ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মা হারালেন ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় নায়িকা পপি


মা হারালেন ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় নায়িকা পপি

ঢাকাই সিনেমার একসময়ের জনপ্রিয় নায়িকা সাদিকা পারভীন পপির মা মরিয়ম বেগম মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মঙ্গলবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে রাজধানীর মগবাজারের একটি হাসপাতালে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

চলচ্চিত্র পরিচালক বদিউল আলম খোকন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মরিয়ম বেগমের প্রথম জানাজা ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে। এরপর তাঁর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে খুলনায় গ্রামের বাড়িতে। সেখানে দ্বিতীয় জানাজা শেষে তাঁকে দাফন করা হবে।

জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে কিডনি রোগ ও বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছিলেন মরিয়ম বেগম। গত ১৪ অক্টোবর দিবাগত রাতে গুলশানের নিকেতনের বাসায় স্ট্রোক করলে রাত পৌনে ২টার দিকে তাঁকে মগবাজারের ইনসাফ বারাকাহ কিডনি অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

আরও পড়ুন: নেপালের নাট্যোৎসবে মঞ্চস্থ হবে বাংলাদেশের ‘এ ফাদার’স স্কাই’

মঙ্গলবার রাতে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়ার প্রস্তুতি চলছিল। এর মধ্যেই রাত দেড়টার দিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

একসময় ঢাকাই সিনেমায় নিয়মিত অভিনয় করেছেন পপি। বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় সিনেমায় অভিনয়ের মধ্য দিয়ে দর্শকের ভালোবাসা পেয়েছেন তিনি। তবে দীর্ঘদিন ধরে অভিনয় ও চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রয়েছেন এই অভিনেত্রী। মায়ের মৃত্যুর খবরে চলচ্চিত্র অঙ্গনে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

উচ্চশিক্ষায় বৈষম্য কমাতে স্যাটেলাইট টিভি চালুর পরিকল্পনা ইউজিসির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৩১ এম


উচ্চশিক্ষায় বৈষম্য কমাতে স্যাটেলাইট টিভি চালুর পরিকল্পনা ইউজিসির

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) উচ্চশিক্ষার সুযোগের বৈষম্য কমাতে আলাদা স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল চালুর পরিকল্পনা করছে। এ উদ্যোগের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু করার জন্য বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান প্রযুক্তিগত সুবিধা কাজে লাগানোর কথা ভাবছে সংস্থাটি।

বুধবার বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ। তিনি জানান, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে শিক্ষার সুযোগ ও একাডেমিক কার্যক্রমে বৈষম্য বিদ্যমান। কিছু বিশ্ববিদ্যালয় শহরে অবস্থিত, আবার কিছু প্রত্যন্ত অঞ্চলে। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংযোগ বাড়াতে উচ্চশিক্ষার জন্য আলাদা টেলিভিশন চ্যানেল চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা কাজে লাগিয়ে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু করা যেতে পারে।

ইউজিসি চেয়ারম্যান আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশের প্রায় ১৮০টি পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে ডিজিটাল নেটওয়ার্কের আওতায় আনার পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উচ্চগতির ইন্টারনেট, ডিজিটাল শ্রেণিকক্ষ ও ডিজিটাল ক্যাম্পাসের প্রয়োজনীয় সুবিধা গড়ে তোলা হবে। এতে প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে একাডেমিক যোগাযোগ, যৌথ গবেষণা ও সহযোগিতার সুযোগ বাড়বে। বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি শিক্ষক ও গবেষকদেরও দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে যুক্ত করা সম্ভব হবে।

অধ্যাপক মামুন আহমেদ আরও বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডেটা সায়েন্স ও অনলাইন প্রযুক্তির বিকাশ প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। তাই শিক্ষার্থীদের জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়নেও গুরুত্ব দিতে হবে। মানসম্মত, প্রযুক্তিনির্ভর ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি।

তিনি বলেন, ইউটিউবসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ঘরে বসেই মানুষ শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছেন। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা পদ্ধতি ও অবকাঠামোকে যুগোপযোগী করতে হবে। এ জন্য ইউজিসি ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়কে যৌথভাবে কাজ করতে হবে।

ইউজিসি চেয়ারম্যান মন্তব্য করেন, প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা সব বয়স, সামাজিক অবস্থান ও অঞ্চলের মানুষকে শিক্ষার আওতায় আনতে পারে না। এর ফলে অনেকে ঝরে পড়েন বা মূলধারার শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হন। উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক কাজে লাগিয়ে তাঁদের কাছে শিক্ষা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থী প্রায় তিন লাখ। মানসম্মত ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা নিশ্চিত করা গেলে এ সংখ্যা আরও বাড়ানো সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ধারণা দিয়েছিলেন। ১৯৯২ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময়ে তা বাস্তবায়িত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে দূরশিক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সুবিধা, পূর্ণাঙ্গ মিডিয়া সেন্টার ও দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগের নেটওয়ার্ক রয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সিদ্দিকুর রহমান খান। মুখ্য আলোচক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আনিসুর রহমান, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. সিরাজুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. শেখ রফিকুল ইসলামসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পুরুষদের চেয়ে নারীরা কেন বেশি দিন বাঁচেন?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৩২ এম


পুরুষদের চেয়ে নারীরা কেন বেশি দিন বাঁচেন?

বিশ্বের প্রায় সব দেশে নারীদের গড় আয়ু পুরুষদের তুলনায় বেশি দেখা যায়। পরিসংখ্যানে উল্লেখ করা হয়েছে, নারীরা সাধারণত পুরুষদের চেয়ে প্রায় ৪ থেকে ৫ বছর বেশি বাঁচেন। তবে এই পার্থক্যের কারণ কী? পুরুষদের শরীর কি তুলনামূলকভাবে দুর্বল, নাকি জীবনযাপনের ধরন ও সামাজিক আচরণ তাদের আয়ু কমিয়ে দেয়?

গবেষকদের মতে, এই পার্থক্যের পেছনে কোনো একক কারণ দায়ী নয়। বরং জিনগত বৈশিষ্ট্য, হরমোনের প্রভাব, ঝুঁকিপূর্ণ জীবনযাপন, পেশাগত পরিবেশ এবং স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের অভ্যাস— সবকিছু মিলে নারী-পুরুষের গড় আয়ুর ব্যবধান তৈরি করে। এসব বিষয়কে মূলত তিনটি ভাগে ব্যাখ্যা করা সম্ভব—

১. জৈবিক ও জিনগত কারণ: প্রকৃতিগত কিছু সুবিধা

নারী ও পুরুষের শারীরিক গঠন, ক্রোমোজোম এবং হরমোনের মধ্যে পার্থক্য বিদ্যমান। এসব পার্থক্য রোগ প্রতিরোধ, হৃদ্‌যন্ত্রের স্বাস্থ্য এবং বার্ধক্যজনিত পরিবর্তনের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

এক্স ক্রোমোজোমের ভূমিকা

নারীদের সাধারণত দুটি এক্স ক্রোমোজোম (XX) থাকে, যেখানে পুরুষদের একটি এক্স ও একটি ওয়াই ক্রোমোজোম (XY) থাকে। এক্স ক্রোমোজোমে থাকা কিছু গুরুত্বপূর্ণ জিনের একাধিক অনুলিপি নারীদের নির্দিষ্ট কিছু জিনগত সমস্যার বিরুদ্ধে বাড়তি সুরক্ষা দিতে পারে। নারীদের একটি এক্স ক্রোমোজোমে যদি কোনো জিনগত ত্রুটি থাকে, তবে অন্যটির সংশ্লিষ্ট জিন কিছু ক্ষেত্রে সেই ঘাটতির প্রভাব কমাতে পারে। পুরুষদের একমাত্র এক্স ক্রোমোজোম থাকার কারণে এক্স-লিঙ্কড কিছু বংশগত রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি হতে পারে।

তবে এর মানে এই নয় যে নারীরা সব ধরনের রোগের বিরুদ্ধে বেশি সুরক্ষিত। রোগভেদে নারী-পুরুষের ঝুঁকি আলাদা হতে পারে।

হরমোনের প্রভাব: ইস্ট্রোজেন ও টেস্টোস্টেরন

নারীদের প্রধান যৌন হরমোনগুলোর মধ্যে একটি হলো ইস্ট্রোজেন (Estrogen)। এটি প্রজননস্বাস্থ্যের পাশাপাশি হাড়, রক্তনালি ও শরীরের বিভিন্ন জৈবিক প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখে। প্রজননক্ষম বয়সে ইস্ট্রোজেনের কিছু প্রভাব নারীদের হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য সহায়ক হতে পারে।

অন্যদিকে, পুরুষদের প্রধান যৌন হরমোন টেস্টোস্টেরন (Testosterone), যা পেশি, হাড়, যৌনস্বাস্থ্য এবং বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত। হরমোনের প্রভাব নারী-পুরুষের শরীরে কিছু পার্থক্য তৈরি করলেও টেস্টোস্টেরন সরাসরি আগ্রাসী আচরণ বা হৃদরোগের কারণ—এমন সরল সিদ্ধান্ত দেওয়া যায় না।

নারীদের মেনোপজ বা ঋতুস্রাব স্থায়ীভাবে বন্ধ হওয়ার পর ইস্ট্রোজেনের মাত্রা কমে যায়। এর ফলে হৃদ্‌রোগসহ কিছু স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পরিবর্তন আসতে পারে। তবে নারী-পুরুষের আয়ুর পার্থক্য শুধু হরমোনের কারণে ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়।

২. জীবনযাপন ও আচরণগত কারণ: ঝুঁকি বেশি, বিপদও বেশি

জৈবিক পার্থক্যের পাশাপাশি দৈনন্দিন অভ্যাস এবং সামাজিক পরিবেশও পুরুষদের গড় আয়ু কম হওয়ার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা

অনেক সমাজে পুরুষদের সাহসী, শক্তিশালী ও ঝুঁকি নিতে সক্ষম হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করার চাপ থাকে। এর ফলে কিছু পুরুষ বিপজ্জনক আচরণে জড়িয়ে পড়তে পারেন।

সড়ক দুর্ঘটনা, দ্রুতগতিতে গাড়ি চালানো, মারামারি, সহিংসতা এবং ঝুঁকিপূর্ণ বিনোদনমূলক কর্মকাণ্ডে পুরুষদের মৃত্যুঝুঁকি অনেক ক্ষেত্রে বেশি দেখা যায়। এর পেছনে জৈবিক বৈশিষ্ট্যের পাশাপাশি সামাজিক প্রত্যাশা ও ব্যক্তিগত আচরণও ভূমিকা রাখে।

এসব কারণে অনেক পুরুষ কর্মজীবনের শুরুতেই দুর্ঘটনা বা সহিংসতার শিকার হন, যা সামগ্রিকভাবে পুরুষদের গড় আয়ু কমিয়ে দিতে পারে।

পেশাগত ঝুঁকি

বিশ্বের অনেক দেশে খনি, নির্মাণকাজ, ভারী শিল্পকারখানা, যুদ্ধক্ষেত্র ও অগ্নিনির্বাপণের মতো ঝুঁকিপূর্ণ পেশায় পুরুষদের অংশগ্রহণ বেশি।

এসব কাজে ভারী যন্ত্রপাতি, বিষাক্ত পদার্থ, অতিরিক্ত তাপ, ধুলাবালি, উচ্চতা থেকে পড়ে যাওয়া এবং প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে। কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তার ঘাটতি থাকলে এসব ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।

এ ছাড়া দীর্ঘদিন বিপজ্জনক পরিবেশে কাজ করার কারণে কিছু পেশায় শ্বাসতন্ত্রের রোগ, ক্যানসার কিংবা অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যসমস্যাও দেখা দিতে পারে। ফলে পেশাগত ঝুঁকি পুরুষদের অকালমৃত্যুর একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হয়ে উঠতে পারে।

অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস

অনেক দেশে নারীদের তুলনায় পুরুষদের মধ্যে ধূমপান, অতিরিক্ত মদ্যপান এবং কিছু অন্যান্য ক্ষতিকর অভ্যাসের প্রবণতা বেশি। তবে দেশ, বয়স ও সামাজিক পরিবেশভেদে এই চিত্রে পার্থক্য রয়েছে।

ধূমপান ফুসফুসের ক্যানসার, হৃদ্‌রোগ, স্ট্রোক এবং দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসতন্ত্রের রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। অতিরিক্ত মদ্যপান লিভারের ক্ষতি, লিভার সিরোসিস, কিছু ধরনের ক্যানসার এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। অন্যান্য মাদক গ্রহণও শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের ক্ষতি করতে পারে এবং অকালমৃত্যুর আশঙ্কা বাড়ায়।

দীর্ঘদিন এসব অভ্যাস বজায় থাকলে তা ব্যক্তির সুস্থ জীবনযাপনের সময় কমিয়ে দিতে পারে। তাই স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম এবং তামাক ও ক্ষতিকর মাদক থেকে দূরে থাকা দীর্ঘায়ুর জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

৩. স্বাস্থ্যসচেতনতা ও মানসিক চাপ: নীরবে বাড়ে বিপদ

শরীরের যত্ন নেওয়া, অসুস্থ হলে চিকিৎসা গ্রহণ করা এবং মানসিক সমস্যার কথা প্রকাশ করার অভ্যাসও দীর্ঘায়ুর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রেও অনেক সমাজে নারী-পুরুষের আচরণগত পার্থক্য দেখা যায়।

চিকিৎসকের কাছে যেতে অনীহা

কিছু পুরুষ অসুস্থতার লক্ষণ দেখা দিলেও তা সহজে স্বীকার করতে চান না। কেউ কাজের ব্যস্ততায় চিকিৎসা পিছিয়ে দেন, আবার কেউ মনে করেন সামান্য সমস্যা নিজে থেকেই সেরে যাবে।

ফলে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদ্‌রোগ কিংবা ক্যানসারের মতো রোগ সময়মতো শনাক্ত না হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা শুরু না করলে অনেক ক্ষেত্রে জটিলতা বাড়ে এবং চিকিৎসা কঠিন হয়ে পড়ে।

নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং চিকিৎসকের নির্দেশনা মেনে চলা অকালমৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে।

মানসিক চাপ চেপে রাখা

অনেক সমাজে পুরুষদের ছোটবেলা থেকেই শেখানো হয়, কাঁদা বা দুর্বলতা প্রকাশ করা উচিত নয়। নিজের কষ্ট গোপন রাখা কিংবা সব পরিস্থিতিতে শক্ত থাকার এই সামাজিক প্রত্যাশা কিছু পুরুষের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ ঘুমের সমস্যা, উদ্বেগ, বিষণ্ণতা এবং অস্বাস্থ্যকর অভ্যাসের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। মানসিক চাপ ও বিষণ্ণতা শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। এ ছাড়া অনেক দেশে পুরুষদের আত্মহত্যাজনিত মৃত্যুহার নারীদের তুলনায় বেশি দেখা যায়।

তবে মানসিক চাপ সরাসরি হার্ট অ্যাটাক বা আত্মহত্যার একমাত্র কারণ নয়। ব্যক্তির পরিস্থিতি, মানসিক স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ, সামাজিক সহায়তা এবং অন্যান্য ঝুঁকিও গুরুত্বপূর্ণ।

মানসিক কষ্ট হলে বিশ্বস্ত মানুষের সঙ্গে কথা বলা, প্রয়োজনে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা মানসিক স্বাস্থ্য পেশাজীবীর সহায়তা নেওয়া এবং নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে শেখা অত্যন্ত জরুরি।

তাহলে কি পুরুষদের আয়ু কম হওয়া অনিবার্য?

না। নারীদের তুলনায় পুরুষদের গড় আয়ু কম হলেও এর মানে এই নয় যে প্রত্যেক পুরুষ নারীদের আগে মারা যাবেন। গড় আয়ু হলো একটি জনসংখ্যাভিত্তিক পরিসংখ্যান; ব্যক্তির আয়ু নির্ভর করে তার স্বাস্থ্য, জীবনযাপন, পরিবেশ, জিনগত বৈশিষ্ট্য এবং চিকিৎসাসেবার সুযোগসহ নানা বিষয়ের ওপর।

পুরুষদের অকালমৃত্যুর অনেক ঝুঁকিই কমানো সম্ভব। ধূমপান ও ক্ষতিকর মাদক পরিহার, নিরাপদে গাড়ি চালানো, কর্মক্ষেত্রে সুরক্ষা নিশ্চিত করা, নিয়মিত শরীরচর্চা, স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ, পর্যাপ্ত ঘুম এবং সময়মতো চিকিৎসা নেওয়ার মতো পদক্ষেপ দীর্ঘ ও সুস্থ জীবনযাপনে সহায়তা করতে পারে।

একই সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্যকে গুরুত্ব দেওয়া এবং প্রয়োজনের সময় সাহায্য চাওয়াও জরুরি। নিজের সমস্যার কথা বলা দুর্বলতা নয়; বরং নিজের সুস্থতার দায়িত্ব নেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

পুরুষদের তুলনায় নারীদের গড় আয়ু বেশি হওয়ার পেছনে জৈবিক ও জিনগত বৈশিষ্ট্য, হরমোনের প্রভাব, জীবনযাপনের ধরন, পেশাগত ঝুঁকি এবং স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের অভ্যাস— সবকিছুরই ভূমিকা রয়েছে। কোনো একটি কারণ দিয়ে এই ব্যবধানের সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা দেওয়া যায় না।

প্রকৃতিগত কিছু সুবিধা নারীদের দীর্ঘায়ুতে সহায়তা করতে পারে। অন্যদিকে, ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ, অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস, চিকিৎসা নিতে দেরি করা এবং মানসিক কষ্ট চেপে রাখার প্রবণতা কিছু পুরুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াতে পারে।

সহজ কথায়, দীর্ঘায়ু শুধু প্রকৃতির দেওয়া উপহারের ওপর নির্ভর করে না; নিজের শরীর ও মনের যত্ন নেওয়ার অভ্যাসও এতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নারী-পুরুষ সবার জন্যই স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, সচেতনতা এবং সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণ সুস্থ ও দীর্ঘ জীবনের অন্যতম চাবিকাঠি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নভেম্বরে ইন্ডিয়া জোটের সমাবেশে ককরোচ পার্টির সমর্থন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৩৩ এম


নভেম্বরে ইন্ডিয়া জোটের সমাবেশে ককরোচ পার্টির সমর্থন

ভারতের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যে বিরোধী ইন্ডিয়া জোটের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। দলটি ১ নভেম্বর দিল্লির রামলীলা ময়দানে অনুষ্ঠিতব্য জোটের সমাবেশে তাদের সমর্থন প্রকাশ করে জানায়, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য নির্বাচন কমিশনের প্রতি জনগণের আস্থা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের অভিযোগ, এসআইআর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার জনগণের সেই আস্থা হারিয়েছেন।

ভোটার তালিকা সংশোধনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবিতে বিরোধী জোট এই সমাবেশের আয়োজন করছে। ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করে সমাবেশের প্রতি সমর্থন জানান। তিনি লেখেন, "ককরোচ জনতা পার্টি ১ নভেম্বরের ইন্ডিয়া জোটের সমাবেশে সমর্থন জানাচ্ছে। সবার আগে দেশ।"

দলটির বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হলো জনগণ তাদের সরকার নির্বাচন করবে; সরকার নিজের পছন্দমতো ভোটার বেছে নেবে না। এসআইআরের মাধ্যমে এই মৌলিক নীতি ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে দলটি অভিযোগ করেছে। তাদের মতে, এ কারণে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়েছে। নির্বাচন কমিশনের গ্রহণযোগ্যতা ও স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারের জন্য জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ প্রয়োজন বলেও দাবি করেছে তারা।

বিবৃতিতে ভারতের সংবিধান প্রণয়নে ড. বি আর আম্বেদকরের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেছে ককরোচ জনতা পার্টি। দলটির বক্তব্য, সংবিধান প্রণয়নের সময় আম্বেদকর নিশ্চিত করেছিলেন, জাতি, ধর্ম, লিঙ্গ, শিক্ষাগত যোগ্যতা কিংবা আর্থিক অবস্থা নির্বিশেষে প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের ভোটাধিকার সমান হবে।

দলটি আরো জানায়, ভারতের কোটি কোটি মানুষ যখন আগে কখনো নির্বাচনে অংশ নেননি, তখন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু, ড. আম্বেদকরসহ সংবিধান প্রণেতারা জনগণের ওপর আস্থা রেখেছিলেন। তারা বুঝেছিলেন, দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে প্রত্যেক নাগরিকের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলেই গণতন্ত্র সফল হতে পারে। গণতন্ত্রের পরিসর বাড়ানোই ছিল তাদের লক্ষ্য, কাউকে এর বাইরে রাখা নয়।

ককরোচ জনতা পার্টির অভিযোগ, এসআইআর কার্যক্রমের ফলে ভোটার তালিকা থেকে বৈধ ভোটারদের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। নাগরিকদের ভোটাধিকার প্রয়োগ সহজ করার পরিবর্তে এই প্রক্রিয়া তাদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

বিবৃতিতে দলটি উল্লেখ করে, প্রত্যেক যোগ্য নাগরিকের ভোটাধিকার সুরক্ষিত রাখাই নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব। সেই অধিকার প্রয়োগের পথে বাধা সৃষ্টি করা কমিশনের কাজ হতে পারে না।

সূত্র: মাকতুব মিডিয়া

এআরবি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সংস্কৃতিও যখন নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার: শি চিনপিংয়ের সাংস্কৃতিক তত্ত্বের প্রভাব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৩৪ এম


সংস্কৃতিও যখন নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার: শি চিনপিংয়ের সাংস্কৃতিক তত্ত্বের প্রভাব

চীনের কমিউনিস্ট পার্টি সংস্কৃতিকে রাজনীতি থেকে আলাদা করে দেখার কোনো প্রবণতা নেই। শি চিনপিংয়ের নতুন সাংস্কৃতিক তত্ত্বের উদ্দেশ্য হলো প্রচার, গণমাধ্যম, সাহিত্য, শিল্পকলা, ধর্ম এবং ইন্টারনেটের ওপর দলের নিয়ন্ত্রণকে আরো প্রাতিষ্ঠানিক করা। যদিও জাতীয় ঐক্যের কথা বলা হচ্ছে, তবুও স্বাধীন চিন্তা ও সৃজনশীলতার পরিসর সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

চীনের কমিউনিস্ট পার্টি সব সময় সংস্কৃতিকে রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে বিবেচনা করে এসেছে। এর একটি নতুন উদাহরণ গত ১২ অক্টোবর দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম পিপলস ডেইলি-তে প্রকাশিত একটি তাত্ত্বিক নিবন্ধে দেখা গেছে। এই নিবন্ধে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের সাংস্কৃতিক চিন্তাধারাকে দলের নিয়ন্ত্রণ জোরদারের একটি পূর্ণাঙ্গ কাঠামো হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্ক্সবাদ স্কুলের অধ্যাপক সান লাইবিনের লেখা নিবন্ধটিতে সদ্য প্রকাশিত *শি চিনপিং কালচারাল অ্যান্থলজি’র প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ডের উল্লেখ করা হয়েছে। এই সংকলনটিকে শুধু তাত্ত্বিক আলোচনা হিসেবে নয়, বরং প্রচার, মতাদর্শ এবং সংস্কৃতির ওপর কমিউনিস্ট পার্টির নিয়ন্ত্রণ শক্তিশালী করার একটি ব্যবহারিক নির্দেশিকা হিসেবেও চিহ্নিত করা হয়েছে।

নিবন্ধটির মূল বক্তব্য হলো, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে কমিউনিস্ট পার্টির রাজনৈতিক লক্ষ্য পূরণে সহায়ক হতে হবে। মতাদর্শিক সামঞ্জস্যকে জাতীয় স্থিতিশীলতা এবং চীনের পুনর্জাগরণের জন্য অপরিহার্য হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।

সান লাইবিনের ভাষায়, প্রচার ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে পার্টির ভবিষ্যৎ, দেশের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা এবং জাতীয় সংহতির প্রশ্ন জড়িত। সংকলনটির ৭৮টি লেখাকে শি চিনপিংয়ের তাত্ত্বিক কর্তৃত্ব এবং চীনের ‘সাংস্কৃতিক আত্মবিশ্বাসের’ প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। তবে এর আড়ালে রয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা—কোন চিন্তা তৈরি হবে, কীভাবে তা ছড়িয়ে পড়বে এবং কোন মতের সঙ্গে বিতর্ক করা যাবে, তার সীমা নির্ধারণের অধিকার পার্টির হাতে থাকবে।

সংস্কৃতির প্রতিটি ক্ষেত্রে দলীয় নেতৃত্বের বিষয়টি নতুন নয়। মতাদর্শের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার এই ধারণা চীনের কমিউনিস্ট পার্টির জন্য একটি পুরনো প্রথা। লেনিনবাদী ঐতিহ্য অনুসরণ করে দলটি রাজনৈতিক ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য মতাদর্শিক নিয়ন্ত্রণকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে আসছে। তবে শি চিনপিংয়ের আমলে এই নীতিকে আরো বিস্তৃত ও সুসংহত মতবাদে পরিণত করার চেষ্টা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

এই কাঠামোর আওতায় শুধু গণমাধ্যম নয়, সাহিত্য, শিল্পকলা, ধর্ম এবং ইন্টারনেটও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সান লাইবিন পার্টির নেতৃত্বকে ‘সামগ্রিক ও সর্বব্যাপী’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যা সংস্কৃতির প্রতিটি ক্ষেত্র ও কর্মকাণ্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে।

এই মতাদর্শের ভিত্তি মার্ক্সবাদী তত্ত্ব। এর একটি মূল ধারণা হলো, সমাজে প্রভাবশালী চিন্তা অনেকাংশে প্রভাবশালী বস্তুগত সম্পর্কের প্রতিফলন। চীনা কমিউনিস্ট পার্টির ব্যাখ্যায়, অর্থনীতি ও রাষ্ট্রের ওপর রাজনৈতিক নেতৃত্বের পাশাপাশি মানুষের চিন্তা ও জনমতের ওপরও নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন।

অর্থাৎ, শি চিনপিংয়ের সাংস্কৃতিক নীতির লক্ষ্য শুধুমাত্র সরকারি বক্তব্য প্রচার করা নয়; বরং কোন ধারণাকে গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচনা করা হবে এবং জাতীয় পরিচয়ের সংজ্ঞা কী হবে, তা নির্ধারণের চূড়ান্ত কর্তৃত্ব পার্টির হাতে রাখা।

গণমাধ্যম ও ইন্টারনেটে নিয়ন্ত্রণের দর্শন এই নীতির সবচেয়ে স্পষ্ট প্রকাশ। সান লাইবিনের নিবন্ধে ‘সঠিক জনমত পরিচালনা’কে পার্টি ও জনগণের স্বার্থের সহায়ক হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। বিপরীতে, ভুল জনমত পরিচালনাকে উভয়ের জন্য ক্ষতিকর বলা হয়েছে।

ইন্টারনেটের ক্ষেত্রেও সেটিকে ‘সঠিকভাবে পরিচালনা ও ব্যবহার’ করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। ‘নিয়ন্ত্রণ করতে পারাটাই আসল সত্য’—এই বক্তব্যের মাধ্যমে সরকারের নিয়ন্ত্রণমূলক দৃষ্টিভঙ্গি আরো স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

এখানে তথ্য নিয়ন্ত্রণকে কোনো সাময়িক সংকট মোকাবেলার ব্যবস্থা হিসেবে দেখা হচ্ছে না। বরং এটি রাজনৈতিক শাসনব্যবস্থার স্থায়ী উপকরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

নিবন্ধটিতে পার্টির শৃঙ্খলা ও জনগণের অংশগ্রহণের মধ্যে সামঞ্জস্যের কথাও বলা হয়েছে। ‘পার্টির বৈশিষ্ট্য’ ও ‘জনগণের বৈশিষ্ট্য’কে অভিন্ন এবং পরস্পরবিরোধী নয় বলে দাবি করা হয়েছে। এর অর্থ, পার্টির রাজনৈতিক লক্ষ্য এবং জনগণের স্বার্থ শেষ পর্যন্ত একই জায়গায় মিলিত হয়—এমন ধারণা প্রতিষ্ঠা করা।

তবে এ ব্যাখ্যায় নাগরিকদের বৈধ দাবি বা সাংস্কৃতিক পছন্দ সরকারি অগ্রাধিকারের সঙ্গে না-ও মিলতে পারে, এমন সম্ভাবনার জন্য খুব কম জায়গা রয়েছে।

জাতীয় নিরাপত্তা, ঐক্য ও সৃজনশীলতার প্রশ্ন চীনের এই মতাদর্শিক নিয়ন্ত্রণ জোরদারের পেছনে কৌশলগত বিবেচনা রয়েছে। ডিজিটাল প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তন, বিদেশি সমালোচনা এবং ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা বাড়তে থাকায় বেইজিং অভ্যন্তরীণ জনমত ও বয়ানের ওপর নিয়ন্ত্রণকে জাতীয় স্থিতিস্থাপকতার অংশ হিসেবে দেখছে।

এই দৃষ্টিভঙ্গিতে সাংস্কৃতিক আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে রাজনৈতিক আনুগত্যকে যুক্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে, মতাদর্শিক ভিন্নমতকে সামাজিক সংহতির জন্য হুমকি হিসেবে উপস্থাপন করার সুযোগও তৈরি হয়।

তবে এই ব্যবস্থার মধ্যে একটি মৌলিক দ্বন্দ্ব রয়েছে। একদিকে ঐক্য ও আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে চিন্তার স্বাধীনতা এবং সৃজনশীল পরীক্ষানিরীক্ষার ক্ষেত্র সীমিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করা হলেও তার জন্য রাজনৈতিকভাবে নির্ধারিত সীমারেখা রয়েছে। সমালোচনার সুযোগ থাকলেও কোন বিতর্ক গ্রহণযোগ্য আর কোনটি মতাদর্শিক বিশৃঙ্খলা—সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কর্তৃত্ব পার্টির হাতেই থাকছে।

সব মিলিয়ে, শি চিনপিং কালচারাল অ্যান্থলজি শুধুমাত্র তাঁর বক্তব্যের সংকলন নয়; বরং মতাদর্শিক নেতৃত্বকে দীর্ঘস্থায়ী শাসনব্যবস্থার অংশে পরিণত করার একটি প্রচেষ্টা। বেইজিংয়ের দৃষ্টিতে সাংস্কৃতিক ঐক্য জাতীয় শক্তির উৎস। তবে প্রশ্ন থেকে যায়, প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত ঐক্য কি সত্যিকার আত্মবিশ্বাস ও সৃজনশীলতা তৈরি করতে পারবে, নাকি মতাদর্শিক আনুগত্যের দাবি শেষ পর্যন্ত চীনের সংস্কৃতির বিকাশের পরিসরকেই সংকুচিত করবে?

সূত্র: ডেইলি মিরর, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%