০২:২৬ এম
চট্টগ্রাম নগরের বন্দর এলাকায় প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে বিএনপি নেতা মো. মামুন আলী আদালতে সাধারণ ডায়েরি দায়ের করেছেন। একইসাথে, তার মায়ের পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগও উত্থাপন করা হয়েছে। এই মামলায় ওই এলাকার বাসিন্দা মো. মহিউদ্দিন এবং বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুর রহিমসহ মোট ৮ জনকে প্রতিপক্ষ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আদালত সাধারণ ডায়েরিটি গ্রহণ করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) মেট্রোকে তদন্তের দায়িত্ব প্রদান করেছেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, সাধারণ ডায়েরির বাদী মো. মামুন আলী প্রকাশ কিং আলী (৪৮) গত ২ নভেম্বর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৪ এর বিচারক মোহাম্মদ মোস্তফার আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৪ ধারার বিধানমতে প্রতিকার চেয়ে আবেদন করেন। তবে বিষয়টি ৫ নভেম্বর বিকালে প্রকাশ্যে আসে।
ডায়েরির বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে, বাদী একজন ব্যবসায়ী এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরে পৈতৃক ও মাতৃসূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তি ভোগদখল করে আসছেন। বন্দর থানাধীন মধ্য হালিশহর মৌজার বিএস ৩৭০ নম্বর খতিয়ানের বিএস ৭৯০০ দাগে ৭.৭৫ শতক বাড়ি ভূমি নিয়ে প্রতিপক্ষ মহিউদ্দিনের সঙ্গে তার বিরোধ চলমান রয়েছে। এ বিষয়ে যুগ্ম জেলা জজ আদালতে স্বত্ব সাব্যস্ত ও দখল স্থিতাবস্থার দেওয়ানি মামলা এবং ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে মামলা চলমান রয়েছে।
আরও পড়ুন: অধ্যক্ষকে অবরুদ্ধ করে মধ্যরাতে ছাত্রীদের বিক্ষোভ, পদত্যাগের দাবি
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, আদালতের বিচারাধীন বিষয়কে তোয়াক্কা না করে প্রতিপক্ষরা জোরপূর্বক সম্পত্তি দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছে। বাদী মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মামুন আলী অভিযোগ করে জানান, বারবার থানায় জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি, বরং ওসির প্ররোচনায় প্রতিপক্ষরা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। গত ২০ অক্টোবর বাদীর নানার বাড়িতে গেলে প্রতিপক্ষরা তাকে খুন, ডাকাতিসহ বড় বড় মামলায় জড়িয়ে জেল খাটানোর হুমকি দেয়।
মামলায় প্রধান আসামি হিসেবে মো. মহিউদ্দিনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তিনি বন্দর থানার আনন্দ বাজারের মুনীর নগর এলাকার মৃত আব্দুল নুরের ছেলে। এছাড়া ২ নম্বর আসামি হিসেবে বন্দর থানার ওসি মো. আব্দুর রহিমকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মামলায় অন্যান্য প্রতিপক্ষরা হলেন জসিম, নেজাম, রাব্বি, সেলিম, নুরুল আলম ও শিবলু।
সাধারণ ডায়েরির বাদী মো. মামুন আলী বলেন, "আমার প্রধান প্রতিপক্ষ আওয়ামী যুবলীগের নেতা। তিনি তিন দফায় আমার মায়ের উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ৭ শতক জমি দখল করেছেন। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে ক্ষমতার অপব্যবহার করে আমার রাজনৈতিক প্রতিকূলতার সুযোগ নিয়ে নানার সূত্রে পাওয়া সম্পত্তি দখল করা হয়েছে। সম্প্রতি তারা আমার নানার বাড়ি দখল করে স্থাপনা নির্মাণ শুরু করেছেন। এই কাজে তাকে পুলিশও সহযোগিতা করেছে।"
তিনি আরও বলেন, "এছাড়াও আরও কয়েকটি স্থানে আমার নানার সূত্রে পাওয়া সম্পত্তি দখল করে একটি কোম্পানির ডিপো খোলা হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে কোন সহযোগিতা পাওয়া দূরে থাক, উল্টো তারা দখলদারকে সহযোগিতা করে যাচ্ছে এবং আমাকে মামলার হুমকি দিচ্ছে। আমি ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন রাজনৈতিক ঘটনায় পুলিশের ওসিসহ একাধিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করায় আমার ওপর আগে থেকে ক্ষুব্ধ পুলিশ। আমি আমার অধিকার ফিরে পেতে লড়াই করছি।"
আরও পড়ুন: মাইশার মৃত্যুর পর সীতাকুণ্ডে ২০ স্পিডব্রেকার, যানজট বেড়েছে
এ বিষয়ে বন্দর থানার ওসি আব্দুর রহিমকে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
বাদীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট আশরাফুর রহমান জানান, জমি দখল ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগের সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। আদালত সাধারণ ডায়েরিটি গ্রহণ করেছেন এবং পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোকে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সাধারণ ডায়েরি নিয়মিত মামলায় রূপান্তরিত হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন