মোঃ জিয়াউর রহমান ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০১:২১ এম
মোঃ জিয়াউর রহমান ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি সকাল হলেই ঠাকুরগাঁও ১ আসনের উপ-নির্বাচন। ইতি মধ্যে
তালিকা অনুযায়ী প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের কাছে নির্বাচনি সরঞ্জাম হস্তান্তর করা হয়েছে। ভোটগ্রহণের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। ঠাকুরগাঁও-১ শুন্য আসনের উপনির্বাচনে ১৮৫টি ভোটকেন্দ্রে ভোট অনুষ্ঠিত হবে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুর থেকে কড়া নিরাপত্তায় এসব সরঞ্জাম কেন্দ্রে পাঠানো হয়। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
পুলিশ, বিজিবি, এসআরবি ও আনসার সদস্যদের ভোটকেন্দ্রেগুলোতে নিরাপত্তায় রয়েছেন। ১৮৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় ১১৩টি, রুহিয়া উপজেলায় ৩৩টি এবং ভুল্লী উপজেলায় ৩৯টি কেন্দ্র রয়েছে।
এ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন। চূড়ান্তভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন পাঁচজন প্রার্থী। নির্বাচন ঘিরে ভোটকেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
এ আসনে নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অন্যদিকে, ১১ দলীয় জোটের জামায়াত প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন লড়ছেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে। এ ছাড়া বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের প্রার্থী মো. আব্দুল আলিম নিজামী বটগাছ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. খাদেমুল ইসলাম হাতপাখা এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী হোসাইন মোহাম্মদ ওমর ফারুক ডাক প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে কাজ করার কথা জানিয়েছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১৩।
এসআরবি-১৩, রংপুরের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মনজুর করিম বলেন, নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচনী এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি এসআরবি-১৩ দায়িত্ব পালন করবে।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনে মোট ১৮৫টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে ১১৫টি কেন্দ্র অধিক গুরুত্বপূর্ণ এবং ৭০টি কেন্দ্র মধ্যম গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। নির্বাচনের আগের দিন ২৮ অক্টোবর থেকে ভোটের দিন এবং পরবর্তী দুই দিন, অর্থাৎ ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত এসআরবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।
এ লক্ষ্যে ছয়টি মোবাইল টহল দল এবং দুটি স্ট্রাইকিং রিজার্ভ টহল দল মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছে। এসব দল নির্বাচনী এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড শনাক্তকরণ এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত থাকবে।
এ ছাড়া নিরাপত্তা জোরদারে ডগ স্কোয়াড মোতায়েন করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও নির্ধারিত এলাকায় সন্দেহজনক বস্তু শনাক্ত করতে এ স্কোয়াড কাজ করবে। বিস্ফোরক-সংক্রান্ত হুমকি মোকাবিলায় একটি বোমা ডিসপোজাল ইউনিটও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি নির্বাচনী এলাকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও দ্রুত তথ্য সংগ্রহের জন্য ড্রোন ব্যবহার করা হবে। দায়িত্ব পালনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে টহল সদস্যদের বডি-ওর্ন ক্যামেরাও ব্যবহার করা হবে।
নির্বাচনকেন্দ্রিক নিরাপত্তা কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য একটি অপারেশনস কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের টহল দলের সঙ্গে যোগাযোগ, তথ্য আদান-প্রদান এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সমন্বিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপের মাধ্যমেও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল মনজুর করিম বলেন, ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ভোটকেন্দ্র ও আশপাশের এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং যেকোনো ধরনের নাশকতা বা সহিংসতা প্রতিরোধে এসআরবি-১৩ সর্বোচ্চ সতর্ক থাকবে।
এসআরবি-১৩-এর অধিনায়ক আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, রাজনৈতিক দল, প্রার্থী, গণমাধ্যমকর্মী ও সাধারণ জনগণের সম্মিলিত সহযোগিতায় ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার মো. বেলাল হোসেন বলেন, নির্বাচনে কোনো পক্ষকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হবে না। ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে পুলিশ কাজ করবে। নির্বাচনের ফলাফল যে পক্ষেরই হোক, সবাই তা মেনে নেবেন বলে প্রত্যাশা করেন তিনি। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি সুন্দর নির্বাচন আয়োজন সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন পুলিশ সুপার।
বিজিবির ঠাকুরগাঁও সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মো. সুরুজ মিয়া জানান, নির্বাচনী এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ভোটাররা যাতে নিরাপদে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারেন এবং কোথাও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম জানান, ঠাকুরগাঁও সদর, রুহিয়া ও ভূল্লী এলাকা নিয়ে গঠিত এ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন। তাদের ভোটগ্রহণের জন্য ১৮৫টি কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে প্রতিটি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ৫ হাজার ৩০০ সদস্য মোতায়েন এবং ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ভোটাররা যাতে নির্ভয়ে ও নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন, সে জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে। এখন ভোটগ্রহণের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রার্থী ও ভোটাররা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকাই সিনেমার একসময়ের জনপ্রিয় নায়িকা সাদিকা পারভীন পপির মা মরিয়ম বেগম মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মঙ্গলবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে রাজধানীর মগবাজারের একটি হাসপাতালে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
চলচ্চিত্র পরিচালক বদিউল আলম খোকন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মরিয়ম বেগমের প্রথম জানাজা ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে। এরপর তাঁর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে খুলনায় গ্রামের বাড়িতে। সেখানে দ্বিতীয় জানাজা শেষে তাঁকে দাফন করা হবে।
জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে কিডনি রোগ ও বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছিলেন মরিয়ম বেগম। গত ১৪ অক্টোবর দিবাগত রাতে গুলশানের নিকেতনের বাসায় স্ট্রোক করলে রাত পৌনে ২টার দিকে তাঁকে মগবাজারের ইনসাফ বারাকাহ কিডনি অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
মঙ্গলবার রাতে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়ার প্রস্তুতি চলছিল। এর মধ্যেই রাত দেড়টার দিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
একসময় ঢাকাই সিনেমায় নিয়মিত অভিনয় করেছেন পপি। বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় সিনেমায় অভিনয়ের মধ্য দিয়ে দর্শকের ভালোবাসা পেয়েছেন তিনি। তবে দীর্ঘদিন ধরে অভিনয় ও চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রয়েছেন এই অভিনেত্রী। মায়ের মৃত্যুর খবরে চলচ্চিত্র অঙ্গনে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) উচ্চশিক্ষার সুযোগের বৈষম্য কমাতে আলাদা স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল চালুর পরিকল্পনা করছে। এ উদ্যোগের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু করার জন্য বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান প্রযুক্তিগত সুবিধা কাজে লাগানোর কথা ভাবছে সংস্থাটি।
বুধবার বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ। তিনি জানান, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে শিক্ষার সুযোগ ও একাডেমিক কার্যক্রমে বৈষম্য বিদ্যমান। কিছু বিশ্ববিদ্যালয় শহরে অবস্থিত, আবার কিছু প্রত্যন্ত অঞ্চলে। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংযোগ বাড়াতে উচ্চশিক্ষার জন্য আলাদা টেলিভিশন চ্যানেল চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা কাজে লাগিয়ে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু করা যেতে পারে।
ইউজিসি চেয়ারম্যান আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশের প্রায় ১৮০টি পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে ডিজিটাল নেটওয়ার্কের আওতায় আনার পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উচ্চগতির ইন্টারনেট, ডিজিটাল শ্রেণিকক্ষ ও ডিজিটাল ক্যাম্পাসের প্রয়োজনীয় সুবিধা গড়ে তোলা হবে। এতে প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে একাডেমিক যোগাযোগ, যৌথ গবেষণা ও সহযোগিতার সুযোগ বাড়বে। বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি শিক্ষক ও গবেষকদেরও দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে যুক্ত করা সম্ভব হবে।
অধ্যাপক মামুন আহমেদ আরও বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডেটা সায়েন্স ও অনলাইন প্রযুক্তির বিকাশ প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। তাই শিক্ষার্থীদের জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়নেও গুরুত্ব দিতে হবে। মানসম্মত, প্রযুক্তিনির্ভর ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি।
তিনি বলেন, ইউটিউবসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ঘরে বসেই মানুষ শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছেন। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা পদ্ধতি ও অবকাঠামোকে যুগোপযোগী করতে হবে। এ জন্য ইউজিসি ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়কে যৌথভাবে কাজ করতে হবে।
ইউজিসি চেয়ারম্যান মন্তব্য করেন, প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা সব বয়স, সামাজিক অবস্থান ও অঞ্চলের মানুষকে শিক্ষার আওতায় আনতে পারে না। এর ফলে অনেকে ঝরে পড়েন বা মূলধারার শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হন। উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক কাজে লাগিয়ে তাঁদের কাছে শিক্ষা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থী প্রায় তিন লাখ। মানসম্মত ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা নিশ্চিত করা গেলে এ সংখ্যা আরও বাড়ানো সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।
অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ধারণা দিয়েছিলেন। ১৯৯২ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময়ে তা বাস্তবায়িত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে দূরশিক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সুবিধা, পূর্ণাঙ্গ মিডিয়া সেন্টার ও দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগের নেটওয়ার্ক রয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সিদ্দিকুর রহমান খান। মুখ্য আলোচক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আনিসুর রহমান, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. সিরাজুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. শেখ রফিকুল ইসলামসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিশ্বের প্রায় সব দেশে নারীদের গড় আয়ু পুরুষদের তুলনায় বেশি দেখা যায়। পরিসংখ্যানে উল্লেখ করা হয়েছে, নারীরা সাধারণত পুরুষদের চেয়ে প্রায় ৪ থেকে ৫ বছর বেশি বাঁচেন। তবে এই পার্থক্যের কারণ কী? পুরুষদের শরীর কি তুলনামূলকভাবে দুর্বল, নাকি জীবনযাপনের ধরন ও সামাজিক আচরণ তাদের আয়ু কমিয়ে দেয়?
গবেষকদের মতে, এই পার্থক্যের পেছনে কোনো একক কারণ দায়ী নয়। বরং জিনগত বৈশিষ্ট্য, হরমোনের প্রভাব, ঝুঁকিপূর্ণ জীবনযাপন, পেশাগত পরিবেশ এবং স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের অভ্যাস— সবকিছু মিলে নারী-পুরুষের গড় আয়ুর ব্যবধান তৈরি করে। এসব বিষয়কে মূলত তিনটি ভাগে ব্যাখ্যা করা সম্ভব—
১. জৈবিক ও জিনগত কারণ: প্রকৃতিগত কিছু সুবিধা
নারী ও পুরুষের শারীরিক গঠন, ক্রোমোজোম এবং হরমোনের মধ্যে পার্থক্য বিদ্যমান। এসব পার্থক্য রোগ প্রতিরোধ, হৃদ্যন্ত্রের স্বাস্থ্য এবং বার্ধক্যজনিত পরিবর্তনের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
এক্স ক্রোমোজোমের ভূমিকা
নারীদের সাধারণত দুটি এক্স ক্রোমোজোম (XX) থাকে, যেখানে পুরুষদের একটি এক্স ও একটি ওয়াই ক্রোমোজোম (XY) থাকে। এক্স ক্রোমোজোমে থাকা কিছু গুরুত্বপূর্ণ জিনের একাধিক অনুলিপি নারীদের নির্দিষ্ট কিছু জিনগত সমস্যার বিরুদ্ধে বাড়তি সুরক্ষা দিতে পারে। নারীদের একটি এক্স ক্রোমোজোমে যদি কোনো জিনগত ত্রুটি থাকে, তবে অন্যটির সংশ্লিষ্ট জিন কিছু ক্ষেত্রে সেই ঘাটতির প্রভাব কমাতে পারে। পুরুষদের একমাত্র এক্স ক্রোমোজোম থাকার কারণে এক্স-লিঙ্কড কিছু বংশগত রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি হতে পারে।
তবে এর মানে এই নয় যে নারীরা সব ধরনের রোগের বিরুদ্ধে বেশি সুরক্ষিত। রোগভেদে নারী-পুরুষের ঝুঁকি আলাদা হতে পারে।
হরমোনের প্রভাব: ইস্ট্রোজেন ও টেস্টোস্টেরন
নারীদের প্রধান যৌন হরমোনগুলোর মধ্যে একটি হলো ইস্ট্রোজেন (Estrogen)। এটি প্রজননস্বাস্থ্যের পাশাপাশি হাড়, রক্তনালি ও শরীরের বিভিন্ন জৈবিক প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখে। প্রজননক্ষম বয়সে ইস্ট্রোজেনের কিছু প্রভাব নারীদের হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্য সহায়ক হতে পারে।
অন্যদিকে, পুরুষদের প্রধান যৌন হরমোন টেস্টোস্টেরন (Testosterone), যা পেশি, হাড়, যৌনস্বাস্থ্য এবং বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত। হরমোনের প্রভাব নারী-পুরুষের শরীরে কিছু পার্থক্য তৈরি করলেও টেস্টোস্টেরন সরাসরি আগ্রাসী আচরণ বা হৃদরোগের কারণ—এমন সরল সিদ্ধান্ত দেওয়া যায় না।
নারীদের মেনোপজ বা ঋতুস্রাব স্থায়ীভাবে বন্ধ হওয়ার পর ইস্ট্রোজেনের মাত্রা কমে যায়। এর ফলে হৃদ্রোগসহ কিছু স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পরিবর্তন আসতে পারে। তবে নারী-পুরুষের আয়ুর পার্থক্য শুধু হরমোনের কারণে ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়।
২. জীবনযাপন ও আচরণগত কারণ: ঝুঁকি বেশি, বিপদও বেশি
জৈবিক পার্থক্যের পাশাপাশি দৈনন্দিন অভ্যাস এবং সামাজিক পরিবেশও পুরুষদের গড় আয়ু কম হওয়ার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা
অনেক সমাজে পুরুষদের সাহসী, শক্তিশালী ও ঝুঁকি নিতে সক্ষম হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করার চাপ থাকে। এর ফলে কিছু পুরুষ বিপজ্জনক আচরণে জড়িয়ে পড়তে পারেন।
সড়ক দুর্ঘটনা, দ্রুতগতিতে গাড়ি চালানো, মারামারি, সহিংসতা এবং ঝুঁকিপূর্ণ বিনোদনমূলক কর্মকাণ্ডে পুরুষদের মৃত্যুঝুঁকি অনেক ক্ষেত্রে বেশি দেখা যায়। এর পেছনে জৈবিক বৈশিষ্ট্যের পাশাপাশি সামাজিক প্রত্যাশা ও ব্যক্তিগত আচরণও ভূমিকা রাখে।
এসব কারণে অনেক পুরুষ কর্মজীবনের শুরুতেই দুর্ঘটনা বা সহিংসতার শিকার হন, যা সামগ্রিকভাবে পুরুষদের গড় আয়ু কমিয়ে দিতে পারে।
পেশাগত ঝুঁকি
বিশ্বের অনেক দেশে খনি, নির্মাণকাজ, ভারী শিল্পকারখানা, যুদ্ধক্ষেত্র ও অগ্নিনির্বাপণের মতো ঝুঁকিপূর্ণ পেশায় পুরুষদের অংশগ্রহণ বেশি।
এসব কাজে ভারী যন্ত্রপাতি, বিষাক্ত পদার্থ, অতিরিক্ত তাপ, ধুলাবালি, উচ্চতা থেকে পড়ে যাওয়া এবং প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে। কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তার ঘাটতি থাকলে এসব ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
এ ছাড়া দীর্ঘদিন বিপজ্জনক পরিবেশে কাজ করার কারণে কিছু পেশায় শ্বাসতন্ত্রের রোগ, ক্যানসার কিংবা অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যসমস্যাও দেখা দিতে পারে। ফলে পেশাগত ঝুঁকি পুরুষদের অকালমৃত্যুর একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হয়ে উঠতে পারে।
অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস
অনেক দেশে নারীদের তুলনায় পুরুষদের মধ্যে ধূমপান, অতিরিক্ত মদ্যপান এবং কিছু অন্যান্য ক্ষতিকর অভ্যাসের প্রবণতা বেশি। তবে দেশ, বয়স ও সামাজিক পরিবেশভেদে এই চিত্রে পার্থক্য রয়েছে।
ধূমপান ফুসফুসের ক্যানসার, হৃদ্রোগ, স্ট্রোক এবং দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসতন্ত্রের রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। অতিরিক্ত মদ্যপান লিভারের ক্ষতি, লিভার সিরোসিস, কিছু ধরনের ক্যানসার এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। অন্যান্য মাদক গ্রহণও শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের ক্ষতি করতে পারে এবং অকালমৃত্যুর আশঙ্কা বাড়ায়।
দীর্ঘদিন এসব অভ্যাস বজায় থাকলে তা ব্যক্তির সুস্থ জীবনযাপনের সময় কমিয়ে দিতে পারে। তাই স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম এবং তামাক ও ক্ষতিকর মাদক থেকে দূরে থাকা দীর্ঘায়ুর জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
৩. স্বাস্থ্যসচেতনতা ও মানসিক চাপ: নীরবে বাড়ে বিপদ
শরীরের যত্ন নেওয়া, অসুস্থ হলে চিকিৎসা গ্রহণ করা এবং মানসিক সমস্যার কথা প্রকাশ করার অভ্যাসও দীর্ঘায়ুর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রেও অনেক সমাজে নারী-পুরুষের আচরণগত পার্থক্য দেখা যায়।
চিকিৎসকের কাছে যেতে অনীহা
কিছু পুরুষ অসুস্থতার লক্ষণ দেখা দিলেও তা সহজে স্বীকার করতে চান না। কেউ কাজের ব্যস্ততায় চিকিৎসা পিছিয়ে দেন, আবার কেউ মনে করেন সামান্য সমস্যা নিজে থেকেই সেরে যাবে।
ফলে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদ্রোগ কিংবা ক্যানসারের মতো রোগ সময়মতো শনাক্ত না হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা শুরু না করলে অনেক ক্ষেত্রে জটিলতা বাড়ে এবং চিকিৎসা কঠিন হয়ে পড়ে।
নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং চিকিৎসকের নির্দেশনা মেনে চলা অকালমৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে।
মানসিক চাপ চেপে রাখা
অনেক সমাজে পুরুষদের ছোটবেলা থেকেই শেখানো হয়, কাঁদা বা দুর্বলতা প্রকাশ করা উচিত নয়। নিজের কষ্ট গোপন রাখা কিংবা সব পরিস্থিতিতে শক্ত থাকার এই সামাজিক প্রত্যাশা কিছু পুরুষের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ ঘুমের সমস্যা, উদ্বেগ, বিষণ্ণতা এবং অস্বাস্থ্যকর অভ্যাসের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। মানসিক চাপ ও বিষণ্ণতা শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। এ ছাড়া অনেক দেশে পুরুষদের আত্মহত্যাজনিত মৃত্যুহার নারীদের তুলনায় বেশি দেখা যায়।
তবে মানসিক চাপ সরাসরি হার্ট অ্যাটাক বা আত্মহত্যার একমাত্র কারণ নয়। ব্যক্তির পরিস্থিতি, মানসিক স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ, সামাজিক সহায়তা এবং অন্যান্য ঝুঁকিও গুরুত্বপূর্ণ।
মানসিক কষ্ট হলে বিশ্বস্ত মানুষের সঙ্গে কথা বলা, প্রয়োজনে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা মানসিক স্বাস্থ্য পেশাজীবীর সহায়তা নেওয়া এবং নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে শেখা অত্যন্ত জরুরি।
তাহলে কি পুরুষদের আয়ু কম হওয়া অনিবার্য?
না। নারীদের তুলনায় পুরুষদের গড় আয়ু কম হলেও এর মানে এই নয় যে প্রত্যেক পুরুষ নারীদের আগে মারা যাবেন। গড় আয়ু হলো একটি জনসংখ্যাভিত্তিক পরিসংখ্যান; ব্যক্তির আয়ু নির্ভর করে তার স্বাস্থ্য, জীবনযাপন, পরিবেশ, জিনগত বৈশিষ্ট্য এবং চিকিৎসাসেবার সুযোগসহ নানা বিষয়ের ওপর।
পুরুষদের অকালমৃত্যুর অনেক ঝুঁকিই কমানো সম্ভব। ধূমপান ও ক্ষতিকর মাদক পরিহার, নিরাপদে গাড়ি চালানো, কর্মক্ষেত্রে সুরক্ষা নিশ্চিত করা, নিয়মিত শরীরচর্চা, স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ, পর্যাপ্ত ঘুম এবং সময়মতো চিকিৎসা নেওয়ার মতো পদক্ষেপ দীর্ঘ ও সুস্থ জীবনযাপনে সহায়তা করতে পারে।
একই সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্যকে গুরুত্ব দেওয়া এবং প্রয়োজনের সময় সাহায্য চাওয়াও জরুরি। নিজের সমস্যার কথা বলা দুর্বলতা নয়; বরং নিজের সুস্থতার দায়িত্ব নেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
পুরুষদের তুলনায় নারীদের গড় আয়ু বেশি হওয়ার পেছনে জৈবিক ও জিনগত বৈশিষ্ট্য, হরমোনের প্রভাব, জীবনযাপনের ধরন, পেশাগত ঝুঁকি এবং স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের অভ্যাস— সবকিছুরই ভূমিকা রয়েছে। কোনো একটি কারণ দিয়ে এই ব্যবধানের সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা দেওয়া যায় না।
প্রকৃতিগত কিছু সুবিধা নারীদের দীর্ঘায়ুতে সহায়তা করতে পারে। অন্যদিকে, ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ, অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস, চিকিৎসা নিতে দেরি করা এবং মানসিক কষ্ট চেপে রাখার প্রবণতা কিছু পুরুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াতে পারে।
সহজ কথায়, দীর্ঘায়ু শুধু প্রকৃতির দেওয়া উপহারের ওপর নির্ভর করে না; নিজের শরীর ও মনের যত্ন নেওয়ার অভ্যাসও এতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নারী-পুরুষ সবার জন্যই স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, সচেতনতা এবং সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণ সুস্থ ও দীর্ঘ জীবনের অন্যতম চাবিকাঠি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যে বিরোধী ইন্ডিয়া জোটের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। দলটি ১ নভেম্বর দিল্লির রামলীলা ময়দানে অনুষ্ঠিতব্য জোটের সমাবেশে তাদের সমর্থন প্রকাশ করে জানায়, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য নির্বাচন কমিশনের প্রতি জনগণের আস্থা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের অভিযোগ, এসআইআর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার জনগণের সেই আস্থা হারিয়েছেন।
ভোটার তালিকা সংশোধনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবিতে বিরোধী জোট এই সমাবেশের আয়োজন করছে। ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করে সমাবেশের প্রতি সমর্থন জানান। তিনি লেখেন, "ককরোচ জনতা পার্টি ১ নভেম্বরের ইন্ডিয়া জোটের সমাবেশে সমর্থন জানাচ্ছে। সবার আগে দেশ।"
দলটির বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হলো জনগণ তাদের সরকার নির্বাচন করবে; সরকার নিজের পছন্দমতো ভোটার বেছে নেবে না। এসআইআরের মাধ্যমে এই মৌলিক নীতি ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে দলটি অভিযোগ করেছে। তাদের মতে, এ কারণে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়েছে। নির্বাচন কমিশনের গ্রহণযোগ্যতা ও স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারের জন্য জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ প্রয়োজন বলেও দাবি করেছে তারা।
বিবৃতিতে ভারতের সংবিধান প্রণয়নে ড. বি আর আম্বেদকরের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেছে ককরোচ জনতা পার্টি। দলটির বক্তব্য, সংবিধান প্রণয়নের সময় আম্বেদকর নিশ্চিত করেছিলেন, জাতি, ধর্ম, লিঙ্গ, শিক্ষাগত যোগ্যতা কিংবা আর্থিক অবস্থা নির্বিশেষে প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের ভোটাধিকার সমান হবে।
দলটি আরো জানায়, ভারতের কোটি কোটি মানুষ যখন আগে কখনো নির্বাচনে অংশ নেননি, তখন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু, ড. আম্বেদকরসহ সংবিধান প্রণেতারা জনগণের ওপর আস্থা রেখেছিলেন। তারা বুঝেছিলেন, দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে প্রত্যেক নাগরিকের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলেই গণতন্ত্র সফল হতে পারে। গণতন্ত্রের পরিসর বাড়ানোই ছিল তাদের লক্ষ্য, কাউকে এর বাইরে রাখা নয়।
ককরোচ জনতা পার্টির অভিযোগ, এসআইআর কার্যক্রমের ফলে ভোটার তালিকা থেকে বৈধ ভোটারদের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। নাগরিকদের ভোটাধিকার প্রয়োগ সহজ করার পরিবর্তে এই প্রক্রিয়া তাদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
বিবৃতিতে দলটি উল্লেখ করে, প্রত্যেক যোগ্য নাগরিকের ভোটাধিকার সুরক্ষিত রাখাই নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব। সেই অধিকার প্রয়োগের পথে বাধা সৃষ্টি করা কমিশনের কাজ হতে পারে না।
সূত্র: মাকতুব মিডিয়া
এআরবি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ