প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম বিমান চলাচলের নিরাপত্তাকে ব্যয় হিসেবে না দেখে, বরং এটি মানুষের জীবন, জাতীয় সম্পদ ও দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি সুরক্ষার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ হিসেবে গণ্য করার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি উল্লেখ করেছেন, নিরাপদ বিমান চলাচল শুধুমাত্র দুর্ঘটনা প্রতিরোধের বিষয় নয়; এটি অর্থনৈতিক অগ্রগতি, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ, যাত্রীদের আস্থা এবং এভিয়েশন খাতের টেকসই উন্নয়নের একটি মৌলিক ভিত্তি।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে অনুষ্ঠিত তিন দিনব্যাপী অষ্টম আন্তর্জাতিক ফ্লাইট সেফটি সেমিনার-২০২৬-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) যৌথভাবে এই সেমিনারের আয়োজন করেছে।
প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা আরও জানান, বাংলাদেশকে একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক এভিয়েশন হাবে পরিণত করতে বিমানবন্দর, টার্মিনাল ও এয়ার নেভিগেশন ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন অবকাঠামোর আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। এসব উদ্যোগের সুফল পেতে আধুনিক অবকাঠামোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তাব্যবস্থা, দক্ষ জনবল এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিমান চলাচলের নিরাপত্তাব্যবস্থাকে আধুনিকীকরণ করা আবশ্যক। এ জন্য প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার, নিয়মিত প্রশিক্ষণ, পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগের প্রয়োজন। একই সঙ্গে জাতীয় বিমান সংস্থা, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে অংশীদারিত্ব জোরদারের ওপরও তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন।
প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বলেন, নিরাপত্তা শুধু নিয়ম মেনে চলার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। প্রতিটি পর্যায়ে দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত গ্রহণ, ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।
সেমিনারের এবারের প্রতিপাদ্য ছিল ‘প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ ও দলগত কাজ: ভবিষ্যৎ উপযোগী নিরাপত্তা মানসিকতা গঠন’। এতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন, দলগত কার্যক্রম এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে ফ্লাইট সেফটি বা উড্ডয়ন নিরাপত্তা জোরদারের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি উদীয়মান ঝুঁকি মোকাবিলা, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং সর্বোত্তম চর্চা অনুসরণের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন বলেন, মানুষের জীবন ও মূল্যবান সম্পদের সুরক্ষা, কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তুতি বজায় রাখা এবং বিমান চলাচল খাতের টেকসই উন্নয়নে ফ্লাইট সেফটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উড্ডয়ন নিরাপত্তার শক্তিশালী সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। এ ক্ষেত্রে পেশাগত শৃঙ্খলা, সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও কার্যকর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
এই তিন দিনের সেমিনারে ২১টি দেশের সামরিক ও বেসামরিক বিমান চলাচল খাতের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। বাংলাদেশ ছাড়াও ব্রাজিল, চীন, মিসর, ইন্দোনেশিয়া, ইতালি, জর্ডান, মরক্কো, মিয়ানমার, পাকিস্তান, ফিলিপাইন, কাতার, কুয়েত, রাশিয়া, সুদান, তুরস্ক, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও জিম্বাবুয়ের বিমান বাহিনীর প্রতিনিধিরা এতে যোগ দেন। প্রথমবারের মতো মালয়েশিয়া, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এবং আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থার (আইএটিএ) প্রতিনিধিরাও অংশ নেন।
সেমিনারে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন, মানবিক উপাদান, সেফটি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম, মানুষ ও প্রযুক্তির সমন্বয় এবং ভবিষ্যৎ ফ্লাইট সেফটি ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন ও মতবিনিময় করেন।
এতে সশস্ত্র বাহিনী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিভিন্ন এয়ারলাইনস, ফ্লাইং একাডেমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর ও সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সমাপনী বক্তব্যে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বলেন, আধুনিক প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার, দক্ষ জনবল তৈরি, কার্যকর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং সামরিক ও বেসামরিক বিমান চলাচল খাতের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর মাধ্যমে নিরাপত্তাব্যবস্থা আরো শক্তিশালী করতে হবে। নিরাপত্তায় বিনিয়োগ মানুষের জীবন ও জাতীয় সম্পদ রক্ষার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আস্থা অর্জন এবং দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অগ্রগতিতেও ভূমিকা রাখবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন