প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইসরায়েলের সাম্প্রতিক নেসেট (সংসদ) নির্বাচনে কোনো পক্ষই এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারায় দেশটিতে তীব্র রাজনৈতিক সংকট ও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় ৮৫ শতাংশ ভোট গণনার পর দেখা যায়, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন দক্ষিণপন্থী ও অতি-ডানপন্থী জোট ৫৩টি আসন পেয়েছে, যা ১২০ সদস্যের পার্লামেন্টে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসন থেকে যথেষ্ট দূরে রয়েছে। অন্যদিকে, বিরোধী ‘পরিবর্তন ব্লক’ (Change Bloc)-ও জাদুকরী সংখ্যা থেকে পিছিয়ে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা আগামী দিনে ইসরায়েলের রাজনীতি কোন দিকে মোড় নিতে পারে, তার তিনটি সম্ভাব্য দৃশ্যপট উপস্থাপন করেছেন।
১. পরিবর্তন ব্লক এবং আরব দলগুলোর জোট
নির্বাচনে রেকর্ড ১৯টি আসন পেতে চলেছে ইসরায়েলের আরব দলগুলো। অতীতে কট্টর ডানপন্থী বা কেন্দ্র ডানপন্থী দলগুলো আরব দলগুলোর সাথে জোট বাঁধার তীব্র বিরোধিতা করলেও বর্তমান সমীকরণে সরকার গঠনে তারা মূল চাবিকাঠি হয়ে উঠতে পারে। ইসরায়েল ডেমোক্রেসি ইনস্টিটিউটের প্রধান ইয়োহান প্লেসনারের মতে, এটি গাণিতিক ও রাজনৈতিকভাবে একটি বিকল্প হতে পারে। তবে অক্টোবর ৭-পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতায় ইহুদি জনগণের মধ্যে ইসলামপন্থী দলের সাথে কাজ করার মানসিক প্রস্তুতি কতটা রয়েছে, তা নিয়ে বড় সংশয় রয়েছে। এছাড়া আরব দলগুলোকে বাইরে রেখে বাইরে থেকে সমর্থন নিয়ে একটি সংখ্যালঘু সরকার গঠনের বিকল্পও টেবিলে রয়েছে।
২. জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠন
আরেকটি সম্ভাব্য পথ হলো আদর্শগত বিরোধ ভুলে গিয়ে মধ্য-ডানপন্থী দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্যের ভিত্তিতে একটি সরকার গঠন করা। নেতানিয়াহু তার জোটের সঙ্গীদের সাথে নিয়ে পরিবর্তন ব্লকের কোনো একটি দলকে নিজের দিকে টেনে ঐক্যের সরকার গঠনের চেষ্টা করতে পারেন। অন্যদিকে পরিবর্তন ব্লকের পক্ষ থেকেও একটি ‘বাস্তবভিত্তিক ঐক্যের সরকার’ গঠনের চাপ থাকতে পারে, যেখানে আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নকারী চরম ডানপন্থী বা সামরিক বিল নিয়ে বিরোধিতাকারী অতি-ডানপন্থী কোনো দলের সদস্যদের বাইরে রাখা হতে পারে। তবে নেতানিয়াহুকে হটিয়ে পরিবর্তন আনাই যাদের মূল স্লোগান ছিল, সেই জোটের ভোটারদের কাছে এই ধরনের সমঝোতা কতটা গ্রহণযোগ্য হবে—তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
৩. আরেকটি নতুন নির্বাচন
চলমান নির্বাচনে ভোটারদের রেকর্ড উপস্থিতি (৭৭.৭%) দেখা গেলেও কোনো ব্লকের পক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় তৃতীয় আরেকটি নির্বাচনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। অতীতে ২০১৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ইসরায়েলকে একাধিক নির্বাচনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিল। বর্তমানের গভীর রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং রাজনৈতিক নেতাদের কঠোর অবস্থানের কারণে যদি কোনো সমঝোতা না হয়, তবে দেশটিকে আবারও নির্বাচনের মুখোমুখি হতে হতে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শেষ পর্যন্ত কোন দল বা জোট সরকার গঠন করবে, তা নির্ধারণ করতে কয়েক সপ্তাহ কিংবা মাসও লেগে যেতে পারে। সূত্র: দ্য টাইমস অব ইসরায়েল।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন