ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সংস্কৃতিও যখন নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার: শি চিনপিংয়ের সাংস্কৃতিক তত্ত্বের প্রভাব


সংস্কৃতিও যখন নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার: শি চিনপিংয়ের সাংস্কৃতিক তত্ত্বের প্রভাব

চীনের কমিউনিস্ট পার্টি সংস্কৃতিকে রাজনীতি থেকে আলাদা করে দেখার কোনো প্রবণতা নেই। শি চিনপিংয়ের নতুন সাংস্কৃতিক তত্ত্বের উদ্দেশ্য হলো প্রচার, গণমাধ্যম, সাহিত্য, শিল্পকলা, ধর্ম এবং ইন্টারনেটের ওপর দলের নিয়ন্ত্রণকে আরো প্রাতিষ্ঠানিক করা। যদিও জাতীয় ঐক্যের কথা বলা হচ্ছে, তবুও স্বাধীন চিন্তা ও সৃজনশীলতার পরিসর সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

চীনের কমিউনিস্ট পার্টি সব সময় সংস্কৃতিকে রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে বিবেচনা করে এসেছে। এর একটি নতুন উদাহরণ গত ১২ অক্টোবর দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম পিপলস ডেইলি-তে প্রকাশিত একটি তাত্ত্বিক নিবন্ধে দেখা গেছে। এই নিবন্ধে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের সাংস্কৃতিক চিন্তাধারাকে দলের নিয়ন্ত্রণ জোরদারের একটি পূর্ণাঙ্গ কাঠামো হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্ক্সবাদ স্কুলের অধ্যাপক সান লাইবিনের লেখা নিবন্ধটিতে সদ্য প্রকাশিত *শি চিনপিং কালচারাল অ্যান্থলজি’র প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ডের উল্লেখ করা হয়েছে। এই সংকলনটিকে শুধু তাত্ত্বিক আলোচনা হিসেবে নয়, বরং প্রচার, মতাদর্শ এবং সংস্কৃতির ওপর কমিউনিস্ট পার্টির নিয়ন্ত্রণ শক্তিশালী করার একটি ব্যবহারিক নির্দেশিকা হিসেবেও চিহ্নিত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: কাতারের শান্তি প্রস্তাব নাকচ, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন হামলার শঙ্কা

নিবন্ধটির মূল বক্তব্য হলো, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে কমিউনিস্ট পার্টির রাজনৈতিক লক্ষ্য পূরণে সহায়ক হতে হবে। মতাদর্শিক সামঞ্জস্যকে জাতীয় স্থিতিশীলতা এবং চীনের পুনর্জাগরণের জন্য অপরিহার্য হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।

সান লাইবিনের ভাষায়, প্রচার ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে পার্টির ভবিষ্যৎ, দেশের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা এবং জাতীয় সংহতির প্রশ্ন জড়িত। সংকলনটির ৭৮টি লেখাকে শি চিনপিংয়ের তাত্ত্বিক কর্তৃত্ব এবং চীনের ‘সাংস্কৃতিক আত্মবিশ্বাসের’ প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। তবে এর আড়ালে রয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা—কোন চিন্তা তৈরি হবে, কীভাবে তা ছড়িয়ে পড়বে এবং কোন মতের সঙ্গে বিতর্ক করা যাবে, তার সীমা নির্ধারণের অধিকার পার্টির হাতে থাকবে।

সংস্কৃতির প্রতিটি ক্ষেত্রে দলীয় নেতৃত্বের বিষয়টি নতুন নয়। মতাদর্শের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার এই ধারণা চীনের কমিউনিস্ট পার্টির জন্য একটি পুরনো প্রথা। লেনিনবাদী ঐতিহ্য অনুসরণ করে দলটি রাজনৈতিক ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য মতাদর্শিক নিয়ন্ত্রণকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে আসছে। তবে শি চিনপিংয়ের আমলে এই নীতিকে আরো বিস্তৃত ও সুসংহত মতবাদে পরিণত করার চেষ্টা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

এই কাঠামোর আওতায় শুধু গণমাধ্যম নয়, সাহিত্য, শিল্পকলা, ধর্ম এবং ইন্টারনেটও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সান লাইবিন পার্টির নেতৃত্বকে ‘সামগ্রিক ও সর্বব্যাপী’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যা সংস্কৃতির প্রতিটি ক্ষেত্র ও কর্মকাণ্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে।

আরও পড়ুন: ক্ষমতা হারালেই কি গ্রেফতার হবেন নেতানিয়াহু?

এই মতাদর্শের ভিত্তি মার্ক্সবাদী তত্ত্ব। এর একটি মূল ধারণা হলো, সমাজে প্রভাবশালী চিন্তা অনেকাংশে প্রভাবশালী বস্তুগত সম্পর্কের প্রতিফলন। চীনা কমিউনিস্ট পার্টির ব্যাখ্যায়, অর্থনীতি ও রাষ্ট্রের ওপর রাজনৈতিক নেতৃত্বের পাশাপাশি মানুষের চিন্তা ও জনমতের ওপরও নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন।

অর্থাৎ, শি চিনপিংয়ের সাংস্কৃতিক নীতির লক্ষ্য শুধুমাত্র সরকারি বক্তব্য প্রচার করা নয়; বরং কোন ধারণাকে গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচনা করা হবে এবং জাতীয় পরিচয়ের সংজ্ঞা কী হবে, তা নির্ধারণের চূড়ান্ত কর্তৃত্ব পার্টির হাতে রাখা।

গণমাধ্যম ও ইন্টারনেটে নিয়ন্ত্রণের দর্শন এই নীতির সবচেয়ে স্পষ্ট প্রকাশ। সান লাইবিনের নিবন্ধে ‘সঠিক জনমত পরিচালনা’কে পার্টি ও জনগণের স্বার্থের সহায়ক হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। বিপরীতে, ভুল জনমত পরিচালনাকে উভয়ের জন্য ক্ষতিকর বলা হয়েছে।

ইন্টারনেটের ক্ষেত্রেও সেটিকে ‘সঠিকভাবে পরিচালনা ও ব্যবহার’ করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। ‘নিয়ন্ত্রণ করতে পারাটাই আসল সত্য’—এই বক্তব্যের মাধ্যমে সরকারের নিয়ন্ত্রণমূলক দৃষ্টিভঙ্গি আরো স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

আরও পড়ুন: ডিজেল রপ্তানি বাড়াতে চায় ভারত, শোধনাগারগুলো সক্ষমতা বাড়াচ্ছে

এখানে তথ্য নিয়ন্ত্রণকে কোনো সাময়িক সংকট মোকাবেলার ব্যবস্থা হিসেবে দেখা হচ্ছে না। বরং এটি রাজনৈতিক শাসনব্যবস্থার স্থায়ী উপকরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

নিবন্ধটিতে পার্টির শৃঙ্খলা ও জনগণের অংশগ্রহণের মধ্যে সামঞ্জস্যের কথাও বলা হয়েছে। ‘পার্টির বৈশিষ্ট্য’ ও ‘জনগণের বৈশিষ্ট্য’কে অভিন্ন এবং পরস্পরবিরোধী নয় বলে দাবি করা হয়েছে। এর অর্থ, পার্টির রাজনৈতিক লক্ষ্য এবং জনগণের স্বার্থ শেষ পর্যন্ত একই জায়গায় মিলিত হয়—এমন ধারণা প্রতিষ্ঠা করা।

তবে এ ব্যাখ্যায় নাগরিকদের বৈধ দাবি বা সাংস্কৃতিক পছন্দ সরকারি অগ্রাধিকারের সঙ্গে না-ও মিলতে পারে, এমন সম্ভাবনার জন্য খুব কম জায়গা রয়েছে।

জাতীয় নিরাপত্তা, ঐক্য ও সৃজনশীলতার প্রশ্ন চীনের এই মতাদর্শিক নিয়ন্ত্রণ জোরদারের পেছনে কৌশলগত বিবেচনা রয়েছে। ডিজিটাল প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তন, বিদেশি সমালোচনা এবং ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা বাড়তে থাকায় বেইজিং অভ্যন্তরীণ জনমত ও বয়ানের ওপর নিয়ন্ত্রণকে জাতীয় স্থিতিস্থাপকতার অংশ হিসেবে দেখছে।

আরও পড়ুন: ভারত মহাসাগরে ১৩ দিনের যৌথ মিশনে ভারত, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়া

এই দৃষ্টিভঙ্গিতে সাংস্কৃতিক আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে রাজনৈতিক আনুগত্যকে যুক্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে, মতাদর্শিক ভিন্নমতকে সামাজিক সংহতির জন্য হুমকি হিসেবে উপস্থাপন করার সুযোগও তৈরি হয়।

তবে এই ব্যবস্থার মধ্যে একটি মৌলিক দ্বন্দ্ব রয়েছে। একদিকে ঐক্য ও আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে চিন্তার স্বাধীনতা এবং সৃজনশীল পরীক্ষানিরীক্ষার ক্ষেত্র সীমিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করা হলেও তার জন্য রাজনৈতিকভাবে নির্ধারিত সীমারেখা রয়েছে। সমালোচনার সুযোগ থাকলেও কোন বিতর্ক গ্রহণযোগ্য আর কোনটি মতাদর্শিক বিশৃঙ্খলা—সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কর্তৃত্ব পার্টির হাতেই থাকছে।

সব মিলিয়ে, শি চিনপিং কালচারাল অ্যান্থলজি শুধুমাত্র তাঁর বক্তব্যের সংকলন নয়; বরং মতাদর্শিক নেতৃত্বকে দীর্ঘস্থায়ী শাসনব্যবস্থার অংশে পরিণত করার একটি প্রচেষ্টা। বেইজিংয়ের দৃষ্টিতে সাংস্কৃতিক ঐক্য জাতীয় শক্তির উৎস। তবে প্রশ্ন থেকে যায়, প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত ঐক্য কি সত্যিকার আত্মবিশ্বাস ও সৃজনশীলতা তৈরি করতে পারবে, নাকি মতাদর্শিক আনুগত্যের দাবি শেষ পর্যন্ত চীনের সংস্কৃতির বিকাশের পরিসরকেই সংকুচিত করবে?

আরও পড়ুন: ভারতে জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের মহড়া চালাতে চায় জাপান

সূত্র: ডেইলি মিরর, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারতে জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের মহড়া চালাতে চায় জাপান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৩৪ এম


ভারতে জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের মহড়া চালাতে চায় জাপান

জাপান ভারতীয় উপমহাদেশে জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ও ছোট আকারের আক্রমণাত্মক ড্রোনের মহড়া পরিচালনার সম্ভাবনা যাচাই করছে। এ লক্ষ্যে সামরিক কর্মকর্তাদের ভারত সফরের জন্য পাঠানো হয়েছে, জানিয়েছেন জাপানের স্থল আত্মরক্ষা বাহিনীর প্রধান জেনারেল মাসায়োশি আরাই।

গত মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে আরাই উল্লেখ করেন, ভারতের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সমন্বয় সাধনের জন্য জাপানের কর্মকর্তাদের পাঠানো হয়েছে। এর আগে, জাপানের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে জানিয়েছে, দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা অক্টোবরের মাঝামাঝি ভারতে গিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্র ও গোলাবর্ষণের প্রশিক্ষণক্ষেত্র পরিদর্শন করেছেন।

তবে, এখনো কোনো ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা নির্বাচন করা হয়নি এবং মহড়া আয়োজনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তও গ্রহণ করা হয়নি। দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের কার্যকর প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা জাপানের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থল আত্মরক্ষা বাহিনীর প্রধান বলেন, দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রে এর পাল্লার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা কঠিন। এ কারণে, জাপানের ভেতরে উপযুক্ত প্রশিক্ষণক্ষেত্রের পাশাপাশি বিদেশের প্রশিক্ষণসুবিধাও বিবেচনা করা হচ্ছে।

জাপানের নতুন টাইপ-২৫ জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের প্রয়োজনীয়তা এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। ২০২৬ সালের মার্চে কুমামোতো অঞ্চলে এ ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করা হয়, যার পাল্লা প্রায় এক হাজার কিলোমিটার বলে ধারণা করা হচ্ছে। আগের টাইপ-১২ ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ছিল প্রায় ২০০ কিলোমিটার।

গত ২৫ অক্টোবর, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক মহড়া ‘কিন সোর্ড ২৭’-এর সময়, জাপানের সেনারা টাইপ-২৫ ক্ষেপণাস্ত্রের উৎক্ষেপণব্যবস্থা স্থাপন ও প্রস্তুত করার প্রক্রিয়া সাংবাদিকদের সামনে উপস্থাপন করেন। তবে, ওই সময় কোনো ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়নি।

জাপান এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ায় জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের গোলাবর্ষণ মহড়া পরিচালনা করেছে। ২০২৬ সালের এপ্রিল ও মে মাসে ফিলিপাইনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘বালিকাতান’ মহড়ায় প্রথমবারের মতো এ ধরনের প্রশিক্ষণ নেয় দেশটির স্থল আত্মরক্ষা বাহিনী, যেখানে টাইপ-৮৮ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়।

ভারতে প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরি হলে, জাপানের বিদেশে সামরিক মহড়া পরিচালনার বিকল্প বাড়বে এবং নয়াদিল্লির সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতাও শক্তিশালী হতে পারে। ভারত ও জাপান ইতিমধ্যে দ্বিপক্ষীয় সামরিক মহড়ায় অংশগ্রহণ করছে। যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে দুই দেশ কোয়াডের সদস্য হিসেবেও কাজ করছে। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনের সামুদ্রিক তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে এ সহযোগিতা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

তবে, আলোচনাটি এখন পর্যন্ত ভারত ও জাপানের দ্বিপক্ষীয় উদ্যোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ। এটিকে কোয়াডের কোনো ঘোষিত সামরিক মহড়া হিসেবে দেখা যাচ্ছে না।

ছোট আকারের আক্রমণাত্মক ড্রোনের প্রশিক্ষণ নিয়েও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। এ ক্ষেত্রে বেতার তরঙ্গের ব্যবহার, প্রশিক্ষণের ধরন, উপযুক্ত স্থান, পরিচালনাপদ্ধতি ও নিরাপত্তাব্যবস্থার মতো বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

এখনো সম্ভাব্য মহড়ার স্থান বা সময় ঘোষণা করা হয়নি। জাপানের অস্ত্রের পাল্লা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেগুলোর কার্যকর প্রশিক্ষণের জন্য উপযুক্ত স্থান খুঁজে বের করা দেশটির সামরিক পরিকল্পনা ও কূটনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারত মহাসাগরে ১৩ দিনের যৌথ মিশনে ভারত, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৩৫ এম


ভারত মহাসাগরে ১৩ দিনের যৌথ মিশনে ভারত, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়া

ভারত মহাসাগরে সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১৩ দিনের একটি যৌথ মিশনে অংশগ্রহণ করেছে ভারত, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র এবং অস্ট্রেলিয়া। ২০২৬ সালের ‘কোয়াড-অ্যাট-সি শিপ অবজারভার মিশন’-এর আওতায় চার দেশের কর্মকর্তারা এই কার্যক্রমে অংশ নেন।

অস্ট্রেলিয়ার বর্ডার ফোর্সের কর্মকর্তাদের সাথে অন্যান্য তিন দেশের প্রতিনিধিরা ভারতীয় কোস্টগার্ডের একটি জাহাজে যাত্রা করেন। এই জাহাজটি ২৫ সেপ্টেম্বর চেন্নাই থেকে যাত্রা শুরু করে এবং ৭ অক্টোবর পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার ফ্রিম্যান্টলে পৌঁছায়।

যাত্রাপথে চার দেশের কর্মকর্তারা একত্রে প্রশিক্ষণ এবং বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন। এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিল সমুদ্রে অনুসন্ধান ও উদ্ধার, সামুদ্রিক দূষণ মোকাবিলা, সামুদ্রিক আইন প্রয়োগ এবং জাহাজে উঠে তল্লাশি চালানোর অনুশীলন।

এই মিশনের মূল উদ্দেশ্য ছিল চার দেশের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি করা, পারস্পরিক বোঝাপড়া উন্নত করা এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের সামুদ্রিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যৌথ সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।

অস্ট্রেলিয়ার মেরিটাইম বর্ডার কমান্ডের প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল ব্রেট সন্টনার মন্তব্য করেন, "অস্ট্রেলিয়ার সামুদ্রিক নিরাপত্তার জন্য আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে শক্তিশালী সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ।"

তিনি আরও বলেন, এই মিশনের মাধ্যমে চার দেশের কর্মকর্তারা নিজেদের অভিজ্ঞতা বিনিময়, পারস্পরিক আস্থা তৈরি এবং পেশাগত সম্পর্ক জোরদারের সুযোগ পেয়েছেন। এ ধরনের প্রশিক্ষণ সমুদ্রে বিভিন্ন ঘটনায় কার্যকরভাবে একত্রে কাজ করার সক্ষমতাও বৃদ্ধি করে।

ভারতীয় কোস্টগার্ড এবং অস্ট্রেলিয়ার বর্ডার ফোর্সের মেরিটাইম বর্ডার কমান্ডের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে দুই সংস্থার মধ্যে সহযোগিতা জোরদারের জন্য একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছিল।

কোয়াডের বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবে চার দেশ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিরাপদ এবং স্থিতিশীল সামুদ্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে সহযোগিতা বৃদ্ধি করছে। এই মিশন সেই সহযোগিতাকে বাস্তব প্রশিক্ষণ এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের পর্যায়ে নিয়ে গেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কক্সবাজারের টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে নিহত মুক্তার দাফন সম্পন্ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৩৫ এম


কক্সবাজারের টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে নিহত মুক্তার দাফন সম্পন্ন

কক্সবাজারের ইনানী এলাকায় অবস্থিত ‘টুপটুপ’ রিসোর্টে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ফলে নিহত স্কুলশিক্ষিকা নাসরিন আক্তার মুক্তার (২৭) এর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার আশুলিয়ার নিরিবিলি এলাকার বাইতুর রব জামে মসজিদের পাশে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

মরহুমার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী, পরে তার লাশ পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার তালতলা বেতমোর ইউনিয়নে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে দ্বিতীয় জানাজা শেষে তাকে দাদার কবরের পাশে দাফন করা হয়।

এর আগে, গতকাল সকালে কক্সবাজার থেকে মুক্তার লাশ যখন আশুলিয়ায় পৌঁছায়, তখন সেখানে শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। স্বজনদের কান্নায় চারপাশ ভারী হয়ে ওঠে।

স্বজনদের অভিযোগ, নিখোঁজদের বিষয়ে বারবার জানানো সত্ত্বেও যথাযথভাবে তল্লাশি না চালানোর কারণে লাশ উদ্ধারে বিলম্ব হয়েছে। তারা মনে করেন, যদি শুরু থেকেই সঠিকভাবে তল্লাশি চালানো হতো, তবে লাশটি আরো অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হতো।

এ ঘটনায় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন এবং মামলায় অন্তর্ভুক্ত ধারাগুলো নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন পরিবারের সদস্যরা। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের চিহ্নিত করা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

এআরবি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শেষ মুহূর্তের রোমাঞ্চে ব্র্যাককে হারিয়ে সোনারগাঁওয়ের টানা দ্বিতীয় জয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৩৫ এম


শেষ মুহূর্তের রোমাঞ্চে ব্র্যাককে হারিয়ে সোনারগাঁওয়ের টানা দ্বিতীয় জয়

‘এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ ২০২৬’-এর ফুটবলে জয় ধরে রেখেছে সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটি (এসইউ)। ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে তারা টুর্নামেন্টে টানা দ্বিতীয় জয় অর্জন করেছে, যা শেষ মুহূর্তের নাটকীয় গোলে এসেছে।

রাজধানীর বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় অনুষ্ঠিত দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে সোনারগাঁও ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় মুখোমুখি হয়। ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলের মধ্যে চলছিল সমান লড়াই।

বল দখল এবং আক্রমণ, কোন বিভাগেই কেউ কাউকে ছাড় দেয়নি। নির্ধারিত সময়ের পুরোটা জুড়ে চলছিল হাড্ডাহাড্ডি টক্কর, কিন্তু গোলের দেখা পাচ্ছিল না কোনো পক্ষই।

যখন ম্যাচটি নিশ্চিত ড্রয়ের দিকে এগোচ্ছিল, ঠিক তখনই ঘটে ম্যাচের মূল নাটকীয়তা। ডি-বক্সের ডান প্রান্ত থেকে সোনারগাঁওয়ের জন্য আসা সতীর্থের ফ্রি-কিক ফাঁকায় পেয়ে যান রাতুল শেখ।

তিনি হেডে চমৎকারভাবে বল জালে জড়িয়ে দলকে জয় এনে দেন। শেষ মুহূর্তের এই এক গোলেই ম্যাচের জয়-পরাজয় নির্ধারিত হয়ে যায়।

টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত সূচনা করেছিল সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটি। নিজেদের প্রথম ম্যাচে রাশেদের সপ্তম মিনিটের হেডে শক্তিশালী ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশকে (ইউল্যাব) ১-০ ব্যবধানে হারিয়েছিল তারা।

ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির বিরুদ্ধে এই রোমাঞ্চকর জয় সোনারগাঁওকে টুর্নামেন্টে টানা দুই ম্যাচে ১-০ ব্যবধানে জয় এনে দিয়েছে। পরপর দুই জয়ে তারা পূর্ণ ৬ পয়েন্ট সংগ্রহ করে গ্রুপ ‘বি’-তে নিজেদের অবস্থান আরো মজবুত করেছে। অন্যদিকে, পুরো ম্যাচে সমান লড়াই করেও শেষ মুহূর্তের ভুলের কারণে পয়েন্ট হারিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিকে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%