বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১২:৩১ এম
ইসরাইলের জাতীয় নির্বাচনের আংশিক ফলাফলে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটের চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। তবে, তার জোট পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় আসন নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে।
সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বুধবার (২৮ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা পর্যন্ত ৮৫ শতাংশ ভোট গণনা সম্পন্ন হয়েছে। এই গণনার ফলাফলে দেখা গেছে, নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি এবং তার কট্টর ডানপন্থি ও অতি-রক্ষণশীল ইহুদি মিত্ররা ১২০ আসনের নেসেটে ৫৩টি আসন পেতে যাচ্ছে। অন্যদিকে, আইজেনকোটের ইয়াশার পার্টি ও তার জোটের অন্য তিনটি দল ৪৮টি আসন পেতে পারে। দুই নেতা জানিয়েছেন, তারা সরকার গঠনের লক্ষ্যে জোট গঠনের প্রচেষ্টা চালাবেন।
এদিকে এবারের নির্বাচনে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো সবচেয়ে বড় চমক দেখিয়েছে। তারা রেকর্ড ১৯টি আসন পেতে যাচ্ছে বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ফলে, সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায় এসব দল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। তবে, ইহুদি দলগুলোর মধ্যে মাত্র একটি ছাড়া সব দলই আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সঙ্গে কাজ না করার অঙ্গীকার করেছে।
এখনো সেনাসদস্য ও কূটনীতিকদের ৪ লাখ ৩০ হাজার থেকে ৪ লাখ ৮০ হাজার ভোট গণনা করা হয়নি। ফলে, নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ হতে আরও এক থেকে দুই দিন লাগতে পারে, সংবাদ মাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে এমনটি উল্লেখ করা হয়েছে।
চূড়ান্ত ফলাফল নিশ্চিত হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা শুরু করবেন। এরপর, যার সরকার গঠনের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি বলে মনে করা হবে, তাকেই সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানাবেন তিনি। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে, সরকার গঠনের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে শেষ পর্যন্ত ইসরাইলে আবারও নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।
বুধবার জেরুজালেমে নিজের বাসভবনে এক বৈঠকে মঙ্গলবারের নির্বাচনে ৭৭ দশমিক ৭ শতাংশ ভোটার উপস্থিতির প্রশংসা করেন প্রেসিডেন্ট হারজোগ। গত দুই দশকের বেশি সময়ের মধ্যে এটি ছিল দেশটিতে সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতি।
তিনি বলেন, ‘এটি ইসরাইলি সমাজের জন্য গর্বের বিষয়। ইসরাইলে গণতন্ত্রের প্রতি মানুষের আকাঙ্ক্ষা কতটা গভীর, তা দেখে বিস্মিত হয়েছি।’
হারজোগ আরও জানান, আগামী সপ্তাহে তিনি নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল হাতে পাওয়ার আশা করছেন। এরপর তিনি সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা শুরু করবেন।
তিনি বলেন, ‘গতকালের নির্বাচনের পর আমাদের অবশ্যই সম্ভাব্য সবকিছু করতে হবে, যাতে আরেকটি নির্বাচন এড়ানো যায়। সবার কাছে আমার প্রত্যাশা, এখানে আলোচনায় আসা প্রত্যেকেই খোলা মন নিয়ে আসবেন।’
যদিও প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোট দুজনেই সরকার গঠনের দায়িত্ব পাওয়ার দাবি করেছেন।
ইসরাইলের তিনটি সম্প্রচারমাধ্যমের প্রকাশিত প্রাথমিক বুথফেরত জরিপে গাদি আইজেনকোটের ‘চেঞ্জ ব্লক’ নেসেটে ৫২ থেকে ৫৩টি আসন পেতে পারে বলে আভাস দেয়া হয়। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জোট ৫০টি আসন পেতে পারে। এই ফলের পর আইজেনকোট বলেন, জনগণ ‘পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছে’।
তেল আবিবে ইয়াশার পার্টির নির্বাচনী সদর দফতরে সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘ব্যর্থতার জোট জনগণের আস্থা হারিয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘জনগণের রায়কে একটি জায়নবাদী সরকারে রূপ দিতে আমি আমার জোটসঙ্গীদের সঙ্গে কাজ করব।’
এদিকে জেরুজালেমে লিকুদ পার্টির সদর দফতরে নেতানিয়াহু দাবি করেন, তার ডানপন্থি জোট ‘বড় ব্যবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা’ পেয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের একটি শক্তিশালী ডানপন্থি জাতীয় সরকার গঠন করতে হবে।’ নেতানিয়াহু আরও বলেন, ‘জায়নবাদবিরোধী আরব দলগুলোর ওপর নির্ভরশীল সরকার গঠন করে ইসরাইলকে বিপদের মুখে ফেলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’
সূত্র: বিবিসি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা কাস্টমস হাউস কর্তৃক উদ্ধার করা হয়েছে ১২ কেজি স্বর্ণের পেস্ট, যা জিন্সের প্যান্ট ও অন্তর্বাসের ভেতরে কাপড় দিয়ে সেলাই করে লুকানো ছিল। এই স্বর্ণের আনুমানিক বাজারমূল্য ২৪ কোটি টাকা, যা দুবাই থেকে আসা দুই যাত্রীর কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে আসা ওই দুই যাত্রীর কাছ থেকে স্বর্ণের পেস্টটি উদ্ধার করা হয়।
সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে দুবাই থেকে আসা এমিরেটসের ইকে-৫৮৬ ফ্লাইটে স্বর্ণ চোরাচালানের বিষয়ে গোপন তথ্য পায় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। এরপর বিমানবন্দরের বিভিন্ন স্থানে নজরদারি শুরু করে ঢাকা কাস্টমস হাউসের প্রতিরোধ দল।
এক পর্যায়ে, ইমিগ্রেশন শেষে ব্যাগেজ বেল্ট-২ এলাকায় আসেন দুই যাত্রী চেন লিউইউন (CHEN LIYUN) ও মো শিয়াওইউ (MO XIAOYU)। তাদের তল্লাশি করার পর জিন্সের প্যান্ট ও অন্তর্বাসের মধ্যে কাপড় দিয়ে সেলাই করে লুকানো নরম হলুদ রঙের স্বর্ণের পেস্ট পাওয়া যায়।
কাস্টমস কর্তৃপক্ষ জানায়, উদ্ধার করা স্বর্ণের পেস্টের মোট ওজন ভেজা অবস্থায় ১২ কেজি। প্রাথমিক বিশুদ্ধতা পরীক্ষায় এটি ২৪ ক্যারেটের স্বর্ণ বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২৪ কোটি টাকা।
এ ঘটনায় আটক স্বর্ণ ও দুই যাত্রীর বিরুদ্ধে কাস্টমস আইন, ২০২৩ এবং ফৌজদারি আইনে মামলা দায়েরের কার্যক্রম চলছে বলে জানিয়েছে ঢাকা কাস্টমস হাউস।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পুলিশ ফেনীতে এক সাংবাদিকের ওপর হামলা, পিস্তল দেখিয়ে হত্যার হুমকি এবং গলায় রশি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধের চেষ্টা করার অভিযোগে সাবেক পৌর কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা খালেদ খানকে আটক করেছে।
এই ঘটনা ঘটে বুধবার (২৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় শহরের পাঠানবাড়ি সড়ক এলাকায়।
জানা গেছে, খালেদ খান মহিপালে ছাত্র-জনতার ওপর গুলির ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার আসামি। বর্তমানে তিনি জামিনে আছেন। আহত সাংবাদিক জসিম ফরায়েজি জিটিভির ফেনী জেলা প্রতিনিধি, দৈনিক আলোকিত গণমাধ্যমের যুগ্ম সম্পাদক এবং সাংবাদিক ইউনিয়ন ফেনীর সাধারণ সম্পাদক। বর্তমানে তিনি ফেনী সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
জসিম ফরায়েজির অভিযোগ, বুধবার সন্ধ্যায় সাংবাদিক ইউনিয়ন ফেনী ও প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)-এর উদ্যোগে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণ কর্মশালার সমাপনী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে মোটরসাইকেলে বাসায় ফিরছিলেন। সন্ধ্যা ৬টার দিকে পাঠানবাড়ি সড়কে মোমিন জাহান মসজিদ অতিক্রম করার সময় শহীদ শহীদুল্লাহ কায়সার সড়কে প্রবেশের আগে একটি প্রাইভেট কার দিয়ে তাঁর মোটরসাইকেলের গতিরোধ করা হয়। এরপর গাড়ি থেকে সাবেক কাউন্সিলর খালেদ খান, এমরান হোসেন, চালক ও তাঁদের আরেক সহযোগী নেমে তাঁকে মারধর করেন। পরে তাঁকে টেনেহিঁচড়ে পাশের একটি গলির ভেতরে নিয়ে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। সেখানে তাঁকে ‘ভুয়া সাংবাদিক’ আখ্যা দিয়ে পুনরায় মারধর করা হয়। একপর্যায়ে খালেদ খান পিস্তল উঁচিয়ে গুলি করে হত্যার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগে আরো বলা হয়েছে, একপর্যায়ে খালেদ খান তার গলা চেপে ধরেন এবং এমরান হোসেন একটি রশি এনে তাঁর গলায় পেঁচিয়ে হত্যার চেষ্টা করেন। এতে শ্বাস নিতে কষ্ট হয় এবং প্রাণনাশের আশঙ্কা তৈরি হয়। পরে সহকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে উদ্ধার করেন। জসিম ফরায়েজি জানান, খবর পেয়ে পুলিশও সেখানে আসে।
জসিম ফরায়েজি সাংবাদিকতার দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে ফেনীর বিভিন্ন অপরাধ, সহিংসতা, অস্ত্র প্রদর্শন ও চাঁদাবাজির অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করে আসছেন। তিনি বলেন, খালেদ খানের বিরুদ্ধে মহিপালে ছাত্র হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। এসব বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে ক্ষুব্ধ হয়ে পরিকল্পিতভাবে তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়ে থাকতে পারে বলে তিনি ধারণা করছেন।
এই সাংবাদিক নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযোগে উল্লেখ করা পিস্তল, প্রাইভেট কার ও রশি উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন তিনি। এ ব্যাপারে জসিম ফরায়েজী ফেনী মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে জানা গেছে।
ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম খালেদ খানকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে কালের কণ্ঠকে জানান, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি মহিপালের ছাত্রহত্যা মামলাসহ একাধিক মামলার আসামি। অভিযোগের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ : প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের যদি উপযুক্ত দক্ষতা, প্রয়োজনীয় উপকরণ ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়, তবে তারা সমাজের মূলধারায় যুক্ত হয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন বলে মন্তব্য করেছেন নারী ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
মন্ত্রী এই মন্তব্যটি করেছেন আজ রাজধানীর মিরপুরে ব্লাইন্ড এডুকেশন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (বার্ডো) আয়োজিত বিশ্ব সাদাছড়ি নিরাপত্তা দিবস উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠিত এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে।
তিনি উল্লেখ করেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা যেন কোনোভাবেই পিছিয়ে না থাকেন, সেই লক্ষ্যে সরকারের একটি সুনির্দিষ্ট ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মপরিকল্পনা রয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, ‘করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ শুধুমাত্র একটি স্লোগান নয়; সরকার এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে। সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনায় সমাজের কোনো শ্রেণিকে বাদ রাখা হয়নি। অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা সরকারের মূল লক্ষ্য।
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, এসব শিক্ষার্থীর উপযুক্ত শিক্ষা নিশ্চিত করতে বিশেষায়িত শিক্ষকের সংখ্যা বৃদ্ধি, শিক্ষকদের পেশাগত মানোন্নয়নে প্রশিক্ষণ এবং প্রশিক্ষণকেন্দ্রের সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের সঠিকভাবে লালন-পালনে অভিভাবকদের জন্যও বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।
কর্মশালার মুক্ত আলোচনায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বৃদ্ধি এবং দেশে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ‘স্মার্ট সাদাছড়ি’ উৎপাদনের দাবি জানানো হয়। মন্ত্রী এ বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য, ১৯৬৪ সাল থেকে প্রতিবছর ১৫ অক্টোবর বিশ্ব সাদাছড়ি নিরাপত্তা দিবস পালিত হয়ে আসছে। বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ৪১ লাখ প্রতিবন্ধী নাগরিক রয়েছেন, যাদের মধ্যে প্রায় ৫ লাখ দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী রয়েছে বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
কর্মশালা শেষে মন্ত্রী উপস্থিত দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মধ্যে সাদাছড়ি বিতরণ করেন।
বার্ডোর নির্বাহী পরিচালক মো. সাইদুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদের নির্বাহী সচিব মো. কামরুজ্জামান দুলাল। এসময় ইউএনডিপি, সাইটসেভারসসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও জাতীয় উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা এবং এনজিওর প্রতিনিধি, বার্ডোর কর্মকর্তা-কর্মচারী, সদস্য ও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
‘বাবুই শিশুসাহিত্য উৎসব ২০২৬’ জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার ২৪ অক্টোবর রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু একাডেমি প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী এই উৎসবের কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত তিন শতাধিক শিশুসাহিত্যিক, লেখক, কবি ও শিশুদের কলকাকলিতে মুখর হয়ে ওঠে একাডেমি প্রাঙ্গণ, যা সাহিত্যপ্রেমীদের জন্য এক মিলনমেলায় পরিণত হয়।
জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই উৎসবের উদ্বোধন করেন একুশে পদক ও বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত বিশিষ্ট ছড়াকার আবু সালেহ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ভাষাবিজ্ঞানী, গবেষক ও বাংলা একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক মনসুর মুসা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত শিশুসাহিত্যিক ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ। সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন অরুণ কুমার বিশ্বাস। বিশিষ্ট ছড়াকার জুলফিকার শাহাদাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য প্রদান করেন উৎসব উদযাপন কমিটির সদস্য-সচিব কাদের বাবু।
উদ্বোধকের বক্তব্যে ছড়াকার আবু সালেহ বলেন, ‘শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য যেমন উন্মুক্ত মাঠ প্রয়োজন, তেমনি তাদের সুস্থ মনন গঠনে শৈশব থেকেই সাহিত্যের আস্বাদন অপরিহার্য।’
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক মনসুর মুসা শিশুদের উপযোগী মানসম্মত ভাষা প্রয়োগ এবং বর্তমান ডিজিটাল যুগে শিশুসাহিত্যের প্রাসঙ্গিকতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বিশেষ অতিথি হাসান হাফিজ বলেন, ‘সাহিত্যের আলো ছাড়া মানবিক প্রজন্ম গড়ে তোলা সম্ভব নয়; তাই সংবাদপত্র ও প্রকাশনা সংস্থাগুলোকে শিশুসাহিত্য চর্চায় আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।’ অন্যদিকে শিশুদের মধ্যে দেশপ্রেম জাগ্রত করার প্রতি গুরুত্ব দেন অরুণ কুমার বিশ্বাস।
অনুষ্ঠানের যুগ্ম-আহ্বায়ক খালেদুর রহমান জুয়েল ও বাচিকশিল্পী শাহারিয়া সিদ্দিকী সূচনার সঞ্চালনায় ‘বাংলাদেশের শিশুসাহিত্য: সংকট ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কবি ও শিশুসাহিত্যিক ইমরুল ইউসুফ।
দিনব্যাপী এই আয়োজনে শিশুদের জন্য ছবি আঁকা এবং গল্প ও ছড়া লেখার সৃজনশীল প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। মধ্যাহ্নবিরতির আগে দেশবরেণ্য ও তরুণ লেখকদের অংশগ্রহণে শিশুতোষ ছড়া ও কবিতা পাঠের আসর বসে। এছাড়া ছিল শিশুসাহিত্যিক খায়রুননেসা রিমির মনোমুগ্ধকর জাদু প্রদর্শনী।
উৎসবের সমাপনী পর্বে সৃজনশীল অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ২৪ জন লেখক ও সাহিত্যিকের হাতে তুলে দেওয়া হয় ‘বাবুই সেরা লেখক সম্মাননা ২০২৬’।
সম্মাননাপ্রাপ্ত ২৪ জন লেখক হলেন—জগলুল হায়দার, প্রিন্স আশরাফ, বিশ্বজিৎ দাস, রেজাউল করিম খোকন, রণজিৎ সরকার, খায়রুল বাবুই, আশিক মুস্তাফা, সফুরা খাতুন, আবুল কালাম আজাদ, আশরাফুজ্জামান বাবু, এনামূল হক পলাশ, কাজী তাহমিনা, তরুন ইউসুফ, সৈয়দা আঁখি হক, দীপ্তি সরকার, ফজলুল পলাশ, মুনীরুল ইসলাম, মিনহাজ ফয়সল, মোকাদ্দেস-এ-রাব্বী, রকিবুল ইসলাম, অপু বড়ুয়া, আপন অপু, শাম্মী তুলতুল, সাফওয়ান সামি দৃক।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ