১১:৫৪ পি.এম
ইসরায়েলের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী দল লিকুদ পার্টি সাম্প্রতিক সংসদ নির্বাচনে ব্যাপক জালিয়াতির অভিযোগ তুলেছে। দলটির দাবি, আরব দলগুলো ভোট ‘চুরি’ করেছে এবং এর পেছনে রয়েছে ব্যাপক অনিয়ম ও কারচুপি। এই ঘটনার পর লিকুদ অবিলম্বে একটি উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে আরব নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক দলগুলো, যেমন—রাম এবং জয়েন্ট লিস্ট, রেকর্ডসংখ্যক ভোট পেয়ে কনেসেটে (ইসরায়েলি পার্লামেন্ট) ইতিহাসের সর্বোচ্চ ১৯টি আসন অর্জনের পথে রয়েছে। আরব দলগুলোর এই অভাবনীয় উত্থান ইসরায়েলি রাজনীতিতে একটি বড় ধরনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। এর ফলে নেতানিয়াহুর ব্লকের পাশাপাশি তার বিরোধী দলগুলোও এককভাবে পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের লক্ষ্যে কাজ করছে।
ভোট জালিয়াতির অভিযোগ তুলে লিকুদ পার্টি জানিয়েছে, তারা পুলিশ, শিন বেত (অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা) এবং কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের (সিইসি) কাছে শত শত সাক্ষ্য-প্রমাণ জমা দিয়েছে। দলটির উত্থাপিত অভিযোগের মধ্যে রয়েছে—হাজার হাজার খামে নগদ অর্থ এবং নির্দিষ্ট দলের (রাম) ব্যালট স্লিপ বিতরণ। ভোটগ্রহণ কমিটির সদস্যদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও শারীরিক সহিংসতা, গোপন বুথের আড়ালে একাধিক ব্যক্তির একসঙ্গে প্রবেশ এবং জাল ভোটদান। মোট খামের সংখ্যা এবং মোট ভোটারদের সংখ্যার মধ্যে গরমিল, অবৈধ ভোটার মোবিলাইজেশন বা দলবদ্ধ করার সফটওয়্যারের অপব্যবহার।
আরও পড়ুন: ডা. জুবাইদা রহমান টোকিওতে হাসপাতাল ও জাদুঘর পরিদর্শন
এসব গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতে লিকুদ পার্টি তাৎক্ষণিকভাবে একটি “পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত” এবং কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের দ্রুত পদক্ষেপ দাবি করেছে।
তবে নির্বাচন কমিশন লিকুদ পার্টির এসব অভিযোগ শুরুতেই নাকচ করে দিয়েছে। ইসরায়েলের চ্যানেল ১২-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নির্বাচন কমিশনের এক শীর্ষ কর্মকর্তা চলমান নির্বাচনে বড় ধরনের জালিয়াতির দাবিকে উড়িয়ে দিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আরব দলগুলোর এই রেকর্ড সাফল্য এবং লিকুদ পার্টির পক্ষ থেকে উত্থাপিত জালিয়াতির অভিযোগ ইসরায়েলের পরবর্তী সরকার গঠন প্রক্রিয়াকে আরও বেশি জটিল ও অনিশ্চিত করে তুলেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন