ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

শরীয়তপুর সদরেই কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবি স্থানীয়দের


শরীয়তপুর সদরেই কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবি স্থানীয়দের

শরীয়তপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস জেলা সদর অথবা ঢাকা-শরীয়তপুর মহাসড়কসংলগ্ন এলাকায় স্থাপনের দাবিতে স্থানীয়রা বিক্ষোভ মিছিল ও স্মারকলিপি প্রদান করেছেন। বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে শরীয়তপুর সদর উপজেলা চত্বর থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়।

শরীয়তপুর বাসীর পক্ষে এই কর্মসূচির নেতৃত্ব দেন শরীয়তপুর সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদ টিপু। শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে অংশগ্রহণ করেন।

পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়টি সদর বা মহাসড়কসংলগ্ন এলাকায় স্থাপনের দাবিতে আন্দোলনকারীরা তিন দফায় কর্মসূচি পালন করেছেন। এর আগে ২৩ অক্টোবর বিকেলে ‘শরীয়তপুর জেলার সর্বস্তরের জনগণ’ ব্যানারে ঢাকা-শরীয়তপুর সড়কের গাগরীজোড়া এলাকায় এবং ২৭ অক্টোবর সকালে শরীয়তপুর পৌরসভা এলাকায় ‘জাগো শরীয়তপুর’ ব্যানারে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আরও পড়ুন: মদনে শিশু ধর্ষণ ও গর্ভধারণ মামলা, রায় ১১ নভেম্বর

শরীয়তপুর জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের অক্টোবরে শরীয়তপুরে একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে ‘শেখ হাসিনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়’ প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। ওই বছরের ১২ অক্টোবর শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে খসড়া আইন প্রণয়নের জন্য চিঠি দেয়। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন খসড়া আইন প্রণয়নের পর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, অর্থ বিভাগ, জননিরাপত্তা বিভাগ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মতামত নেওয়া হয়।

পরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের মাধ্যমে খসড়া আইনটি মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়। ২০২৩ সালের ৯ জানুয়ারি খসড়া আইনটি অনুমোদন করা হয়। ওই বছরের ১২ জুন মন্ত্রিসভার বৈঠকে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০২৩ চূড়ান্ত অনুমোদন পায়। তখন বিশ্ববিদ্যালয়টির নাম নির্ধারণ করা হয় 'বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, শরীয়তপুর'। একই বছর ১৩ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়টির গেজেট প্রকাশ করা হয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্র্বতী সরকার বিশ্ববিদ্যালয়টির নাম পরিবর্তন করে শরীয়তপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রাখে। ৮ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক হোসেন উদ্দিন শেখরকে বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেয়। ১৬ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক হোসেন উদ্দিন শেখর ও শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগমকে সঙ্গে নিয়ে ডামুড্যা উপজেলার পূর্ব ডামুড্যা এলাকায় জমি পরিদর্শন করেন শরীয়তপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য জাতীয় সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ। ওই জমিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস স্থাপনের ঘোষণা দেওয়া হয়। সেই এলাকা জেলা শহর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

আন্দোলনকারীরা দাবি করেছেন, যদি বিশ্ববিদ্যালয়টি শরীয়তপুর সদর কিংবা ঢাকা-শরীয়তপুর মহাসড়কসংলগ্ন এলাকায় স্থাপন করা হয়, তাহলে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত, আবাসন, চিকিৎসা ও নিরাপত্তার সুবিধা বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি উন্নত শিক্ষার পরিবেশ তৈরি ও ভালো শিক্ষক আকৃষ্ট করার সুযোগ থাকবে। তাঁদের মতে, দুর্গম এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হলে প্রত্যাশিত সুফল পাওয়া কঠিন হতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস কোথায় স্থাপন করা হবে, তা নিয়ে আলোচনা চলার মধ্যে সদর ও মহাসড়কসংলগ্ন এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবিতে কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

এ বিষয়ে শরীয়তপুর সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদ টিপু বলেন, "শরীয়তপুরের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়টি সদর অথবা ঢাকা-শরীয়তপুর মহাসড়কের পাশে যেকোনো সুবিধাজনক স্থানে করা হোক। পূর্ব ডামুড্যা এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগের প্রতিবাদে আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্মারকলিপি দিয়েছি। আমরা জানি ডামুড্যায় নার্সিং ইনস্টিটিউট ও বুড়িরহাটে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। কিন্তু এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ে আমাদের হতাশা রয়েছে। সদর এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হলে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা সহজ হবে। শরীয়তপুরবাসীর দাবির বিষয়টি সরকার বিবেচনা করবে।

আরও পড়ুন: গাইবান্ধায় নানা আয়োজনে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লক্ষ্মীপুরে মাটি ব্যবসায়ী খোরশেদ আলমকে গুলি করে হত্যা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:২৯ পি.এম


লক্ষ্মীপুরে মাটি ব্যবসায়ী খোরশেদ আলমকে গুলি করে হত্যা

লক্ষ্মীপুরে ব্যবসার কারণে খোরশেদ আলম (৫০) নামের এক মাটি ব্যবসায়ীকে প্রতিপক্ষের সদস্যরা গুলি করে হত্যা করেছে।

এই ঘটনা ঘটে বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে সদর উপজেলার পার্বতীনগর ইউনিয়নের দিলসাদপুর গ্রামের খাঁনের বাড়িতে।

খোরশেদ আলম ছিলেন দিলসাদপুর গ্রামের রুহুল আমিনের পুত্র। তিনি পেশায় মাটি ব্যবসায়ী ছিলেন। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, তার বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে।

নিহত খোরশেদের স্ত্রী আকলিমা আক্তার এবং মেয়ে প্রেমা আক্তার জানান, খোরশেদ মাটির ব্যবসা করতেন। দুপুরের দিকে তাকে মোরশেদ ও মজিদ নামের দুই ব্যক্তি বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে গুলির শব্দ শুনে তারা দৌড়ে গিয়ে জানতে পারেন ওয়ালিদ নামের এক প্রতিপক্ষ তাকে গুলি করেছে। তারা জানান, ওয়ালিদ পূর্বে মাটির ব্যবসা নিয়ে বিভিন্নভাবে তাকে হুমকি-ধমকি দিয়েছিল।

সদর হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার জহুরুল ইসলাম রনি বলেন, খোরশেদকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। তার শরীরে দুটি গুলির চিহ্ন রয়েছে।

লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ ফারভেজ জানান, খোরশেদ নামের এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মিরপুর টেস্টে সাদমানের ৯৯ রানে অপরাজিত, আলোকস্বল্পতায় শেষ প্রথম দিন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৩০ পি.এম


মিরপুর টেস্টে সাদমানের ৯৯ রানে অপরাজিত, আলোকস্বল্পতায় শেষ প্রথম দিন

মাঠ ছাড়ার সময় সাদমান ইসলাম মুখে চওড়া হাসি নিয়ে ছিলেন। তবে সেই হাসির মধ্যে তার ১ রান করার সুযোগ হারানোর বিষাদ স্পষ্ট ছিল। সাদমান কিভাবে রাতটি কাটাবেন, তা এখন যেন কোটি টাকার প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আলোকস্বল্পতার কারণে যখন আম্পায়াররা মিরপুর টেস্টের প্রথম দিনের খেলা শেষ করার সিদ্ধান্ত নেন, তখন সাদমান ৯৯ রানে অপরাজিত ছিলেন। তার সঙ্গী লিটন দাস তাকে পিঠ চাপড়ে সান্ত্বনা দিলেন।

এর আগে, আলোকস্বল্পতার কারণে ৫০ মিনিট খেলা বন্ধ ছিল। সাদমান তখন ৯৬ রানে অপরাজিত ছিলেন। রোদ দেখা দিলে খেলা আবার শুরু হলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৪ ওভার বোলিং করার সুযোগ পায়।

মিরপুরের আকাশ ছিল ঘুটঘুটে অন্ধকার। ছবি: মীর ফরিদ।

এরপর আবার মিরপুরের আকাশ অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে যায়। আম্পায়ার স্যাম নোগাইস্কি লাইট মিটার ব্যবহার করে দেখেন, খেলা চালিয়ে নেওয়ার জন্য মাঠে যথেষ্ট আলো নেই। তাই প্রথম দিনের খেলার সমাপ্তি ঘোষণা করতে বাধ্য হন। তার আগে বাংলাদেশ ৭৪ ওভারে ৩ উইকেটে ২১৩ রান তুলে দিনটি নিজেদের করে নেয়।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ৭৪ ওভারে ২১৩/৩ (সাদমান ৯৯*, হৃদয় ৪২ আহত, মুমিনুল ২৮, শান্ত ১৯, লিটন ১০*; ওয়ারিক্যান ২/৩৩, সিলস ১/১৪)।

*প্রথম দিন শেষে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিমান চলাচলের নিরাপত্তা জাতীয় অগ্রগতির বিনিয়োগ: প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৩০ পি.এম


বিমান চলাচলের নিরাপত্তা জাতীয় অগ্রগতির বিনিয়োগ: প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা

প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম বিমান চলাচলের নিরাপত্তাকে ব্যয় হিসেবে না দেখে, বরং এটি মানুষের জীবন, জাতীয় সম্পদ ও দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি সুরক্ষার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ হিসেবে গণ্য করার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি উল্লেখ করেছেন, নিরাপদ বিমান চলাচল শুধুমাত্র দুর্ঘটনা প্রতিরোধের বিষয় নয়; এটি অর্থনৈতিক অগ্রগতি, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ, যাত্রীদের আস্থা এবং এভিয়েশন খাতের টেকসই উন্নয়নের একটি মৌলিক ভিত্তি।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে অনুষ্ঠিত তিন দিনব্যাপী অষ্টম আন্তর্জাতিক ফ্লাইট সেফটি সেমিনার-২০২৬-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) যৌথভাবে এই সেমিনারের আয়োজন করেছে।

প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা আরও জানান, বাংলাদেশকে একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক এভিয়েশন হাবে পরিণত করতে বিমানবন্দর, টার্মিনাল ও এয়ার নেভিগেশন ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন অবকাঠামোর আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। এসব উদ্যোগের সুফল পেতে আধুনিক অবকাঠামোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তাব্যবস্থা, দক্ষ জনবল এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিমান চলাচলের নিরাপত্তাব্যবস্থাকে আধুনিকীকরণ করা আবশ্যক। এ জন্য প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার, নিয়মিত প্রশিক্ষণ, পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগের প্রয়োজন। একই সঙ্গে জাতীয় বিমান সংস্থা, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে অংশীদারিত্ব জোরদারের ওপরও তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন।

প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বলেন, নিরাপত্তা শুধু নিয়ম মেনে চলার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। প্রতিটি পর্যায়ে দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত গ্রহণ, ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।

সেমিনারের এবারের প্রতিপাদ্য ছিল ‘প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ ও দলগত কাজ: ভবিষ্যৎ উপযোগী নিরাপত্তা মানসিকতা গঠন’। এতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন, দলগত কার্যক্রম এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে ফ্লাইট সেফটি বা উড্ডয়ন নিরাপত্তা জোরদারের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি উদীয়মান ঝুঁকি মোকাবিলা, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং সর্বোত্তম চর্চা অনুসরণের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন বলেন, মানুষের জীবন ও মূল্যবান সম্পদের সুরক্ষা, কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তুতি বজায় রাখা এবং বিমান চলাচল খাতের টেকসই উন্নয়নে ফ্লাইট সেফটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উড্ডয়ন নিরাপত্তার শক্তিশালী সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। এ ক্ষেত্রে পেশাগত শৃঙ্খলা, সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও কার্যকর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

এই তিন দিনের সেমিনারে ২১টি দেশের সামরিক ও বেসামরিক বিমান চলাচল খাতের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। বাংলাদেশ ছাড়াও ব্রাজিল, চীন, মিসর, ইন্দোনেশিয়া, ইতালি, জর্ডান, মরক্কো, মিয়ানমার, পাকিস্তান, ফিলিপাইন, কাতার, কুয়েত, রাশিয়া, সুদান, তুরস্ক, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও জিম্বাবুয়ের বিমান বাহিনীর প্রতিনিধিরা এতে যোগ দেন। প্রথমবারের মতো মালয়েশিয়া, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এবং আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থার (আইএটিএ) প্রতিনিধিরাও অংশ নেন।

সেমিনারে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন, মানবিক উপাদান, সেফটি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম, মানুষ ও প্রযুক্তির সমন্বয় এবং ভবিষ্যৎ ফ্লাইট সেফটি ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন ও মতবিনিময় করেন।

এতে সশস্ত্র বাহিনী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিভিন্ন এয়ারলাইনস, ফ্লাইং একাডেমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর ও সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

সমাপনী বক্তব্যে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বলেন, আধুনিক প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার, দক্ষ জনবল তৈরি, কার্যকর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং সামরিক ও বেসামরিক বিমান চলাচল খাতের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর মাধ্যমে নিরাপত্তাব্যবস্থা আরো শক্তিশালী করতে হবে। নিরাপত্তায় বিনিয়োগ মানুষের জীবন ও জাতীয় সম্পদ রক্ষার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আস্থা অর্জন এবং দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অগ্রগতিতেও ভূমিকা রাখবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজশাহীতে সাঁওতাল শিশুদের মাতৃভাষায় শিক্ষাদান দেখে মুগ্ধ নরওয়ের প্রতিনিধি দল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৩১ পি.এম


রাজশাহীতে সাঁওতাল শিশুদের মাতৃভাষায় শিক্ষাদান দেখে মুগ্ধ নরওয়ের প্রতিনিধি দল

রাজশাহীতে আদিবাসী সাঁওতাল শিশুদের মাতৃভাষায় শিক্ষাদান পদ্ধতি ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য পরিদর্শন করে নরওয়ে থেকে আসা উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল অভিভূত হয়েছেন। এই প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন নরওয়ের ক্রিস্টিয়ানস্যান্ড মিউনিসিপ্যালিটির ডেপুটি মেয়র সেলথ বেকবান ও ডাগ ভিগে, এবং এতে ৬ সদস্য রয়েছেন। বর্তমানে তারা রাজশাহী সফর করছেন।

স্ট্রোমি ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ এবং রাজশাহী ক্রিস্টিয়ানস্যান্ড ফ্রেন্ডশিপ কমিটির যৌথ উদ্যোগে এই সফরের আয়োজন করা হয়েছে। সফরের অংশ হিসেবে বুধবার (২৮ অক্টোবর) তারা পরিবেশ ও সমাজ উন্নয়নমূলক সংস্থা ‘ন্যাশনাল এজেন্সি ফর গ্রিন রিভ্যূলেশন’ এর বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।

প্রতিনিধি দলটি এদিন সকালে রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার শিমলা দীঘিপাড়া বহুভাষিক শিক্ষা স্কুলে পৌঁছালে সেখানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। গ্রামের সাঁওতাল জনগোষ্ঠী ও শিক্ষার্থীরা ঐতিহ্যবাহী সাঁওতাল নাচ ও গানের মাধ্যমে বিদেশি অতিথিদের স্বাগত জানান। সাঁওতাল রীতি অনুযায়ী অতিথিদের পা ধুইয়ে বরণ করে নেওয়া হয়।

বরণ পর্ব শেষে প্রতিনিধি দলের সদস্যরা আদিবাসী ছেলে-মেয়েদের মাতৃভাষায় শিক্ষা গ্রহণের পদ্ধতি সরাসরি শ্রেণিকক্ষে বসে পর্যবেক্ষণ করেন। তারা প্রতিটি শিক্ষার্থীর সাথে কথা বলেন এবং তাদের পড়াশোনার খোঁজখবর নেন। একটি প্রান্তিক জাতিগোষ্ঠীর শিশুদের জন্য এমন ব্যতিক্রমী ও কার্যকরী শিক্ষাদানের ব্যবস্থা দেখে অতিথিরা অত্যন্ত আনন্দিত ও মুগ্ধ হন।

পরিদর্শন শেষে প্রতিনিধি দলের সদস্যরা মন্তব্য করেন, "একটি জাতির সবচেয়ে বড় পরিচয় ও সম্পদ হলো তার ভাষা। মুখের ভাষা যদি হারিয়ে যায়, তবে সেই জাতিও একদিন পৃথিবী থেকে হারিয়ে যাবে।" সাঁওতাল শিশুরা যে তাদের নিজের ভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করতে পারছে, তা সত্যি প্রশংসনীয় এবং এটি তাদের সংস্কৃতিকে টিকিয়ে রাখতে অনন্য ভূমিকা রাখবে। পরিদর্শন শেষে অতিথিরা শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে গ্রুপ ছবিতে অংশ নেন।

এনএজিআর-এর নির্বাহী পরিচালক জনাব স্টেফান সরেন এই পরিদর্শনের বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, "আমাদের নিজস্ব ভাষায় পরিচালিত এই ব্যতিক্রমী স্কুলটি পেয়ে স্থানীয় সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর মানুষ অত্যন্ত খুশি ও কৃতজ্ঞ।" এনএজিআর দ্বারা পরিচালিত ব্যতিক্রম বহুভাষিক শিক্ষা স্কুল ২০ পরিচালনা করছে। মেননাইট সেন্ট্রাল কমিটির অর্থায়নে ১৫টি এমএলই স্কুল ও ষ্ট্রমে ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ এবং খ্রিষ্টিয়ানসেন্ড রাজশাহী ফ্রেন্ডশীপ কমিটি দ্বারা মোট পাঁচটি এমএলই স্কুল পরিচালনা করছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%