প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সাহিত্যিক সুমন রহমান কর্তৃক সম্পাদিত ‘খালেদা জিয়া এক মৃত্যুঞ্জয়ী মহীয়সী’ শীর্ষক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নয়ন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী উল্লেখ করেন, বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের রাজনীতিতে একজন আপোষহীন নেত্রী হিসেবে পরিচিত। গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক সংগ্রামে তাঁর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সমকালীন বিশ্বে দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের অধিকারী নেতার উদাহরণ বিরল।
মন্ত্রী আরও বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার মহাপ্রয়াণে দেশ ও বিদেশের বিভিন্ন পর্যায় থেকে যে শোক ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করা হয়েছে, তা তাঁর আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিচিতি ও প্রভাবের প্রতিফলন। তিনি তাঁর মহাপ্রয়াণকে মাও সে তুংয়ের একটি বিখ্যাত উক্তির সঙ্গে তুলনা করে ‘পাহাড়ের মতো ভারী’ বলে উল্লেখ করেন।
নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার জীবন, রাজনৈতিক সংগ্রাম ও কর্ম নিয়ে প্রকাশিত ‘খালেদা জিয়া এক মৃত্যুঞ্জয়ী মহীয়সী’ গ্রন্থটি তাঁর জীবন ও সময়কে মূল্যায়নের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই গ্রন্থটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি মূল্যবান দলিল হিসেবে বিবেচিত হবে।
মন্ত্রী সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ গ্রন্থাগারসমূহে গ্রন্থটি সংগ্রহ ও সংরক্ষণের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের কথা বলেন।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত ছাত্র-জনতার আন্দোলন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। জন রিডের ‘দুনিয়া কাঁপানো দশ দিন’-এর ঐতিহাসিক উপমার উল্লেখ করে তিনি ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্টের ঘটনাপ্রবাহকে ‘দুনিয়া কাঁপানো বিশ দিন’ হিসেবে অভিহিত করেন।
তিনি বলেন, ১৭ বছরের ফ্যাসিস্ট শাসনামলে দুর্নীতি, অনিয়ম, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের দুর্বলতা, গুম, মামলা, হামলা এবং নানা ধরনের রাজনৈতিক নিপীড়ন জনমনে ব্যাপক অসন্তোষ সৃষ্টি করেছিল। এর ধারাবাহিকতায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সূত্রপাত ঘটে এবং পরবর্তীতে স্বৈরাচার সরকারের পতন ঘটে।
মন্ত্রী আরও বলেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বেগম খালেদা জিয়া প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করে ‘মানুষ বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’—এই আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর মতে, এ আহ্বান দেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে সহনশীলতা ও জাতীয় ঐক্যের একটি অনন্য দৃষ্টান্ত।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. লুৎফর রহমান বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তাঁর ভূমিকার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক মো. হারুন অর রশীদ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নির্বাহী কমিটির সদস্য হায়দার আলী লেনিন এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক এ কে এম হাফিজুল্লাহ খান লিটন।
বক্তারা বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, গণতন্ত্রের জন্য তাঁর ভূমিকা এবং দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে তাঁর অবদানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন