০২:৪৮ পি.এম
সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সে টাকা গণনার সময় প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে লেখা একটি চিঠি উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) মাজারের দানবাক্সের টাকা গণনার প্রক্রিয়ার সময় টাকার স্তূপের মধ্যে চিঠিটি পাওয়া যায়।
চিঠিতে বিএনপির সদস্য ও কর্মী হওয়ার জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং বয়স সংক্রান্ত নির্দিষ্ট শর্ত প্রবর্তনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: কালিয়াকৈরে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তার ৫ লাখ টাকা ছিনতাই
তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বিএনপির সদস্য হতে হলে এসএসসি পাস অথবা জিপিএ ২.৫ এবং কর্মী হতে হলে এইচএসসি পাসের পাশাপাশি জিপিএ ৩.৫ বাধ্যতামূলক করা উচিত। একই সঙ্গে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার আগে কাউকে বিএনপির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ না দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।
চিঠির নিচে প্রেরকের নাম উল্লেখ করা হয়নি, তবে সেখানে বলা হয়েছে যে, তিনি ২০১১ সালে রাজনীতিতে যুক্ত হন এবং পরে রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ান। চিঠির শেষে ইংরেজিতে লেখা ছিল, ‘I want the change to come through you.....’।
এদিকে, শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টায় দানবাক্সগুলো খোলা হয়। এরপর সকাল ১০টা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দানের টাকা গণনার কার্যক্রম শুরু হয়।
জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, মাজার পরিচালনা কমিটির দায়িত্বশীল প্রতিনিধি এবং উপস্থিত ম্যাজিস্ট্রেটের তত্ত্বাবধানে এই গণনা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
আরও পড়ুন: সুরঞ্জিতের নেতৃত্বে অভিজ্ঞতা নিয়ে আসিফ নজরুল ও সালাহউদ্দিন আহমদের মতভেদ
এর আগে, গত ১৯ সেপ্টেম্বর চতুর্থবারের মতো মাজারের দানবাক্সগুলো খোলা হয়েছিল। সে হিসেবে প্রায় ৩৫ দিন পর আবারও দানের টাকা গণনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘদিনের প্রথা ভেঙে গত ২২ জুন প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে মাজারের দানবাক্সের টাকা গণনা শুরু হয়। এরপর ১১ জুলাই, ১৫ আগস্ট ও ১৯ সেপ্টেম্বর দানবাক্স ও ডেগ খুলে চার দফায় মোট ২ কোটি ২৯ লাখ টাকারও বেশি নগদ অর্থ পাওয়া যায়।
এবার দীর্ঘ পূজার ছুটিতে মাজারে দর্শনার্থী ও ভক্তদের উপস্থিতি বেশি থাকায় আগের তুলনায় রেকর্ড পরিমাণ অর্থ জমা পড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে গত ২৩ সেপ্টেম্বর গঠিত কমিটির সভায় দানবাক্সের অর্থ নিয়মিত গণনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের নেতৃত্বে গঠিত ওই কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দানের অর্থের ৩৫ শতাংশ মাজারের উন্নয়নকাজে ব্যয় করা হবে। বাকি ৬৫ শতাংশ ব্যয় হবে মাজারের দৈনন্দিন খরচ এবং কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধে।
আরও পড়ুন: মেঘনা নদীতে নিষেধাজ্ঞাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে চলছে মা ইলিশ নিধনের মহোৎসব
নিয়মিত গণনা ও অর্থ ব্যয়ের নির্ধারিত নীতিমালার মাধ্যমে মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন