ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সৌদি আরব থেকে ৯ মাসে ২ হাজার মরদেহ, নারী কর্মীরা সন্তানের বাবার পরিচয় জানেন না


সৌদি আরব থেকে ৯ মাসে ২ হাজার মরদেহ, নারী কর্মীরা সন্তানের বাবার পরিচয় জানেন না

সৌদি আরব বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ শ্রমবাজার এবং বিপুল রেমিট্যান্সের উৎস। তবে, দেশটিতে বাংলাদেশি কর্মীদের নির্যাতন, শোষণ, রহস্যজনক মৃত্যু এবং আইনি জটিলতার অভিযোগ বারবার সামনে আসছে। সম্প্রতি দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের ঘটনা উদ্বেগকে আরও গভীর করেছে।

এ পরিস্থিতিতে প্রবাসীদের নিরাপত্তা এবং রাষ্ট্রের নেয়া উদ্যোগের বিষয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, সৌদি আরব বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রেমিট্যান্স উৎস হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশের সঙ্গে সৌদি আরবের সম্পর্ক বহুমাত্রিক। বিশেষ করে ধর্মীয় ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সৌদি আরব বাংলাদেশিদের জীবনে নির্ভরতার আরেক নাম। কিন্তু এই দেশে প্রবাসী বাঙালিদের শোষণ ও নির্যাতনের তথ্যও বিস্ময়কর।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ সৌদি আরব থেকে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স পেয়েছে, যার পরিমাণ ৫ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন ডলার। আগের অর্থবছরের তুলনায় এটি ৩৭ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি। বাংলাদেশের মোট রেমিট্যান্স আয়ের ১৬ দশমিক ৪ শতাংশ এসেছে সৌদি আরব থেকে।

আরও পড়ুন: যাত্রাবাড়ীতে ছিনতাই সন্দেহে গণপিটুনিতে আহত যুবক নিশাত মিয়ার মৃত্যু

তবে রেমিট্যান্সের আড়ালে বিভিন্ন সময় সৌদিতে বাংলাদেশি নাগরিকদের ওপর নানামুখী, নিষ্ঠুর, নির্মম ও কঠোর নির্যাতনের ঘটনা সামনে আসে। এ নিয়ে আলোচনা বা প্রতিকার নেই বললেই চলে। নতুন করে সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশি নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া এবং এ বিষয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসের অজ্ঞতা প্রশ্ন তুলেছে। প্রবাসীদের নিরাপত্তা বিষয়ে রাষ্ট্রের উদ্যোগ ও পদক্ষেপ নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

সৌদিতে নারী কর্মীদের শোষণের বিষয়টি শুধু শারীরিক নির্যাতনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে কর্মক্ষেত্রে শোষণ, বেতন আটকে রাখা, অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা, খাবার না দেয়া, পাসপোর্ট কেড়ে নেয়া, নিয়োগকর্তার হুমকি এবং আইনি প্রতিকার পেতে জটিলতার মতো নানা অভিযোগ।

তবে দেশটিতে সবচেয়ে বেশি শোষণের শিকার হন নারী কর্মীরা। মানবাধিকার কর্মী ও অভিবাসী অধিকার বিশেষজ্ঞ এম রায়হান কবির বলেন, "এক নারী সন্তান কোলে দেশে ফিরে জানান তার গর্ভে সন্তান ধারণ করেছেন ঠিকই, কিন্তু তিনি জানেন না ওই সন্তান আসলে কার। সৌদি মালিকের, মালিকের ছেলের, মালিকের বন্ধুদের, নাকি মালিকের গাড়ি চালকের?" তিনি জানান, এ ধরনের ঘটনা অহরহ ঘটছে।

ব্র্যাকের অভিবাসন বিভাগের প্রধান শরিফুল হাসানের অভিযোগ, সৌদি আরব থেকে নির্যাতনের শিকার হয়ে শত শত নারী দেশে ফিরছেন। অনেকে ফিরেছেন লাশ হয়ে। কিন্তু এসব ঘটনার কারণ অনুসন্ধান, তদন্ত, দায় নির্ধারণ কিংবা প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ নেই বললেই চলে।

আরও পড়ুন: গণভোটের রায় না মানলে তারেক রহমানের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই: জুনায়েদ

শরিফুল আরও বলেন, শ্রীলঙ্কা ও নেপালের মতো দেশ নারী কর্মীদের নিরাপত্তার প্রশ্নে সৌদি আরবে কর্মী পাঠানো বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। অথচ বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এমন কঠোর অবস্থান বা কার্যকর প্রতিবাদের নজির নেই। এক দশকে শারীরিক ও যৌন নির্যাতনসহ নানা ধরনের সহিংসতায় শিকার হয়ে ১০ হাজার নারী দেশে ফিরেছেন বলেও জানান তিনি।

ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের তথ্য অনুযায়ী, গত সাত বছরে অন্তত ৭০ হাজার নারী বিদেশ থেকে দেশে ফিরেছেন। তাদের একটি অংশ নিপীড়নের শিকার। একই সময়ে বিদেশ থেকে দেশে এসেছে নারী কর্মীদের অন্তত ৮০০ মরদেহ।

রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপই প্রশ্নবিদ্ধ

ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের তথ্য বলছে, এ বছর জানুয়ারি থেকে গত ৩০ সেপ্টেম্বর এই ৯ মাসে সৌদিতে মারা গেছেন প্রায় ২ হাজার কর্মী। অন্যদিকে ২০২৫ সালে সৌদি আরবে সাত লাখ ৫০ হাজারের বেশি কর্মী পাঠিয়েছে বাংলাদেশ। দেশটিতে বসবাস করছেন আনুমানিক ৩০ থেকে ৩৫ লাখ বাংলাদেশি।

আরও পড়ুন: বিয়ের ১৫ দিনের মাথায় সড়কে প্রাণ গেল ইতালি প্রবাসী তানভীরের

এত বড় শ্রমবাজার, বিপুলসংখ্যক কর্মী এবং বিপুল রেমিট্যান্সের বিপরীতে প্রবাসীদের সুরক্ষায় নেয়া রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ, দূতাবাসের জনবল, সক্ষমতা ও জবাবদিহিতা এখন প্রশ্নবিদ্ধ।

সাংবাদিক মাসুদ কামাল বলেন, "প্রবাসী শ্রমিকেরাই তাদের কষ্টার্জিত অর্থ দেশে পাঠিয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখেন। অথচ তাদের অনেককেই দূতাবাসে গিয়ে অসহযোগিতা ও দুর্ব্যবহারের মুখোমুখি হতে হয়।" তার অভিযোগ, কূটনৈতিক প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে দক্ষ জনবল থাকলেও সাধারণ শ্রমিকদের সমস্যা সমাধানে সেই দক্ষতার যথাযথ প্রয়োগ নেই।

এদিকে প্রবাসীদের নিরাপত্তা বিষয়ে রাষ্ট্রের নেয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা প্রশ্ন তুলেছেন। তারা বলছেন, রেমিট্যান্সকে বাংলাদেশ প্রায়ই জাতীয় অর্থনীতির শক্তি হিসেবে উদ্‌যাপন করে। সেই অর্থ পাঠানো মানুষের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষাও রাষ্ট্রেরই দায়িত্ব। তাই নজরুল ও সুইটির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রবাসীরা যখন বিচার ও শাস্তির মুখোমুখি হন, তখন তাদের পাশে দাঁড়ানো কি রাষ্ট্রের দায়িত্ব নয়? বিশাল শ্রমবাজারের বিষয় বিবেচনা রাখাই কি বেশি গুরুত্বপূর্ণ, না কি প্রবাসীদের প্রাণেরও মূল্য আছে?

প্রবাসীদের নিরাপত্তায় দূতাবাসকে হতে হবে আন্তরিক।

আরও পড়ুন: হাসিনার পতনের আগে ইউনূসকে দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান করেন শফিকুল আলম

প্রবাসীদের সুরক্ষায় রাষ্ট্রকে আরও আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, বিদেশে বিপদে পড়ার পরই কেবল কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু নয়, বরং আগেই গড়ে তোলা জরুরি কার্যকর সুরক্ষাব্যবস্থা। প্রবাসীর পাঠানো অর্থের হিসাব যখন রাষ্ট্রের কাছে গুরুত্বপূর্ণ, তখন প্রবাসীর জীবনের হিসাব সামান্য নয়।

সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের ঘটনা তাই কেবল দুটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এটি বাংলাদেশের অভিবাসন ব্যবস্থাপনা, কূটনৈতিক সক্ষমতা এবং প্রবাসীদের সুরক্ষা নিশ্চিতে রাষ্ট্রীয় প্রস্তুতি ঘিরে বড় প্রশ্ন হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। শুধু রেমিট্যান্সের প্রবাহ ধরে রাখাই নয়, পেছনে থাকা মানুষগুলোর জীবন ও অধিকার রক্ষায়ও কার্যকর ও প্রতিকারমূলক পদক্ষেপ নেয়া জরুরি বলে মনে করছেন তারা। এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন রাষ্ট্রে স্থাপিত দূতাবাস এবং কর্মীদের আন্তরিক হওয়ার বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গোবিন্দগঞ্জে দোকানিকে অপহরণ করে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ: দুই আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার দাবি বিদ্যুতের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

খায়রুল ইসলাম স্টাফ রিপোর্টার

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:০৯ পি.এম


গোবিন্দগঞ্জে দোকানিকে অপহরণ করে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ: দুই আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার দাবি বিদ্যুতের

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে এক মনোহারি দোকানিকে অপহরণ করে ধারালো অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে চাঁদা আদায়ের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় দুই আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। মামলার তদন্তে দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেছেন আসামি মো. আনিছুজ্জামান বিদ্যুৎ।
মামলার তদন্ত প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, উপজেলার তালুককানুপুর ইউনিয়নের বাসুদেবপুর বাজারের মনোহারি দোকানি শ্রী সঞ্জয় কুমার সাহা গত ২৮ অক্টোবর ২০২৫ রাত আনুমানিক ১০টা ৩৫ মিনিটে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে বাসুদেবপুর এলাকার আলিফ কোচিং সেন্টারের সামনে এ ঘটনার শিকার হন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, চার ব্যক্তি তাঁর পথরোধ করে মুখ বেঁধে পাশের একটি গাছবাগানে নিয়ে যান। সেখানে ধারালো ছুরি গলায় ঠেকিয়ে প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা দিতে না পারায় তাঁকে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
একপর্যায়ে ভুক্তভোগী তাঁর বোনকে বিষয়টি জানালে বিকাশের মাধ্যমে দুটি লেনদেনে ৩০ হাজার ও ১০ হাজার টাকা পাঠানো হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। মোট ৪০ হাজার টাকা নেওয়ার পরও আরও ৫০ হাজার টাকা দাবি এবং মামলা না করার জন্য প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, পিবিআই বাদী, সাক্ষী ও ঘটনার বিষয়ে অবগত ব্যক্তিদের বক্তব্য গ্রহণের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মোবাইল নম্বরের বিকাশ লেনদেনের বিবরণ, কল ডিটেইলস রেকর্ড (সিডিআর) এবং সিম নিবন্ধনের নথি সংগ্রহ করে পর্যালোচনা করে। এসব তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে প্রথম দুই আসামি মো. আনিছুজ্জামান বিদ্যুৎ ও শ্রী যতীশ চন্দ্র সাহার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩৪১, ৩৮৫ ও ৫০৬ ধারার অপরাধের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
অন্যদিকে, মামলার অপর দুই আসামি শ্রী পরিমল চন্দ্র সাহা ও মো. হারুন অর রশিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া দণ্ডবিধির ১১৪ ও ৩৪ ধারার অপরাধও তদন্তে প্রমাণিত হয়নি বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়।
তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর গত ২৫ অক্টোবর গোবিন্দগঞ্জ চৌকি আদালতের বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট মো. আনিছুজ্জামান বিদ্যুৎ ও শ্রী যতীশ চন্দ্র সাহার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন বলে মামলাসংশ্লিষ্ট তথ্যে উল্লেখ রয়েছে।
অভিযোগ অস্বীকার করে যা বললেন বিদ্যুৎ
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মো. আনিছুজ্জামান বিদ্যুতের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। তাঁর ভাষ্য, “যিনি আমার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন, তিনি নিজেই চুরির আসামি। ওই চুরির ঘটনায় দুই লাখ টাকার মধ্যে বিকাশে ৪০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছিল। আমি ওই ঘটনায় সাক্ষী ছিলাম। এ কারণেই আমাকে মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।”
বিদ্যুৎ আরও অভিযোগ করেন, এ ঘটনার সঙ্গে জামায়াতে ইসলামী জড়িত রয়েছে। সামনে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনি চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন উল্লেখ করে তাঁর দাবি, তাঁকে রাজনৈতিকভাবে হেনস্তা করার উদ্দেশ্যে এ মামলা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “আমরা আইন মেনে অবশ্যই ব্যবস্থা নেবো।”

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাত পোহালেই ভোট, বিএনপি না জামায়াত হাসবে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:২৪ পি.এম


রাত পোহালেই ভোট, বিএনপি না জামায়াত হাসবে?

রাত পোহালেই বহুল আলোচিত ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ আসনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এবং তাদের সমর্থকদের মধ্যে শেষ মুহূর্তে চরম উত্তেজনা ও স্নায়ুযুদ্ধ বিরাজ করছে। নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন, ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের তালিকা নিয়ে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের ফলে ভোটের পরিবেশ, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ও সামগ্রিক নিরাপত্তা এখন সর্বমহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করায় ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। আসনটিতে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সাল আমিন। বিপরীতে, এ আসনে জয় ছিনিয়ে নিয়ে সংসদে নিজেদের শক্তি বাড়াতে মরিয়া জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতা ও প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন। আসনটিতে দুই দলের সাংগঠনিক ভিত্তি শক্ত হওয়ায় এই উপনির্বাচন রূপ নিয়েছে নিজেদের রাজনৈতিক আধিপত্য ও গ্রহণযোগ্যতা যাচাইয়ের মর্যাদাপূর্ণ লড়াইয়ে।

দুই দলের টানটান উত্তেজনার মাঝে শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে কড়া নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছে স্থানীয় প্রশাসন। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা আশ্বস্ত করেছেন, ভোটারদের নির্বিঘ্ন ভোটদান নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।

সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ব্যালটে নিজেদের রায় জানাবেন ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সাধারণ ভোটাররা। শেষ পর্যন্ত ঐতিহ্যবাহী এই ঘাঁটিতে জয়ের হাসি কার মুখে ফুটবে—বিএনপির মির্জা ফয়সাল আমিন নাকি জামায়াতের দেলাওয়ার হোসেন, এখন তারই অপেক্ষায় পুরো জনপদ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করতে ডিএনসিসির অভিযান অব্যাহত: প্রশাসক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:২৮ পি.এম


ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করতে ডিএনসিসির অভিযান অব্যাহত: প্রশাসক

ঢাকা, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ : ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) এর আওতাধীন মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করার জন্য উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত থাকবে, এমনটি জানিয়েছেন ডিএনসিসির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।

তিনি উল্লেখ করেন, সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্নে চলাচল নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে ধাপে ধাপে পুরো ঢাকা শহর জুড়ে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

আজ বুধবার সকালে ও বিকেলে দুই দফায় রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বর সেকশনে অবৈধ দখল ও ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করার সময় তিনি এই ঘোষণা দেন। মিরপুর, শাহ আলী, দারুস সালাম এবং পার্শ্ববর্তী ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

অভিযান চলাকালে প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, কিছু অসাধু হকার ও দখলদার দীর্ঘদিন ধরে সড়ক ও ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। এর ফলে সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্নে চলাচলের অধিকার ক্ষুণ্ন হচ্ছিল। স্থানীয় বাসিন্দা এবং বিভিন্ন মার্কেট কমিটির নেতারা দীর্ঘদিন ধরে এ বিষয়ে অভিযোগ জানিয়ে আসছিলেন।

তিনি আরও বলেন, জনগণের হাঁটার পথ উন্মুক্ত করে দেওয়া তার নৈতিক দায়িত্ব। সুতরাং, ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করতে ডিএনসিসির অভিযান অব্যাহত থাকবে।

প্রশাসক আরও জানান, পরাজিত শক্তি ও ফ্যাসিবাদী কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা পালিয়ে যাওয়ার পরও তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে কেউ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘ক্লিন ঢাকা, গ্রিন ঢাকা’ গড়ার উদ্যোগ ব্যাহত করার চেষ্টা করলে তা সফল হতে দেওয়া হবে না। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে পাশ কাটিয়ে কোনো ষড়যন্ত্র সফল হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অভিযানে ডিএনসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা আক্তার নেলীর নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়। এ সময় স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা, ডিএনসিসির দলীয় নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষ অভিযানে সহযোগিতা করেন।

সাধারণ মানুষের চলাচলের সুবিধা নিশ্চিত করা এবং ফুটপাতের দখল রোধে নগরবাসীর সহযোগিতা চেয়েছে ডিএনসিসি প্রশাসন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সউদী সরকার নিরলসভাবে সারা পৃথিবীতে কুরআনের খেদমত করে যাচ্ছে: রাষ্ট্রদূত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:২৯ পি.এম


সউদী সরকার নিরলসভাবে সারা পৃথিবীতে কুরআনের খেদমত করে যাচ্ছে: রাষ্ট্রদূত

বাংলাদেশে নিযুক্ত সউদী আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ বিন জাফর বিন আবিয়্যাহ মন্তব্য করেছেন যে, আল্লাহ পবিত্র কুরআনকে সমগ্র দুনিয়ার জন্য হেদায়েত হিসেবে প্রেরণ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, পবিত্র কুরআন মানুষের জন্য একটি সংবিধান এবং জীবনবিধান। রাজকীয় সউদী সরকার বিশ্বব্যাপী কুরআনের খেদমত করার জন্য নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আল্লাহ কুরআনে হাফেজদের জন্য বিশেষ মর্যাদা নির্ধারণ করেছেন।

তিনি আরও বলেন, কুরআন চার্চার মাধ্যমে মানুষের অন্তরে আল্লাহর নূর উদ্ভূত হয়। সউদী সরকার কুরআন ও হাদীসের খেদমতে যে গুরুত্ব প্রদান করছে, তারই অংশ হিসেবে প্রতিবছর সউদী দূতাবাসের অ্যাটাশে অফিসের মাধ্যমে হিফযুল কুরআন ও হিফযুল হাদীসের প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয়। আজ বুধবার ঢাকায় সউদী দূতাবাসের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য পবিত্র কোরআন ও মহান হাদিস মুখস্তকরণ প্রতিযোগিতা ২০২৬-এর সমাপনী ও পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত এসব কথা বলেন।

এ প্রতিযোগিতার আয়োজন সউদী আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ বিন জাফর বিন আবিয়্যাহর পৃষ্ঠপোষকতায় সউদী আরবের ইসলামবিষয়ক, দাওয়াহ ও নির্দেশনা মন্ত্রণালয়ের অধীন ধর্মীয় অ্যাটাশে কার্যালয়ের উদ্যোগে করা হয়।

অনুষ্ঠানে সউদী আরবের দূতাবাসের ধর্মীয় অ্যাটাশে মুবারক বিন আমেক আল-ওনাজি এবং ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের দ্বীনি দাওয়াত বিভাগের পরিচালক ড. মোহাম্মদ হারুনুর রশীদ, হুফ্ধসঢ়;ফাজুল কুরআন বাংলাদেশের প্রধান প্রখ্যাত হাফেজ ক্বারী আব্দুল হক, ইফার গবেষক ড.ওয়ালী উর রহমান খান, মুফতি আব্দুল্লাহসহ বিভিন্ন ইসলামি সংস্থার পরিচালক, হিফজ মাদরাসার প্রিন্সিপাল, সউদী দূতাবাসের ধর্মীয় অ্যাটাশে কার্যালয়ের কর্মকর্তা এবং বিশিষ্ট আলেম, দাঈ ও মসজিদের ইমামগণ উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া, প্রতিযোগিতার জেলা পর্যায়ে মোট ৫ হাজার পুরুষ ও নারী প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করেন। তাঁদের মধ্যে চূড়ান্ত পর্বে ২০৫ জন প্রতিযোগী অংশ নেন। চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় পুরস্কারের জন্য ১৭ জন পুরুষ ও ৮ জন নারীসহ মোট ২৫ জন বিজয়ী নির্বাচিত হন। সউদী রাষ্ট্রদূত হিফযুল কুরআন ও হিফযুল হাদীস প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে ক্রেস্ট ও পুরষ্কার বিতরণ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%