ঢাকা শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

গোলাম পরওয়ার মিথ্যাচার ও অপপ্রচার করছেন : রিজভী


গোলাম পরওয়ার মিথ্যাচার ও অপপ্রচার করছেন : রিজভী

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, তিনি মিথ্যাচার ও অপপ্রচারের মাধ্যমে সরকারকে বিব্রত করার চেষ্টা করছেন। এই অভিযোগটি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাজধানীর ফকিরাপুলে ডেঙ্গু সচেতনতায় লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে উত্থাপন করেন।

রিজভী মন্তব্য করেন যে, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে ক্ষমতাচ্যুত ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের আঁতাত রয়েছে। তিনি জানান, বিএনপি ইতোমধ্যে এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও তথ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করেছে।

এ সময় বিএনপির এই নেতা জনগণকে সতর্ক করে বলেন, দেশে নতুন করে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা হলে জনগণ তা মেনে নেবে না।

আরও পড়ুন: ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় ৬৮৪ জন গ্রেপ্তার

তিনি আরও বলেন, সরকার বিরোধীদের অপপ্রচার ও উসকানিতে কান না দিয়ে জনগণের কল্যাণে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে।

সরকারের অর্জন তুলে ধরে রিজভী বলেন, বিশ্ব ক্ষুধা সূচকে প্রতিবেশী ভারত ও পাকিস্তানের তুলনায় বাংলাদেশ ভালো অবস্থানে রয়েছে। এটি সরকারের সঠিক নীতির প্রতিফলন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিতে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ সভাপতি ডা. জাহিদুর রহমান, ছাত্রদলের সহ সভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়ালসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: রাশেদ খাঁন: দলের প্রধান নেতা চুমু দেয়ার সংস্কৃতি চালু করেছেন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সড়ক-ফুটপাতে হকার বসলেই মামলা ও মালামাল ক্রোক: ডিএসসিসি প্রশাসক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৪৯ পি.এম


সড়ক-ফুটপাতে হকার বসলেই মামলা ও মালামাল ক্রোক: ডিএসসিসি প্রশাসক

অনুরোধের পালা শেষ হয়েছে; সড়ক ও ফুটপাতে অবৈধ দোকান বসানোর ক্ষেত্রে এখন থেকে সরাসরি মামলা দায়ের ও মালামাল ক্রোক করা হবে বলে কঠোর সতর্কতা জারি করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক আয়োজিত সাপ্তাহিক ‘ক্লিনিং ডে’ উপলক্ষে বিশেষ মশক নিধন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ডিএসসিসি প্রশাসক উল্লেখ করেন, ‘রাস্তায় যানজট, যত্রতত্র ময়লা ফেলা এবং পথচারীদের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টির জন্য অবৈধ হকার ও ভাসমান দোকানসমূহ বহুলাংশে দায়ী। ঢাকাবাসী তথা সিটি কর্পোরেশন এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি চায়। তাই মানবিকতার দোহাই দিয়ে রাস্তা ও ফুটপাত দখলের কোনো সুযোগ নেই। ডিএসসিসি নির্ধারিত নিয়মের বাইরে দোকান বসালেই মালামাল জব্ধ ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

নিউমার্কেট এলাকার সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত করার বিষয়ে তিনি জানান, আগামী সপ্তাহেই সেখানে পুনরায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, কোনো অবস্থাতেই সড়কে হকার বসতে দেওয়া হবে না।

ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিবেশ রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রশাসক বলেন, ‘ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে পরিচ্ছন্নতার বিকল্প নেই। কোথাও তিন দিনের বেশি পানি জমতে দেওয়া যাবে না।’ রাজধানীর পরিবেশ রক্ষা, বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ ও যানজট নিরসনে পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির পাশাপাশি সচেতনতামূলক র‍্যালি ও প্রচারণা অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

অভিযানকালে মালিবাগে সিআইডি কার্যালয়ের সামনে থেকে সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে ডিএসসিসি প্রশাসক জানান, জনস্বার্থে সিআইডি কর্তৃপক্ষের অনুরোধে এসটিএসটি স্থানান্তর করে সেখানে পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি ওই এলাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আরেকটি নতুন এসটিএস নির্মাণের কাজ চলছে, যা চলতি মাসের মধ্যেই সম্পন্ন হবে।

উল্লেখ্য, ‘ক্লিনিং ডে’ উপলক্ষে আয়োজিত পরিচ্ছন্নতা অভিযানটি সিআইডি কার্যালয় থেকে শুরু হয়ে শান্তিনগর, কাকরাইল ও নয়াপল্টন হয়ে ফকিরাপুলে গিয়ে শেষ হয়। পথিমধ্যে ডিএসসিসি প্রশাসক জমে থাকা বর্জ্য পরিষ্কার ও অবৈধ দোকান অপসারণের কাজ সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।

দিনব্যাপী এই কর্মসূচিতে সিটি কর্পোরেশনের নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন কর্মীদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন এবং ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে মাইকিং ও সচেতনতামূলক র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা : কিমের নির্দেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৫০ পি.এম


বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা : কিমের নির্দেশ

ঢাকা, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬ : উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী গড়ে তোলার লক্ষ্যে সেনাদের প্রশিক্ষণ জোরদারের নির্দেশনা প্রদান করেছেন। পিয়ংইয়ংয়ে অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী কোম্পানি কমান্ডারদের সম্মেলনে তিনি এই নির্দেশনা দেন।

শনিবার দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এই তথ্য প্রকাশ করে।

খবরটি বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

কিমের এই আহ্বান এমন এক সময়ে এসেছে, যখন আন্তঃকোরীয় সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে। চলতি সপ্তাহে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী সীমান্ত পরিস্থিতি স্পষ্ট করার জন্য উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে।

এর আগে, একটি বিস্ফোরণের ঘটনায় উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়, যা ব্যাপক সামরিক নিরাপত্তাবেষ্টিত অসামরিকীকৃত অঞ্চলে (ডিএমজেড) ঘটে।

১৯৫০ থেকে ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত চলা কোরীয় যুদ্ধের সমাপ্তি যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে ঘটেছিল, কোনো শান্তিচুক্তির মাধ্যমে নয়। ফলে, দুই কোরিয়া এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধাবস্থায় রয়েছে।

উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএ জানায়, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার পিয়ংইয়ংয়ে অনুষ্ঠিত সম্মেলনের উদ্দেশ্য ছিল ‘বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলার প্রশিক্ষণ পরিকল্পনা’ তৈরি করা।

কিম আরও উল্লেখ করেন, উত্তর কোরিয়ার সেনাবাহিনীর প্রতিটি কোম্পানিকে সামরিক ও প্রযুক্তিগত দিক থেকে শক্তিশালী এবং দক্ষ এলিট ইউনিটে পরিণত করতে হবে, এবং সেগুলোকে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধক্ষমতাসম্পন্ন বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

কেসিএনএ জানায়, গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ক্ষমতাসীন দলের কংগ্রেসের পর এটি ছিল পুরো সেনাবাহিনীর প্রতিনিধিদের নিয়ে প্রথম এ ধরনের সমাবেশ।

ওই কংগ্রেসে কিম প্রচলিত সামরিক শক্তি আরও বাড়ানোর আহ্বান জানান এবং পারমাণবিক অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়নের পরিকল্পনা পুনর্ব্যক্ত করেন।

উত্তর কোরিয়া সম্প্রতি একের পর এক নতুন অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘নতুন ধরনের’ নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম টর্পেডো ব্যবস্থা এবং মধ্যপাল্লার হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র। দেশটির দাবি, উভয় অস্ত্রেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।

জাতিসংঘের দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও উত্তর কোরিয়া আইনগতভাবে নিজেদের পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

দেশটির সরকার বারবার ঘোষণা করেছে, তাদের পারমাণবিক অস্ত্রভান্ডার স্থায়ী এবং এ অবস্থান থেকে তারা সরে আসবে না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সৌদির বিরুদ্ধে এপস্টেইন নথি অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে হুথিরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৫১ পি.এম


সৌদির বিরুদ্ধে এপস্টেইন নথি অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে হুথিরা

সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পাশাপাশি, প্রচারযুদ্ধের নতুন কৌশল গ্রহণ করেছে ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী। প্রয়াত মার্কিন যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের নথি তাদের হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। সৌদি রাজপরিবারের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা এপস্টেইনের ব্যক্তিগত দ্বীপে পবিত্র কাবা শরিফের গিলাফ পাঠিয়েছিলেন—এমন প্রতিবেদন সামনে এনে সৌদি নেতৃত্বের ধর্মীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে তারা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গান, ভিডিও, বক্তব্য ও নানা প্রচারসামগ্রীর মাধ্যমে এ বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছে গোষ্ঠীটি।

ইয়েমেনের বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে হুথিরা। পশ্চিমা সমর্থিত ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন দেয় সৌদি আরব। সেই সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করছে হুথিরা। নিজেদের প্রচারে তারা দুর্নীতিগ্রস্ত বিদেশি প্রভাবের বিরুদ্ধে ইসলামের রক্ষক হিসেবে নিজেদের তুলে ধরে। বর্তমানে এপস্টেইনকে কেন্দ্র করে প্রকাশিত তথ্য ব্যবহার করে সৌদি শাসকদের বিরুদ্ধে ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ তোলার চেষ্টা করছে তারা।

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এপস্টেইন-সংক্রান্ত কিছু নথি প্রকাশ করার পর বিষয়টি হুথিদের প্রচারে গুরুত্ব পায়। এসব নথি নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি রাজদরবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কাবা শরিফের গায়ে ব্যবহৃত গিলাফ এপস্টেইনের ব্যক্তিগত দ্বীপে পাঠিয়েছিলেন। তবে এ বিষয়ে হুথিদের অভিযোগের জবাব দেয়নি সৌদি কর্তৃপক্ষ।

গত মাসে সৌদি আরব অভিযোগ করেছে, হুথিরা মুসলমানদের পবিত্র নগরী মক্কা লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষের ভাষায়, মুসলমানদের উসকে দেওয়ার উদ্দেশ্যে করা এ হামলা ছিল ‘লজ্জাজনক’। হুথিরা অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

এরপর সৌদি আরবের বিরুদ্ধে পাল্টা প্রচারে কাবার গিলাফের প্রসঙ্গ সামনে আনে হুথিরা। গোষ্ঠীটির প্রেসিডেন্ট মাহদি আল-মাশাত তাদের নিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, ‘যারা এপস্টেইনকে কাবার গিলাফ দিয়েছিল, তারাই মক্কায় হামলা চালাচ্ছে।’

আল-মাশাতের এই বক্তব্যের নানা সংস্করণ ছড়িয়ে পড়ে হুথিদের প্রচার নেটওয়ার্কে। এর মধ্যে ছিল ২ লাখ ৭০ হাজারের বেশি অনুসারী থাকা এক ইয়েমেনি কৌতুকশিল্পীর ভিডিও ভাষ্য এবং দেশটির এক লোকসংগীতশিল্পীর গান।

ওয়াশিংটনভিত্তিক ঝুঁকি বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান বাশা রিপোর্টের প্রতিষ্ঠাতা ও ইয়েমেনবিষয়ক বিশ্লেষক মোহাম্মদ আল-বাশা বলেন, আন্তর্জাতিক ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে হুথিরা খুব ভালোভাবে অবগত। দুই দশকের বেশি সময় ধরে তিনি গোষ্ঠীটির প্রচার কার্যক্রমের পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করছেন।

আল-বাশার মতে, একসময় হুথিদের প্রচার কার্যক্রম মূলত দুজনের একটি ছোট দলের ওপর নির্ভরশীল ছিল। এখন তা টেলিভিশন চ্যানেল, ওয়েবসাইট, বেতার, সংবাদপত্র, ই-মেইল প্রচার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক অ্যাকাউন্ট নিয়ে একটি সংগঠিত ব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে। এ ছাড়া সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রভাবশালীদের একটি নেটওয়ার্কও তাদের প্রচারসামগ্রী ছড়িয়ে দেয়। এদের সবাই যে অর্থের বিনিময়ে কাজ করেন, তা নয়; অনেকে হুথি ও ইরানের মিত্র গোষ্ঠীগুলোর আদর্শের সঙ্গে একমত।

এপস্টেইনকে ঘিরে প্রচারের লক্ষ্য

ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর মতো হুথিরাও এপস্টেইনকে নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ দেখায় বলে মনে করেন আল-বাশা। তার মতে, এপস্টেইনের নাম ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে দুর্নীতিগ্রস্ত হিসেবে তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে ইহুদি ও জায়নবাদীরা বিশ্ব পরিচালনা করে—এমন ইহুদিবিদ্বেষী ষড়যন্ত্রতত্ত্ব ছড়াতেও তার নাম ব্যবহার করা হয়।

অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের পাচারের অভিযোগে ফৌজদারি মামলার মুখে ২০১৯ সালে নিউইয়র্কের কারাগারে এপস্টেইনের মৃত্যু হয়। ওই সময় কর্মকর্তারা বলেছিলেন, তিনি আত্মহত্যা করেছেন। হুথি নেতা আবদুল মালিক আল-হুথির বক্তৃতায় প্রায়ই এপস্টেইনের প্রসঙ্গ আসে।

চলতি মাসে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে ইসরাইলে হামলার বর্ষপূর্তি উপলক্ষে দেওয়া বক্তব্যেও তিনি এপস্টেইনের কথা বলেন। ওই হামলার পর গাজায় যুদ্ধ শুরু হয়। গত সেপ্টেম্বরে ইয়েমেনের রাজধানী সানা ২০১৪ সালে হুথিদের দখলে নেওয়ার ঘটনা নিয়ে দেওয়া বক্তব্যেও এপস্টেইনের প্রসঙ্গ তোলেন তিনি।

গত ফেব্রুয়ারিতে এক ভাষণে আবদুল মালিক আল-হুথি বলেন, ‘এপস্টেইনের নথিগুলোকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা দরকার। এগুলো এমন এক জায়নবাদী প্রজননকেন্দ্রের চিত্র তুলে ধরে, যেখানে নেতা ও অভিজাতদের তৈরি করা হয়।’

লন্ডনভিত্তিক ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক ডায়ালগের গবেষক মুস্তাফা আয়াদ বলেন, হুথিরা সৌদি আরবের সঙ্গে নিজেদের সংঘাতকে যুক্তরাষ্ট্র ও ‘এপস্টেইন শ্রেণির’ বিরুদ্ধে ইরান-সমর্থিত বৃহত্তর লড়াইয়ের অংশ হিসেবে তুলে ধরছে। সৌদি নেতাদেরও তারা এই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত করছে।

হুথিদের মূল স্লোগানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে মৃত্যুর আহ্বান রয়েছে। আয়াদের মতে, ইসলাম ধর্মের জন্মভূমি সৌদি আরবের শাসকদের এই দুই শত্রুর সঙ্গে একই কাতারে দাঁড় করিয়ে হুথিরা নিজেদের বক্তব্য জোরালো করতে চায়। সৌদি আরবের সঙ্গে ইসরাইলের কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকলেও প্রচারে দেশটিকে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের দীর্ঘদিনের বোমা হামলায় মার্কিন অস্ত্র ও সামরিক সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।

সৌদি যুবরাজকে লক্ষ্য করে প্রচার

হুথিদের প্রচারের বড় লক্ষ্য সৌদি আরবের কার্যত শাসক যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা। আয়াদের ভাষায়, এখন তারা খুব নির্দিষ্টভাবে সৌদি আরবকে লক্ষ্যবস্তু করছে এবং যুবরাজের ভাবমূর্তি নষ্ট করার দিকে প্রায় পুরো মনোযোগ দিচ্ছে।

ইয়েমেনি কৌতুকশিল্পী মুস্তফা আল-মুমর আগে হুথিদের সমালোচনা করেছিলেন এবং এ কারণে কারাগারেও ছিলেন। ২০২৩ সালে মুক্তি পাওয়ার পর থেকে তার বক্তব্য হুথিদের প্রচারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে তার সাম্প্রতিক কাজের পেছনে কী কারণ রয়েছে কিংবা তিনি চাপের মুখে এসব করছেন কি না, তা স্পষ্ট নয়।

বর্তমান সংঘাতে তিনি সৌদি আরব ও যুবরাজ মোহাম্মদের সমালোচনা করে ধারাবাহিকভাবে গান, ভিডিও ভাষ্য ও ছোট নাটক তৈরি করেছেন। জুলাইয়ে প্রকাশিত একটি মিউজিক ভিডিওতে তাকে সৌদি যুবরাজের চরিত্রে দেখা যায়। সেখানে হুথিদের হামলার খবর শুনে যুবরাজকে ভীত হয়ে গান গাইতে দেখা যায়। ভিডিওর শেষে তাকে নিজের প্রাসাদে বন্দুকের মুখে আটক হতে দেখা যায়। ভিডিওটি ৩ লাখের বেশি বার দেখা হয়েছে।

সৌদি আরবের সামরিক হস্তক্ষেপের ক্ষয়ক্ষতিও হুথিদের প্রচারের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন দিতে ২০১৫ সালে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট দেশটিতে বোমা হামলা শুরু করে। এই অভিযান বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকটের জন্ম দেয়। সহিংসতা, ক্ষুধা ও রোগে ইয়েমেনে কয়েক লাখ মানুষের মৃত্যুতে যুদ্ধটি ভূমিকা রেখেছে।

গত মাসে নিউইয়র্কে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহানকে আরবিতে এক অধিকারকর্মীর তিরস্কারের মুখে পড়তে দেখা যায়। হুথির মুখপাত্র আমিল হাইয়ান ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন। তিনি লেখেন, মুসলমানদের বিরুদ্ধে অপরাধ এবং বিশেষ করে ইয়েমেনে সংঘটিত ‘নৃশংস হত্যাযজ্ঞের’ কারণে বিশ্বজুড়ে সৌদি আরবকে ঘৃণা করা হয়।

জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, গত আগস্টে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ নতুন করে তীব্র হওয়ার পর প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এ সপ্তাহে জানিয়েছে, প্রায় ১ হাজার ৬০০ মানুষ নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে হুথিরা কয়েক সপ্তাহ ধরে সৌদি আরবের বিমান চলাচল ও জ্বালানি অবকাঠামোতে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। এতে অন্তত ২২ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন।

ইরানের প্রচারকৌশলের প্রভাব

মুস্তাফা আয়াদের মতে, সাম্প্রতিক সংঘাতে হুথিদের কিছু প্রচারসামগ্রী মূলত ইরানের প্রচারকৌশলের অনুকরণ। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে হামলা চালানোর পর আন্তর্জাতিক দর্শকদের কাছে নিজেদের বার্তা পৌঁছাতে ইরান দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে।

ইরানি গোষ্ঠী এক্সপ্লোসিভ মিডিয়া ভাইরাল লেগো ভিডিও তৈরির জন্য পরিচিত। গত মাসে তারা ইয়েমেনের যুদ্ধ ও বিজয় নিয়ে একটি লেগো অ্যানিমেশন তৈরি করে। এতে সৌদি আরবের সঙ্গে হুথিদের লড়াইকে কল্পনাপ্রসূতভাবে তুলে ধরা হয়। ভিডিওতে হুথিদের একটি দলকে সৌদি সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালাতে দেখা যায়। সেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি সোনালি মূর্তিও দেখানো হয়। শেষে হুথি এক কমান্ডারকে ‘মোখা’ লেখা মগ থেকে পানীয় পান করতে দেখা যায়। লোহিত সাগরের বন্দরনগরী মোখা দখলের প্রতি এটি ইঙ্গিত করে। একসময় এই বন্দর কফি বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার ছিল।

হুথিদের প্রচারের বার্তা বিদেশেও ছড়িয়ে পড়ছে। এমন কিছু ব্যক্তিও গোষ্ঠীটির প্রতি সহানুভূতি দেখাচ্ছেন, যাদের সঙ্গে হুথিদের সরাসরি সম্পর্ক থাকার কথা নয়। তাদের কারো কারো মধ্যে এপস্টেইন ও ষড়যন্ত্রতত্ত্ব নিয়ে একই ধরনের আগ্রহ রয়েছে।

অবসরপ্রাপ্ত মিক্সড মার্শাল আর্টস চ্যাম্পিয়ন এবং জনপ্রিয় ডানপন্থি পডকাস্টার জেক শিল্ডস তাদের একজন। যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন পোভার্টি ল সেন্টার তার বিরুদ্ধে ‘ইহুদিবিদ্বেষ, বর্ণবাদ ও অসহিষ্ণুতা’ ছড়ানোর অভিযোগ করেছে। শিল্ডস নিয়মিত এপস্টেইন-সংক্রান্ত নথি নিয়ে পোস্ট করেন।

সম্প্রতি নিজের অনুষ্ঠানে হুথি ও সৌদি আরবের সংঘাত নিয়ে কথা বলার সময় তিনি গোষ্ঠীটির প্রতিরোধক্ষমতার প্রশংসা করেন। হুথিদের সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমি তাদের বড় ভক্ত। আমার মনে হয়, তারা বেশ দুর্ধর্ষ।’

বিশেষজ্ঞদের মতে, সামরিক অভিযান ও প্রচার কার্যক্রমের মাধ্যমে হুথিরা যে ভাবমূর্তি গড়ে তুলতে চায়, শিল্ডসের এই প্রতিক্রিয়া তারই একটি উদাহরণ।

এএম

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শেরপুরের ঝিনাইগাতী সীমান্তে বিজিবির অভিযান, ভারতীয় মদসহ আটক ২ জন হয়েছে,

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ ওসমান গনি শেরপুর জেলা প্রতিনিধি

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:০৫ পি.এম


শেরপুরের ঝিনাইগাতী সীমান্তে বিজিবির অভিযান, ভারতীয় মদসহ আটক ২ জন হয়েছে,

 

শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে চোরাচালানবিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৫০ বোতল ভারতীয় মদসহ দুইজনকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। আটক মদের সিজার মূল্য ৭৫ হাজার টাকা।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, , ২৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়ন (৩৯ বিজিবি)-এর দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় চোরাচালানবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার জামতলা কলনী এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন হলদিগ্রাম ক্যাম্পের বিজিবি সদস্যরা।

এ সময় ৫০ বোতল ভারতীয় মদসহ দুইজনকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিরা হলেন, ঝিনাইগাতী উপজেলার গোমরা গ্রামের মৃত ছফর আলীর ছেলে মো. সুলতান মাহমুদ (৩৮) এবং একই গ্রামের কালো গাজীর ছেলে মিস্টার আলী (৩৬)।

উদ্ধার করা মদের সিজার মূল্য ৭৫ হাজার টাকা। এ ঘটনায় আটক দুইজনের পাশাপাশি পলাতক আরও তিনজনের বিরুদ্ধে ঝিনাইগাতী থানায় মামলা দায়েরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বিজিবি সূত্রে আরও জানা যায়, আটক ও পলাতক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পূর্বেও একাধিক মামলা রয়েছে।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়ন (৩৯ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নুরুল আজিম বায়েজীদ বলেন, সীমান্তে চোরাচালান, মাদক পাচার ও অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে বিজিবি সার্বক্ষণিক সতর্ক রয়েছে। অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধে বিজিবির অভিযান ও কঠোর নজরদারি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বিজিবি জানিয়েছে, মাদক নির্মূলে তারা সর্বদা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৫
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৫
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%