ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বিনিয়োগের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর তাগিদ বিজিএমইএর উপদেষ্টার


বিনিয়োগের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর তাগিদ বিজিএমইএর উপদেষ্টার

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি জাপানের বাজারে ৩ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার সম্ভাবনা রয়েছে। এই প্রসঙ্গে দুই দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ), জাপানি ক্রেতাদের আগ্রহ এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে, এই সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো, ক্রেতাদের আস্থা অর্জন, ভিসা জটিলতা দূর করা এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএর উপদেষ্টা কাজী সারওয়ার হাবিব।

জাপানে চার দশক ধরে বসবাসকারী এই ব্যবসায়ী নেতা উল্লেখ করেন, বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের অবস্থান শক্তিশালী হলেও জাপানের বাজারে রপ্তানি বাড়ানোর যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। পরিকল্পিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে, এ বাজারে রপ্তানি আয় বাড়ানোর পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগের নতুন ক্ষেত্র তৈরি হবে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে জাপানের রাজধানী টোকিওর হোটেল নিউ ওতানিতে সময়ের আলোর বিশেষ প্রতিনিধি ও ডেপুটি চিফ রিপোর্টার রফিক রাফির সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন: প্রতিবন্ধীদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করলেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী

সাক্ষাৎকারে কাজী সারওয়ার হাবিব জাপানের বাজারে পোশাক রপ্তানি, দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ক, সম্ভাব্য বিনিয়োগ, ভিসা জটিলতা, দক্ষ জনশক্তি এবং উচ্চশিক্ষার সুযোগ নিয়ে আলোচনা করেন।

বর্তমানে বাংলাদেশ জাপানে প্রায় ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করে। কাজী সারওয়ার হাবিবের মতে, যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে এ রপ্তানি ৩ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা সম্ভব।

তিনি বলেন, জাপানি ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী পণ্যের মান, নকশা ও সরবরাহের সময়সীমা নিশ্চিত করতে হবে এবং তাদের সঙ্গে ব্যবসায়িক যোগাযোগ বাড়াতে হবে। বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের সক্ষমতা তুলে ধরতে পারলে নতুন ক্রেতা আকর্ষণ করা সহজ হবে।

জাপানের বাজারে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের অবস্থান শক্তিশালী করতে বিজিএমইএও বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করছে। কাজী সারওয়ার হাবিব জানান, এ বছর সংগঠনটিতে ‘জাপান ডেস্ক’ চালু হয়েছে। তিনি দাবি করেন, বিজিএমইএর ৫২ বছরের ইতিহাসে এবারই প্রথম কোনো জাপানি রাষ্ট্রদূত সংগঠনটির কার্যালয় পরিদর্শন করেছেন।

আরও পড়ুন: ইসরাইলে নির্বাচন: ৮৫ শতাংশ ভোট গণনা শেষ, চূড়ান্ত ফলাফল দুই দিনে আসবে

বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে স্বাক্ষরিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তিও রপ্তানি বাড়ানোর নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। চুক্তির আওতায় তৈরি পোশাকসহ বাংলাদেশের ৭ হাজার ৩৭৯টি পণ্য জাপানের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকারের সুযোগ পাবে। তবে, এ সুবিধা কার্যকর হওয়ার সময়সূচি ও পণ্যভিত্তিক শর্তের ওপর নির্ভর করবে।

কাজী সারওয়ার হাবিব বলেন, ইপিএর সুবিধা কাজে লাগানোর পাশাপাশি রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়াতে হবে। জাপানি ক্রেতাদের চাহিদা বুঝে পণ্য উৎপাদন ও বাজার সম্প্রসারণে উদ্যোগী হলে বাংলাদেশের অবস্থান আরো শক্তিশালী হবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফরকে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছেন কাজী সারওয়ার হাবিব। তার মতে, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক যোগাযোগ বাড়লে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনাও বৃদ্ধি পাবে।

তিনি বলেন, মঙ্গলবার টোকিওতে বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও গভর্নর মেস্তাকুর রহমানের সঙ্গে জাপানের ব্যবসায়িক নেতাদের ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। সফরটিকে তিনি ‘স্বপ্নের মতো সফর’ হিসেবে অভিহিত করেন।

আরও পড়ুন: ইসরায়েলে রাজনৈতিক অচলাবস্থা: সরকার গঠনের তিন সম্ভাব্য পথ

কাজী সারওয়ার হাবিব বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে প্রায় ৬ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগের সম্ভাবনার কথা বলা হচ্ছে। এসব সম্ভাবনা বাস্তব বিনিয়োগে রূপ নিতে পারলে দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।

তবে, বিনিয়োগের জন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, নীতির ধারাবাহিকতা ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করেন তিনি। তার মতে, জাপানি বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করেন। তাই, তাদের আস্থা অর্জনে সহজ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, স্থিতিশীল নীতিকাঠামো এবং দ্রুত ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরিবেশ প্রয়োজন।

বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাড়াতে ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন কাজী সারওয়ার হাবিব। তিনি বলেন, দুই দেশের উদ্যোক্তা, ক্রেতা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের নিয়মিত যাতায়াতের সুযোগ থাকা প্রয়োজন। ভিসা প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা থাকলে ব্যবসায়িক যোগাযোগ ও বিনিয়োগের উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

তিনি জানান, জাপানের শীর্ষস্থানীয় পোশাক ব্র্যান্ড ইউনিক্লো ও মুজির পক্ষ থেকেও জাপানি ও বাংলাদেশি কর্মীদের অনুপাত এবং ভিসা প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে অনুরোধ জানানো হয়েছে বলে তিনি অবগত হয়েছেন।

আরও পড়ুন: নির্বাচনে হারের মুখে আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে ভোট চুরির অভিযোগ লিকুদ পার্টির

কাজী সারওয়ার হাবিবের মতে, বেসরকারি খাতের অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করতে হবে। এরপর দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া গেলে জাপানি ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো সহজ হবে।

জাপানে কর্মসংস্থান ও ব্যবসা সম্প্রসারণে ভাষাগত দক্ষতাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন কাজী সারওয়ার হাবিব। তার মতে, জাপানি ভাষা জানা থাকলে বাংলাদেশি তরুণদের জন্য দেশটিতে কাজের সুযোগ বাড়তে পারে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে থেকেই এক থেকে দেড় বছর জাপানি ভাষা শেখার চেষ্টা করলে এবং প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে পারলে তরুণদের জন্য জাপানে কাজের সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে জাপানি ভাষার এন-২ পর্যায়ের দক্ষতা থাকলে বিভিন্ন পেশায় এগিয়ে থাকার সুযোগ রয়েছে।

কাজী সারওয়ার হাবিব বলেন, জাপানি ভাষায় দক্ষ তরুণেরা বাংলাদেশে থেকেও মাসে ৫০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা বেতনের চাকরি পেতে পারেন। তবে, বেতন ও চাকরির সুযোগ কাজের ধরন, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও নিয়োগদাতার শর্তের ওপর নির্ভর করবে।

আরও পড়ুন: শামা ওবায়েদের স্পেন ও ইইউর সহযোগিতার প্রশংসা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায়

তিনি মনে করেন, বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাপানি ভাষা শিক্ষার সুযোগ বাড়ানো প্রয়োজন। পাশাপাশি জাপানের শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী কারিগরি ও পেশাগত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা গেলে তরুণদের কর্মসংস্থানের নতুন ক্ষেত্র তৈরি হবে।

উচ্চশিক্ষার জন্যও জাপান বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের কাছে সম্ভাবনাময় গন্তব্য হতে পারে বলে মনে করেন কাজী সারওয়ার হাবিব। তিনি বলেন, দেশটিতে বিভিন্ন ধরনের বৃত্তির সুযোগ রয়েছে। যোগ্যতা অনুযায়ী বৃত্তি পেলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ব্যয় বহন করা সহজ হতে পারে।

তার মতে, জাপানে পড়াশোনার পাশাপাশি ভাষা ও পেশাগত দক্ষতা অর্জন করতে পারলে শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক কর্মবাজারে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে পারবেন। এতে ব্যক্তিগত ক্যারিয়ার গড়ার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতেও অবদান রাখার সুযোগ তৈরি হবে।

কাজী সারওয়ার হাবিব দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে ব্যবসায়িক যোগাযোগের সঙ্গে যুক্ত। তিনি মনে করেন, দুই দেশের সম্পর্ককে শুধু বাণিজ্যিক লেনদেনে সীমাবদ্ধ না রেখে শিক্ষা, দক্ষ জনশক্তি, প্রযুক্তি ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও সম্প্রসারণ করতে হবে।

আরও পড়ুন: "অসহিষ্ণু বক্তব্য রাজনীতিকে ‘পয়েন্ট অফ নো রিটার্ন’-এ নিয়ে যেতে পারে": সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স

জাপানের বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানি বাড়ানো এবং জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণের সুযোগ থাকলেও তা কাজে লাগাতে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। ইপিএর সুবিধা ব্যবহার, পণ্যের মান ও বৈচিত্র্য বৃদ্ধি, ক্রেতাদের আস্থা অর্জন, ভিসা জটিলতা নিরসন এবং দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

কাজী সারওয়ার হাবিব বলেন, সরকার ও বেসরকারি খাত সমন্বিতভাবে কাজ করলে জাপানের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ আরো বিস্তৃত হবে। প্রধানমন্ত্রীর সফরের মাধ্যমে দুই দেশের ব্যবসায়িক যোগাযোগ জোরদার হলে সম্ভাব্য বিনিয়োগ বাস্তবায়ন এবং রপ্তানি সম্প্রসারণের পথও সুগম হতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মনপুরায় কোস্টগার্ডের হাতে ১৩ মণ মা ইলিশ জব্দ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৩৬ পি.এম


মনপুরায় কোস্টগার্ডের হাতে ১৩ মণ মা ইলিশ জব্দ

ভোলার মনপুরায় মেঘনা নদীতে মা ইলিশ শিকারের সময় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ট্রলারবোঝাই ১৩ মণ মা ইলিশ জব্দ করেছে কোস্টগার্ডের সদস্যরা।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকাল ৫টায় চরপাতিলা সংলগ্ন মেঘনায় মা ইলিশ বোঝাই ট্রলারটি আটক করা হয় এবং হাজিরহাট সিট্রাক ঘাটে নিয়ে আসা হয় কোস্টগার্ডের সদস্যদের দ্বারা।

পরে সন্ধ্যায় মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ট্রলার মালিক আবদুল হাই সিকদারকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক খান সালমান হাবিব।

এ সময় ট্রলারে থাকা ১৩ মণ মা ইলিশ বিতরণ করা হয় এতিম অসহায়দের মধ্যে।

কোস্টগার্ডের স্টেশন কমান্ডার এ বিষয়ে জানান, ১৩ মণ ইলিশ বোঝাই ট্রলারটি আটক করা হয়েছে এবং পরে জব্দকৃত ইলিশ উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ের সামনে এনে বিতরণ করা হয়েছে।

উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা কাজল রেখা জানান, ট্রলার মালিককে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শাহজালালের রানওয়ে-অ্যাপ্রোন এলাকায় যানবাহনের অবাধ চলাচল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৩৭ পি.এম


শাহজালালের রানওয়ে-অ্যাপ্রোন এলাকায় যানবাহনের অবাধ চলাচল

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সংরক্ষিত এয়ারসাইডে বড় ধরনের নিরাপত্তাঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে। রানওয়ে, ট্যাক্সিওয়ে এবং অ্যাপ্রোন এলাকায় অবাধে চলাচল করছে শত শত যানবাহন। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) কাছে এসব যানবাহনের কোনো ট্র্যাকিং নেই।

এমন অনিয়ন্ত্রিত যান চলাচলে বিমানবন্দরের যাত্রী নিরাপত্তায় গুরুতর ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। তবুও বাধ্যতামূলক ভেহিকেল ট্র্যাকিং সিস্টেম (ভিটিএস) স্থাপনে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। এয়ারলাইন্সগুলো বেবিচকের নির্দেশনা ও আলটিমেটামকে আমলে না নেওয়ায় সংকট আরও বাড়ছে। থার্ড টার্মিনাল উদ্বোধনে গঠিত স্টিয়ারিং কমিটির সভায়ও বিষয়টি উঠে এসেছে বলে জানা যায়। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন যে, এয়ারসাইডে নজরদারির বাইরে এসব যান চলাচলে যে কোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। উড়োজাহাজের নিরাপদ চলাচল ও যাত্রীদের জীবন হুমকির মুখে পড়তে পারে।

এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ এটিএম নজরুল ইসলাম যুগান্তরকে জানান, এয়ারসাইড এলাকায় যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণে ভেহিকেল ট্র্যাকিং সিস্টেম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোন যান কোথায় যাচ্ছে, কত গতিতে চলছে এবং অনুমোদিত এলাকায় রয়েছে কি না- এসব তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা জরুরি। রানওয়ে ও ট্যাক্সিওয়ের মতো স্পর্শকাতর এলাকায় একটি যানবাহনের ভুল চলাচল বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। বেবিচকের নির্দেশনা বাস্তবায়নে এয়ারলাইন্সগুলোর গড়িমসি নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক। দ্রুত সব যানবাহনকে কেন্দ্রীয় নজরদারির আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে নিয়মিত তদারকি ও নির্দেশনা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

বেবিচক সদস্য (এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট) এয়ার কমডোর মো. নূর-ই-আলম যুগান্তরকে বলেন, ভেহিকেল ট্র্যাকিং সিস্টেম (ভিটিএস) স্থাপনের জন্য এয়ারলাইন্সগুলোকে অনেকবার সময় দেওয়া হয়েছে। একাধিকবার তাগাদাও দেওয়া হয়েছে। এবার আর ছাড় দেওয়া হবে না। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ভিটিএস যুক্ত না করলে যানবাহন প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। তিনি জানান, বিশ্বের আধুনিক বিমানবন্দরগুলোয় এ ধরনের প্রযুক্তি বহু বছর ধরেই ব্যবহার হচ্ছে। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভিটিএস চালু হলে এয়ারসাইড এলাকায় চলাচলকারী সব অনুমোদিত যানবাহনকে কেন্দ্রীয়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। বর্তমানে ভিটিএস না থাকায় যেসব গাড়ি এয়ারসাইডে চলাচল করছে, সেগুলোর গতিবিধি কার্যকরভাবে মনিটরিং করা যাচ্ছে না।

তিনি আরও জানান, কোন এয়ারলাইন্স কতটি গাড়িতে ভিটিএস স্থাপন করেছে এবং কতটি বাকি রয়েছে, কোম্পানিগুলোর কাছে তা জানতে চাওয়া হয়েছে। তথ্য পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। প্রাপ্ত তথ্যমতে, ইউএস-বাংলা, নভোএয়ার, এয়ার এস্ট্রা, স্কাই ক্যাপিটাল এয়ারলাইন্সসহ বিমানবন্দরে অপারেশন পরিচালনাকারী বিভিন্ন দেশি-বিদেশি এয়ারলাইন্স ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার প্রধানদের বারবার নির্দেশনা দিলেও সেটি তারা মানছে না।

জানা যায়, অ্যাপ্রোন এলাকায় উড়োজাহাজ ও অন্যান্য যানবাহনের গতিবিধি নির্ভুলভাবে পর্যবেক্ষণ এবং দুর্ঘটনা এড়াতে সদ্য স্থাপিত সিএনএস-এটিএম ও এ-এসএমজিসিএস প্রযুক্তির আওতায় ভিটিএস স্থাপন বাধ্যতামূলক করে বেবিচক। চলতি বছরের ১৫ জুনের মধ্যে সব যানবাহনে ভিটিএস বসিয়ে তালিকা জমা দেওয়ার নির্দেশ থাকলেও তারা গড়িমসি করে। পরে সেই সময়সীমা বাড়িয়ে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু বারবার নির্ধারিত সময় পার হলেও এয়ারলাইন্সসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো নির্দেশনা বাস্তবায়ন করেনি। বরং প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দিতেই অনীহা দেখাচ্ছে। পরিস্থিতি পর্যালোচনায় বেবিচকের এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট বিভাগ থেকে ২৬ অক্টোবর আরেকটি ‘অতিব জরুরি’ চিঠি ইস্যু করা হয়।

যুগান্তরের হাতে আসা সেই চিঠির তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, পরিচালক মো. শামসুল হকের সই করা জরুরি চিঠিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ২৭ অক্টোবরের (মঙ্গলবার) মধ্যে শতভাগ গাড়িতে ভিটিএস সংযোজন সম্পন্ন করে তালিকা জমা দিতে হবে। সেই সময়সীমাও শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু কোনো উড়োজাহাজ কোম্পানি ভিটিএসযুক্ত তাদের যানবাহনের তালিকা দেয়নি। এমন বাস্তবতায় ৭ ডিসেম্বরের পর ভিটিএস ছাড়া কোনো যানবাহন এয়ারসাইডে চলাচলের অনুমতি পাবে না বলে থার্ড টার্মিনাল উদ্বোধনসংক্রান্ত স্টিয়ারিং কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের চিঠি দেওয়া হয়েছে। এবার নির্ধারিত তারিখের মধ্যে ভিটিএস স্থাপন না করলে এয়ারসাইডে যানবাহন চলাচলজনিত কোনো দুর্ঘটনা বা নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হলে এর একক দায়ভার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকেই বহন করতে হবে।

বেবিচকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, ট্র্যাকার স্থাপন করা হলে রাডারব্যবস্থার মাধ্যমে পৃথকভাবে প্রতিটি যানবাহনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা যাবে। কোনো গাড়ি বিপজ্জনক এলাকায় অবস্থান করলে সঙ্গে সঙ্গে সতর্ক করা সম্ভব হবে। এতে আধুনিক নিয়ন্ত্রণ টাওয়ারের পূর্ণ সক্ষমতা ব্যবহার করা যাবে এবং বিমান ওঠানামার নিরাপত্তা আরও জোরালো হবে। কিন্তু এয়ারলাইন্সগুলো নিজেরাই নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করছে। বারবার তাগিদ দেওয়ার পরও ভিটিএস স্থাপন না করার বিষয়ে জানতে চাইলে এয়ার অ্যাস্ট্রার হেড অব অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড এয়ারলাইন সিকিউরিটি গ্রুপ ক্যাপ্টেন (অব.) এবিএম সারওয়ার জামান যুগান্তরকে বলেন, ভিটিএস বিদেশ থেকে আমদানি করতে হচ্ছে। এ কারণে কিছুটা সময় লাগছে। আশা করছি, তৃতীয় টার্মিনাল চালুর আগেই আমরা ভিটিএস স্থাপন করতে পারব। অপরদিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স বলছে, কার্যক্রম চলমান। খুব শিগ্গিরই তারা তালিকা বেবিচকে জমা দিয়ে দেবে।

অতীতেও ঘটেছে একাধিক দুর্ঘটনা : ভিটিএস না থাকায় অতীতে একাধিক দুর্ঘটনা ঘটে। গত বছরের নভেম্বরে শাহজালালে একটি পুশকার্টের ধাক্কায় এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং উড়োজাহাজের নোজ হুইল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে ফ্লাইটটি বাতিল করতে হয়। এর আগে ২০২২ সালে বিমানের হ্যাঙ্গারে একটি বোয়িং-৭৩৭ বের করার সময় অবস্থানরত আরেকটি বোয়িং-৭৭৭ উড়োজাহাজকে ধাক্কা দেয়। একই বছর ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ট্রলি বিমানের একটি উড়োজাহাজে আঘাত হানে। প্রযুক্তিনির্ভর মনিটরিং না থাকায় এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা বারবার ঘটছে, বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রযুক্তি তৈরি, কিন্তু প্রয়োগ নেই : বেবিচক সূত্র জানায়, শাহজালাল বিমানবন্দরে অ্যাডভান্সড সারফেস মুভমেন্ট গাইডেন্স অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম (এএসএমজিসিএস) এবং ভেহিকেল ট্র্যাকিং সিস্টেম স্থাপন করা হয়েছে। কন্ট্রোল টাওয়ারে প্রতিটি গাড়ির গতি, অবস্থান ও রুট রিয়েল-টাইমে দৃশ্যমান করার সব ব্যবস্থা আছে। কিন্তু উড়োজাহাজগুলোর গ্রাউন্ড সাপোর্ট যান, ক্যাটারিং ও কার্গো ভ্যানগুলোয় পৃথক ট্র্যাকার না বসানোয় এ প্রযুক্তির পূর্ণ সুবিধা নেওয়া যাচ্ছে না। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল টাওয়ারে কর্মরত নিয়ন্ত্রকরা রানওয়ে, ট্যাক্সিওয়ে, অ্যাপ্রোন ও সংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত কিংবা চলাচলরত বিমান ও অন্যান্য যান্ত্রিক যান শনাক্ত করতে পারে। যাত্রীবাহী উড়োজাহাজে প্রয়োজনীয় শনাক্তকরণ প্রযুক্তি নির্মাণের সময় থেকেই সংযোজিত থাকে। তবে গাড়ি, বাস বা অন্য সেবা যান শনাক্ত করতে সেগুলোর গায়ে বিশেষ ভেহিকেল ট্র্যাকার স্থাপন করতে হয়। ইতোমধ্যে শতাধিক ভেহিকেল ট্র্যাকার ও সংশ্লিষ্ট শনাক্তকরণ ব্যবস্থা সংগ্রহ করা হয়েছে, যা প্রয়োজন অনুযায়ী আরও বাড়ানো সম্ভব বলে মনে করেন বিমানবন্দরের উচ্চপর্যায়ের এক কর্মকর্তা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার সুযোগ, মিলবে প্রায় ৭৫ লাখ টাকা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৩৮ পি.এম


যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার সুযোগ, মিলবে প্রায় ৭৫ লাখ টাকা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়া ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষের জন্য গ্র্যাজুয়েট ফেলোশিপের জন্য আবেদন আহ্বান করেছে। এই ফেলোশিপের আওতায় পিএইচডি পর্যায়ের নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা সর্বাধিক ৬০ হাজার ডলার অনুদান লাভ করবেন।

বাংলাদেশি মুদ্রায় এই পরিমাণ অর্থ প্রায় ৭৫ লাখ টাকার সমান। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), রোবোটিকস, স্বয়ংক্রিয় যানবাহন এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় নিয়ে গবেষণারত শিক্ষার্থীরা এই সুযোগের জন্য আবেদন করতে পারবেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য এই ফেলোশিপ উন্মুক্ত রয়েছে।

ফেলোশিপের সুযোগ-সুবিধা

এনভিডিয়ার এই ফেলোশিপে নির্বাচিত প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে সর্বাধিক ৬০ হাজার ডলার অনুদান প্রদান করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে এই অর্থের ব্যবস্থাপনা করা হবে।

অনুদানের অর্থ শিক্ষার্থীদের ভাতা, টিউশন ফি এবং বাধ্যতামূলক ফি পরিশোধে ব্যবহার করা যাবে। ফেলোশিপের অংশ হিসেবে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের এনভিডিয়ার নির্ধারিত গবেষণা কার্যালয়ে সরাসরি উপস্থিত হয়ে গ্রীষ্মকালীন ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করতে হবে। ফেলোশিপের শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগে এই ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করা আবশ্যক।

আবেদনের যোগ্যতা

এই ফেলোশিপে আবেদন করার জন্য প্রার্থীকে কম্পিউটার সায়েন্স, কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং, সিস্টেম আর্কিটেকচার, ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অথবা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পিএইচডি করতে হবে। আবেদনের পূর্বে পিএইচডির প্রথম বছর সম্পন্ন করা আবশ্যক। পাশাপাশি গবেষণাপত্র বা অভিসন্দর্ভের বিষয়ে সক্রিয়ভাবে গবেষণায় যুক্ত থাকতে হবে।

ফেলোশিপের নয় মাসের পুরস্কারকালজুড়ে আবেদনকারীকে পূর্ণকালীন পিএইচডি শিক্ষার্থী হিসেবে থাকতে হবে। এই সময়ের মধ্যে পিএইচডি সম্পন্ন করার পরিকল্পনা থাকলে আবেদন করা যাবে না।

নির্বাচিত প্রার্থীদের নির্ধারিত গবেষণা কার্যালয়ে সরাসরি উপস্থিত হয়ে গ্রীষ্মকালীন ইন্টার্নশিপ করার সক্ষমতা থাকতে হবে। এনভিডিয়ার পূর্ণকালীন কর্মী এবং প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের নিকটাত্মীয়রা এই ফেলোশিপের জন্য আবেদন করতে পারবেন না।

আবেদনে যেসব কাগজপত্র লাগবে

আবেদনের সঙ্গে সর্বাধিক দুই পৃষ্ঠার গবেষণার সারসংক্ষেপ অথবা অভিসন্দর্ভের প্রস্তাব জমা দিতে হবে। এর সঙ্গে তথ্যসূত্র যুক্ত করা যাবে, তবে তা দুই পৃষ্ঠার সীমার মধ্যে গণনা করা হবে না।

এছাড়া যোগাযোগের তথ্যসহ জীবনবৃত্তান্ত বা সিভি জমা দিতে হবে। আবেদনকারীর জন্য কমপক্ষে দুইটি সুপারিশপত্র লাগবে। এর মধ্যে একটি আবেদনকারীর গবেষণা তত্ত্বাবধায়ক বা অধ্যাপকের কাছ থেকে হতে হবে। সর্বাধিক তিনটি সুপারিশপত্র জমা দেওয়া যাবে। পাশাপাশি নির্ধারিত গ্রীষ্মকালীন ইন্টার্নশিপে সরাসরি অংশগ্রহণের বিষয়ে সম্মতি নিশ্চিত করতে হবে।

আবেদন করবেন যেভাবে

আগ্রহী প্রার্থীদের প্রথমে এনভিডিয়ার ফেলোশিপ আবেদন পোর্টালে প্রোফাইল তৈরি করতে হবে। এরপর প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করে গবেষণার সারসংক্ষেপ বা অভিসন্দর্ভের প্রস্তাব, সিভি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে হবে।

আবেদনের শেষ তারিখ : ১৫ জানুয়ারি ২০২৭।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঝিনাইদহের ৪টি মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র আট বছরেও চালু হয়নি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৩৮ পি.এম


ঝিনাইদহের ৪টি মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র আট বছরেও চালু হয়নি

ঝিনাইদহের চারটি মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের জন্য সুদৃশ্য বহুতল ভবন নির্মিত হয়েছে। কক্ষগুলোর মধ্যে দামি চিকিৎসা সরঞ্জাম, শয্যা ও জেনারেটর রয়েছে। এমনকি স্বাস্থ্যকর্মীদের থাকার জন্য প্রস্তুত ডরমেটরিও রয়েছে। তবে, যাদের জন্য এত আয়োজন, সেই ডাক্তারদের পদ বছরের পর বছর খালি রয়েছে।

প্রয়োজনীয় চিকিৎসকের অভাবের কারণে ঝিনাইদহের চারটি ১০ শয্যাবিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র আট বছর পেরিয়ে গেলেও পূর্ণাঙ্গ সেবা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। সরকারের কোটি কোটি টাকার অবকাঠামো পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে। চিকিৎসা না পেয়ে প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন প্রত্যন্ত অঞ্চলের অসচ্ছল গর্ভবতী নারী ও শিশুরা।

তথ্য অনুযায়ী, গ্রামীণ মানুষের দোরগোড়ায় মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে ঝিনাইদহের শৈলকুপার দুধসর ও কাঁচেরকোল গ্রাম, সদর উপজেলার দক্ষিণ কাষ্টসাগরা এবং কালীগঞ্জ পৌরসভা এলাকায় এসব হাসপাতাল নির্মাণ করা হয়।

২০১৮ সালে কেন্দ্রগুলোর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হলেও চিকিৎসক না থাকায় সরকারের এই জন কল্যাণ মুখী উদ্যোগ ভেস্তে গেছে। প্রসবকালীন জরুরি সেবা কিংবা সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের জন্য দরিদ্র মানুষকে অতিরিক্ত অর্থ ও সময় ব্যয় করে জেলা বা উপজেলা সদরের দূরবর্তী হাসপাতালে যেতে হচ্ছে।

কালীগঞ্জের ভুক্তভোগী বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে ভবন ও অবকাঠামো তৈরি করা হলেও চিকিৎসক ও জনবলের অভাবে তা তালাবদ্ধ বা নামমাত্র অবস্থায় পড়ে আছে।" গরিব মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত এসব কেন্দ্রে চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে ঝিনাইদহ পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ মোজাম্মেল করিম বুধবার বিকালে জানান, কেন্দ্রগুলো নিয়মিত চালু রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সংকট নিরসনে প্রতিটি কেন্দ্রে দুজন করে নতুন চিকিৎসক নিয়োগের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দ্রুত এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে অবহেলিত জনপদে স্বাস্থ্যসেবার মান বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%