প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশ ব্যাংক বেসরকারি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে পারিবারিক নিয়ন্ত্রণ কমানোর সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে। ব্যাংক মালিকদের চাপ সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় ব্যাংক পরিচালকদের মেয়াদ হ্রাস এবং একই পরিবারের সদস্যসংখ্যা সীমিত রাখার প্রস্তাব বহাল রেখেছে।
গত সপ্তাহে অর্থ বিভাগে প্রেরিত ব্যাংক কম্পানি আইনের খসড়া সংশোধনীতে একটি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে একই পরিবারের সদস্যসংখ্যা তিনজন থেকে কমিয়ে দুজন করার প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি, পরিচালকদের টানা মেয়াদ ১২ বছর থেকে কমিয়ে ছয় বছর করার পাশাপাশি পুনর্নিয়োগের আগে তিন বছরের বিরতি বাধ্যতামূলক করার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নেওয়া সংস্কার প্রস্তাবে এসব পরিবর্তন অন্তর্ভুক্ত ছিল। গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সেই অবস্থান বজায় রেখেছে।
তবে, পরিচালনা পর্ষদের আকার ও স্বতন্ত্র পরিচালকের সংখ্যা নিয়ে পূর্বের প্রস্তাবে কিছু পরিবর্তন এসেছে। নতুন খসড়ায় পর্ষদের সদস্যসংখ্যা সর্বোচ্চ ২০ জন রাখার পাশাপাশি স্বতন্ত্র পরিচালকের সংখ্যা দুইজন থেকে বাড়িয়ে পাঁচজন করার প্রস্তাব করা হয়েছে। পূর্বের প্রস্তাবে পর্ষদের সদস্যসংখ্যা ১৫ জনে সীমাবদ্ধ রাখার কথা ছিল, যেখানে অন্তত অর্ধেক আসন স্বতন্ত্র পরিচালকদের জন্য নির্ধারিত ছিল।
নতুন প্রস্তাবে ঋণ বিতরণে রাজনৈতিক প্রভাব কমানোর জন্য সংসদ সদস্য, মন্ত্রী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ব্যাংকের পরিচালক হওয়ার সুযোগ বন্ধ করার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে, কৌশলগত প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের জন্য শেয়ার ধারণের ১০ শতাংশ সীমা শিথিল করার ক্ষমতা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হাতে রাখার প্রস্তাব রয়েছে।
এদিকে, ব্যাংক মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি) সংস্কারের বিরোধিতা করে আসছে। তাদের দাবি, পর্ষদে পরিবারের সদস্য সর্বোচ্চ তিনজন রাখা এবং পরিচালকদের মেয়াদ নয় বছর করা হোক।
মন্দ ঋণে বিপর্যস্ত ব্যাংকিং খাত পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে এসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মুডি’সের ১৫ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের মোট ঋণের ৩২ দশমিক ৮ শতাংশ খেলাপি।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা দ্য ডেইলি স্টারকে জানিয়েছেন, মন্ত্রিসভায় উত্থাপনের আগে আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠকে খসড়াটি পর্যালোচনা করা হবে। আসন্ন সংসদ অধিবেশনে বিলটি উত্থাপন ও পাস করাই সরকারের লক্ষ্য।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন