নীলফামারী প্রতিনিধি: রায়হান আলী
০৮:৩২ পি.এম
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য, জেলা আমীর ও নীলফামারী-১ (ডোমার-ডিমলা) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সাত্তার বলেছেন, “২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর রাজধানীর পল্টনে প্রকাশ্য দিবালোকে লগি-বৈঠার তাণ্ডব চালিয়ে মানুষ হত্যার মাধ্যমে শেখ হাসিনা এ দেশে রক্তক্ষয়ী ও হিংসাত্মক হত্যার রাজনীতি কায়েম করেছিল।”
তিনি আরও বলেন, “শেখ হাসিনা কেবল জামায়াতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দকেই অন্যায়ভাবে হত্যা করেনি, বরং ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে পিলখানায় সেনা কর্মকর্তাদের নৃশংস হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে এবং শাপলা চত্বরে গভীর রাতে শত শত ধর্মপ্রাণ নিরীহ আলেম-ওলামা ও সাধারণ মানুষকে হত্যা করেছে।”
ঐতিহাসিক ‘পল্টন ট্রাজেডি দিবস’ উপলক্ষে নীলফামারী জেলা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে আজ বুধবার বিকেলে জেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বক্তব্যে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের লগি-বৈঠার নারকীয় হত্যাযজ্ঞসহ বাংলাদেশে সংঘটিত অতীতের সকল রাজনৈতিক ও মানবতাবিরোধী হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ বিচার করতে হবে। অন্যায়কারীদের বিচারে শিথিলতা প্রদর্শন করা হলে সচেতন জনগণ তা মেনে নেবে না।”
শহর জামায়াতের সহকারি সেক্রেটারী অ্যাডভোকেট মামুনুর রশীদ পাটোয়ারীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ প্রতিবাদ ও আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন নীলফামারী-২ (সদর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আলফারুক আব্দুল লতীফ।
এছাড়াও সভায় বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারী মাওলানা আন্তাজুল ইসলাম, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুজ্জামান মন্টু, প্রভাষক ছাদের হোসেন, সদর উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আবু হানিফা শাহ, শহর জামায়াতের আমীর অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির নীলফামারী শহর শাখার সভাপতি সেলিম উদ্দীনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
আলোচনা সভা শেষে ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের হামলায় নিহতদের রুহের মাগফিরাত ও আহতদের সুস্থতা কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়। দোয়া শেষে শহীদ মিনার চত্বর থেকে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেফতার তিনজনকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার উদ্দেশ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।
তাদের মধ্যে সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক (৭০), সাবেক তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক (৪৬) এবং সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন (৬২) অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) বেলা ৩টার সময় অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) একটি দল তাদের ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসে। সেখানে প্রয়োজনীয় মেডিকেল চেকআপ ও প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করার পর, পুলিশি পাহারায় সোয়া ৩টার দিকে তাদের হাসপাতাল থেকে আবার নিয়ে যাওয়া হয়।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের পরিদর্শক রিদুয়ানুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত গ্রেফতার তিন আসামিকে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনা হয়েছিল। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর তাদের আবার নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ ক্রিকেটের গ্রুপ ‘বি’তে ফারইস্ট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (এফআইইউ) বিরুদ্ধে বড় ব্যবধানে জয়লাভ করেছে সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটি (এসইউ)। টানা দুই জয় নিয়ে ছয় পয়েন্ট অর্জন করেছে এসইউ, এফআইইউকে তারা ৭ উইকেটে পরাজিত করেছে।
বুধবার এবিজি স্পোর্টস সিটির আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে সোনারগাঁওয়ের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের কারণে মামুলি সংগ্রহ দাঁড় করাতে সক্ষম হয় ফারইস্ট।
নির্ধারিত ২০ ওভারে তাদের সবকটি উইকেট হারিয়ে সংগ্রহ হয় ১২৩ রান। জবাবে ব্যাট করতে নেমে সোনারগাঁওয়ের শুরুটা ভালো হয়নি। মাত্র ৩৮ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে তারা কিছুটা চাপে পড়ে যায়।
তবে সেই চাপ কাটিয়ে ওঠার জন্য চতুর্থ উইকেটে আলাউদ্দিন মোনা ও তানভীর হোসেন অবিচ্ছিন্ন ৮৬ রানের জুটি গড়ে দলকে জয় এনে দেন। ৪৫ বলে ৫টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৫৯ রানে অপরাজিত থাকেন মোনা। তার সঙ্গে ২৮ বলে অপরাজিত ২১ রান করেন তানভীর। দুজনের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ১৬.৩ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ১২৪ রান তুলে জয় নিশ্চিত করে সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটি। হাতে ছিল ২১ বল।
ফারইস্টের হয়ে তালহা জুবায়ের ২টি এবং আশিকুর রহমান ১টি উইকেট লাভ করেন। এবি জীবনের দুর্দান্ত বোলিং ও আলাউদ্দিন মোনার অপরাজিত ফিফটিতে এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপের বি গ্রুপে টানা দুই জয় তুলে নেয় সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটি। ৪ ওভারে একটি মেডেনসহ মাত্র ১৩ রান দিয়ে ৪ উইকেট তুলে নেন জীবন। ম্যাচ সেরা পুরস্কার জিতে নেন এবি জীবন।
ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচারিত হচ্ছে দেশের একমাত্র ক্রীড়াভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল টি স্পোর্টসের মাধ্যমে।
দেশের বৃহত্তম শিল্পগোষ্ঠী আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপের (এবিজি) উদ্যোগ ও পৃষ্ঠপোষকতায় গত ২৫ অক্টোবর শুরু হয়েছে ‘এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ-২০২৬’।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নাটোর-৪ (বড়াইগ্রাম-গুরুদাসপুর) আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের তিনটি আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে গেছে।
বুধবার সকাল থেকে ভিডিওগুলো ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় এমপিকে নিয়ে তীব্র সমালোচনা ও জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়।
একদিকে ছাত্রদল নেতা হত্যা মামলায় এমপির পুত্র গ্রেফতার হয়েছে, অন্যদিকে এমপির অশ্লীল ভিডিও— সব মিলিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, এমপি আব্দুল আজিজ খাটের উপর লুঙ্গি পরে খালি গায়ে শুয়ে আছেন। আর এক নারী কণ্ঠে বিভিন্ন আপত্তিকর কথাবার্তায় তাকে সঙ্গ দিচ্ছেন।
নিজের ভিডিও ভাইরাল হওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজ বলেন, ‘এগুলো সম্পূর্ণ বানোয়াট। আমার রাজনৈতিক একটি পক্ষ উঠেপড়ে লেগেছে। এখন ইন্টারনেটের যুগ। এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভিডিও তৈরি করা যেতে পারে। প্রতিপক্ষ আমার সুনাম-সুখ্যাতি বিনষ্ট করার জন্য এগুলো করছে।’
এদিকে বুধবার সকালে ফেসবুকে এমপির অশ্লীল ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর দুই উপজেলার বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীসহ এলাকার নানা শ্রেণির মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
দলের বিভিন্ন পদধারী নেতাকর্মীরা ফেসবুকে এমপিকে দল ও সংসদ থেকে বহিষ্কার করার পাশাপাশি পদত্যাগের দাবি জানান।
এছাড়া একাধিক নেতাকর্মী এ ঘটনার প্রতিবাদে দল থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
বড়াইগ্রামের বনপাড়া বাইপাসসহ একাধিক জায়গায় দলের নেতাকর্মীদের আব্দুল আজিজকে শুভেচ্ছা জানিয়ে লাগানো তার ছবি সংবলিত বিলবোর্ড ভাঙচুর করতে দেখা যায়।
সংসদ সদস্যের আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল হওয়ার প্রসঙ্গে নাটোর জেলা সনাকের সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘একজন সংসদ সদস্য দেশের আইন প্রণেতা। তিনি যদি এমন অপকর্ম করেন, তাহলে আমাদের সমাজের কী হবে। একজন সংসদ সদস্যের এমন নৈতিক স্খলন কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। প্রধানমন্ত্রী এগুলো যেন টলারেট না করেন, সেজন্য আমি আহ্বান জানাব।’
এ বিষয়ে নাটোর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, ‘দলের কোনো সদস্যের নৈতিক স্খলন হলে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চলতি মাসের আহ্বায়ক কমিটির সভায় সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের ঘটনা নিয়ে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ দলের ঊর্ধ্বে নন।’
এমপিপুত্র রিমান্ডে ও বহিষ্কার, ওসি প্রত্যাহার
গুরুদাসপুরে সন্ত্রাসী হামলায় ছাত্রদল নেতা শাকিল ইসলামের (৩২) মৃত্যুর ঘটনায় যুবদল নেতা ও এমপিপুত্র নুরুজ্জামান মিন্টুকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়ার পরপরই দায়িত্ব অবহেলার কারণে থানার ওসিকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। পাশাপাশি মিন্টুকে উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক পদ থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করেছে দল।
গত ১৪ অক্টোবর রাত ৯টার দিকে গুরুদাসপুর পৌর শহরের চাঁচকৈড় বাজারপাড়া এলাকায় হেলমেট পরা কয়েকজনের সশস্ত্র হামলার শিকার হন শাকিল। ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১২ দিন পর সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় শাকিলের বাবা রবিউল মিস্ত্রি হত্যাচেষ্টা মামলা করলে সোমবার রাতে মিন্টুকে আটক করে পুলিশ।
ছাত্রদল সূত্রে জানা যায়, এমপি আজিজের দুই ছেলের পৃথক সমর্থক গোষ্ঠী আছে। নিহত শাকিল এমপির ছোট ছেলে মাহমুদুজ্জামান সোহাগের অনুসারী। অন্যদিকে মিন্টু উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং ছোট ভাই সোহাগ উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক। দুই ভাইয়ের সমর্থক গোষ্ঠীর দ্বন্দ্বের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে তাদের ধারণা।
কেন্দ্রীয় যুবদলের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সহযোদ্ধার প্রাণহানির মতো গুরুতর কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে নুরুজ্জামান মিন্টুকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
এদিকে গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হান্নানকে জনস্বার্থে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত করে অফিস আদেশ দেওয়া হয়েছে।
জানাজায় এমপিকে ‘ভুয়া’ স্লোগান ও শপিংমলে হামলা
শাকিলের বাবা রবিউল মিস্ত্রির অভিযোগ, তার ছেলেকে কুপিয়ে আহত করার পর মামলার এজাহারে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী রাসেল হোসাইনের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। তবে সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের নির্দেশে পরে সেই নাম বাদ দেওয়া হয়। মিন্টুর পাশাপাশি রাসেলও তার ছেলের হত্যাকাণ্ডে জড়িত বলে তার ধারণা।
মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে গুরুদাসপুর সরকারি কলেজ মাঠে শাকিলের দ্বিতীয় জানাজায় নাটোর-২ আসনের এমপি রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু এবং নাটোর-৪ আসনের এমপি আব্দুল আজিজ অংশ নেন। জানাজায় এমপি আজিজ বক্তব্য দেওয়ার সময় নিহতের পরিবারকে ২০ লাখ টাকা অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দেন। এ সময় উপস্থিত লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিয়ে হৈচৈ শুরু করেন।
জানাজা শেষে রাত ১১টার দিকে মুসল্লিদের একাংশ মিছিল নিয়ে চাঁচকৈড় বাজারে আমেরিকা প্রবাসী রাসেলের ‘রাস আরবান স্টাইল’ নামের শপিংমলে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়।
এ বিষয়ে নাটোরের জেলা প্রশাসক সুমনী আক্তার বলেন, ‘কিছু সুযোগসন্ধানী লোক মব সৃষ্টি করে একজন প্রবাসীর ক্ষতিসাধন করেছেন। পুলিশকে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।’
খুনিদের বিচারের দাবিতে বুধবার বিকালে নাটোর জেলা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লায় প্রাণবন্ত পরিবেশে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির উদ্যোগে এবং কুমিল্লা রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের সহযোগিতায় 'রিস্টোরিং ফ্যামিলি লিংকস’ (আরএফএল) বা পারিবারিক যোগাযোগ পুনঃস্থাপন বিষয়ক সেনসিটাইজেশন ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) রেড ক্রিসেন্ট কুমিল্লা ইউনিটের নিজস্ব কার্যালয়ে দিনব্যাপী এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালার উদ্বোধন করেন কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক এবং কুমিল্লা রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের চেয়ারম্যান মো. মোস্তাক মিয়া। তিনি উল্লেখ করেন, "যেকোনো দুর্যোগ, যুদ্ধ কিংবা জরুরি পরিস্থিতিতে আপনজনদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া মানুষের কষ্ট ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।"
বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মানবিক দায়িত্বের প্রশংসা করে তিনি বলেন, এই বিচ্ছিন্ন হওয়া পরিবারগুলোকে আরএফএল কার্যক্রমের মাধ্যমে পুনরায় একত্রিত করার কাজ সত্যিই প্রশংসনীয়। কুমিল্লা ইউনিট এই সেবামূলক কার্যক্রমকে তৃণমূল পর্যায়ে আরও বেগবান করতে এবং একটি সুন্দর ও মানবিক সমাজ গঠনে বদ্ধপরিকর। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আজকের কর্মশালার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সকলে আরও দক্ষ হয়ে উঠবেন এবং মানবিক সেবার পরিধি আরও বিস্তৃত হবে।
কুমিল্লা রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের চেয়ারম্যান মো. মোস্তাক মিয়া আরও বলেন, "আমরা কেবল একটি ইউনিট হিসেবে নয়, বরং একটি পরিবার হিসেবে আর্তমানবতার সেবায় কাজ করে যাচ্ছি। কুমিল্লা রেড ক্রিসেন্ট ইউনিট সব সময় মানুষের পাশে ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।"
কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ইউনিটের ভাইস চেয়ারম্যান জামাল খন্দকার, যিনি কুমিল্লা রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের সেক্রেটারি জামিল আহমেদ খন্দকারের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন।
কর্মশালায় বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির আরএফএল বিভাগের উপ-পরিচালক আব্দুল বারী টেকনিক্যাল সেশনে আরএফএল এর বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক, নিখোঁজদের সন্ধান ও পারিবারিক তথ্য আদান-প্রদানের আধুনিক ও কার্যকর কৌশল অংশগ্রহণকারীদের সামনে তুলে ধরেন।
কর্মশালাটি সঞ্চালনা ও সার্বিক সমন্বয় করেন কুমিল্লা ইউনিটের সহকারী পরিচালক ও ইউনিট লেভেল অফিসার ফাহাদ আল নূর সাজিদ এবং অফিস সহকারী মো. নজরুল ইসলাম।
দিনব্যাপী আয়োজিত কর্মশালায় কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের রেড ক্রিসেন্ট শিক্ষক-শিক্ষিকা, যুব রেড ক্রিসেন্টের ১০ জন সক্রিয় যুব সদস্যসহ আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ অংশ নেন। কর্মশালার সমাপনী অংশে অংশগ্রহণকারীদের মাঝে সনদপত্র বিতরণ করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ