বুধবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১১:৪৮ এম
নবম জাতীয় পে-স্কেলে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন কাঠামোয় একটি বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে চলেছে। নতুন কাঠামোর অধীনে গ্রেড অনুযায়ী বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের হার ভিন্নভাবে নির্ধারণ করা হবে। নিম্ন ও মধ্যম গ্রেডের জন্য ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট থাকলেও উচ্চতর গ্রেডের ক্ষেত্রে তা কমে ২ দশমিক ৭৫ শতাংশে নেমে আসবে। একই সঙ্গে বাড়ি ভাড়া ভাতার হার কমানো, চিকিৎসা ও মোবাইল ভাতা বাড়ানোর মতো বেশ কিছু ভাতা ও সুযোগ-সুবিধায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।
জানা গেছে, গ্রেড-২০ থেকে ৬ পর্যন্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বার্ষিক ৫ শতাংশ হারে ইনক্রিমেন্ট পাবেন। গ্রেড-৫-এ এই হার ৪ শতাংশ হবে। গ্রেড-৪ ও ৩-এর জন্য ৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং গ্রেড-২-এর ক্ষেত্রে ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ উচ্চ বেতনভোগী কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে মূল বেতন বেশি হলেও প্রতিবছর বেতন বৃদ্ধির হার তুলনামূলকভাবে কম থাকবে। সশস্ত্র বাহিনীতেও একই নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। ক্যাপ্টেন ও সমতুল্য পদে ইনক্রিমেন্ট ৫ শতাংশ, মেজর পদে ৪ শতাংশ, লেফটেন্যান্ট কর্নেল ও কর্নেলে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ও সমপদে ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হচ্ছে।
এদিকে ২০২৪ সালে চালু হওয়া বিশেষ প্রণোদনা নতুন পে-স্কেল কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাতিল হয়ে যাবে। এ প্রণোদনা প্রথমে ৫ শতাংশ এবং পরে ১০ শতাংশ করা হয়েছিল।
প্রসঙ্গত, ৩১ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ অনুমোদন দেওয়া হয়। একই সঙ্গে নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সশস্ত্র বাহিনীর জন্য যৌথ বাহিনী নির্দেশাবলি-২০২৬ অনুমোদন করা হয়েছে। এর আগে ওই সভার কার্যবিবরণী তৈরি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এতে নতুন কাঠামোয় বিদ্যমান ২০টি গ্রেডই রাখা হয়েছে। গ্রেড-২০-এর প্রারম্ভিক মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২০ হাজার টাকা এবং গ্রেড-১-এর নির্ধারিত বেতন ৭৮ হাজার থেকে বেড়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা হয়েছে। নতুন কাঠামো বাস্তবায়নের অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং সরকারি কর্মচারীদের জীবনমান বিবেচনায় বেতন-ভাতা আরও যৌক্তিক করা। তবে আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় এটি একবারে বাস্তবায়ন না করে ধাপে ধাপে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নতুন পে-স্কেলের সবচেয়ে আলোচিত পরিবর্তনগুলোর মধ্যে একটি বাড়ি ভাড়া ভাতা। বর্তমানে ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় গ্রেডভেদে মূল বেতনের ৫০ থেকে ৬৫ শতাংশ বাড়ি ভাড়া দেওয়া হয়। নতুন কাঠামোয় তা কমিয়ে ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ঢাকার বাইরে অন্যান্য সিটি করপোরেশন ও সাভারে বর্তমানে ৪০ থেকে ৫৫ শতাংশ বাড়ি ভাড়া দেওয়া হয়। নতুন কাঠামোয় তা হবে ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ। আর সিটি করপোরেশন ও সাভারের বাইরে বর্তমানে ৩৫ থেকে ৫০ শতাংশের পরিবর্তে ২৫ থেকে ৪৫ শতাংশ বাড়ি ভাড়া দেওয়া হবে। তবে মূল বেতনের তুলনায় বাড়ি ভাড়া শতাংশ হারে কমলেও গ্রেডভেদে মূল বেতন দ্বিগুণ বা তারও বেশি বাড়ায় ভাতার টাকার অঙ্কও বাড়বে। অর্থাৎ নতুন কাঠামোয় ভাতার হার কমিয়ে মূল বেতন বৃদ্ধির সঙ্গে মোট আর্থিক সুবিধার ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।
উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। বর্তমানে একই গ্রেডে ১০ বছর চাকরি করলে পদোন্নতি না হলেও উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। নতুন কাঠামোয় এ সময় কমিয়ে ৮ বছর করা হচ্ছে। তবে দ্বিতীয়বার উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার ক্ষেত্রে ছয় বছর একই গ্রেডে চাকরির শর্ত থাকছে। পদোন্নতিযোগ্য পদে কর্মরতরা পদোন্নতি না পেলে চাকরিজীবনে সর্বোচ্চ দুইবার এ সুবিধা পাবেন। অন্যদিকে যেসব পদে পদোন্নতির সুযোগ নেই এবং ‘ব্লকড পদ’ হিসাবে ঘোষিত, সেসব পদে কর্মরতরা চাকরিজীবনে তিনবার উচ্চতর গ্রেড সুবিধা পাবেন। প্রথমবার আট বছর, দ্বিতীয়বার আরও ছয় বছর এবং তৃতীয়বার পরবর্তী আট বছর চাকরির পর এ সুবিধা পাওয়ার বিধান রাখা হচ্ছে।
চিকিৎসা ভাতায়ও বড় পরিবর্তন আসছে। বর্তমানে সব কর্মচারী মাসে ১ হাজার ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা পান। নতুন কাঠামোয় ৫০ বছর পর্যন্ত বয়সি চাকরিজীবীরা পাবেন ৩ হাজার টাকা। ৫০ বছরের বেশি থেকে ৬০ বছর পর্যন্ত বয়সিদের জন্য তা হবে ৪ হাজার টাকা। পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রেও চিকিৎসা ভাতা বাড়ছে। ৬০ থেকে ৭০ বছর বয়সিরা মাসে ৫ হাজার এবং ৭০ বছরের বেশি বয়সিরা ৬ হাজার টাকা পাবেন। প্রথমবার সব স্তরের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য মোবাইল ভাতার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। বর্তমানে শুধু প্রথম থেকে পঞ্চম গ্রেডের কর্মকর্তারা মোবাইল বিল পান। নতুন কাঠামোয় প্রথম থেকে পঞ্চম গ্রেডে মাসে ৫০০ টাকা এবং ষষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেডে ১৫০ টাকা মোবাইল ভাতা দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।
এছাড়া জীবনযাত্রার ব্যয় ও পরিবহণ খরচ বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কয়েকটি ছোট ভাতায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি করা হচ্ছে। যাতায়াত ভাতা ৩০০ থেকে বেড়ে ৬০০ টাকা, টিফিন ভাতা ২০০ থেকে ৫০০ টাকা এবং ধোলাই ভাতা ১০০ থেকে ৩০০ টাকা করা হচ্ছে। তবে বাংলা নববর্ষ ভাতা ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করা হচ্ছে। পাহাড়ি ভাতা এবং হাওড়, দ্বীপ ও চরভাতা মূল বেতনের ২০ শতাংশই থাকছে; তবে এসব ভাতার সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা হচ্ছে। নতুন কাঠামোয় ঝুঁকি ভাতাসহ বিভিন্ন বিশেষ ভাতার পরিমাণ বিদ্যমান হারের তুলনায় ২০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে প্রেষণ ভাতার কাঠামোও পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে শিক্ষা সহায়ক ভাতা, কার্যভার ভাতা, আপ্যায়ন ভাতা, কুক অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যালাউন্স, উৎসব ভাতা এবং শ্রান্তি-বিনোদন ভাতার বিদ্যমান হার বহাল রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
জাতীয় বেতন কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সশস্ত্র বাহিনীর বেতন কাঠামোও পুনর্নির্ধারণ করা হচ্ছে। নন-কমব্যাট্যান্ট (এনরোল্ড) বা এনসি (ই) ও সমতুল্য পদে প্রারম্ভিক মূল বেতন ২১ হাজার টাকা এবং মেজর জেনারেল ও সমপদে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ও সমপদকে গ্রেড-২ এবং কর্নেল ও সমপদকে গ্রেড-৩-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া বিমানবাহিনীর ফ্লাইং পে উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। কমান্ড, স্টাফ, টিচিং, কোয়ালিফিকেশন, ডিস্টার্বেন্স ও বিশেষজ্ঞ বেতন ১০ শতাংশ করে এবং দক্ষতা, নিযুক্তি, প্যারাসুট, কমান্ডো/স্নাইপার, স্কুবা ডাইভিং ও সদাচরণ বেতন ১৫ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। জরিপ ভাতা বাড়তে পারে ৩০ শতাংশ।
অপরদিকে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের জন্য বিদ্যমান ৮১ ধরনের ভাতা পর্যালোচনা করেছে সচিব কমিটি। এর মধ্যে অফিসার ও সদস্যদের জন্য প্রতিরক্ষা ভাতা, কিট ভাতা, ডেঞ্জার মানি, দোভাষী ভাতা, শিক্ষকতা ভাতাসহ-বেশিরভাগ ভাতা বিদ্যমান পরিমাণের ওপর ১০ শতাংশ বাড়তে পারে। জরিপ ভাতার পরিমাণ বাড়তে পারে ৩০ শতাংশ। তবে বাড়ি ভাড়া ভাতা, যাতায়াত ভাড়া, কার্যভার ভাতা, আপ্যায়ন ভাতা, টিফিন ভাতা, ধোলাই ভাতা, পাহাড়ি ভাতা, উৎসব ভাতা, শ্রান্তি ও বিনোদন ভাতা, নববর্ষ ভাতা, শিক্ষা সহায়ক ভাতা, চিকিৎসা ভাতা, প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে প্রেষণ ভাতা নতুন জাতীয় বেতন স্কেলের অনুরূপ হবে। সরকারের হিসাবে নতুন কাঠামোয় প্রায় ২৪ লাখ সামরিক ও বেসামরিক কর্মচারী এবং সোয়া ৯ লাখ অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ও অন্যান্য যোগ্য সুবিধাভোগী উপকৃত হবেন। এছাড়া নতুন পে-স্কেল ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর ধরা হলেও মূল বেতন ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঠাকুরগাঁও জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের একটি পরিত্যক্ত টিনশেড ঘরে জুয়া খেলার অভিযোগে চার পুলিশ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযানের সময় পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে এক অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের হাতের আঙুল ভেঙে যায়।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) গ্রেফতারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনা ঘটে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাতে।
পুলিশের সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার রাতে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের উত্তর পাশে হলপাড়ায় অবস্থিত পরিত্যক্ত টিনশেড ঘরে অভিযান চালায় পুলিশের একটি বিশেষ দল। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আলমগীর রহমান এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) জুয়েল রানার নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানের সময় জুয়াড়িরা উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করে।
এ সময় ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) জুয়েল রানার ডান হাতের একটি আঙুল ভেঙে যায়। পরে ধাওয়া দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে ৪ পুলিশ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। আসর থেকে নগদ টাকা, তাস এবং একাধিক স্মার্টফোন উদ্ধার করেছে পুলিশ।
গ্রেফতারকৃত পুলিশ সদস্যরা হলেন—পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) শান্তি কুমার রায় (৩৭), কনস্টেবল মো. সোহেল রানা (৩৩), কনস্টেবল মো. আলমগীর কবির (৩৩) এবং শহর পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই মো. শাহাদত জামান (৩৯)।
অভিযানের সময় পঞ্চগড় জেলা পুলিশের এটিএসআই মো. আতাউর রহমান (৪০) এবং পিবিআই ঠাকুরগাঁওয়ের কনস্টেবল মো. শহিদুল ইসলাম (৩৮) পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
এ ঘটনায় সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. লিখন হোসেন বাদী হয়ে জুয়া প্রতিরোধ আইনে ছয় পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন।
ঠাকুরগাঁও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খোদাদাদ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, "অপরাধী যেই হোক না কেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন।" চার আসামিকে আদালতে সোপর্দ করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং পলাতক দুজনকে গ্রেফতার করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইউক্রেনের সমর্থক হিসেবে পরিচিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত ব্যক্তিদের হত্যা এবং হামলার পরিকল্পনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা (এফবিআই)। তবে অভিযুক্তরা বর্তমানে পলাতক বলে জানিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। খবর দ্যা গার্ডিয়ানের।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ম্যানহাটনের একটি ফেডারেল আদালতে দাখিল করা অভিযোগপত্রে বলা হয়, রুশ গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি নেটওয়ার্ক যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত ব্যক্তিদের অর্থের বিনিময়ে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুদের ওপর নজরদারির কাজে নিয়োগ করার চেষ্টা করেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, নজরদারির পর এসব ব্যক্তিকে হত্যার পরিকল্পনাও ছিল।
অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, ইউক্রেনের মিত্র হিসেবে বিবেচিত কয়েকটি ইউরোপীয় দেশে বেসামরিক ও সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে নাশকতামূলক হামলা চালানোর উদ্দেশ্যে লোক নিয়োগের চেষ্টাও করা হয়েছিল।
নিউইয়র্কে এফবিআইয়ের প্রধান জেমস বার্নাকল জুনিয়র বলেন, দীর্ঘ তদন্ত ও সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এসব পরিকল্পনা নস্যাৎ করা হয়েছে। তার দাবি, রুশ গোয়েন্দা সংস্থা এবং তাদের সহযোগীরা যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ভয়ভীতি সৃষ্টি, হুমকি প্রদান এবং হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিল।
ওয়াশিংটন ডিসির এফবিআই কার্যালয়ের প্রধান ড্যারেন কক্স জানান, বিভিন্ন এফবিআই ইউনিট ও অংশীদার সংস্থার সহযোগিতায় রাজধানী ওয়াশিংটনসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থানে সম্ভাব্য সহিংস কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা প্রতিরোধ করা হয়েছে।
এফবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, হুমকির বিষয়টি শনাক্ত হওয়ার পরপরই তদন্তকারীরা দ্রুত পদক্ষেপ নেন এবং সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনতে কাজ শুরু করেন।
মার্কিন কর্তৃপক্ষের দাবি, রুশ গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত এই নেটওয়ার্ক ২০২৪ সাল থেকে বিশ্বজুড়ে হামলা ও হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত। কিছু ক্ষেত্রে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও তাদের তৎপরতা পরিচালিত হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
অভিযোগপত্রে নেটওয়ার্কটিকে এমন একটি কাঠামোর অংশ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যা রাশিয়ার হয়ে বিদেশে হত্যা ও অন্যান্য গোপন অভিযান পরিচালনার চেষ্টা করে।
এফবিআই বলেছে, অতীতে এই নেটওয়ার্কের প্রধান লক্ষ্য ছিল রাশিয়ার ভিন্নমতাবলম্বী ও দেশত্যাগী ব্যক্তিরা। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনের মিত্র দেশগুলোর নাগরিক ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দিকেও তাদের নজর দেওয়া হয়েছে।
তদন্তে উঠে এসেছে, চলতি গ্রীষ্মে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত একজন ব্যক্তিকে এক বিশিষ্ট রুশ ভিন্নমতাবলম্বীর ওপর নজরদারির জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, তাকে লক্ষ্যবস্তুর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয় এবং কীভাবে তথ্য সংগ্রহ করতে হবে সে বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হয়।
কাজটির জন্য প্রথমে এক হাজার ডলার এবং পরে আরও দেড় হাজার ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। ওই ব্যক্তি নজরদারির পর লক্ষ্যবস্তুর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থানের ছবি ও ভিডিও অভিযুক্তদের একজনের কাছে পাঠান।
পরবর্তীতে লক্ষ্যবস্তুকে হত্যা বা ‘নিখোঁজ’ করার বিনিময়ে তাকে ৪০ হাজার ডলার প্রস্তাব করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে তিনি সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর নেটওয়ার্কটির সদস্যরা যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে আরও কয়েকজনকে একই ধরনের কাজে নিয়োগের চেষ্টা করে এবং বড় অঙ্কের অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব দেয়।
তবে মার্কিন কর্তৃপক্ষের উত্থাপিত এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। অভিযুক্ত পাঁচজনের বিরুদ্ধে পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়ায় আইনি পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ