১১:০৯ পি.এম
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে এক মনোহারি দোকানিকে অপহরণ করে ধারালো অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে চাঁদা আদায়ের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় দুই আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। মামলার তদন্তে দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেছেন আসামি মো. আনিছুজ্জামান বিদ্যুৎ।
মামলার তদন্ত প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, উপজেলার তালুককানুপুর ইউনিয়নের বাসুদেবপুর বাজারের মনোহারি দোকানি শ্রী সঞ্জয় কুমার সাহা গত ২৮ অক্টোবর ২০২৫ রাত আনুমানিক ১০টা ৩৫ মিনিটে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে বাসুদেবপুর এলাকার আলিফ কোচিং সেন্টারের সামনে এ ঘটনার শিকার হন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, চার ব্যক্তি তাঁর পথরোধ করে মুখ বেঁধে পাশের একটি গাছবাগানে নিয়ে যান। সেখানে ধারালো ছুরি গলায় ঠেকিয়ে প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা দিতে না পারায় তাঁকে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
একপর্যায়ে ভুক্তভোগী তাঁর বোনকে বিষয়টি জানালে বিকাশের মাধ্যমে দুটি লেনদেনে ৩০ হাজার ও ১০ হাজার টাকা পাঠানো হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। মোট ৪০ হাজার টাকা নেওয়ার পরও আরও ৫০ হাজার টাকা দাবি এবং মামলা না করার জন্য প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, পিবিআই বাদী, সাক্ষী ও ঘটনার বিষয়ে অবগত ব্যক্তিদের বক্তব্য গ্রহণের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মোবাইল নম্বরের বিকাশ লেনদেনের বিবরণ, কল ডিটেইলস রেকর্ড (সিডিআর) এবং সিম নিবন্ধনের নথি সংগ্রহ করে পর্যালোচনা করে। এসব তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে প্রথম দুই আসামি মো. আনিছুজ্জামান বিদ্যুৎ ও শ্রী যতীশ চন্দ্র সাহার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩৪১, ৩৮৫ ও ৫০৬ ধারার অপরাধের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
অন্যদিকে, মামলার অপর দুই আসামি শ্রী পরিমল চন্দ্র সাহা ও মো. হারুন অর রশিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া দণ্ডবিধির ১১৪ ও ৩৪ ধারার অপরাধও তদন্তে প্রমাণিত হয়নি বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়।
তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর গত ২৫ অক্টোবর গোবিন্দগঞ্জ চৌকি আদালতের বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট মো. আনিছুজ্জামান বিদ্যুৎ ও শ্রী যতীশ চন্দ্র সাহার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন বলে মামলাসংশ্লিষ্ট তথ্যে উল্লেখ রয়েছে।
অভিযোগ অস্বীকার করে যা বললেন বিদ্যুৎ
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মো. আনিছুজ্জামান বিদ্যুতের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। তাঁর ভাষ্য, “যিনি আমার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন, তিনি নিজেই চুরির আসামি। ওই চুরির ঘটনায় দুই লাখ টাকার মধ্যে বিকাশে ৪০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছিল। আমি ওই ঘটনায় সাক্ষী ছিলাম। এ কারণেই আমাকে মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।”
বিদ্যুৎ আরও অভিযোগ করেন, এ ঘটনার সঙ্গে জামায়াতে ইসলামী জড়িত রয়েছে। সামনে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনি চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন উল্লেখ করে তাঁর দাবি, তাঁকে রাজনৈতিকভাবে হেনস্তা করার উদ্দেশ্যে এ মামলা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “আমরা আইন মেনে অবশ্যই ব্যবস্থা নেবো।”
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন