প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নগরীর ময়লাপোতা মোড়ের খুলনা সিটি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের পর সব রোগীকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, গাজী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল, সন্ধানী মেডিকেয়ার হাসপাতালসহ নগরীর বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ ও ফায়ার সার্ভিস আগুনের কারণ ও ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ করে চলেছে।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কারো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। কিন্তু হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে এবং গ্লাস ভাঙাসহ অন্যান্য কারণে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। এর মধ্যে ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েছেন হাসপাতালের কয়েকজনসহ অন্য রোগীরাও। আহত ও অসুস্থদের চিকিৎসার জন্য খুমেক হাসপাতালসহ অন্যান্য হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (১২ জুন) দিবাগত রাত সাড়ে ৯টায় হাসপাতালের বেজমেন্টের জেনারেটর অথবা বৈদ্যুতিক সাবস্টেশন থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। যদিও আগুন সর্বত্র ছড়াতে পারেনি, তবুও এর ধোঁয়া ১৬ তলা বিশিষ্ট হাসপাতালের ১৩ তলা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। হাসপাতালের রোগী ও স্বজনদের মধ্যে এতে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের ১২টি ইউনিট ও নৌবাহিনীর দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে রাত ১১টা ৫৫ মিনিটে আগুনও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. মাসুদ সরদার রাতেই এটি নিশ্চিত করেন। উদ্ধারকাজে বিজিবি, পুলিশসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরাও অংশ নেন। তবে রোগীদের অন্যত্র সরিয়ে নিতে রাত ২টা বেজে যায়।
খুলনা সিটি মেডিক্যালের এই অগ্নিকাণ্ডের ফলে পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের মধ্যেও আতঙ্ক দেখা দেয় এবং তারা নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যান। তবে ফায়ার সার্ভিসের দক্ষ ব্যবস্থাপনার কারণে আগুন চারদিকে ছড়াতে পারেনি।
এদিকে, খুলনা সিটি মেডিক্যালের এই অগ্নিকাণ্ডের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যখন আগুনের খবর ছড়িয়ে পড়ে, তখন নাগরিকদের পক্ষ থেকে নানা মন্তব্য করতে দেখা যায়। বিশেষ করে এটি খুলনার সবচেয়ে ব্যয়বহুল হাসপাতাল হওয়ায় অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে নেতিবাচক মন্তব্য করেন। তাদের অভিযোগ ছিল, হাসপাতাল ভবনের গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা না থাকা, জরুরি অবতরণের ব্যবস্থা দুর্বলসহ বিভিন্ন অব্যবস্থাপনা রয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের সময় হাসপাতালের সামনে পার্ক করে রাখা মোটরসাইকেলগুলো সরাতে অনেক সময় লেগে যায় এবং সেখানকার পরিস্থিতিতে বেগ পোহাতে হয়। ফায়ার সার্ভিসের যে ক্রেনটি উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছিল, সেটির সর্বোচ্চ ১২ তলা পর্যন্ত ওঠার ক্ষমতা রয়েছে। এমনকি যেখানে ফায়ার সার্ভিসের সক্ষমতা নেই, সেই শহরে কিভাবে ১৬ তলা পর্যন্ত একটি ভবনের অনুমোদন দেওয়া হলো এবং কিভাবে তারা ফায়ারের লাইসেন্স পেল, সেটি নিয়েও জনগণের মধ্যে নানা প্রশ্ন উঠছে।
হাসপাতালের পরিচালক ডা. রফিকুল হক বাবলু কালের কণ্ঠকে অভিমত প্রকাশ করে বলেন, ‘সকল নিয়ম-কানুন মেনেই হাসপাতালটি নির্মাণ করা হয়েছে। এখানে জরুরি অবতরণ এবং নিজস্ব অগ্নিনির্বাপণব্যবস্থাও রয়েছে। প্রায় সারা রাত ধরে সেখানে প্রচুর লোকের উপস্থিতি থাকার পাশাপাশি সকালে সাধারণ মানুষ হাসপাতালের সামনে জড়ো হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন