিতভাবে বছরে আরও ১ কোটি ৬৫ লাখ টন ডিজেল উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়াবে। বিদ্যমান শোধনাগারগুলোর সক্ষমতা সম্প্রসারণের মাধ্যমে এই উৎপাদন বৃদ্ধি করা হবে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
দেশটির বৃহত্তম তেল পরিশোধনকারী প্রতিষ্ঠান ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশনের (আইওসি) চেয়ারম্যান এ এস সাহনি জানান, শোধনাগারের সম্প্রসারণের ফলে ডিজেল রপ্তানির পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে। প্রতিষ্ঠানটি বছরে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ টন পরিশোধন সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। এর ফলে অতিরিক্ত প্রায় ৮০ লাখ টন ডিজেল উৎপাদন করা সম্ভব হবে।
হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (এইচপিসিএল) পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজস্থান রাজ্যে নতুন শোধনাগারটির সক্ষমতা বছরে ৯০ লাখ টন। শোধনাগারটি পুরোপুরি স্থিতিশীলভাবে চালু হলে আগামী বছর সেখানে প্রায় ৩০ লাখ টন ডিজেল উৎপাদিত হবে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান বিকাশ কৌশল।
ভারত পেট্রোলিয়াম করপোরেশন আগামী বছর থেকে বছরে আরও ১৫ লাখ টন ডিজেল উৎপাদনের পরিকল্পনা করছে। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান সঞ্জয় খান্না এ তথ্য জানিয়েছেন।
এদিকে, পূর্ব ভারতের নুমালিগড় শোধনাগারের সক্ষমতা আগামী বছরের মার্চে বছরে ৯০ লাখ টনে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে ডিজেল উৎপাদন বছরে আরও ৩০ লাখ টন বাড়বে।
রপ্তানির সুযোগ বাড়বে
ভারতের কিছু রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান, যেমন এইচপিসিএল, নিজেদের খুচরা বিক্রয়কেন্দ্রের জন্য বেসরকারি কোম্পানির কাছ থেকে পরিশোধিত জ্বালানি ক্রয় করে। উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি পেলে এসব প্রতিষ্ঠানকে স্থানীয় বাজারের জন্য অন্য কোম্পানির কাছ থেকে কম জ্বালানি কিনতে হবে। ফলে বাড়তি জ্বালানি রপ্তানির জন্য উন্মুক্ত হবে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
ভারতের শোধনাগারগুলো বিভিন্ন ধরনের অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোকেমিক্যালের কাঁচামাল প্রক্রিয়াজাত করার উপযোগী করে গড়ে তোলা হচ্ছে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে দামের পার্থক্য কাজে লাগিয়ে বেশি মূল্য পাওয়া যায়—এমন জ্বালানি উৎপাদনের সুযোগও বৃদ্ধি পাবে।
বর্তমানে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান রিলায়েন্স ও নায়ারা এনার্জি পরিশোধিত জ্বালানি রপ্তানি করে। অন্যদিকে, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলো মূলত দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর দিকে গুরুত্ব দেয়।
সম্প্রতি ভারতের জামনগরে রিলায়েন্সের বিশাল তেল শোধনাগার পরিদর্শনের সময় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ভারতকে জ্বালানি পরিশোধনে একটি ‘পরাশক্তি’ হিসেবে বর্ণনা করেন।
তেলমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি বলেন, অর্থনৈতিক সম্প্রসারণের সঙ্গে ভারতের জ্বালানির চাহিদাও বাড়বে। এই চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিশ্ববাজারে বড় সরবরাহকারী হয়ে ওঠাই দেশটির লক্ষ্য।
সূত্র: রয়টার্স
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঠাকুরগাঁও -১ আসনে উপনির্বাচন, সরকারি দলকে সমর্থন, গভীর রাতে প্রত্যাহার হলেন যে ৯ জন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা।
ঠাকুরগাঁও পৌরসভার সবুজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা মাসুদ রানা, ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজ ভোটকেন্দ্রের সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীন, ঠাকুরগাঁও রোড বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা জুলফিকার আলী, গোপালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ফরিদা ইয়াসমিন, সালন্দর পাঁচপীর ডাঙ্গা স্বতন্ত্র এবতেদ্বায়ী মাদ্রাসা ভোটকেন্দ্রের সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা সাদেকুল ইসলাম, সিংগিয়া মুন্সিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, দৌলতপুর সলেমান খান বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ওবাইদুর রহমান, বালাপাড়া দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা শাহাদুল ইসলাম, বড়গ্রাম আলিম মাদ্রাসার সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার কে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
তাদের বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সরকারি দলের পক্ষে সমর্থন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের প্রত্যাহার করে নতুন কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন অফিসার কামরুল ইসলাম।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির সন্নিকটে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য আহ্বান জানানোর উদ্যোগ গ্রহণ করেন ছাত্রনেতারা। তাদের জন্য ইউনূসের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের জন্য একজন বিশ্বস্ত মধ্যস্থতাকারীর প্রয়োজন ছিল। এই গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ দায়িত্বটি পালন করেন তৎকালীন এএফপির ঢাকা ব্যুরোর ফ্যাক্ট-চেক সম্পাদক কদরুদ্দীন শিশির। বর্তমানে তিনি দ্য ডিসেন্টের সম্পাদক হিসেবে কর্মরত আছেন।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া একটি পোস্টে এ তথ্য প্রকাশ করেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
পোস্টে শফিকুল আলম উল্লেখ করেন, এএফপির ঢাকা ব্যুরোতে তার ডেস্ক থেকে মাত্র এক গজ দূরে বসে শিশির অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে পুরো কার্যক্রম পরিচালনা করেন। এই বিষয়ে জানতেন হাতেগোনা কয়েকজন বিশ্বস্ত ব্যক্তি। ছাত্রনেতাদের পক্ষ থেকে নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে প্রথম যোগাযোগ স্থাপন এবং দুই পক্ষের মধ্যে প্রাথমিক আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে মূল ভূমিকা পালন করেন শিশির নিজেই।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, শেখ হাসিনার ক্ষমতা ছাড়ার সময় তখনও দুই দিন বাকি ছিল। এমন পরিস্থিতিতে তার নিরাপত্তা বাহিনী পুরো বিষয়টি সম্পর্কে কিছুই জানতে পারেনি। শফিকুল আলমের ভাষ্য অনুযায়ী, নির্বিচারে হত্যাকাণ্ড ও গুমের অভিযোগে কুখ্যাত ওই বাহিনী বিষয়টি জানতে পারলে শিশিরসহ এএফপির পুরো দলকে গোপন বন্দিশালা ‘আয়নাঘরে’ আটক রাখার আশঙ্কা ছিল।
শফিকুল আলম আরও লেখেন, পুরো সময়জুড়ে শিশির অত্যন্ত শান্ত ও অবিচল থেকে নিজের দায়িত্ব পালন করেন। একই সঙ্গে তিনি গোপনে ওই সময়ের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ভিডিও প্রমাণ সংগ্রহ করতেও শুরু করেছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সাহিত্যিক সুমন রহমান কর্তৃক সম্পাদিত ‘খালেদা জিয়া এক মৃত্যুঞ্জয়ী মহীয়সী’ শীর্ষক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নয়ন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী উল্লেখ করেন, বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের রাজনীতিতে একজন আপোষহীন নেত্রী হিসেবে পরিচিত। গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক সংগ্রামে তাঁর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সমকালীন বিশ্বে দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের অধিকারী নেতার উদাহরণ বিরল।
মন্ত্রী আরও বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার মহাপ্রয়াণে দেশ ও বিদেশের বিভিন্ন পর্যায় থেকে যে শোক ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করা হয়েছে, তা তাঁর আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিচিতি ও প্রভাবের প্রতিফলন। তিনি তাঁর মহাপ্রয়াণকে মাও সে তুংয়ের একটি বিখ্যাত উক্তির সঙ্গে তুলনা করে ‘পাহাড়ের মতো ভারী’ বলে উল্লেখ করেন।
নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার জীবন, রাজনৈতিক সংগ্রাম ও কর্ম নিয়ে প্রকাশিত ‘খালেদা জিয়া এক মৃত্যুঞ্জয়ী মহীয়সী’ গ্রন্থটি তাঁর জীবন ও সময়কে মূল্যায়নের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই গ্রন্থটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি মূল্যবান দলিল হিসেবে বিবেচিত হবে।
মন্ত্রী সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ গ্রন্থাগারসমূহে গ্রন্থটি সংগ্রহ ও সংরক্ষণের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের কথা বলেন।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত ছাত্র-জনতার আন্দোলন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। জন রিডের ‘দুনিয়া কাঁপানো দশ দিন’-এর ঐতিহাসিক উপমার উল্লেখ করে তিনি ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্টের ঘটনাপ্রবাহকে ‘দুনিয়া কাঁপানো বিশ দিন’ হিসেবে অভিহিত করেন।
তিনি বলেন, ১৭ বছরের ফ্যাসিস্ট শাসনামলে দুর্নীতি, অনিয়ম, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের দুর্বলতা, গুম, মামলা, হামলা এবং নানা ধরনের রাজনৈতিক নিপীড়ন জনমনে ব্যাপক অসন্তোষ সৃষ্টি করেছিল। এর ধারাবাহিকতায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সূত্রপাত ঘটে এবং পরবর্তীতে স্বৈরাচার সরকারের পতন ঘটে।
মন্ত্রী আরও বলেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বেগম খালেদা জিয়া প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করে ‘মানুষ বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’—এই আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর মতে, এ আহ্বান দেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে সহনশীলতা ও জাতীয় ঐক্যের একটি অনন্য দৃষ্টান্ত।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. লুৎফর রহমান বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তাঁর ভূমিকার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক মো. হারুন অর রশীদ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নির্বাহী কমিটির সদস্য হায়দার আলী লেনিন এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক এ কে এম হাফিজুল্লাহ খান লিটন।
বক্তারা বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, গণতন্ত্রের জন্য তাঁর ভূমিকা এবং দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে তাঁর অবদানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ