ঢাকা শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

তেজগাঁওয়ে কনকর্ডের নতুন বাণিজ্যিক ভবন ‘কনকর্ড হরাইজন টাওয়ার’ নির্মাণ শুরু


তেজগাঁওয়ে কনকর্ডের নতুন বাণিজ্যিক ভবন ‘কনকর্ড হরাইজন টাওয়ার’ নির্মাণ শুরু

ঢাকার তেজগাঁও শিল্প এলাকায় বহুতল বাণিজ্যিক ভবন 'কনকর্ড হরাইজন টাওয়ার'-এর আনুষ্ঠানিক ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন (গ্রাউন্ডব্রেকিং) সম্পন্ন করেছে দেশের শীর্ষস্থানীয় আবাসন ও নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান কনকর্ড গ্রুপ।

এই দৃষ্টিনন্দন বহুতল ভবনটি প্রায় ৪০ কাঠা জমির ওপর নির্মিত হতে যাচ্ছে, যেখানে ৪টি বেজমেন্ট ও গ্রাউন্ড ফ্লোরসহ মোট ১১টি সুপরিসর ফ্লোর স্পেস থাকবে। আধুনিক ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রয়োজনীয়তা এবং রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে সহজ যোগাযোগ সুবিধা নিশ্চিত করতে 'কনকর্ড হরাইজন টাওয়ার'-এর নকশা ও পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রকল্পটিতে আধুনিক স্থাপত্যশৈলী, সুপরিকল্পিত ফ্লোর স্পেস এবং সর্বাধুনিক বিল্ডিং সিস্টেমের অনন্য সমন্বয় ঘটানো হবে।

টাওয়ারটিতে ৪টি প্যাসেঞ্জার লিফট এবং সুপরিসর পার্কিং সুবিধা থাকবে। বিভিন্ন ফ্লোরে প্রয়োজন অনুযায়ী বৈচিত্র্যময় স্পেস থাকবে, যার মধ্যে বেশ কয়েকটি ফ্লোরে ১২ হাজার বর্গফুটেরও বেশি আয়তনের বিশাল অফিস স্পেস রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন: লক-ইন শিথিলে শেয়ারের দামে কারসাজির আশঙ্কা, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ক্ষতি হতে পারে

অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্বলিত এ ভবনে সর্বোচ্চ মানের অগ্নিনির্বাপণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা, বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড অটোমেশন সিস্টেম, পরিবেশবান্ধব ও শক্তি সাশ্রয়ী প্রযুক্তি এবং স্মার্ট অ্যাক্সেস কন্ট্রোলসহ অফিস অটোমেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হচ্ছে। এ ছাড়া উন্নত কর্মপরিবেশ গড়ে তুলতে ভবনে আধুনিক ক্যাফে, জিমনেশিয়াম ও সুইমিং পুলের মতো কমন অ্যামেনিটিজ থাকবে।

তেজগাঁও শিল্প এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় 'কনকর্ড হরাইজন টাওয়ার' থেকে ঢাকার অন্যান্য প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় যাতায়াত অত্যন্ত সহজ হবে। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মধ্য দিয়ে ভবনটির নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক সূচনা হলো, যা কনকর্ডের পোর্টফোলিওতে নতুন এক মাইলফলক যুক্ত করল।

বিগত কয়েক দশক ধরে কনকর্ড বাংলাদেশের আবাসিক, বাণিজ্যিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে অনন্য ভূমিকা রেখে চলেছে। নতুন এ বাণিজ্যিক ভবনটির মাধ্যমে আধুনিক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি মর্যাদাপূর্ণ ঠিকানা তৈরির পাশাপাশি ঢাকার দ্রুত রূপান্তরশীল বাণিজ্যিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে প্রতিষ্ঠানটি।

আরও পড়ুন: চাঁপাইনবাবগঞ্জে আমের খোসা থেকে তৈরি হচ্ছে 'ম্যাংগো পিল টি'

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লঞ্চের রোটেশন প্রথায় ব্যাহত যাতায়াত, যাত্রীরা ভোগান্তিতে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৩৯ পি.এম


লঞ্চের রোটেশন প্রথায় ব্যাহত যাতায়াত, যাত্রীরা ভোগান্তিতে

দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জন্য রাজধানী ঢাকা এবং দেশের অন্যান্য স্থানে যাতায়াতের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হলো নৌপথ। বিশেষ করে ভোলার চরফ্যাশনসহ উপকূলীয় এলাকার মানুষের যাতায়াত, ব্যবসা-বাণিজ্য ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বেতুয়া–ঢাকা নৌপথের গুরুত্ব অপরিসীম।

তবে, এই নৌপথে লঞ্চ চলাচলে মালিকপক্ষ কর্তৃক চালু করা রোটেশন পদ্ধতির কারণে স্বাভাবিক যাত্রীসেবা ব্যাহত হচ্ছে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী লঞ্চ চলাচল না করায় যাত্রীদের কেবিন সংকট, টিকিট পেতে ভোগান্তি এবং সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে না পারার মতো বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

এ পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগীরা রোটেশন পদ্ধতির আইনি ভিত্তি জনসম্মুখে প্রকাশের দাবি জানাচ্ছেন। তারা এ পদ্ধতি বাতিল করে স্বাভাবিক ও প্রতিযোগিতামূলক যাত্রীসেবা নিশ্চিত করার আহ্বানও জানিয়েছেন।

জানা গেছে, বেতুয়া–ঢাকা নৌপথে দৈনিক তিনটি কোম্পানির এমভি কর্ণফুলী, এমভি টিপু ও এমভি তাসরিফ লঞ্চ চলাচলের জন্য বিআইডব্লিউটিএর নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী রুট পারমিট গ্রহণ করা হয়েছে। শুরুতে কয়েক মাস নির্ধারিত সময়সূচি মেনে লঞ্চ চলাচল করলেও পরে মালিকপক্ষের পারস্পরিক সমঝোতায় রোটেশন পদ্ধতি চালু হয়।

অভিযোগ রয়েছে, বিআইডব্লিউটিএর নির্ধারিত দৈনিক লঞ্চ চলাচলের সময়সূচি উপেক্ষা করে মালিকপক্ষ নিজেদের সুবিধামতো এই রোটেশন পদ্ধতি চালু করেছে। এর ফলে একেক দিন একটি কোম্পানির লঞ্চ চলাচল বন্ধ রেখে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা হচ্ছে। এতে যাত্রীদের নির্বিঘ্নে যাতায়াতের অধিকার ব্যাহত হচ্ছে এবং ভোগান্তি বাড়ছে।

ভুক্তভোগীদের দাবি, দেশের প্রচলিত কোনো আইন, বিধিমালা বা সরকারি আদেশের ভিত্তিতে এ পদ্ধতি চালু করা হয়ে থাকলে তা জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে। অন্যথায়, অবিলম্বে এ ব্যবস্থা বাতিল করতে হবে। লঞ্চমালিকদের ব্যবসা করার অধিকার থাকলেও সাধারণ যাত্রীদের জিম্মি করে রাখার অধিকার কারো নেই। নদীপথে যাতায়াত সাধারণ মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও সংশ্লিষ্টদের অবহেলা ও অনিয়মের কারণে এ রুটে কাঙ্ক্ষিত যাত্রীসেবা নিশ্চিত হচ্ছে না।

চরফ্যাশন পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. কামাল হোসেন বলেন, প্রতিদিনের সিডিউলে তিন কোম্পানির লঞ্চ আসা-যাওয়ার কথা থাকলেও তারা তা মানছেন না। তিনি প্রশ্ন করেন, রোটেশন পদ্ধতি কি যাত্রীসেবা নিশ্চিত করার জন্য, নাকি যাত্রীদের জিম্মি করে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের সুযোগ তৈরির জন্য? তার অভিযোগ, নির্ধারিত কেবিনের বরাদ্দ শেষ হয়ে গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মুঠোফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। পরে বাধ্য হয়ে লঞ্চের স্টাফদের জন্য নির্ধারিত ছোট কেবিন অতিরিক্ত টাকা দিয়ে বুকিং করতে হয়।

আছলামপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা জাহিদুল ইসলাম বলেন, বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেও কেবিন বুকিং করতে না পারায় চলমান দীর্ঘ সরকারি ছুটিতেও পরিবার নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারেননি তিনি। এ ধরনের ভোগান্তি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অনিয়মের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

অন্যদিকে, লঞ্চমালিকপক্ষের দাবি, পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর ভোলা–বরিশাল হয়ে সড়কপথে ঢাকায় যাতায়াতকারী যাত্রীর সংখ্যা বেড়েছে। এতে নৌপথে যাত্রী কমেছে প্রায় ৩০ শতাংশ। ফলে লঞ্চ পরিচালনায় লোকসানের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ লোকসান এড়াতেই রোটেশন পদ্ধতি চালু রাখা হয়েছে বলে তারা জানিয়েছেন।

রোটেশন পদ্ধতি বাতিলের দাবি জানিয়ে এর আগে জনস্বার্থে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুল বাছেদ। নোটিশে এ পদ্ধতির কারণে প্রতিযোগিতামূলক যাত্রীসেবা বাধাগ্রস্ত হওয়া, যাত্রী ও ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি এবং নৌযান চলাচলে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে অবিলম্বে এ ব্যবস্থা বাতিলের আহ্বান জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের অতিরিক্ত পরিচালক মো. কবির হোসেন বলেন, যাত্রীদের ভোগান্তির বিষয়টি চিন্তা করে লঞ্চ মালিকদের রোটেশন পদ্ধতি বাতিল করা প্রয়োজন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুর্নীতি প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ হিসেবে লটারি পদ্ধতির প্রস্তাব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৪০ পি.এম


দুর্নীতি প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ হিসেবে লটারি পদ্ধতির প্রস্তাব

বাংলাদেশে নিয়োগ এবং বদলি বাণিজ্য দুর্নীতির অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। একটি সংগঠিত দালাল ও মধ্যস্বত্বভোগী চক্র সরকারি চাকরির পদোন্নতি এবং বদলিতে তদবির করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। বিভিন্ন সরকারের সময়কালেও এরা প্রশাসনের অন্দরমহলে প্রবেশ করে তদবির চালিয়ে যাচ্ছে।

যখন যে রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় আসে, তখন এই দালালরা সেই দলের লোক হয়ে যায়। তারা সহজেই নিজেদের রং পরিবর্তন করতে সক্ষম। এদের কারণেই প্রশাসনে দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়ে এবং সরকারের বদনাম হয়।

যে চাকরিজীবী কোটি টাকা ঘুষ দিয়ে কাঙ্ক্ষিত পদে নিয়োগ পান, তার প্রধান কাজ হয়ে যায় ঘুষের টাকা উদ্ধার করা। ফলে নতুন পদে আসীন হয়ে তিনি জনগণের সেবা না করে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। যেহেতু তিনি ঘুষ দিয়ে চেয়ারে বসেছেন, তাই ওই সরকারি কর্মচারী জবাবদিহিতার উর্ধ্বে থাকেন। এভাবেই সরকারি অফিসে দুর্নীতি বিস্তৃত হয়।

তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই দুর্নীতি দমনে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছেন। দুর্নীতি প্রতিরোধে তারেক রহমান বহুমাত্রিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।

এতে তিনি নিজে যেমন কৃচ্ছতার নীতি অনুসরণ করছেন, তেমনি সরকারের প্রতিটি স্তরে অপচয় বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। তবে দুর্নীতি দমনে প্রধানমন্ত্রীর সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপগুলোর মধ্যে একটি হলো সরকারি অফিসে বদলি ও পদায়নে লটারি পদ্ধতি চালু করা।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ইতিমধ্যে কয়েকটি পদে লটারির মাধ্যমে বদলি পদ্ধতি কার্যকর করা হয়েছে। সম্প্রতি দেশে প্রথমবারের মতো লটারির মাধ্যমে সাব রেজিস্ট্রার বদলি করা হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয় বদলি প্রক্রিয়ায় ‘স্বচ্ছতা নিশ্চিত’ করতে সাব-রেজিস্ট্রারদের লটারির মাধ্যমে বদলি করছে। এর ফলে দুর্নীতিগ্রস্ত হিসেবে পরিচিত এই পদে দুর্নীতি উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। এটি যে দুর্নীতি প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ, তা প্রমাণিত হয়েছে।

অতীতে ভূমি অফিসের পদায়ন ছিল ঘুষের খনি। সাব-রেজিস্ট্রার পদ ঘিরে এখানে ঘুষ লেনদেন হতো। এই সাব-রেজিস্ট্রাররাই হলেন এই খাতের কালেক্টর, যারা জনগণের কাছ থেকে সরাসরি অর্থ আদায় করেন। এই টাকা পদ অনুযায়ী বণ্টন হতো সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত। সাব-রেজিস্ট্রারের কিছু নির্দিষ্ট পদ ছিল, যেগুলো বিক্রি হতো নিলামে।

গুলশান, গাজীপুর, রূপগঞ্জ, কেরানীগঞ্জের মতো স্থানে সাব-রেজিস্ট্রার হিসেবে পদায়নের জন্য কয়েক কোটি টাকা লাগতো। এই বদলি লটারির মাধ্যমে সরকার দুর্নীতি বন্ধে একটি কার্যকর ব্যবস্থা নিয়েছে।

তবে সাব-রেজিস্ট্রার পদায়নে দুর্নীতি হ্রাস পেলেও অন্যান্য সরকারি কর্মচারীদের বদলি ও পদায়ন বানিজ্য এখনো অব্যাহত রয়েছে। দালাল ও মধ্যস্বত্বভোগীরা বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে এখনো সক্রিয়।

শুধু সাব রেজিস্ট্রার নয়, সরকারি ব্যাংকের এমডি থেকে চিকিৎসক—সব সরকারি কর্মচারীদের বদলির ক্ষেত্রে তদবির এবং ঘুষ লেনদেনের প্রবণতা এখনো লক্ষ্য করা যায়। বাংলাদেশে সরকারি চাকরিতে সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে শুরু করে নিম্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পছন্দের স্থানে বদলি হতে হলে দালালদের মাধ্যমে লেনদেনের রেওয়াজ অনেক পুরনো। কিছু লাভজনক পদ বিক্রি হয় কোটি কোটি টাকায়।

যে কর্মকর্তা বিপুল অঙ্কের অর্থ দিয়ে বদলি হন, তার প্রথম কাজ হয় বিনিয়োগের টাকা তোলা। এরপর তিনি ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে নিজের আখের গোছাতে ব্যস্ত হন। সচিব থেকে শুরু করে নিম্ন স্তরের কর্মকর্তাদের লাভজনক পদ পেতে ঘুষ দিতে হয়। কর্মচারীদেরও লোভনীয় পদে যেতে উৎকোচ দিতে হয়। সরকারি চাকরিতে কিছু চিহ্নিত পদ রয়েছে, যেসব পদে টাকা ছাড়া পদায়ন অসম্ভব। আবার এলাকা ভেদে পদের দাম বাড়ে-কমে।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এরকম অন্তত ২৫টি পদ আছে, যেখানে টাকা ছাড়া বদলি হওয়া সম্ভব নয়। দেশের অন্যতম দুর্নীতিগ্রস্ত খাত হলো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এখানে দুর্নীতি হয় প্রধানত থানাকেন্দ্রিক। অতীতে গুলশান, বনানী, ধানমন্ডির মতো অভিজাত এলাকার থানায় ওসি পদে আসতে ১০ থেকে ১৫ কোটি টাকা খরচ করতে হতো। এখনো পরিস্থিতির খুব একটা পরিবর্তন হয়নি, বলছেন সংশ্লিষ্টরা। শুধুমাত্র ওসি নয়, এসব থানার কনস্টেবল পদে আসতেও গুনতে হয় লাখ টাকা।

একজন পুলিশ সদস্য যখন ঘুষ দিয়ে একটি পদে আসেন, তখন তিনি সৎ থাকবেন কিভাবে?

নিম্ন আদালতের বিচারকদের পদায়নেও হয় ঘুষ লেনদেন। সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বিচারকদের বদলিতে ঘুষ নেওয়ার অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছিলেন। এই সময় নিম্ন আদালতের বিচারক বদলিতে কোটি টাকার লেনদেন হয়। সবচেয়ে বেশি ঘুষ লাগে ঢাকা এবং তার আশপাশের এলাকায় পদায়নের জন্য।

ইউনূস আমলে সচিব পর্যায়ে পদায়ন ও পদোন্নতির জন্য ঘুষ লেনদেনের ঘটনা ঘটেছে প্রকাশ্যে। ডিসি নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে জনপ্রশাসন সচিব বদলি হন। এই সময় বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর পদায়ন বাণিজ্যের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল।

রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ব্যাংক, বীমা কোম্পানির এমডি হবার জন্য কোটি টাকার ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি কয়েকটি ব্যাংকের এমডি নিয়োগ নিয়ে কিছু মধ্যস্বত্বভোগী দালালের খবর পাওয়া যাচ্ছে।

বন বিভাগ, গণপূর্ত অধিদপ্তর, সড়ক ও জনপদ বিভাগ, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ ইত্যাদি বিভাগে নিম্ন পদের চেয়ে উচ্চ পদ অনেক ব্যয়বহুল। ২০২৩ সালে একটি প্রধান প্রকৌশলীর পদ শতকোটি টাকার বিনিময়ে বিক্রি হয়েছিল। এসব সরকারি দপ্তরে কিছু চিহ্নিত জেলা ও পদ আছে, যেসব পদে বদলি হওয়ার জন্য রীতিমতো নিলাম হয়।

চিকিৎসকদের পদায়নেও বাণিজ্য হয়। একজন চিকিৎসককে ঢাকায় বদলি হতে লাখ টাকা গুনতে হয়। ঢাকার বাইরে কোনো চিকিৎসক থাকতে চান না। কারণ সবকিছু ঢাকামুখী, ঢাকা কেন্দ্রিক। ইউনূস আমলে ৩ হাজার মেডিক্যাল অফিসার ও ৫০০ কর্মচারীর চেয়ার রদবদল করা হয়েছে। এত স্বল্প সময়ে অতীতে এমন বদলি হয়নি অধিদপ্তরে। বদলি হওয়া অনেক চিকিৎসক জেলা-উপজেলা পর্যায়ের কর্মস্থলে যোগ দেননি। তদবির করে ঢাকা এবং তার আশপাশে বদলি হয়েছেন। ফলে গ্রামে চিকিৎসক নেই।

ফলে বদলি ও পদায়ন বানিজ্যের কারণে, একদিকে যেমন একটি দুর্নীতিবাজ দালাল গোষ্ঠী তৈরি হয়েছে, যারা গোটা সরকার পদ্ধতিকে কুলষিত এবং দুর্নীতিগ্রস্ত করছে, অন্যদিকে জনগণ সঠিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

আশার কথা, তারেক রহমানের সরকার দুর্নীতির এই উৎসমুখ বন্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছে। এই অবস্থা পরিবর্তনের জন্য সাব রেজিস্ট্রার বদলিতে প্রথমবারের মতো লটারি পদ্ধতি চালু করেছে। এটি একটি অসাধারণ উদ্যোগ। এর ফলে দেশের অন্যতম দুর্নীতিগ্রস্ত এই সেক্টরে দুর্নীতি অনেক কমে যেতে শুরু করেছে। যারা ঘুষ ছাড়া লটারির মাধ্যমে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এবং লাভজনক এলাকায় সাব-রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন, তারা আগের মতো বুভুক্ষের মতো দুর্নীতিতে নিমজ্জিত নন। জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ থাকছেন এবং জনগণের সেবায় মনোযোগী হয়েছেন।

লটারির মাধ্যমে সাব রেজিস্ট্রার বদলি মাধ্যমে দুর্নীতি বন্ধে যে প্রশংসনীয় উদ্যোগ সরকার নিয়েছে, তা অন্যান্য মন্ত্রণালয়ও অনুসরণ করতে পারে। ইতিমধ্যে আমরা দেখেছি কয়েকটি মন্ত্রণালয় লটারির মাধ্যমে পদায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। লটারির মাধ্যমে গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীদের বদলি ও পদায়ন করা হচ্ছে বলে মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে।

বদলি বাণিজ্য বন্ধ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত এবং যোগ্য ব্যক্তিকে যোগ্য স্থানে পদায়নের লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ব্যাংক, বীমার প্রধান নির্বাহী পদায়নের ক্ষেত্রেও যোগ্যদের ফিট লিস্ট করে লটারির ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এতে কেবল দুর্নীতি কমবে না, ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা ফিরে আসবে।

সরকারের সেবামূলক সব প্রতিষ্ঠান এ পদ্ধতি অনুসরণ করে বদলি ও পদায়ন করতে পারে। যেমন ধরা যাক, জেলা প্রশাসক পদায়ন নিয়ে প্রায়ই বিতর্ক সৃষ্টি হয়। কিন্তু জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় যদি ফিট লিস্টে থাকা যোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে লটারির মাধ্যমে নির্ধারণ করে যে, কোন জেলায় কে ডিসি পদে নিয়োগ পাবেন, তাহলে সহজেই বিতর্ক এড়ানো সম্ভব। একইভাবে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কিংবা চিকিৎসক পদে বদলির ক্ষেত্রে এ পদ্ধতি একটি সহজ সমাধান।

একজন সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারী যদি ঘুষ না দিয়ে একটি পদে বসেন, তাহলে একদিকে যেমন তিনি দুর্নীতিগ্রস্ত হবেন না, অন্যদিকে তিনি জবাবদিহির আওতায় আসবেন। ভালো কাজ করে জনগণের আস্থা অর্জন করার চেষ্টা করবেন। এতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী আবহ সৃষ্টি হবে।

তাহলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধে অন্যতম হাতিয়ার হতে পারে লটারির মাধ্যমে পদায়ন ও বদলি। শুধু কয়েকটি সরকারি বিভাগে নয়, সব সরকারি প্রতিষ্ঠানে বদলি ও পদায়ন বানিজ্য বন্ধ করতে পর্যায়ক্রমে লটারি পদ্ধতি চালু করা যেতে পারে। এটি বর্তমান সরকারের দুর্নীতি বিরোধী অভিযানকে অনেকখানি সফল করতে পারে।

অদিতি করিম

লেখক ও নাট্যকার

ইমেইল : [email protected]

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গণমাধ্যমই ফ্যাসিস্ট তৈরিতে সহায়তা করেছে: জামায়াত আমির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৪২ পি.এম


গণমাধ্যমই ফ্যাসিস্ট তৈরিতে সহায়তা করেছে: জামায়াত আমির

"আগে দেখেছি, বিরোধী দলের সভাপতি-সেক্রেটারি কে হবেন, সেটিও সরকার ঠিক করে দিত। গণমাধ্যমই ফ্যাসিস্ট তৈরি করতে সহায়তা করেছে। এখন গণমাধ্যমকে সঠিকভাবে কাজ করতে হবে।"—এমন মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

শনিবার, মৌলভীবাজারে সাংগঠনিক সফরে গিয়ে সকাল ১১টায় মৌলভীবাজার সার্কিট হাউজের মুন হলে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর মৌলভীবাজার জেলা শহরে জামায়াত আমিরের এটি প্রথম সফর। স্থানীয় জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। এ সফরের জন্য মৌলভীবাজার জেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়।

শনিবার সকাল ৮টায় সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জামায়াত আমিরকে অভ্যর্থনা জানানো হয়। এ সময় জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, সিলেট মহানগরী আমির ফখরুল ইসলাম, মৌলভীবাজার জেলা আমির ইঞ্জিনিয়ার শাহেদ আলী, সিলেট মহানগরী নায়েবে আমির ড. নুরুল ইসলাম বাবুল, সিলেট জেলা নায়েবে আমির অধ্যাপক আব্দুল হান্নান, সিলেট মহানগরী সেক্রেটারি শাহজাহান আলী, সিলেট জেলা সেক্রেটারি জয়নাল আবেদীন, মৌলভীবাজার জেলা অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি আজিজ আহমদ কিবরিয়া ও ছাত্রশিবিরের মৌলভীবাজার শহর সভাপতি কাজী দাইয়ান আহমদ উপস্থিত ছিলেন।

জামায়াত আমিরের সফরসঙ্গী হিসেবে আরও ছিলেন কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, সিলেট মহানগরী আমির মো. ফখরুল ইসলাম ও সিলেট জেলা আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান।

সকাল ৯টায় ডা. শফিকুর রহমান মৌলভীবাজার সার্কিট হাউজে পৌঁছালে জেলার পক্ষ থেকে তাকে অভ্যর্থনা জানান মৌলভীবাজার জেলা জামায়াতের আমির ইঞ্জিনিয়ার শাহেদ আলী, হবিগঞ্জ জেলা আমির মাওলানা কাজী মখলিছুর রহমান, মৌলভীবাজার জেলা সেক্রেটারি ইয়ামীর আলী, হবিগঞ্জ জেলা সেক্রেটারি কাজী মহসিন আহমদ ও ছাত্রশিবিরের জেলা সভাপতি ফরিদ উদ্দিনসহ অন্যান্য নেতারা। এ সময় রাষ্ট্রীয় প্রটোকলের অংশ হিসেবে পুলিশের একটি চৌকস দল তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করে।

সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে জামায়াত আমির মৌলভীবাজার জেলার ৭টি উপজেলা, ৫টি পৌরসভা, ৬৭টি ইউনিয়ন ও ৬০৩টি ওয়ার্ডের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি সব রুকন ও স্থানীয় নির্বাচনের প্রার্থীদের নিয়ে আয়োজিত দায়িত্বশীল ওয়ার্ড সম্মেলনে ডেলিগেট হিসেবে অংশ নেন।

সকাল সাড়ে ১২টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত দায়িত্বশীল ওয়ার্ড সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। পরে তিনি কোর্ট মসজিদে জোহরের নামাজ আদায় করেন। নামাজের পর জেলা সার্কিট হাউজে ১১ দলীয় জোটের মৌলভীবাজার জেলা নেতৃবৃন্দ জামায়াত আমিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন এবং দুপুরের খাবারে অংশ নেন।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি দুই বছর পরপর জেলা আমির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ২০২৭-২০২৮ সেশনের জন্য মৌলভীবাজার জেলা আমির নির্বাচনের ভোট গ্রহণের লক্ষ্যে দুপুর ২টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে রুকন সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে জেলার ৬০০ রুকন অংশগ্রহণ করবেন।

রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখবেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। নির্বাচন পরিচালনা করবেন সিলেট জেলা আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান।

সম্মেলনে বক্তব্য শেষে বিকাল ৪টায় সিলেট বিমানবন্দরের উদ্দেশে মৌলভীবাজার ত্যাগ করবেন জামায়াত আমির।

জামায়াত নেতারা জানান, ডা. শফিকুর রহমানের এই সাংগঠনিক সফর দলের জনশক্তির মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার সঞ্চার করবে। একই সঙ্গে তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠন আরও শক্তিশালী হবে বলেও তারা দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সে তারেক রহমানকে লেখা চিঠি উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৪৮ পি.এম


শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সে তারেক রহমানকে লেখা চিঠি উদ্ধার

সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সে টাকা গণনার সময় প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে লেখা একটি চিঠি উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) মাজারের দানবাক্সের টাকা গণনার প্রক্রিয়ার সময় টাকার স্তূপের মধ্যে চিঠিটি পাওয়া যায়।

চিঠিতে বিএনপির সদস্য ও কর্মী হওয়ার জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং বয়স সংক্রান্ত নির্দিষ্ট শর্ত প্রবর্তনের আহ্বান জানানো হয়েছে।

তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বিএনপির সদস্য হতে হলে এসএসসি পাস অথবা জিপিএ ২.৫ এবং কর্মী হতে হলে এইচএসসি পাসের পাশাপাশি জিপিএ ৩.৫ বাধ্যতামূলক করা উচিত। একই সঙ্গে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার আগে কাউকে বিএনপির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ না দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।

চিঠির নিচে প্রেরকের নাম উল্লেখ করা হয়নি, তবে সেখানে বলা হয়েছে যে, তিনি ২০১১ সালে রাজনীতিতে যুক্ত হন এবং পরে রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ান। চিঠির শেষে ইংরেজিতে লেখা ছিল, ‘I want the change to come through you.....’।

এদিকে, শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টায় দানবাক্সগুলো খোলা হয়। এরপর সকাল ১০টা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দানের টাকা গণনার কার্যক্রম শুরু হয়।

জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, মাজার পরিচালনা কমিটির দায়িত্বশীল প্রতিনিধি এবং উপস্থিত ম্যাজিস্ট্রেটের তত্ত্বাবধানে এই গণনা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

এর আগে, গত ১৯ সেপ্টেম্বর চতুর্থবারের মতো মাজারের দানবাক্সগুলো খোলা হয়েছিল। সে হিসেবে প্রায় ৩৫ দিন পর আবারও দানের টাকা গণনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

দীর্ঘদিনের প্রথা ভেঙে গত ২২ জুন প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে মাজারের দানবাক্সের টাকা গণনা শুরু হয়। এরপর ১১ জুলাই, ১৫ আগস্ট ও ১৯ সেপ্টেম্বর দানবাক্স ও ডেগ খুলে চার দফায় মোট ২ কোটি ২৯ লাখ টাকারও বেশি নগদ অর্থ পাওয়া যায়।

এবার দীর্ঘ পূজার ছুটিতে মাজারে দর্শনার্থী ও ভক্তদের উপস্থিতি বেশি থাকায় আগের তুলনায় রেকর্ড পরিমাণ অর্থ জমা পড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে গত ২৩ সেপ্টেম্বর গঠিত কমিটির সভায় দানবাক্সের অর্থ নিয়মিত গণনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের নেতৃত্বে গঠিত ওই কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দানের অর্থের ৩৫ শতাংশ মাজারের উন্নয়নকাজে ব্যয় করা হবে। বাকি ৬৫ শতাংশ ব্যয় হবে মাজারের দৈনন্দিন খরচ এবং কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধে।

নিয়মিত গণনা ও অর্থ ব্যয়ের নির্ধারিত নীতিমালার মাধ্যমে মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৫
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৫
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%