০৫:৫৩ পি.এম
কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে বিতর্কিত ইসিএ আইন বাতিলের জন্য সরকার কাজ করছে, এমনটি জানিয়েছেন কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল। তিনি উল্লেখ করেন, এই আইন কার্যকর হলে কক্সবাজারের অনেক হোটেল, মোটেল ও রেস্তোরাঁ অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য মাস্টারপ্ল্যানের মাধ্যমে পর্যটন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে আইনি কাঠামোর আওতায় আনার প্রয়োজনীয়তার ওপর তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) কক্সবাজারে নিরাপদ পর্যটন নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে হোটেল-মোটেল-রেস্তোরাঁ মালিক, ব্যবস্থাপক, সংশ্লিষ্ট সমিতি ও অংশীজনদের সঙ্গে কক্সবাজার পাবলিক হলে আয়োজিত মতবিনিময়সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
এমপি কাজল আরও বলেন, কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পকে পরিকল্পিতভাবে এগিয়ে নিতে হবে এবং হোটেল-মোটেল ও রেস্তোরাঁগুলোকে মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় আনতে হবে। তিনি বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে পর্যটকদের নিরাপত্তা এবং সেবার মান নিশ্চিত করা যায়।
আরও পড়ুন: বরিশালে বালু ব্যবসায়ীকে ৪ লাখ জরিমানা, মা ইলিশ অভিযানে ৮ জন দণ্ডিত
সাম্প্রতিক সময়ে কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ রোডের টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড এবং সমুদ্র সৈকতে পর্যটক ডুবে মৃত্যুর মতো বিভিন্ন দুর্ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। এই প্রেক্ষাপটে পর্যটন খাতের নিরাপত্তা, প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন ও পরিচালন ব্যবস্থার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মান্নান। তিনি বলেন, এখানকার পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগের বিকল্প নেই। একই সঙ্গে হোটেল-রিসোর্ট মালিকদের জন্য ওয়ানস্টপ সেবা চালু করা হবে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামীম আরা বেগম স্বপ্না। তিনি হোটেল-রিসোর্ট মালিকদের অপ্রাপ্তবয়স্ক কাউকে রুম ভাড়া না দেওয়ার পরামর্শ দেন এবং ভবিষ্যতে এমন কোনো অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান।
সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সাজিদুল ইসলাম হোটেল-মোটেল ও রেস্তোরাঁ পরিচালনার বিধিবিধান, নিবন্ধন, নবায়ন, লাইসেন্স স্থগিত ও বাতিল এবং তারকামানের হোটেলের ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা ও মানদণ্ড নিয়ে আলোচনা করেন।
আরও পড়ুন: ইঞ্জিন বিকল হয়ে ট্রলারডুবি, নিখোঁজ দুই জেলে
এতে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) সচিব সানজিদা বেগম, কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের পুলিশ সুপার নিশাত এঞ্জেলা, হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ বিভাগের অফিস প্রধানসহ পর্যটন সেবী বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি ও হোটেল-মোটেল ও রেস্তোরাঁ মালিকেরা বক্তব্য দেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন