প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জাপান ভারতীয় উপমহাদেশে জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ও ছোট আকারের আক্রমণাত্মক ড্রোনের মহড়া পরিচালনার সম্ভাবনা যাচাই করছে। এ লক্ষ্যে সামরিক কর্মকর্তাদের ভারত সফরের জন্য পাঠানো হয়েছে, জানিয়েছেন জাপানের স্থল আত্মরক্ষা বাহিনীর প্রধান জেনারেল মাসায়োশি আরাই।
গত মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে আরাই উল্লেখ করেন, ভারতের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সমন্বয় সাধনের জন্য জাপানের কর্মকর্তাদের পাঠানো হয়েছে। এর আগে, জাপানের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে জানিয়েছে, দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা অক্টোবরের মাঝামাঝি ভারতে গিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্র ও গোলাবর্ষণের প্রশিক্ষণক্ষেত্র পরিদর্শন করেছেন।
তবে, এখনো কোনো ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা নির্বাচন করা হয়নি এবং মহড়া আয়োজনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তও গ্রহণ করা হয়নি। দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের কার্যকর প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা জাপানের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থল আত্মরক্ষা বাহিনীর প্রধান বলেন, দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রে এর পাল্লার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা কঠিন। এ কারণে, জাপানের ভেতরে উপযুক্ত প্রশিক্ষণক্ষেত্রের পাশাপাশি বিদেশের প্রশিক্ষণসুবিধাও বিবেচনা করা হচ্ছে।
জাপানের নতুন টাইপ-২৫ জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের প্রয়োজনীয়তা এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। ২০২৬ সালের মার্চে কুমামোতো অঞ্চলে এ ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করা হয়, যার পাল্লা প্রায় এক হাজার কিলোমিটার বলে ধারণা করা হচ্ছে। আগের টাইপ-১২ ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ছিল প্রায় ২০০ কিলোমিটার।
গত ২৫ অক্টোবর, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক মহড়া ‘কিন সোর্ড ২৭’-এর সময়, জাপানের সেনারা টাইপ-২৫ ক্ষেপণাস্ত্রের উৎক্ষেপণব্যবস্থা স্থাপন ও প্রস্তুত করার প্রক্রিয়া সাংবাদিকদের সামনে উপস্থাপন করেন। তবে, ওই সময় কোনো ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়নি।
জাপান এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ায় জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের গোলাবর্ষণ মহড়া পরিচালনা করেছে। ২০২৬ সালের এপ্রিল ও মে মাসে ফিলিপাইনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘বালিকাতান’ মহড়ায় প্রথমবারের মতো এ ধরনের প্রশিক্ষণ নেয় দেশটির স্থল আত্মরক্ষা বাহিনী, যেখানে টাইপ-৮৮ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়।
ভারতে প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরি হলে, জাপানের বিদেশে সামরিক মহড়া পরিচালনার বিকল্প বাড়বে এবং নয়াদিল্লির সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতাও শক্তিশালী হতে পারে। ভারত ও জাপান ইতিমধ্যে দ্বিপক্ষীয় সামরিক মহড়ায় অংশগ্রহণ করছে। যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে দুই দেশ কোয়াডের সদস্য হিসেবেও কাজ করছে। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনের সামুদ্রিক তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে এ সহযোগিতা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তবে, আলোচনাটি এখন পর্যন্ত ভারত ও জাপানের দ্বিপক্ষীয় উদ্যোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ। এটিকে কোয়াডের কোনো ঘোষিত সামরিক মহড়া হিসেবে দেখা যাচ্ছে না।
ছোট আকারের আক্রমণাত্মক ড্রোনের প্রশিক্ষণ নিয়েও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। এ ক্ষেত্রে বেতার তরঙ্গের ব্যবহার, প্রশিক্ষণের ধরন, উপযুক্ত স্থান, পরিচালনাপদ্ধতি ও নিরাপত্তাব্যবস্থার মতো বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।
এখনো সম্ভাব্য মহড়ার স্থান বা সময় ঘোষণা করা হয়নি। জাপানের অস্ত্রের পাল্লা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেগুলোর কার্যকর প্রশিক্ষণের জন্য উপযুক্ত স্থান খুঁজে বের করা দেশটির সামরিক পরিকল্পনা ও কূটনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন