বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১২:৫৭ এম
‘বাবুই শিশুসাহিত্য উৎসব ২০২৬’ জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার ২৪ অক্টোবর রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু একাডেমি প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী এই উৎসবের কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত তিন শতাধিক শিশুসাহিত্যিক, লেখক, কবি ও শিশুদের কলকাকলিতে মুখর হয়ে ওঠে একাডেমি প্রাঙ্গণ, যা সাহিত্যপ্রেমীদের জন্য এক মিলনমেলায় পরিণত হয়।
জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই উৎসবের উদ্বোধন করেন একুশে পদক ও বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত বিশিষ্ট ছড়াকার আবু সালেহ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ভাষাবিজ্ঞানী, গবেষক ও বাংলা একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক মনসুর মুসা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত শিশুসাহিত্যিক ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ। সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন অরুণ কুমার বিশ্বাস। বিশিষ্ট ছড়াকার জুলফিকার শাহাদাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য প্রদান করেন উৎসব উদযাপন কমিটির সদস্য-সচিব কাদের বাবু।
উদ্বোধকের বক্তব্যে ছড়াকার আবু সালেহ বলেন, ‘শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য যেমন উন্মুক্ত মাঠ প্রয়োজন, তেমনি তাদের সুস্থ মনন গঠনে শৈশব থেকেই সাহিত্যের আস্বাদন অপরিহার্য।’
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক মনসুর মুসা শিশুদের উপযোগী মানসম্মত ভাষা প্রয়োগ এবং বর্তমান ডিজিটাল যুগে শিশুসাহিত্যের প্রাসঙ্গিকতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বিশেষ অতিথি হাসান হাফিজ বলেন, ‘সাহিত্যের আলো ছাড়া মানবিক প্রজন্ম গড়ে তোলা সম্ভব নয়; তাই সংবাদপত্র ও প্রকাশনা সংস্থাগুলোকে শিশুসাহিত্য চর্চায় আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।’ অন্যদিকে শিশুদের মধ্যে দেশপ্রেম জাগ্রত করার প্রতি গুরুত্ব দেন অরুণ কুমার বিশ্বাস।
অনুষ্ঠানের যুগ্ম-আহ্বায়ক খালেদুর রহমান জুয়েল ও বাচিকশিল্পী শাহারিয়া সিদ্দিকী সূচনার সঞ্চালনায় ‘বাংলাদেশের শিশুসাহিত্য: সংকট ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কবি ও শিশুসাহিত্যিক ইমরুল ইউসুফ।
দিনব্যাপী এই আয়োজনে শিশুদের জন্য ছবি আঁকা এবং গল্প ও ছড়া লেখার সৃজনশীল প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। মধ্যাহ্নবিরতির আগে দেশবরেণ্য ও তরুণ লেখকদের অংশগ্রহণে শিশুতোষ ছড়া ও কবিতা পাঠের আসর বসে। এছাড়া ছিল শিশুসাহিত্যিক খায়রুননেসা রিমির মনোমুগ্ধকর জাদু প্রদর্শনী।
উৎসবের সমাপনী পর্বে সৃজনশীল অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ২৪ জন লেখক ও সাহিত্যিকের হাতে তুলে দেওয়া হয় ‘বাবুই সেরা লেখক সম্মাননা ২০২৬’।
সম্মাননাপ্রাপ্ত ২৪ জন লেখক হলেন—জগলুল হায়দার, প্রিন্স আশরাফ, বিশ্বজিৎ দাস, রেজাউল করিম খোকন, রণজিৎ সরকার, খায়রুল বাবুই, আশিক মুস্তাফা, সফুরা খাতুন, আবুল কালাম আজাদ, আশরাফুজ্জামান বাবু, এনামূল হক পলাশ, কাজী তাহমিনা, তরুন ইউসুফ, সৈয়দা আঁখি হক, দীপ্তি সরকার, ফজলুল পলাশ, মুনীরুল ইসলাম, মিনহাজ ফয়সল, মোকাদ্দেস-এ-রাব্বী, রকিবুল ইসলাম, অপু বড়ুয়া, আপন অপু, শাম্মী তুলতুল, সাফওয়ান সামি দৃক।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ : পরিবারের প্রধান গৃহবন্দি অবস্থায় রয়েছেন, স্ত্রী সিনেটর, দুই ছেলে কংগ্রেস সদস্য এবং তৃতীয় ছেলে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হেরে বুধবার থেকে যুক্তরাষ্ট্রে স্বেচ্ছানির্বাসন শুরু করেছেন। ব্রাজিলের বলসোনারো পরিবার বর্তমানে ক্ষমতার লড়াই, পারিবারিক দ্বন্দ্ব ও রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার কারণে এমন এক পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছে, যা দেশটির জনপ্রিয় টেলিভিশন ধারাবাহিকের নাটকীয় ঘটনাপ্রবাহকেও হার মানায়।
সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারো ২০২২ সালের নির্বাচনে লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার কাছে পরাজিত হয়ে ক্ষমতা ধরে রাখতে ব্যর্থ হন এবং অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্রের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন। অনেকেই ধারণা করেছিলেন, এই ঘটনার ফলে ব্রাজিলে বলসোনারো-সমর্থিত রাজনৈতিক ধারার অবসান ঘটবে।
কিন্তু পরিবারের রাজনৈতিক ভাগ্য আবারও পরিবর্তিত হয়। জাইরের ছেলে ফ্লাভিও বলসোনারো একসময় ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট হওয়ার সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হন। পরিবারের আরও চার সদস্য কংগ্রেসে নির্বাচিত হন।
তবে শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয় দফার ভোটে লুলা দা সিলভার কাছে পরাজিত হন ফ্লাভিও। পরবর্তীতে দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগের কারণে তিনি ব্রাজিল ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে স্বেচ্ছানির্বাসনে চলে যান।
পরিবারের প্রধান ও অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে জাইর বলসোনারো বর্তমানে গৃহবন্দি রয়েছেন। ৭১ বছর বয়সী এই রাজনীতিবিদ আক্রমণাত্মক রাজনৈতিক বক্তব্য এবং ‘ঈশ্বর, মাতৃভূমি ও পরিবার’ এই আদর্শের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার কারণে রক্ষণশীলদের মধ্যে ব্যাপক সমর্থন লাভ করেছেন। তবে সমকামীদের নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য এবং নারীদের হেয় করার বক্তব্যের জন্যও তিনি সমালোচিত হয়েছেন।
সাবেক সেনা কর্মকর্তা জাইর ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে লুলাকে ক্ষমতা গ্রহণে বাধা দেওয়ার ষড়যন্ত্রের দায়ে ২৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। বর্তমানে তিনি গৃহবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। ফ্লাভিও নির্বাচনে জয়ী হলে বাবাকে মুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে নির্বাচনে পরাজয়ের পর জাইরের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
ফ্লাভিও : ‘মধ্যপন্থী’ ভাবমূর্তি থেকে নির্বাসনে
জাইরের পাঁচ সন্তানের মধ্যে বড় ফ্লাভিওর বয়স ৪৫ বছর। বাবার রক্ষণশীল সমর্থকদের পাশাপাশি রাজনৈতিক মতাদর্শে কম কঠোর ভোটারদেরও আকৃষ্ট করতে তিনি নিজেকে বাবার তুলনায় অপেক্ষাকৃত মধ্যপন্থী হিসেবে তুলে ধরেন। প্রথম দফার ভোটে জয়ী হওয়ার পর দ্বিতীয় দফার আগে তাঁকে সম্ভাব্য বিজয়ী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভার কাছে বড় ব্যবধানে পরাজিত হন তিনি।
বাবাকে নিয়ে নির্মিত ‘ডার্ক হর্স’ নামের একটি জীবনীভিত্তিক চলচ্চিত্রের অর্থায়ন-সংশ্লিষ্ট দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগসহ একাধিক ঘটনায় ফ্লাভিওর বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। বিতর্কিত ব্যাংকার ড্যানিয়েল ভোরকারো চলচ্চিত্রটির অর্থায়ন করেছিলেন।
ভোরকারোর সঙ্গে যোগাযোগ থাকার কথা প্রথমে অস্বীকার করেছিলেন ফ্লাভিও। তবে ব্যাংকারকে বকেয়া অর্থ পরিশোধের জন্য অনুরোধ করে তাঁর দেওয়া অডিও ফাঁস হওয়ার পর তিনি আগের অবস্থান থেকে সরে আসতে বাধ্য হন। ব্রাজিলের কর্তৃপক্ষ তার পাসপোর্ট চেয়েছিল। তবে তাঁদের এড়িয়ে বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় পৌঁছান ফ্লাভিও।
মিশেল : সৎমা থেকে সিনেটর
৪৪ বছর বয়সী মিশেল বলসোনারো জাইর বলসোনারোর স্ত্রী। তাঁর সৎছেলেদের তিনজনের বয়সও তার কাছাকাছি। ধর্মপ্রাণ ইভানজেলিক্যাল খ্রিষ্টান ও স্বামীর প্রতি নিবেদিত মিশেল নিজস্ব রাজনৈতিক অবস্থান তৈরি করেছেন। তিনি রাজধানী ব্রাসিলিয়ার প্রতিনিধিত্বকারী সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন।
দারিদ্র্যের মধ্যে মাদক পাচারকারীদের পরিবেশে বেড়ে ওঠা মিশেল কংগ্রেসে একটি চাকরির সুযোগ পাওয়ার পর জাইরের সঙ্গে পরিচিত হন। নির্বাচনী প্রচারণার সময় ফ্লাভিওর সঙ্গে তাঁর প্রকাশ্য বিরোধ দেখা দেয়। মিশেল তার বিরুদ্ধে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ আনেন।
ফেব্রুয়ারিতে জাইরের আরেক ছেলে এদুয়ার্দো বলসোনারো ফ্লাভিওর প্রচারণায় যথেষ্ট সমর্থন না দেওয়ার জন্য মিশেলের সমালোচনা করেন। এর জবাবে মিশেল স্বামীর জন্য ভাজা কলা তৈরির একটি ছবি প্রকাশ করেন। এটিকে এদুয়ার্দের প্রতি কটাক্ষ হিসেবে দেখা হয়। তাঁকে বিদ্রূপ করে ‘ছোট কলা’ নামে ডাকা হয়।
এরপর এদুয়ার্দো এক সমর্থকের পোস্ট শেয়ার করেন, যেখানে বলা হয়েছিল, তিনি ও ফ্লাভিও যখন ‘দেশকে উদ্ধার’ করার কাজে ব্যস্ত, তখন মিশেলের ভাজা কলা তৈরি করাই উচিত।
এদুয়ার্দো : অস্ত্র ও ট্রাম্পের সঙ্গে যোগাযোগ
৪২ বছর বয়সী এদুয়ার্দো ২০২৫ সালের মার্চে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। সেখানে তিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং ব্রাসিলিয়ার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের চাপ বাড়ানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে রক্ষণশীল রাজনৈতিক সম্মেলনগুলোতে বক্তব্য দেন।
দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকায় আইনপ্রণেতা হিসেবে তাঁর আসন হারান তিনি। ব্রাজিলের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক আরোপের পক্ষে তদবির করার দায়ে জুনে অনুপস্থিতিতেই তাকে চার বছর দুই মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
জাইর বলসোনারোর ছেলেদের মধ্যে এদুয়ার্দোকে সবচেয়ে কট্টরপন্থী হিসেবে দেখা হয়। ব্রাজিলে অস্ত্র আইন শিথিল করার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে তিনি নিজের কেনা রাইফেল ও আগ্নেয়াস্ত্রের ভিডিও প্রকাশ করেছেন।
পরিবারের ‘পিটবুল’ ও অন্য সদস্যরা
জাইর তার দ্বিতীয় ছেলে ৪৩ বছর বয়সী কার্লোসকে পরিবারের ‘পিটবুল’ বলে ডাকেন। বাবার উদ্যোগেই ১৭ বছর বয়সে রাজনীতিতে কার্লোসের প্রবেশ ঘটে। মা রোজেরিয়ার বিরুদ্ধে রিও ডি জেনেইরো নগর পরিষদের নির্বাচনে তাঁকে দাঁড় করান জাইর। এর এক বছর আগে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছিল।
কার্লোস ওই নির্বাচনে জয়ী হন। পরে তিনি ঘটনাটিকে ‘মানসিকভাবে আঘাতকর’ বলে বর্ণনা করেন। পরবর্তী সময়ে বাবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমবিষয়ক কৌশল নির্ধারণের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
এ বছর দক্ষিণাঞ্চলীয় সান্তা কাতারিনা রাজ্য থেকে সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন কার্লোস। তার ছোট ভাই ২৮ বছর বয়সী জাইর রেনানও একই রাজ্য থেকে আইনপ্রণেতা নির্বাচিত হয়েছেন।
জাইর বলসোনারোর ৬২ বছর বয়সী ভাই রেনাতো বলসোনারো অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা। তিনিও সাও পাওলো রাজ্য থেকে ডেপুটি নির্বাচিত হয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালেবান সরকারের দাবি, আফগানিস্তানে ঐতিহ্যবাহী ও কৃত্রিম—দুই ধরনের মাদক পাচার হচ্ছে সীমান্ত পেরিয়ে। পাকিস্তানকে মাদক পাচার বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে তারা।
তালেবান সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আফগানিস্তানে প্রবেশ করা অধিকাংশ মাদক পাকিস্তান থেকে পাচার হয়ে আসে। এ ধরনের পাচার প্রতিরোধে পাকিস্তানকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আবদুল মতিন কানি সংবাদমাধ্যমকে জানান, পাকিস্তান সীমান্ত দিয়ে আফগানিস্তানে ঐতিহ্যবাহী ও কৃত্রিম—উভয় ধরনের মাদক প্রবেশ করছে। তিনি দাবি করেন, মাদক পাচার প্রতিরোধে তালেবান বাহিনী তাদের কার্যক্রম জোরদার করেছে।
কানি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান, যেন তারা পাকিস্তানের ওপর চাপ সৃষ্টি করে, যাতে দেশটি আফগানিস্তানসহ এশিয়ার অন্যান্য দেশে মাদক পাচার বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
তালেবান মুখপাত্রের দাবি, আফগানিস্তানে মাদক উৎপাদনের জন্য পোস্ত চাষ প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। মাদকবিরোধী লড়াইয়ে তালেবান প্রশাসন নিজেদের দায়িত্ব পালন করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বেলুচিস্তানে পোস্ত চাষ বাড়ার খবর
তালেবানের এসব বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে পোস্ত চাষ বৃদ্ধির খবর পাওয়া যাচ্ছে।
প্রতিবেদনগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে, আফগানিস্তানে তালেবানের পোস্ত চাষ নিষিদ্ধ করার পর বেলুচিস্তানের কয়েকটি এলাকা পোস্ত চাষের সম্প্রসারিত কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
তবে তালেবান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের সর্বশেষ বক্তব্যের বিষয়ে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
আফগানিস্তানে আফিম উৎপাদন কমেছে ৯৫ শতাংশ।
জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দপ্তরের (ইউএনওডিসি) ২০২৬ সালের জুলাইয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২ সাল পর্যন্ত বিশ্বের অবৈধ আফিমের প্রায় ৮০ শতাংশ উৎপাদন করত আফগানিস্তান। তবে তালেবান সরকার পোস্ত চাষ নিষিদ্ধ করার পর দেশটিতে আফিম উৎপাদন ৯৫ শতাংশ কমে গেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আফগানিস্তানে পোস্ত চাষের জমির পরিমাণ ২০২২ সালের প্রায় ২ লাখ ৩২ হাজার হেক্টর থেকে কমে ২০২৫ সালে ১০ হাজার ২০০ হেক্টরে দাঁড়ায়।
একই সময়ে আফিমের উৎপাদন ৬ হাজার ২০০ টন থেকে কমে প্রায় ২৯৬ টনে নেমে আসে।
তবে জাতিসংঘ জানিয়েছে, আফগানিস্তানে মজুত থাকা আফিমের মজুত ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে।
সূত্র: আফগানিস্তান
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বায়ুদূষণের কারণে পাকিস্তানের মানুষের গড় আয়ু আনুমানিক ৩ দশমিক ৯ বছর কমছে। প্রতিবছর দেশটিতে দূষিত বায়ুর প্রভাবে প্রায় ১ লাখ ২৮ হাজার মানুষের অকালমৃত্যু ঘটে। এই তথ্যটি পাকিস্তান এয়ার কোয়ালিটি ইনিশিয়েটিভের (পিএকিউআই) একটি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনটি উল্লেখ করেছে যে, বায়ুদূষণের কারণে পাকিস্তানের অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৬ দশমিক ৫ শতাংশের সমান। দীর্ঘ সময় ধরে দূষিত বায়ুর সংস্পর্শে থাকলে লাহোরের বাসিন্দাদের গড় আয়ু সাত বছর পর্যন্ত কমে যেতে পারে।
‘আনভেইলিং পাকিস্তানস এয়ার পলিউশন : আ ন্যাশনাল ল্যান্ডস্কেপ রিপোর্ট অন হেলথ রিস্কস, সোর্সেস অ্যান্ড সলিউশনস’ শীর্ষক প্রতিবেদনে দেশের বায়ুদূষণের উৎস, স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং সম্ভাব্য সমাধান তুলে ধরা হয়েছে। এই প্রতিবেদনে প্রথমবারের মতো বিভিন্ন খাতের দূষণকারী পদার্থের নির্গমন সংক্রান্ত সমন্বিত জাতীয় হিসাবের পাশাপাশি একাধিক শহরের বায়ুমান বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
লাহোর, করাচি, ইসলামাবাদ-রাওয়ালপিন্ডি ও পেশোয়ারের বায়ুদূষণ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। এসব শহরে দূষণের প্রধান উৎস চিহ্নিত করার পাশাপাশি নির্গমন ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমানোর সম্ভাব্য পদক্ষেপের কথাও বলা হয়েছে।
প্রতিবেদন তৈরির সঙ্গে যুক্ত পিএকিউআইয়ের প্রতিষ্ঠাতা জানিয়েছেন, মাটিতে স্থাপিত পর্যবেক্ষণকেন্দ্রের বায়ুমানের তথ্য, স্যাটেলাইটের উপাত্ত এবং স্থানীয় কর্মকাণ্ডের বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে এই মূল্যায়ন করা হয়েছে। এই বিশ্লেষণে জ্বালানি ব্যবহার, যানবাহনের ধরন, শিল্পকারখানার তথ্য এবং বিভিন্ন খাত থেকে নির্গত দূষণকারী পদার্থের হিসাব অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বিশ্লেষণে সূক্ষ্ম বস্তুকণা পিএম২.৫, কার্বন মনোক্সাইড, নাইট্রোজেন অক্সাইড ও সালফার ডাই-অক্সাইডের নির্গমন বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
লাহোরে দূষণের মাত্রা উদ্বেগজনক
প্রতিবেদন অনুযায়ী, লাহোরে বছরে পিএম২.৫-এর গড় ঘনত্ব প্রতি ঘনমিটারে ১১০ মাইক্রোগ্রামের বেশি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) বার্ষিক নির্দেশক মাত্রা প্রতি ঘনমিটারে ৫ মাইক্রোগ্রাম। অর্থাৎ, লাহোরের বাতাসে এই দূষণকারী কণার মাত্রা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশক সীমার ২২ গুণেরও বেশি।
এমন দূষিত বায়ুর সংস্পর্শে দীর্ঘদিন থাকলে লাহোরের মানুষের গড় আয়ু সাত বছর পর্যন্ত কমতে পারে বলে প্রতিবেদনে অনুমান করা হয়েছে।
শীতকালে তাপমাত্রার উল্টাবিন্যাসের কারণে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। এ সময় বায়ুমণ্ডলে দূষিত কণার ওপরের দিকে ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ কমে যায়। ফলে দূষিত বায়ু ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি জমা থাকে।
লাহোরে পিএম২.৫ নির্গমনের সবচেয়ে বড় উৎস পরিবহন খাত। মোট নির্গমনের ৩৫ শতাংশ আসে এ খাত থেকে। এরপর রয়েছে শিল্পকারখানা, যেখান থেকে আসে ২৮ শতাংশ, এবং ইটভাটা, যার অবদান ১৭ শতাংশ। শীতকালীন আবহাওয়া এসব উৎসের দূষণজনিত প্রভাব আরও বাড়িয়ে দেয়।
করাচিতে শিল্পকারখানা প্রধান উৎস
করাচিতে বায়ুদূষণের চিত্র কিছুটা ভিন্ন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, শহরটির মোট দূষণকারী পদার্থের নির্গমনের ৪৯ শতাংশের জন্য দায়ী শিল্পকারখানা।
পাকিস্তানের বিভিন্ন বড় শহরে দূষণের উৎস আলাদা হলেও এর স্বাস্থ্যগত ও অর্থনৈতিক প্রভাব ব্যাপক। প্রতিবেদনটিতে দূষণ কমাতে খাতভিত্তিক পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সূত্র: এক্সপ্রেস ট্রিবিউন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাদারীপুরে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে তানভীর হাওলাদার (২৫) নামে এক ইতালি প্রবাসী মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের মাদারীপুর সদর উপজেলার মস্তফাপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত তানভীর হাওলাদার সদর উপজেলার ঘটমাঝি ইউনিয়নের ঝিকরহাটি গ্রামের দেলোয়ার হাওলাদারের ছেলে। বিয়ের মাত্র ১৫ দিন পর তাঁর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে মস্তফাপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে মোটরসাইকেল চালিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন তানভীর। পথে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে একটি ট্রাকের সঙ্গে তাঁর মোটরসাইকেলের ধাক্কা লাগে। এতে তিনি মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে সড়কে পড়ে যান। এ সময় ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
এদিকে, মাত্র ১৫ দিন আগে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন তানভীর। নতুন জীবনের স্বপ্ন নিয়ে শুরু করা সংসার তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে মুহূর্তেই বিষাদে পরিণত হয়েছে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে এলাকার পরিবেশ।
মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় এক প্রবাসীর মৃত্যুর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ