বৃহস্পতিবার, ২৫শে জুন, ২০২৬ ইং
০৮:৩৪ পি.এম
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ির বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএলআরআই) আঞ্চলিক কেন্দ্র পরিদর্শন করেন।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, সরকার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ ও আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি উল্লেখ করেন, ক্ষুদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে প্রাণিসম্পদ খাতকে আরো কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আজ তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, নাইক্ষ্যংছড়ির বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএলআরআই) আঞ্চলিক কেন্দ্র পরিদর্শনকালে এসব কথা বলেন।
টুকু বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানে নাইক্ষ্যংছড়ির এই খামারটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এর বিশেষত্ব ছিল গয়াল সংরক্ষণ ও উৎপাদন বৃদ্ধি এবং পার্বত্য অঞ্চলের ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে এসব প্রাণী বিতরণের ব্যবস্থা করা। বর্তমান সরকার সেই লক্ষ্যে কাজ করছে এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত করা হচ্ছে।
ছবি: বাসস
তিনি জানান, ইতোমধ্যে বিভিন্ন খামারির মধ্যে ছাগল ও ভেড়া বিতরণ করা হয়েছে। গবেষণার মাধ্যমে খামারিদের সহায়তা করার জন্য সরকারের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এসব খামারে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিগত সময়ে খামারটির উন্নয়ন যথাযথ পরিচর্যা ও ব্যবস্থাপনার অভাবে পুরোপুরি করা সম্ভব হয়নি। বর্তমান সরকার এর সার্বিক উন্নয়ন ও আধুনিকায়নে পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
তিনি আরও বলেন, একজন প্রান্তিক মানুষ যদি কিছু ছাগল, ভেড়া, গরু কিংবা মুরগি পেয়ে সেগুলো বাড়ির আশপাশে লালন-পালন করতে পারেন, তাহলে তিনি উপার্জনের সক্ষমতা অর্জন করতে পারবেন এবং স্বাবলম্বী হয়ে উঠবেন। প্রান্তিক মানুষের আত্মনির্ভরশীলতা নিশ্চিত করাই সরকারের উদ্দেশ্য। এজন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আগামী দিনে একটি সমৃদ্ধ এবং সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার জন্য সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে।
এর আগে প্রতিমন্ত্রী নাইক্ষ্যংছড়ি আঞ্চলিক কেন্দ্রের গয়াল শেড, হরিণ শেড এবং ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের শেড পরিদর্শন করেন।
এ সময় তিনি গয়ালের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং অন্যান্য প্রাণীর সার্বিক সুবিধা নিশ্চিত করতে বিএলআরআই-এর কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা প্রদান করেন।
পরে তিনি স্থানীয় খামারিদের মাঝে মুরগি, ছাগী, ছাগলের পাঠা, ভেড়া ও ভেড়ার পাঠা বিতরণ করেন।
এ সময় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. খালেদ কনক, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান, বিএলআরআই-এর মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুক, মৎস্য অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন, অতিরিক্ত পরিচালক ড. এবিএম মুস্তানুর রহমান, পরিচালক ড. জিল্লুর রহমান, কক্সবাজার জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাজমুল হুদা, ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ খায়রুল বাশার, বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় খামারিরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সরকারের সব বাহিনীর মাধ্যমে তদন্ত করে যদি এক টাকার দুর্নীতির প্রমাণ দিতে পারে, তবে জাতীয় সংসদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনাকালে সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের উদ্দেশ্য করে তিনি এই চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন।
এদিন সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
এ সময় বাজেটে বরাদ্দ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ আহ্বান জানান যেন তার এলাকার মানুষকে কোনোভাবে বঞ্চিত না করা হয়।
বাজেটের ওপর নিজের বক্তব্য উপস্থাপনকালে হাসনাত আবদুল্লাহর বক্তব্যের প্রসঙ্গ টানেন চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান।
তিনি বলেন, ‘আমি আবুল হাসনাত আবদুল্লাহর একটি প্রসঙ্গ, যে আলাপটি তিনি করেছেন সেটি হলো- বাজেটে এবার তাকে আটকে দেয়া হবে কিনা। আপনাকে টাকা দেয়া হবে না-তো। আপনার এলাকায় টাকা দেয়া হবে, এলাকার মানুষের জন্য টাকা দেয়া হবে। সেজন্য আপনি ইন্টেরিম গর্ভনমেন্টে (অন্তর্বর্তী সরকারে) যেভাবে যেভাবে পেয়েছেন, আমরা অনেক কিছু শুনি, এলিগেশন আদান-প্রদানে অনেক কিছু বলা যায়। সেভাবেই চলবে হয়তো, কেননা জনগণের জন্যই সেই টাকা দেয়া হবে। কোনো ব্যক্তিকে দেয়া হয় না। কোনো এমপির আলাদা করে বরাদ্দ নিয়ে আমরা কিছু করি না।’
এরপর আরও একজন সংসদ সদস্যের বাজেটের ওপর বক্তব্য শেষে ২৭৪ বিধি অনুসারে ব্যক্তিগত কৈফিয়তের জন্য দাঁড়ান হাসনাত আবদুল্লাহ।
পরে ডেপুটি স্পিকার তাকে এক মিনিট সময় দিলে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘আমি আমার বক্তব্যের কোথাও এই শব্দ উচ্চারণ করিনি অথবা এই বাক্য বলিনি যে আমাকে যেন বরাদ্দবঞ্চিত না করা হয়। আমি বলেছি—আমার বক্তব্যের কারণে আমার এলাকার মানুষকে যেন কোনো কারণে বঞ্চিত না করা হয়।’
হাসনাত আবদুল্লাহ আরও বলেন, ‘আজকেও এই সংসদে আমরা দেখেছি জুলাই সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশ্য করে কিছু কথা বলা হয়েছে যে, আমরা আগে রিকশায় চড়তাম এখন আমরা গাড়িতে চড়ি। এই সংসদে আজকে সরকারে যারা আছেন, আমি আপনাদের কাছে বিনীতভাবে অনুরোধ করবো- এখন সরকারের যে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো আপনাদের নিয়ন্ত্রণে, ডিজিএফআই, এনএসআই, পুলিশ, মিলিটারি সবাই আপনাদের নিয়ন্ত্রণে। আমি আপনাদের কাছে অনুরোধ করবো- আপনাদের মতো দায়িত্বশীল জায়গা থেকে এলিগেশনের টোনে এলিগেশন না দিয়ে আপনারা তদন্ত করে ১ টাকার দুর্নীতি, ১ টাকার কোনো ধরনের অসৎ উপায়ের ন্যায়ের কোনো প্রমাণ দিতে পারলে আমরা এই সংসদ থেকে ইস্তফা দেবো।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপল-এ চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার পরিকল্পনা করছেন।
স্থানীয় সময় অনুযায়ী আগামীকাল শুক্রবার সকাল ১০টায় তাঁদের সাক্ষাৎ হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।
মাহদী আমিন বলেন, ‘শুক্রবার, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরের শেষ দিনে, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টায়, অর্থাৎ বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৮টায় ঐতিহাসিক গ্রেট হলে সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হবে।’
তিনি যোগ করেন, চীনের প্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশি প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ ও চীনের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় স্বাভাবিকভাবেই তুলে ধরবেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের মানুষের উন্নয়ন-অগ্রযাত্রা আরো সুসংহত করার লক্ষ্যে ইতিবাচক ফলাফলের আশা করছেন, ইনশাআল্লাহ।
মাহদী আমিন আরও বলেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক বহুমাত্রিক ক্ষেত্রে সাধনাগামী হবে। কৌশলগত সহযোগিতা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং উন্নয়ন প্রকল্প থেকে জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ সব ক্ষেত্রেই দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পৃক্ততা নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে আমাদের মনে হচ্ছে।
চারদিনের চীন সফর উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শুক্রবার বিকেলে বেইজিং থেকে ঢাকায় ফিরে যাবেন। এই সফরের সঙ্গে রয়েছে ২৪ জন সফরসঙ্গী।
সফরসঙ্গীদের মধ্যে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, পানি সম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, বেসামরিক বিমান চলাচল প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাদের মধ্যে রয়েছেন ৫ জন। তাঁদের মধ্যে হলেন— হুমায়ুন কবির, একেএম শামসুল ইসলাম, রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, মাহদী আমিন।
গত ২১ জুন প্রধানমন্ত্রী প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়ায় যান। এরপর সোমবার রাতে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বৈঠকে যোগ দিতে চীনের দালিয়ানে পৌঁছান। দুইদিনের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের পর বুধবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রী বেইজিং পৌঁছান।
সফরের শেষ দিনের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, সকালে ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের ন্যাশনাল স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ঝাও লেজির সাথে গ্রেট হলে সাক্ষাৎ এবং চীনের জাদুঘর পরিদর্শন। বিকেল ৫টায়, বেইজিং থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন প্রধানমন্ত্রীসহ সফরসঙ্গীরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বগুড়ায় আট বছর বয়সি এক শিশু শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানি ও ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগের ভিত্তিতে আব্দুল আলীম (৪২) নামে এক মাদ্রাসা শিক্ষককে স্থানীয়রা গণপিটুনি দিয়েছে। পরে উত্তেজিত জনতার রোষানল থেকে পুলিশ আব্দুল আলীমকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিকেলে জেলা শহরের মালগ্রাম এলাকার বেলতলায় এই ঘটনাটি ঘটে।
অভিযুক্ত আব্দুল আলীম ওই এলাকার বেলতলা জামে মসজিদের ইমাম এবং জামিয়া ইসলামিয়া আল আকাবা মাদ্রাসার শিক্ষক। ভুক্তভোগী শিশুটি ওই মাদ্রাসার তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী।
স্থানীয় মানুষেরা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার সকালে যখন মাদ্রাসা ছুটি হয়, তখন শিশুটিকে নিতে পরিবারের কেউ আসেনি। এ সুযোগে বাড়িতে পৌঁছে দেয়ার কথা বলে শিক্ষক আব্দুল আলীম শিশুটিকে নিজের সঙ্গে নিয়ে যান। পথে একটি গলির ভিতরে শিশুটিকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন তিনি। পরে তাকে নিজের বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন এবং বিভিন্ন রকমের ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন।
বাড়ি ফিরে শিশুটি ঘটনার বর্ণনা তার পরিবারের কাছে দেয়। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা অত্যন্ত বিক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন। তারা ওই শিক্ষকের বাড়িতে হামলা চালিয়ে জানালা ভাঙচুর করেন এবং তাকে গণপিটুনি দিয়ে আটকে রাখেন।
আরও পড়ুন: স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের বগুড়া জেলা সভাপতি ডা. মিশু গ্রেফতার।
খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং আব্দুল আলীমকে আটক করে হেফাজতে নেয়ার চেষ্টা করে। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের কাছ থেকে তাকে ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্যও জনতার মারধরের শিকার হন। পরে ব্যাপক পুলিশি পাহারায় তাকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
বগুড়া সদর থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) মাহফুজ আলম জানান, উত্তেজিত জনতার মাঝ থেকে অভিযুক্তকে উদ্ধার করে থানার হেফাজতে নেয়া হয়েছে। ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট)-এ ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হওয়া নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিতে আয়োজিত 'ওরিয়েন্টেশন-২০২৬' নামের অনুষ্ঠানে নবীন শিক্ষার্থীদের জন্য ডিজিটাল লাইব্রেরি কার্ড ও কুয়েট ই-মেইল আইডি প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়াম প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুয়েটের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাছুদ।
এ সভায় সভাপতিত্ব করেন পরিচালক (ছাত্র কল্যাণ) প্রফেসর ড. মো. হাসান আলী। প্রধান অতিথি বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। কুয়েটকে আমরা একটি শিক্ষার্থীবান্ধব, গবেষণাকেন্দ্রিক এবং আন্তর্জাতিক মানের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করতে কাজ করছি। শিক্ষার্থীদের মেধা, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী শক্তির বিকাশে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা নিশ্চিত করা হবে।'
তিনি আরও বলেন, 'কুয়েটকে দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গবেষণা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। তোমাদের অর্জিত জ্ঞান, গবেষণা ও উদ্ভাবন দেশের উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।'
বিশেষ অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিআইটি, খুলনার সাবেক পরিচালক প্রফেসর এম. এ. হান্নান, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. খন্দকার মাহবুব হাসান, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. মো. রফিকুল ইসলাম, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সুলতান মাহমুদ, সায়েন্স অ্যান্ড হিউম্যানিটিজ অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবু ইউসুফ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. আনিছুর রহমান ভূঞা।
এই অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. আনিছুর রহমান ভূঞা। এছাড়া বক্তব্য দেন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. খন্দকার মাহবুব হাসান, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. মো. রফিকুল ইসলাম, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সুলতান মাহমুদ এবং সায়েন্স অ্যান্ড হিউম্যানিটিজ অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবু ইউসুফ। বক্তারা নবীন শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে শৃঙ্খলা, নৈতিকতা, জ্ঞানচর্চা, গবেষণা ও মানবিক মূল্যবোধ ধারণের আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে কুয়েটের শিক্ষা ও প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নে দীর্ঘদিনের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাছুদ প্রফেসর এম. এ. হান্নানের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন।
পরে ভাইস-চ্যান্সেলর তিনজন নবীন শিক্ষার্থীর হাতে ডিজিটাল লাইব্রেরি কার্ড ও কুয়েট ই-মেইল আইডি প্রদান করে এ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। নতুন এ ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য একটি ইউনিক আইডি থাকবে, যার মাধ্যমে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ই-মেইল, একাডেমিক নিবন্ধন, বিভিন্ন ফি ও অন্যান্য পেমেন্ট, হল ব্যবস্থাপনা, লাইব্রেরি সেবা এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রম একক প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে পারবে।
নবীন শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে অনুভূতি প্রকাশ করেন আরবান অ্যান্ড রিজিওনাল প্ল্যানিং বিভাগের শিক্ষার্থী আফিফ আদনান, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী প্রাঞ্জল ধর এবং ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী সাইয়ারা ইসলাম নিপুন। তারা কুয়েটে অধ্যয়নের সুযোগ পেয়ে আনন্দ প্রকাশ করেন এবং দেশের উন্নয়ন ও কল্যাণে নিজেদের দক্ষ প্রকৌশলী হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ইনস্টিটিউটের পরিচালক, বিভাগীয় প্রধান, হল প্রভোস্ট, শিক্ষক, কর্মকর্তা, নবীন শিক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ