০৫:৫২ পি.এম
ভারতের জনপ্রিয় জলবায়ু কর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনাম ওয়াংচুক শনিবার মন্তব্য করেছেন যে, সরকারের কাজের মান উন্নত করার এবং তাদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার জন্য প্রতিবাদ বা বিক্ষোভ একটি কার্যকর মাধ্যম। তিনি উদাহরণ হিসেবে শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশের সাম্প্রতিক গণ-অশান্তির কথা উল্লেখ করেন, যেখানে আন্দোলন-বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করা হলে বা করতে না দিলে কী পরিণতি হতে পারে তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
মুম্বাইতে আয়োজিত ‘আইপিএফ ফেস্টিভ্যাল’-এ বক্তব্য প্রদানকালে তিনি বলেন, বিশ্বের অনেক দেশ অত্যন্ত আনন্দের সাথে প্রতিবাদের অনুমতি দেয়, এমনকি তা দেশের জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে অনুষ্ঠিত হতে পারে। ওয়াংচুক দাবি করেন যে, অনেক দেশে সংসদ ভবনের সামনে প্রতিবাদ-বিক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। যুক্তরাজ্য, নরওয়ে এবং সুইডেনের উদাহরণ দিয়ে তিনি জানান, এসব দেশে সংসদ ভবনের সামনে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করার অনুমতি রয়েছে।
ভারতে প্রতিবাদ প্রদর্শনের জন্য নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “ভারতে প্রতিবাদের জায়গা সংসদ ভবন থেকে অনেক দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছে। এমনকি যখন কেবল যন্তর মন্তরে প্রতিবাদের সুযোগ ছিল, সেটাও ছিল সংসদ থেকে বহু দূরে।”
আরও পড়ুন: উত্তর প্রদেশে ‘অপারেশন ল্যাংড়া’: মুসলিমদের পঙ্গু করছে পুলিশ!
তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, “সরকার যদি ইতিবাচকভাবে দেখে, তবে প্রতিবাদ বা আন্দোলন হলো তাদের পারফরম্যান্স আরও ভালো করার একটি চমৎকার প্রতিক্রিয়া ও ফিডব্যাক পদ্ধতি।”
তার এই মন্তব্যটি একটি তাৎপর্যপূর্ণ সময়ে এসেছে, যখন ভারতের জাতীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে যন্তর মন্তরে ‘কাকরোচ জনতা পার্টি’র ডাকা আন্দোলনের পর কেন্দ্র সরকার রাজধানী জুড়ে কঠোর বিধিনিষেধ জারি করেছে। সরকারের আন্দোলন করতে না দেওয়ার এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে বিরোধী দলগুলোও।
শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশের পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করে ওয়াংচুক সতর্ক করে বলেন, “বিক্ষোভ করতে না দিলে বা জনগণকে বাকস্বাধীনতা না দিলে কী পরিণতি হয়, তা শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশের দিকে তাকিয়ে দেখুন।”
তিনি অভিমত প্রকাশ করেন যে, আন্দোলন বা প্রতিবাদ করার জন্য সরকারের কাছে আগাম অনুমতির প্রয়োজন হওয়া উচিত নয়। তিনি যোগ করেন, শহরের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা, যেমন বড় কোনো উৎসবের আয়োজন ইত্যাদি সামাল দেওয়ার বিষয়েই কেবল সরকারি তদারকি সীমাবদ্ধ থাকা উচিত, প্রতিবাদের অধিকার রুদ্ধ করার জন্য নয়।
আরও পড়ুন: মোজতবা খামেনি: শক্তিশালী ইরান গড়তে মূল চাবিকাঠির কথা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন