বৃহস্পতিবার, ২৫শে জুন, ২০২৬ ইং
০৮:৩০ পি.এম
আগামীকাল শুক্রবার পবিত্র আশুরা। এটি হিজরি ১৪৪৮ সনের মহররম মাসের ১০ তারিখ। মুসলিম উম্মাহর জন্য দিনটি ধর্মীয়, ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিক গুরুত্ব বহন করে এবং একই সঙ্গে এটি একটি গভীর শোকের দিন।
৬১ হিজরির ৬৮০ খ্রিস্টাব্দে ১০ মুহররম এই আশুরার দিনে ইতিহাসের এক নিদারুণ, মর্মান্তিক ও বিয়োগান্ত ঘটনা ঘটেছিল ইরাকের ফোরাত নদীর তীরে কারবালা প্রান্তরে। ইসলামের ইতিহাসে এ দিনটি একাধিক তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনার স্মারক, কিন্তু কারবালার এই মর্মান্তিক ঘটনার কারণে পবিত্র আশুরা বিশেষ মর্যাদা অর্জন করেছে। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রিয় দৌহিত্র হযরত ইমাম হোসাইন (রা.), তাঁর পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠ সঙ্গীরা হিজরি ৬১ সনের ১০ মহররম ইরাকের কারবালা প্রান্তরে ইয়াজিদের বাহিনীর বিরুদ্ধে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নিয়ে শাহাদাত বরণ করেন। ইসলামের প্রকৃত আদর্শ, মানবিক মর্যাদা, এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তাঁদের এই আত্মত্যাগ ইতিহাসের একটি অবিস্মরণীয় অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে।
এ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণী প্রদান করেছেন। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী তাঁদের বাণীতে পবিত্র আশুরার মহান শিক্ষা ধারণ করে একটি শান্তিপূর্ণ, মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
পবিত্র আশুরা উপলক্ষে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশন এবং বেসরকারি গণমাধ্যমগুলো দিনটির তাৎপর্য তুলে ধরে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করবে।
পবিত্র আশুরা উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে ধর্মীয় আলোচনা, মিলাদ মাহফিল, কোরআনখানি, দোয়া ও বিশেষ মোনাজাতের আয়োজন করা হয়েছে। শিয়া সম্প্রদায় দিনটি যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা ও শোকাবহ পরিবেশে পালন করবে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় তাজিয়া মিছিল, শোকসভা ও ধর্মীয় কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এসব কর্মসূচি নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
ইসলামি চিন্তাবিদ ও ধর্মীয় বিশ্লেষকরা বলেছেন, কারবালার ঘটনা কেবল একটি ঐতিহাসিক ট্র্যাজেডি নয়, এটি অন্যায় ও জুলুমের বিরুদ্ধে নৈতিক প্রতিরোধের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। সত্য ও ন্যায়ের জন্য আত্মত্যাগ, মানবিক মর্যাদা রক্ষা এবং আদর্শের প্রতি অবিচল থাকার শিক্ষা যুগে যুগে মানুষকে অনুপ্রাণিত করে আসছে।
দিবসটি উপলক্ষে আজ ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বায়তুল মোকররমের দক্ষিণ বারান্দায় ‘আশুরার গুরুত্ব ও তাৎপর্য’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ) আ. ছালাম খান। এতে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব আলহাজ মাওলানা মো. মহিউদ্দিন। বিশেষ আলোচক ছিলেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের দ্বীনি দাওয়াত ও সংস্কৃতি বিভাগের পরিচালক ড. মোহাম্মদ হারুনুর রশীদ।
এদিকে পবিত্র আশুরা উপলক্ষে রাজধানীতে আয়োজিত তাজিয়া মিছিলসহ বিভিন্ন শোক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল এবং ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে সম্পন্ন করতে ব্যাপক এবং নিঁিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ। এজন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমেদ।
এছাড়া তিনি দিবসটি উপলক্ষে মিছিলে ব্যবহৃত নিশানের উচ্চতা ১২ ফুটের বেশি না হওয়া, কোনো প্রকার ধারালো ধাতব বস্তু, দাহ্য পদার্থ, ছুরি, চাকু, লাঠি, ছোরা, তরবারি, বর্শা, ব্যাগ, পোটলা বা সুটকেস নিয়ে মিছিলে অংশগ্রহণ না করা, আগত ব্যক্তিদের ব্যাগ, সুটকেস, ছাতা, কুকার জাতীয় সন্দেহজনক প্যাকেট বা বক্সসহ প্রবেশে বাধা প্রদান করা, উচ্চমাত্রার শব্দ সৃষ্টি করনো যন্ত্র বা পিএ সিস্টেম ব্যবহার না করা, কোনো প্রকার ঢাক-ঢোল না বাজানো, আতশবাজি এবং যেকোনো ধরনের পটকা ব্যবহার থেকে বিরত থাকার বিষয়েও বেশ কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন।
এছাড়া ২৬ জুন সকাল ১০টা থেকে তাজিয়া মিছিল শেষ না হওয়া পর্যন্ত নির্ধারিত রুটগুলোতে ট্রাফিক ডাইভারশন মেনে চলার এবং তীব্র যানজট এড়াতে মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করার জন্য ঢাকা মহানগরীর চালক ও সাধারণ জনগণকে বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করার অনুরোধ জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বৃহস্পতিবার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা উপলক্ষ্যে খুলনা অঞ্চলের কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
শিক্ষার পাশাপাশি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, আগামী জুলাই মাস থেকে দেশের প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘মিড ডে মিল’ বা দুপুরের খাবার চালু হতে যাচ্ছে।
তিনি জানান, ‘এই খাদ্য কর্মসূচিতে শিশুদের মাঝে যদি কোনো ধরনের পচা বা নিম্নমানের খাবার পরিবেশন করা হয়, তবে তার দায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরই নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অবহেলা প্রমাণিত হলে চাকরিচ্যুতিসহ কঠোর আইনি শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।’
আজ বৃহস্পতিবার খুলনা বিভাগীয় অডিটোরিয়ামে আসন্ন এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬ উপলক্ষ্যে খুলনা অঞ্চলের কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করে।
শিক্ষামন্ত্রী ড. মিলন কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পুষ্টি ও মেধা বিকাশের জন্য সরকার মিড ডে মিলের মতো বড় উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু কোনো কর্মকর্তা বা শিক্ষকের গাফিলতির কারণে যদি কোমলমতি শিশুদের পচা খাবার দেওয়া হয়, তবে সংশ্লিষ্টদের শুধু চাকরিচ্যুত নয়, প্রয়োজনে তাদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়ায় ‘প্যারালাইজড’ (স্থবির) করে দেওয়া হবে। এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’
আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষা প্রসঙ্গে আলোচনা করতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, পরীক্ষা কেন্দ্রে সনাতন পদ্ধতির নকল এখন আর নেই। তবে ‘ডিজিটাল নকল’ এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশ্ন ফাঁসের গুজব ছড়ানোর চেষ্টা হচ্ছে একটি চক্রের মাধ্যমে, যা শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংসের চেষ্টা করছে।
তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কড়া নির্দেশ দিয়ে বলেন, ‘ফেসবুকে কেউ প্রশ্ন ফাঁসের ভুয়া তথ্য বা গুজব ছড়ালেই দ্রুত আইনের আওতায় নিতে আসতে হবে। অপরাধ প্রমাণ হলে সাইবার ক্রাইম আইনের আওতায় সর্বোচ্চ কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। আমরা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে সোশ্যাল মিডিয়ার ট্রল বানাতে দিতে পারি না।’
মাঠ পর্যায়ের শিক্ষা কর্মকর্তাদের দীর্ঘদিনের এক জায়গায় জেঁকে বসার সংস্কৃতির সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকা ও দেশের বড় বড় শহরে যেসব শিক্ষা কর্মকর্তা দীর্ঘদিন ধরে অলস বসে আছেন, অথচ মাঠ পর্যায়ে তদারকি করছেন না, তাদের তালিকা তৈরি করুন। যারা নিষ্ক্রিয়, তাদের অবিলম্বে উপজেলায় বদলি করা হবে। কর্মকর্তাদের অলসতা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।’
পরীক্ষাকেন্দ্রে কড়া তল্লাশির নির্দেশ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘পরীক্ষাকেন্দ্রে মোবাইল বা কোনো প্রকার অবৈধ কাগজপত্র নিয়ে প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষেধ। কোনো পরীক্ষার্থীর কাছে যদি পরীক্ষার হলে বই বা কাগজ পাওয়া যায়, তবে তার দায় ওই কক্ষের পরিদর্শককে নিতে হবে। শিক্ষকরা নিজেদের দায় এড়িয়ে বলতে পারবেন না যে তারা দেখেননি।’
মাদ্রাসা বোর্ডের পাসের হার নিয়ে প্রশ্ন তুলে ড. মিলন বলেন, ‘বোর্ডগুলো শিক্ষকদের ৫০০ করে খাতা দিয়ে দেয়, কিন্তু শিক্ষকদের মূল্যায়নের পদ্ধতি সম্পর্কে বোর্ড তদারকি করে না। আমাদের খাতা দেখার এই ঢিলেঢালা পদ্ধতি আমরা বদল করতে চাই।’
বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ফারুখে আযম মু. আব্দুস ছালামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া মতবিনিময় সভায় খুলনা ও যশোর অঞ্চলের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান এবং পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফ্রান্স-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (সিসিআইএফবি) ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন ড. মো. এরশাদ হুসাইন রানা। ড. এরশাদ হুসাইন রানা বর্তমানে ডন গ্রুপের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
আজ বৃহস্পতিবার চেম্বারের বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে নতুন পরিচালনা পর্ষদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয়। এ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দুই বছরের জন্য নতুন নেতাদের নির্বাচন করা হয়।
নতুন কমিটিতে সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন এম. এ. রিয়াজ, যিনি এক্সপো হোল্ডিংস (বিডি) লিমিটেডের ব্যবসা উন্নয়ন পরিচালক হিসেবে কাজ করছেন। এছাড়া, আই লজিস্টিকস (প্রা.) লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মো. জাহাঙ্গীর আলম সরকারও সহ-সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। একই মেয়াদের জন্য কোষাধ্যক্ষ নির্বাচিত হয়েছেন অ্যাবিস্তা এফএস লিমিটেডের ফারজানা চৌধুরী।
চেম্বারের ১৭ সদস্যবিশিষ্ট পরিচালনা পর্ষদে নবনির্বাচিত কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেশের বিভিন্ন খাতের শীর্ষ ব্যবসায়ী ও করপোরেট ব্যক্তিত্বদেরকে পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে দেখা যাবে।
পরিচালক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন এবিএন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ সাদাত আহমেদ, আখতার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দাতো কে. এম. রিফাতুজ্জামান, বাংলাদেশ এক্সপোর্টস লিমিটেডের মার্কেটিং পরিচালক বদরিয়া আনিস, বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও আহমেদ সাইফুদ্দিন চৌধুরী, বেঙ্গল এয়ারলিফট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফ রহমান, এলিট সিকিউরিটি সার্ভিসেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শরীফ আজিজ, ফারিহা নিট টেক্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আসাদুল ইসলাম, নোভো কার্গো সার্ভিসেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস. এম. রহমান, প্যাসিফিক ডিজাইন অ্যান্ড সোর্সিংয়ের সিইও মোহাম্মদ রাশেদ, রেডিয়েন্ট করপোরেশনের প্রেসিডেন্ট ও সিইও এস. এ. বাহাদুর, তাশো এন্টারপ্রাইজেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সালিমুল হক এসা, ইউনিগ্লোবাল বিজনেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহমুদুল ইসলাম পারভেজ এবং ইউটাহ নিটিং অ্যান্ড ডাইং লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক সানা সাত্তার।
এজিএম-পরবর্তী বোর্ড ট্রানজিশন অনুষ্ঠানে নবনির্বাচিত নেতৃত্বকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হয়। পরে আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজে চেম্বারের সদস্য, ব্যবসায়ী ও অতিথিদের অংশগ্রহণ দেখা যায়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা উল্লেখ করেন, ফ্রান্স ও বাংলাদেশের মধ্যকার বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে সিসিআইএফবি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরো শক্তিশালী হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ির বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএলআরআই) আঞ্চলিক কেন্দ্র পরিদর্শন করেন।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, সরকার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ ও আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি উল্লেখ করেন, ক্ষুদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে প্রাণিসম্পদ খাতকে আরো কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আজ তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, নাইক্ষ্যংছড়ির বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএলআরআই) আঞ্চলিক কেন্দ্র পরিদর্শনকালে এসব কথা বলেন।
টুকু বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানে নাইক্ষ্যংছড়ির এই খামারটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এর বিশেষত্ব ছিল গয়াল সংরক্ষণ ও উৎপাদন বৃদ্ধি এবং পার্বত্য অঞ্চলের ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে এসব প্রাণী বিতরণের ব্যবস্থা করা। বর্তমান সরকার সেই লক্ষ্যে কাজ করছে এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত করা হচ্ছে।
ছবি: বাসস
তিনি জানান, ইতোমধ্যে বিভিন্ন খামারির মধ্যে ছাগল ও ভেড়া বিতরণ করা হয়েছে। গবেষণার মাধ্যমে খামারিদের সহায়তা করার জন্য সরকারের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এসব খামারে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিগত সময়ে খামারটির উন্নয়ন যথাযথ পরিচর্যা ও ব্যবস্থাপনার অভাবে পুরোপুরি করা সম্ভব হয়নি। বর্তমান সরকার এর সার্বিক উন্নয়ন ও আধুনিকায়নে পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
তিনি আরও বলেন, একজন প্রান্তিক মানুষ যদি কিছু ছাগল, ভেড়া, গরু কিংবা মুরগি পেয়ে সেগুলো বাড়ির আশপাশে লালন-পালন করতে পারেন, তাহলে তিনি উপার্জনের সক্ষমতা অর্জন করতে পারবেন এবং স্বাবলম্বী হয়ে উঠবেন। প্রান্তিক মানুষের আত্মনির্ভরশীলতা নিশ্চিত করাই সরকারের উদ্দেশ্য। এজন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আগামী দিনে একটি সমৃদ্ধ এবং সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার জন্য সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে।
এর আগে প্রতিমন্ত্রী নাইক্ষ্যংছড়ি আঞ্চলিক কেন্দ্রের গয়াল শেড, হরিণ শেড এবং ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের শেড পরিদর্শন করেন।
এ সময় তিনি গয়ালের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং অন্যান্য প্রাণীর সার্বিক সুবিধা নিশ্চিত করতে বিএলআরআই-এর কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা প্রদান করেন।
পরে তিনি স্থানীয় খামারিদের মাঝে মুরগি, ছাগী, ছাগলের পাঠা, ভেড়া ও ভেড়ার পাঠা বিতরণ করেন।
এ সময় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. খালেদ কনক, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান, বিএলআরআই-এর মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুক, মৎস্য অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন, অতিরিক্ত পরিচালক ড. এবিএম মুস্তানুর রহমান, পরিচালক ড. জিল্লুর রহমান, কক্সবাজার জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাজমুল হুদা, ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ খায়রুল বাশার, বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় খামারিরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সরকারের সব বাহিনীর মাধ্যমে তদন্ত করে যদি এক টাকার দুর্নীতির প্রমাণ দিতে পারে, তবে জাতীয় সংসদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনাকালে সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের উদ্দেশ্য করে তিনি এই চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন।
এদিন সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
এ সময় বাজেটে বরাদ্দ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ আহ্বান জানান যেন তার এলাকার মানুষকে কোনোভাবে বঞ্চিত না করা হয়।
বাজেটের ওপর নিজের বক্তব্য উপস্থাপনকালে হাসনাত আবদুল্লাহর বক্তব্যের প্রসঙ্গ টানেন চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান।
তিনি বলেন, ‘আমি আবুল হাসনাত আবদুল্লাহর একটি প্রসঙ্গ, যে আলাপটি তিনি করেছেন সেটি হলো- বাজেটে এবার তাকে আটকে দেয়া হবে কিনা। আপনাকে টাকা দেয়া হবে না-তো। আপনার এলাকায় টাকা দেয়া হবে, এলাকার মানুষের জন্য টাকা দেয়া হবে। সেজন্য আপনি ইন্টেরিম গর্ভনমেন্টে (অন্তর্বর্তী সরকারে) যেভাবে যেভাবে পেয়েছেন, আমরা অনেক কিছু শুনি, এলিগেশন আদান-প্রদানে অনেক কিছু বলা যায়। সেভাবেই চলবে হয়তো, কেননা জনগণের জন্যই সেই টাকা দেয়া হবে। কোনো ব্যক্তিকে দেয়া হয় না। কোনো এমপির আলাদা করে বরাদ্দ নিয়ে আমরা কিছু করি না।’
এরপর আরও একজন সংসদ সদস্যের বাজেটের ওপর বক্তব্য শেষে ২৭৪ বিধি অনুসারে ব্যক্তিগত কৈফিয়তের জন্য দাঁড়ান হাসনাত আবদুল্লাহ।
পরে ডেপুটি স্পিকার তাকে এক মিনিট সময় দিলে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘আমি আমার বক্তব্যের কোথাও এই শব্দ উচ্চারণ করিনি অথবা এই বাক্য বলিনি যে আমাকে যেন বরাদ্দবঞ্চিত না করা হয়। আমি বলেছি—আমার বক্তব্যের কারণে আমার এলাকার মানুষকে যেন কোনো কারণে বঞ্চিত না করা হয়।’
হাসনাত আবদুল্লাহ আরও বলেন, ‘আজকেও এই সংসদে আমরা দেখেছি জুলাই সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশ্য করে কিছু কথা বলা হয়েছে যে, আমরা আগে রিকশায় চড়তাম এখন আমরা গাড়িতে চড়ি। এই সংসদে আজকে সরকারে যারা আছেন, আমি আপনাদের কাছে বিনীতভাবে অনুরোধ করবো- এখন সরকারের যে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো আপনাদের নিয়ন্ত্রণে, ডিজিএফআই, এনএসআই, পুলিশ, মিলিটারি সবাই আপনাদের নিয়ন্ত্রণে। আমি আপনাদের কাছে অনুরোধ করবো- আপনাদের মতো দায়িত্বশীল জায়গা থেকে এলিগেশনের টোনে এলিগেশন না দিয়ে আপনারা তদন্ত করে ১ টাকার দুর্নীতি, ১ টাকার কোনো ধরনের অসৎ উপায়ের ন্যায়ের কোনো প্রমাণ দিতে পারলে আমরা এই সংসদ থেকে ইস্তফা দেবো।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ