ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে মেক্সিকোর শুভ সূচনা উদ্বোধনী ম্যাচে


দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে মেক্সিকোর শুভ সূচনা উদ্বোধনী ম্যাচে

ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ আসরের উদ্বোধনী ম্যাচে সহ-আয়োজক মেক্সিকো অসাধারণ পারফরম্যান্স প্রদর্শন করে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২-০ গোলে পরাজিত করেছে। ঐতিহাসিক আজটেকা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ওই ম্যাচে মেক্সিকো শুরু থেকেই প্রতিপক্ষের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে।

টুর্নামেন্টের প্রথম গোলটি সামনে নিয়ে আসেন জুলিয়ান কুইনোনেস। এরপর অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার রাউল জিমিনেজ দ্বিতীয় গোলটি করে দলের জয় নিশ্চিত করেন। ফলে গ্রুপ ‘এ’ থেকে পরবর্তী পর্বে ওঠার উদ্দেশ্যে মেক্সিকোর যাত্রা চমৎকারভাবে শুরু হলো।

অন্যদিকে, দক্ষিন আফ্রিকার দলটি ম্যাচে কখনোই মেক্সিকোর ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারেনি। পরিস্থিতি তখন আরও খারাপ হয়ে যায় যখন তাদের দুই খেলোয়াড় স্পেফেহলো সিথোলে ও থেম্বা জওয়ানে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। ফলে ম্যাচের শেষভাগে তাদের দলটি মাত্র নয়জন খেলোয়াড় নিয়ে খেলতে সমর্থ হয়।

আরও পড়ুন: দেশের অর্থনীতি তিন কাঠামোগত ফাঁদে আটকে, দারিদ্র্য ও বিনিয়োগে স্থবিরতা

খেলার সূচনার আগে আতশবাজির কারণে স্থাদিয়ামের আকাশে মেক্সিকোর পতাকার লাল, সবুজ ও সাদা রঙের ধোঁয়া পুরোপুরি মিলিয়ে যাওয়ার আগেই নবম মিনিটে কুইনোনেস গোলটি করে বসেন। দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক ও গোলরক্ষক রনওয়েন উইলিয়ামসের দুই পায়ের মাঝ দিয়ে তিনি নিচে শটে বল জালে পাঠান।

গোল করার সঙ্গে সঙ্গে আজটেকা স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে হৈচৈ শুরু হয়ে যায়। এটি ফুটবল ইতিহাসের একমাত্র স্টেডিয়াম, যেখানে তিনটি ভিন্ন বিশ্বকাপে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ হুগো ব্রুস ম্যাচের পূর্বে তার খেলোয়াড়দের সতর্ক করেছিলেন যে ৮০,৮২৪ দর্শকের অনন্য পরিবেশের জন্য তাদের প্রস্তুত থাকতে হবে। এর কারণে মাঠে নেমে তার দলের খেলোয়াড়দের বেশ স্নায়ুচাপে ভুগতে দেখা যায়।

মেক্সিকোর সমর্থকেরা প্রতিটি সফল পাসের পর “ওলে! ওলে!” ধ্বনি তুলে দক্ষিণ আফ্রিকার খেলোয়াড়দের ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে দেন। বিশেষ করে সিথোলে প্রথম থেকেই ছন্দহীন ছিলেন। প্রথম গোলের সময়ও তার কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে মেক্সিকো আক্রমণে চলে যায়। সিথোলের হতাশাজনক দিনটি শেষ হয় ৪৯তম মিনিটে। গোলের দিকে একাই এগিয়ে যাওয়ার সময় ব্রায়ান গুটিয়েরেক ফাউল করায় তিনি সরাসরি লাল কার্ড দেখেন।

আরও পড়ুন: আলীকদমের ৩৮ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই

এরপর ৬৭তম মিনিটে মেক্সিকো ব্যবধান দ্বিগুণ করে ফেলে। দ্রুত পাল্টা আক্রমণ থেকে রবার্তো আলভারাদোর ডান দিক থেকে ক্রসে জিমিনেজ দুর্দান্ত হেডে বল জালে পাঠান।

৮৪তম মিনিটে দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যায়। ভিএআর পর্যালোচনার পর আলভারাদোর মুখে হাত মারার অপরাধে জওয়ানেকে লাল কার্ড দেখানো হয়।

তবে ম্যাচের শেষদিকে কিছু নাটকীয়তা দেখা দেয়। অতিরিক্ত সময়ের আগে মেক্সিকোর ডিফেন্ডার সিজার মনটেস পেনাল্টি এলাকার সীমানার বাইরে খুলিসা মুডাওকে অসতর্ক ট্যাকল করলে তিনিও লাল কার্ড দেখতে পান।

তবুও ফলাফলে কোনো পরিবর্তন আসেনি। ২-০ গোলে জয় নিয়ে মেক্সিকোর বিশ্বকাপ অভিযান চমৎকারভাবে শুরু হলো।

আরও পড়ুন: বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার ১৯ অক্টোবর

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মঙ্গল অভিযানে নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছিল 'ইনজেনুইটি', বদলে গেছে গ্রহ অনুসন্ধানের ধারণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১২ই জুন, ২০২৬ ইং

১০:৩৯ এম


মঙ্গল অভিযানে নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছিল

 

মঙ্গল গ্রহে উড়তে পারে এমন একটি ছোট হেলিকপ্টার তৈরির পরিকল্পনার শুরুতে হয়তো কেউ ভাবেননি, এটি মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে এত বড় পরিবর্তন আনবে। তবে শেষ পর্যন্ত সেটিই ঘটে।

নাসার ইনজেনুইটি হেলিকপ্টার শুধু অন্য একটি গ্রহে প্রথমবারের জন্য নিয়ন্ত্রিত উড্ডয়ন করেনি, বরং ভবিষ্যতের গ্রহ অনুসন্ধানের নতুন পথও উন্মোচিত করেছে।

নাসার জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরি (জেপিএল) এবং অ্যারোভাইরনমেন্টের প্রকৌশলীরা ২০০০ সালের শুরুর দিকে এই ধারণা নিয়ে কাজ করতে শুরু করেন। দীর্ঘ গবেষণা ও পরীক্ষার পর ২০১৮ সালের ১১ মে নাসা ঘোষণা দেয়, তাদের ‘মার্স ২০২০’ অভিযানের সঙ্গে একটি ছোট হেলিকপ্টারও মঙ্গল গ্রহে পাঠানো হবে। এই ঘোষণার পর থেকেই বিজ্ঞানী ও মহাকাশ গবেষকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়।

তবে তখন খুব কম মানুষের ধারণা ছিল যে, এই ছোট হেলিকপ্টার কোন একদিন মহাকাশ গবেষণার অন্যতম সফল প্রযুক্তি পরীক্ষায় পরিণত হবে।

ইনজেনুইটিকে শুরুতে একটি পরীক্ষামূলক প্রকল্প হিসেবে তৈরি করা হয়েছিল। এর উদ্দেশ্য খুবই সীমিত ছিল- মঙ্গল গ্রহের অত্যন্ত পাতলা বায়ুমণ্ডলে একটি হেলিকপ্টার উড়তে পারে কি না, সেটি প্রমাণ করা। বিজ্ঞানীরা দেখতে চেয়েছিলেন, হালকা ওজনের একটি উড়ন্ত যান সেখানে নিরাপদে উড্ডয়ন এবং কার্যক্রম চালাতে পারে কি না।

এটি সফল হলে ভবিষ্যতে রোভার বা মহাকাশযানগুলোর আগে আকাশপথে এলাকা পর্যবেক্ষণ করতে পারতো। এতে বিপজ্জনক স্থানের এড়িয়ে নিরাপদ পথ নির্ধারণ করা সহজ হয়ে যেত। একই সঙ্গে উপর থেকে এমন অনেক ভূতাত্ত্বিক গঠন দেখা যেত, যা ভূপৃষ্ঠ থেকে শনাক্ত করা কঠিন ছিল। ফলে মঙ্গলের পৃষ্ঠে অনুসন্ধানের কাজ আরও দ্রুত এবং কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হতো।

২০২১ সালের ১৯ এপ্রিল ইনজেনুইটি ইতিহাস গড়ে। সেদিন এটি প্রথমবারের মতো অন্য কোনো গ্রহে শক্তি ব্যবহার করে নিয়ন্ত্রিত উড্ডয়ন সম্পন্ন করেছিল। এই ঘটনাকে অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলিনার কিটি হকে রাইট ভ্রাতৃদ্বয়ের প্রথম উড্ডয়নের সঙ্গে তুলনা করেন। নাসা এই ঐতিহাসিক সম্পর্ককে স্মরণীয় করে রাখতে রাইট ভ্রাতৃদ্বয়ের বিখ্যাত ‘রাইট ফ্লায়ার’ বিমানের কাপড়ের একটি ছোট টুকরা ইনজেনুইটির সঙ্গে বহন করেছিল। এই সফল উড্ডয়ন শুধুমাত্র প্রযুক্তিগত অর্জন ছিল না, এটি মানবজাতির মহাকাশ অনুসন্ধানের নতুন অধ্যায়েরও সূচনা করে।

শুরুতে পরিকল্পনা ছিল মাত্র ৩০ দিনের একটি পরীক্ষামূলক মিশনের পরিচালনা করার এবং ইনজেনুইটি সর্বাধিক পাঁচবার উড়বে। কিন্তু বাস্তবে এই ছোট হেলিকপ্টার প্রায় তিন বছর ধরে কাজ করতে থাকে। মিশন শেষ হওয়ার আগে এটি মোট ৭২টি সফল উড্ডয়ন সম্পন্ন করে। ফলে এটি শুধুমাত্র পরীক্ষামূলক যন্ত্র হিসেবেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং মঙ্গলে থাকা পারসিভিয়ারেন্স রোভারের গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী হয়ে ওঠে। এর সাফল্য প্রদর্শন করে যে, ভবিষ্যতের গ্রহ অভিযানে আকাশপথে চলাচলকারী যান যুক্ত হলে অনুসন্ধানের গতি ও কার্যকারিতা অনেক বাড়বে।

মঙ্গল গ্রহে উড্ডয়ন করা পৃথিবীর তুলনায় অনেক বেশি কঠিন। কারণ, মঙ্গলের বায়ুমণ্ডল পৃথিবীর সমুদ্রপৃষ্ঠের বায়ুমণ্ডলের মাত্র ১ শতাংশ ঘন। এত পাতলা বায়ুতে ভেসে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় উত্তোলন শক্তি তৈরি করা অত্যন্ত কঠিন। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ইনজেনুইটির দুটি কার্বন ফাইবার ব্লেড প্রতি মিনিটে প্রায় ২ হাজার ৪০০ থেকে ২ হাজার ৯০০ বার ঘুরত। পৃথিবীর অধিকাংশ হেলিকপ্টারের তুলনায় এটি অনেক বেশি গতি। এছাড়া, প্রকৌশলীদের ধুলাবালি, তীব্র বিকিরণ এবং রাতে মাইনাস ৯০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমে যাওয়া তাপমাত্রার মতো কঠিন পরিবেশের মোকাবিলা করতে হয়েছে। এমন অবস্থাতেও ইনজেনুইটি সফলভাবে উড়তে পেরেছে এবং দীর্ঘ সময় ধরে নির্ভরযোগ্যভাবে কাজও করেছে।

ইনজেনুইটির আগে মঙ্গল গ্রহে রোভার পরিচালনা ছিল ধীর ও জটিল একটি কাজ। রোভারকে প্রতিটি পদক্ষেপ নেওয়ার আগে দীর্ঘ পরিকল্পনা করতে হতো। মিশন পরিচালনাকারীরা মূলত মাটি থেকে তোলা ছবির ওপর নির্ভর করতেন। ফলে নিরাপদ পথ নির্বাচন অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়তো। অপরচুনিটি এবং কিউরিওসিটির মতো রোভারগুলোকে মাঝে মাঝে পথ পরিবর্তন করতে হয়েছে। কখনও কখনও বিপজ্জনক এলাকা এড়িয়ে আবার আগের পথে ফিরে যেতে হয়েছে। ২০১৪ সালে অপরচুনিটি রোভার নরম মাটিতে আটকে গেলে প্রকৌশলীরা কয়েক সপ্তাহ ধরে উদ্ধার পরিকল্পনা পরীক্ষা করেন। পরে সেটিকে মুক্ত করা সম্ভব হয়। ইনজেনুইটি সেই সীমাবদ্ধতা দূর করার একটি কার্যকর সমাধান দেখিয়েছে।

মজার বিষয় হলো, ইনজেনুইটির মিশন কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি বা বৈরী পরিবেশের কারণে শেষ হয়নি। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ৭২তম উড্ডয়নের সময় এটি অবতরণের আগে মাটির দৃশ্যমান বৈশিষ্ট্য সঠিকভাবে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়নি। ফলে নেভিগেশন ব্যবস্থা বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে এবং হেলিকপ্টারটি শক্তভাবে সবলে অবতরণ করে। এতে এর ব্লেডগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরবর্তীকালে মেরামত করা সম্ভব হয়নি। এর মধ্য দিয়েই ইনজেনুইটির মিশনের সমাপ্তি ঘটে। তবে শেষ মুহূর্তেও এটি বিজ্ঞানীদের জন্য মূল্যবান তথ্য প্রদান করে গেছে।

ইনজেনুইটির সাফল্যের গল্প যতটা উজ্জ্বল, শুরুটা ততটাই সহজ ছিল না। নাসা এবং জেপিএলের অনেক বিজ্ঞানী প্রথমে এই প্রকল্প নিয়ে সন্দিহান ছিলেন। তাদের আশঙ্কা ছিল, অতিরিক্ত খরচ, সময় এবং প্রযুক্তিগত জটিলতার কারণে মূল বৈজ্ঞানিক মিশন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। পারসিভিয়ারেন্স প্রকল্পের বিজ্ঞানী কেনেথ ফারলি তখন বলেছিলেন, "যদি কয়েক সপ্তাহ শুধু উড্ডয়ন পরীক্ষাতেই ব্যয় হয়, তাহলে রোভারের মূল গবেষণা কার্যক্রম পিছিয়ে যেতে পারে।" তবে ইনজেনুইটির ধারাবাহিক সাফল্য দ্রুত সেই সন্দেহ দূর করে দেয়। শেষ পর্যন্ত এটি মঙ্গল অভিযানের সবচেয়ে সফল প্রযুক্তি পরীক্ষাগুলোর একটিতে পরিণত হয়।

 

ইনজেনুইটির সবচেয়ে বড় সাফল্য হলো, এটি প্রমাণ করেছে মঙ্গল গ্রহে নিয়ন্ত্রিত উড্ডয়ন শুধু সম্ভবই নয়, বরং এটি গ্রহ অনুসন্ধানের জন্য অত্যন্ত কার্যকর একটি পদ্ধতি। এই মিশন আরও দেখিয়েছে, সাধারণ ভোক্তাপর্যায়ের প্রযুক্তি—যেমন স্মার্টফোনে ব্যবহৃত প্রসেসর—যথাযথভাবে পরিবর্তন করে মহাকাশ অভিযানে ব্যবহার করা যায়। একই সঙ্গে প্রকৌশলীরা এখন অনেক ভালোভাবে বুঝতে পারছেন, মঙ্গলের মতো পরিবেশে উড়ন্ত যান কীভাবে কাজ করে, কী ধরনের নকশা সবচেয়ে কার্যকর এবং কোন সীমাবদ্ধতাগুলো দূর করা প্রয়োজন। বিশেষ করে নেভিগেশন, সেন্সর প্রযুক্তি এবং স্বয়ংক্রিয় উড্ডয়ন ব্যবস্থার উন্নয়নে ইনজেনুইটির অভিজ্ঞতা বড় ভূমিকা রাখবে।

সব মিলিয়ে ইনজেনুইটি শুধুমাত্র একটি সফল প্রযুক্তির পরীক্ষা নয়। এটি গ্রহ অনুসন্ধানের একটি নতুন যুগের সূচনা করেছে। ছোট এই হেলিকপ্টার দেখিয়ে দিয়েছে, ভবিষ্যতে শুধুমাত্র মঙ্গল নয়, সৌরজগতের আরও অনেক গ্রহ ও উপগ্রহে আকাশপথে অনুসন্ধান চালানো সম্ভব। বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করেন, আগামী কয়েক দশকে যে নতুন প্রজন্মের মহাকাশ ড্রোন তৈরি হবে, তাদের পেছনে ইনজেনুইটির অবদান থাকবে সবচেয়ে বেশি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নওগাঁ জেলা পুলিশের দীর্ঘ কয়েক মাসের অক্লান্ত প্রচেষ্টার পর গ্রেফতার আন্তজেলা সিরিয়াল অপরাধী ও কিলার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি

শুক্রবার, ১২ই জুন, ২০২৬ ইং

১০:৪১ এম


নওগাঁ জেলা পুলিশের দীর্ঘ কয়েক মাসের অক্লান্ত প্রচেষ্টার পর গ্রেফতার আন্তজেলা সিরিয়াল অপরাধী ও কিলার

নওগাঁ জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নেতৃত্বে দীর্ঘ কয়েক মাসের অক্লান্ত প্রচেষ্টার পর গ্রেফতার করা হয়েছে ভয়ংকর সাইকো আন্তজেলা সিরিয়াল অপরাধী এবং কিলার গোলাম মোর্শেদ @ মোরশেদ আলমকে।

পুলিশের অনুসন্ধানে জানা গেছে, নওগাঁ জেলায় ধামইরহাট থানা এলাকায় কলেজ ছাত্রী উম্মে হাবিবার ঘরে একজন অজ্ঞাত অপরাধী বা কিলার গত ১৭ই জানুয়ারি ২৬ তারিখে প্রবেশ করে টিউবয়েলের হাতল দিয়ে আঘাত করে তাকে হত্যা করে এবং তার মোবাইল নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে সেখানে আরো দুই তিনটি বাসায় চুরির জন্য ঢুকে মহিলাদের মাথায় বাঁশ অথবা ধাতব অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে পালিয়ে যায়।

এরপর মে এবং জুন মাসে একই কায়দায় বদলগাছি থানায় এবং পত্নীতলা থানা এলাকায় চারটি ঘটনার মাধ্যমে ৬ জন মহিলাকে বাঁশ ও ধাতব অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে গুরুতর আহত করে। এই সময় অপরাধী কিছু টাকা-পয়সা চুরি করে। অজ্ঞাত অপরাধীকে ধরার জন্য পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে নওগাঁ জেলা পুলিশ ব্যাপকভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই ধরনের অপরাধ দিনাজপুর এবং জয়পুরহাটেও সংঘটিত হয়েছে, যেখানে বেশ কয়েকজন নারী গুরুতর আহত হয় এবং দুইজন নারী হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়। নিহত নারীদের হত্যাকাণ্ডেও গোলাম মোর্শেদের সম্পৃক্ত থাকার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।

নওগাঁ জেলা পুলিশের পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে ক্রমাগত প্রচেষ্টা, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বিশ্লেষণ এবং তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণের ফলস্বরূপ, অবশেষে আন্তজেলা সাইকো অপরাধী এবং কিলার গোলাম মোর্শেদকে গাজীপুর থেকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশের কাছে তিনি তার অপরাধের কথা স্বীকার করেছেন এবং আদালতে জবানবন্দী দিয়েছেন।

নওগাঁ জেলা পুলিশের পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে একদল চৌকস অফিসারের কঠোর পরিশ্রম ও নিয়মানুবর্তিতা, ডেডিকেশন এবং অবশেষে এই ভয়ংকর অপরাধী গ্রেফতারের ফলে আমি বিশ্বাস করি, নওগাঁ জেলায় ন্যায় বিচারের পথ আরও প্রশস্ত হবে, সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে এবং জনমনে পুলিশের আস্থা দৃঢ় হবে। নওগাঁ জেলা পুলিশ দৃঢ়তার সঙ্গে উল্লেখ করতে চায়, এই ধরনের অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য তারা সর্বাত্মকভাবে কাজ করবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সুদানে ড্রোন হামলায় নিহত ২৩, আহত ১৯

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১২ই জুন, ২০২৬ ইং

১০:৪৩ এম


সুদানে ড্রোন হামলায় নিহত ২৩, আহত ১৯

সুদানের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এল-ওবেইদ শহরে একের পর এক ড্রোন হামলার ঘটনায় অন্তত ২৩ জন নিহত হয়েছেন এবং ১৯ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার মানবাধিকার সংগঠন এবং স্থানীয় বাসিন্দারা এ ব্যাপারে তথ্য জানিয়েছেন। গত ২০২৩ সালে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে শহরটিতে এটি ছিল অন্যতম ভয়াবহ ড্রোন হামলা।

এই খবরটি বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

সুদানে ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে দেশটির সেনাবাহিনী এবং আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-এর মধ্যে চলমান সংঘাত চলছে। সাম্প্রতিক সময়ে এই যুদ্ধে ড্রোন হামলা একটি গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধকৌশলে পরিণত হয়েছে।

শহরের পূর্বাঞ্চলের আল-মাতার এলাকার এক বাসিন্দা জানিয়েছেন, হামলার ফলে অনেক বাড়ির ছাদ ধসে পড়েছে এবং বাসিন্দারা ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছেন। নিরাপত্তার কারণে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি এএফপিকে বলেছেন, ‘কিছু বাড়ির অবস্থা দেখে মনে হয়েছে সেখানে কেউ বেঁচে থাকার সুযোগই পায়নি।’

শহরের কেন্দ্রস্থল আল-কুব্বা এলাকার আরেক বাসিন্দা জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে তার এক চাচাতো ভাইও রয়েছেন। স্থানীয় হাসপাতালে সাতটিরও বেশি মরদেহ আনা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

এএফপিকে একটি চিকিৎসা সূত্র জানায়, প্রাণ হারানো ব্যক্তিদের মধ্যে দুই শিশু এবং তাদের মা বলে মনে করা হচ্ছে এমন এক নারীও রয়েছেন।

যুদ্ধজুড়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা নিয়ে রিপোর্ট করতে থাকা ‘ইমার্জেন্সি লইয়ার্স’ গ্রুপ জানিয়েছেন, দক্ষিণ কর্ডোফান অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ শহরে বুধবার সন্ধ্যায় হামলা শুরু হয় এবং তা বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। হামলায় আবাসিক এলাকা, একটি জানাজা-পরবর্তী শোকসমাবেশ এবং খাদ্যসামগ্রী বহনকারী একটি ট্রাক লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়।

সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, হামলায় আরও অন্তত ১৯ জন আহত হয়েছেন। তারা এই হামলার জন্য আরএসএফকে দায়ী করেছেন। তবে এ অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং এ বিষয়ে আরএসএফের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

উত্তর কর্ডোফান রাজ্যের রাজধানী এল-ওবেইদ কয়েক মাস ধরে আরএসএফ বাহিনীর আংশিক অবরোধের মধ্যে রয়েছে। শহরটি দারফুর অঞ্চলে আরএসএফ নিয়ন্ত্রিত এলাকা এবং পূর্বাঞ্চলে সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রিত এলাকার মধ্যে সংযোগ রক্ষাকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ রুটে অবস্থিত।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
খুলনা সিটি মেডিক্যালে আগুন

রোগীদের অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর, কারণ ও ক্ষতি নিরূপণে কাজ চলছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১২ই জুন, ২০২৬ ইং

১০:৪৯ এম


রোগীদের অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর, কারণ ও ক্ষতি নিরূপণে কাজ চলছে

 

নগরীর ময়লাপোতা মোড়ের খুলনা সিটি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের পর সব রোগীকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, গাজী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল, সন্ধানী মেডিকেয়ার হাসপাতালসহ নগরীর বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ ও ফায়ার সার্ভিস আগুনের কারণ ও ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ করে চলেছে।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কারো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। কিন্তু হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে এবং গ্লাস ভাঙাসহ অন্যান্য কারণে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। এর মধ্যে ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েছেন হাসপাতালের কয়েকজনসহ অন্য রোগীরাও। আহত ও অসুস্থদের চিকিৎসার জন্য খুমেক হাসপাতালসহ অন্যান্য হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১২ জুন) দিবাগত রাত সাড়ে ৯টায় হাসপাতালের বেজমেন্টের জেনারেটর অথবা বৈদ্যুতিক সাবস্টেশন থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। যদিও আগুন সর্বত্র ছড়াতে পারেনি, তবুও এর ধোঁয়া ১৬ তলা বিশিষ্ট হাসপাতালের ১৩ তলা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। হাসপাতালের রোগী ও স্বজনদের মধ্যে এতে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের ১২টি ইউনিট ও নৌবাহিনীর দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে রাত ১১টা ৫৫ মিনিটে আগুনও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. মাসুদ সরদার রাতেই এটি নিশ্চিত করেন। উদ্ধারকাজে বিজিবি, পুলিশসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরাও অংশ নেন। তবে রোগীদের অন্যত্র সরিয়ে নিতে রাত ২টা বেজে যায়।

খুলনা সিটি মেডিক্যালের এই অগ্নিকাণ্ডের ফলে পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের মধ্যেও আতঙ্ক দেখা দেয় এবং তারা নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যান। তবে ফায়ার সার্ভিসের দক্ষ ব্যবস্থাপনার কারণে আগুন চারদিকে ছড়াতে পারেনি।

এদিকে, খুলনা সিটি মেডিক্যালের এই অগ্নিকাণ্ডের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যখন আগুনের খবর ছড়িয়ে পড়ে, তখন নাগরিকদের পক্ষ থেকে নানা মন্তব্য করতে দেখা যায়। বিশেষ করে এটি খুলনার সবচেয়ে ব্যয়বহুল হাসপাতাল হওয়ায় অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে নেতিবাচক মন্তব্য করেন। তাদের অভিযোগ ছিল, হাসপাতাল ভবনের গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা না থাকা, জরুরি অবতরণের ব্যবস্থা দুর্বলসহ বিভিন্ন অব্যবস্থাপনা রয়েছে।

অগ্নিকাণ্ডের সময় হাসপাতালের সামনে পার্ক করে রাখা মোটরসাইকেলগুলো সরাতে অনেক সময় লেগে যায় এবং সেখানকার পরিস্থিতিতে বেগ পোহাতে হয়। ফায়ার সার্ভিসের যে ক্রেনটি উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছিল, সেটির সর্বোচ্চ ১২ তলা পর্যন্ত ওঠার ক্ষমতা রয়েছে। এমনকি যেখানে ফায়ার সার্ভিসের সক্ষমতা নেই, সেই শহরে কিভাবে ১৬ তলা পর্যন্ত একটি ভবনের অনুমোদন দেওয়া হলো এবং কিভাবে তারা ফায়ারের লাইসেন্স পেল, সেটি নিয়েও জনগণের মধ্যে নানা প্রশ্ন উঠছে।

হাসপাতালের পরিচালক ডা. রফিকুল হক বাবলু কালের কণ্ঠকে অভিমত প্রকাশ করে বলেন, ‘সকল নিয়ম-কানুন মেনেই হাসপাতালটি নির্মাণ করা হয়েছে। এখানে জরুরি অবতরণ এবং নিজস্ব অগ্নিনির্বাপণব্যবস্থাও রয়েছে। প্রায় সারা রাত ধরে সেখানে প্রচুর লোকের উপস্থিতি থাকার পাশাপাশি সকালে সাধারণ মানুষ হাসপাতালের সামনে জড়ো হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%