ঢাকা শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

সন্ধ্যা হলেই বন্ধ চিকিৎসাকেন্দ্র, শিক্ষার্থীদের জন্য সংকট পরিবহনেও


সন্ধ্যা হলেই বন্ধ চিকিৎসাকেন্দ্র, শিক্ষার্থীদের জন্য সংকট পরিবহনেও

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় নানা সংকটে ভুগছে, যার মধ্যে আবাসন, শিক্ষক এবং পরিবহন অন্যতম। প্রতিষ্ঠার দুই দশক পেরিয়ে গেলেও, ৭১ শতাংশ শিক্ষার্থী এখনও আবাসন সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছে।

এদিকে, শিক্ষকদের অনুমোদিত পদের প্রায় ৫৪ শতাংশ খালি রয়েছে। চিকিৎসাকেন্দ্র থেকেও কাঙ্ক্ষিত সেবা পাওয়া যাচ্ছে না। তবে উপাচার্য জানিয়েছেন, সংকট কমানোর জন্য তারা কাজ করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে তিন পর্বের ধারাবাহিক প্রতিবেদনের আজ শেষ পর্ব।

শিক্ষার্থীদের জরুরি চিকিৎসাসেবার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি দোতলা মেডিকেল সেন্টার রয়েছে, যার নাম ‘ব্যথার দান’। এখানে ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসা সেবা দেওয়ার কথা বলা হলেও, কার্যক্রম সীমাবদ্ধ সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত। সন্ধ্যার পর চিকিৎসাকেন্দ্রের দরজা বন্ধ হয়ে যায়। ১০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার জন্য এখানে মাত্র চারজন চিকিৎসক কর্মরত আছেন। জনবলসংকটের কারণে ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসাসেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ফলে সন্ধ্যার পর অসুস্থ হলে শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসের বাইরে যেতে হয়। তাদের ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স অথবা ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যেতে হয়।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান মহড়া ‘এক্সারসাইজ কোপ সাউথ-২০২৬’ শেষ

সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পরিদর্শনকালে ‘ব্যথার দান’ মেডিকেল সেন্টারের কার্যক্রম এবং শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে।

শিক্ষার্থীরা জানাচ্ছেন, সন্ধ্যার পর সবচেয়ে বড় সমস্যা দেখা দেয়। রাতে অসুস্থ হলে মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসক না থাকায় তাদের ক্যাম্পাসের বাইরে যেতে হয়। মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী শাকিব ভূঁইয়া বলেন, "সন্ধ্যার পর কোনো শিক্ষার্থী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে ক্যাম্পাসে তাৎক্ষণিক চিকিৎসার সুযোগ সীমিত। তখন বাধ্য হয়ে বাইরে যেতে হয়। ক্যাম্পাসেই অন্তত প্রাথমিক চিকিৎসা ও জরুরি সেবা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।"

শিক্ষার্থীদের দাবি, রাতেও চিকিৎসক এবং প্রয়োজনীয় ওষুধসহ মেডিকেল সেন্টার চালু রাখতে হবে। বিশেষ করে আবাসিক হলগুলোতে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য রাতের জরুরি চিকিৎসাসেবা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মেডিকেল সেন্টার থেকে ওষুধ নিতে আসার সময় পরিবেশ বিজ্ঞান ও প্রকৌশল (ইএসসি) বিভাগের ১৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী রত্না আক্তারের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, "এখানে পর্যাপ্ত ওষুধ পাওয়া যায় না, কেবল গ্যাস্ট্রিক বা নাপার মতো কয়েকটি সাধারণ ওষুধ মেলে। সন্ধ্যার পর অসুস্থ হলে কোনো ডাক্তার থাকেন না, চিকিৎসা কেন্দ্রটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। তখন সামান্য চিকিৎসার জন্যও আমাদের ময়মনসিংহে ছুটতে হয়। যাতায়াতের পথে রোগীর অবস্থার চরম অবনতি ঘটে। আমরা চাই চিকিৎসা কেন্দ্রটি ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখা হোক, রাতে ডাক্তারের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হোক এবং সব ধরনের জরুরি ওষুধের পর্যাপ্ত সরবরাহ বাড়ানো হোক।"

আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে সরকারি অফিসের সামনে ৩ পেট্রোলবোমা নিক্ষেপ, আতঙ্ক ছড়িয়েছে

মেডিকেল সেন্টারের অতিরিক্ত চিফ মেডিকেল অফিসার আবুল খায়ের মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন জানান, জনবল কাঠামো অনুযায়ী ৩৪ জন থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে চিকিৎসক, নার্স এবং অন্যান্য কর্মীসহ আছেন মাত্র ১১ জন। ফলে ২৪ ঘণ্টা সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। শিক্ষার্থীদের মুঠোফোন নম্বর দেওয়া আছে, সন্ধ্যার পর কেউ অসুস্থ বোধ করলে টেলিমেডিসিন সেবা দেওয়া হয় এবং প্রয়োজনে অ্যাম্বুলেন্স সুবিধা দিয়ে হাসপাতালে পাঠানো হয়।

মেডিকেল সেন্টারের উপপ্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. মোছাম্মৎ মমতাজ বেগম বলেন, "বর্তমানে চারজন চিকিৎসক দিয়ে ২৪ ঘণ্টা সেবা চালু রাখা সম্ভব নয়। অন্তত ১০ জন চিকিৎসক প্রয়োজন। বিশেষ করে রাতে এক থেকে দুইজন চিকিৎসক থাকলে জরুরি পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হবে।"

তিনি আরও জানান, প্রতিদিন মেডিকেল সেন্টারে প্রায় ২০০ থেকে ৪০০ রোগী আসেন। জ্বর, সর্দি, কাশি এবং বিভিন্ন সাধারণ অসুস্থতা নিয়ে শিক্ষার্থীরা বেশি আসেন। তবে চিকিৎসকের পাশাপাশি কখনো কখনো ওষুধেরও সংকট তৈরি হয়। সরবরাহের কাগজপত্র বা ওষুধ আসতে দেরি হলে সাময়িকভাবে কিছু ওষুধের ঘাটতি দেখা দেয়।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন বলেন, "১০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে মেডিকেল সেন্টারে বর্তমানে যে চারজন চিকিৎসক রয়েছেন, তা পর্যাপ্ত নয়। চিকিৎসক সংকটের বিষয়টি আমরা অবগত আছি। এ সংকট নিরসনে আরও চিকিৎসক নিয়োগের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) কাছে চাহিদা পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় জনবল পাওয়া গেলে মেডিকেল সেন্টারের চিকিৎসাসেবার পরিধি বাড়ানো সম্ভব হবে। শিক্ষার্থীরা যেন ক্যাম্পাসেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পান, সে বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কাজ করছে।

আরও পড়ুন: ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আইজেনকোটকে সমর্থন জানাল আরব জোট, কোণঠাসা নেতানিয়াহু

পরিবহনেও সংকট

শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ২৪টি যানবাহন রয়েছে। তবে স্বাভাবিকভাবে কার্যক্রম চালাতে প্রায় ৩০টি গাড়ি প্রয়োজন বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। প্রায় ৭১ শতাংশ শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসনের বাইরে থাকায় তাদের ময়মনসিংহ শহর বা আশপাশ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে হয়। পরিবহনসংকটের কারণে প্রতিদিন দুর্ভোগে পড়ছেন শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন বলেন, "নতুন গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকায় আপাতত ভাড়া করা গাড়ির মাধ্যমে প্রয়োজন মেটানো হচ্ছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও অংশীজনের কাছ থেকেও পরিবহন উপহার চাওয়া হচ্ছে যেন সংকট কাটানো যায়।

আরও পড়ুন: টেকনাফে মানবপাচারকারীদের গুলিতে আহত সেনাসদস্য মো. তিতাস শেখের মৃত্যু

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আইজেনকোটকে সমর্থন জানাল আরব জোট, কোণঠাসা নেতানিয়াহু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৫১ এম


ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আইজেনকোটকে সমর্থন জানাল আরব জোট, কোণঠাসা নেতানিয়াহু

আরব নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক জোট জয়েন্ট লিস্ট, ইসরাইলের বিরোধী দলের নেতা গাদি আইজেনকোটকে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সমর্থন দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পর, সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায় আইজেনকোটের প্রতি এই সমর্থন জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) জয়েন্ট লিস্ট এক বিবৃতিতে জানায়, নতুন সরকার গঠনের দায়িত্ব আইজেনকোটকে দেয়ার সুপারিশ করে তারা এদিন সন্ধ্যায় দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগের কাছে তাদের সিদ্ধান্ত জানাবে।

গত সপ্তাহের সাধারণ নির্বাচনে ইসরাইলের ১২০ আসনের পার্লামেন্টে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো রেকর্ড ১৯টি আসন অর্জন করেছে। এই ফলাফল নতুন সরকার গঠনের ক্ষেত্রে তাদের প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি করেছে।

জয়েন্ট লিস্টের সমর্থন পাওয়ার ফলে পরবর্তী পার্লামেন্টে আইজেনকোটের পক্ষে সমর্থন জানানো আইনপ্রণেতার সংখ্যা ৬৭-এ পৌঁছাবে, যা পার্লামেন্টের সংখ্যাগরিষ্ঠতা। এর আগে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর চেয়ে আইজেনকোটের সমর্থন বেশি ছিল। তবে, যারা তাকে সমর্থন করছেন, তাদের সবাই শেষ পর্যন্ত তার জোট সরকারে যোগ দেবেন, এমনটি নিশ্চিত নয়।

জয়েন্ট লিস্ট জানায়, নেতানিয়াহু ও তার সরকারকে আবার ক্ষমতায় ফেরা ঠেকানোর জন্য জোটের তিনটি অংশ সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বিবৃতিতে আরো উল্লেখ করা হয়, নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক পথের বিরোধিতা এবং আরব নাগরিকদের বিরুদ্ধে উসকানি ও তাদের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বৈধতা খর্বের প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বিরোধী জোটের অবস্থান এখনও যথেষ্ট স্পষ্ট নয়। তবুও, আইজেনকোটকে সমর্থন দেয়া তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হচ্ছে।

জয়েন্ট লিস্টের মতে, নেতানিয়াহুর তুলনায় আইজেনকোটের সমর্থনের ব্যবধান আরও বাড়ানো গেলে সরকার পরিবর্তনের সম্ভাবনা জোরালো হবে। একই সঙ্গে, নেতানিয়াহুকে ক্ষমতায় রেখে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের সম্ভাবনাও কমে যাবে।

সূত্র: আল জাজিরা, টাইমস অব ইসরাইল

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

উপাচার্য পুর্নবহালের দাবিতে বিএনপি মহাসচিবের কাছে চুয়েট শিক্ষার্থীদের স্মারকলিপি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৫২ এম


উপাচার্য পুর্নবহালের দাবিতে বিএনপি মহাসচিবের কাছে চুয়েট শিক্ষার্থীদের স্মারকলিপি

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমের পুনর্বহালের দাবি জানিয়ে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন চুয়েটের শিক্ষার্থীরা। এই স্মারকলিপিটি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর কাছে দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুর ১টার দিকে চট্টগ্রাম ক্লাবের অতিথিশালায় রুহুল কবির রিজভীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে শিক্ষার্থীরা এই স্মারকলিপিটি তুলে ধরেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা চুয়েটে চলমান আন্দোলনের বিভিন্ন দিক ও প্রেক্ষাপট সম্পর্কে আলোচনা করেন।

রুহুল কবির রিজভী শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের প্রশংসা করেন। তিনি ঢাকায় ফিরে এ বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাসও দেন।

পুরকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী নাফিস হাসান নাফি বলেন, 'দুপুরে আমরা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের নিকট উপাচার্য পুনর্বহালের দাবি নিয়ে স্মারকলিপি প্রদান করেছি। আমরা আশা করি উনার মাধ্যমে সরকার শিক্ষার্থীদের দাবির আলোকে সিদ্ধান্ত নিবেন এবং চুয়েটের সকল স্বাভাবিক কার্যক্রম খুব দ্রুত ফিরিয়ে আনবেন।'

এদিকে, সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীরা গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ক্লাস পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলন শুরু করেন। পরে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও কর্মবিরতি দিয়ে আন্দোলনে যোগ দেন। ৩৬ দিন পর গত বুধবার আংশিকভাবে ক্লাস কার্যক্রম শুরু হয়। তবে দাবি পূরণ না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা শিক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। প্রশাসনিক ভবন এখনো তালাবদ্ধ রয়েছে যদিও শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘কওমি সিলেবাসের মৌলিকত্ব ঠিক রেখে যুগোপযোগী পরিবর্তন আনা দরকার’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:১৫ এম


‘কওমি সিলেবাসের মৌলিকত্ব ঠিক রেখে যুগোপযোগী পরিবর্তন আনা দরকার’

দেশের শীর্ষস্থানীয় ফকিহ, রাজধানীর শায়খ যাকারিয়া ইসলামিক রিসার্চ সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও প্রধান মুফতি আল্লামা মিযানুর রহমান সাঈদ মন্তব্য করেছেন যে, কওমি মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থার মৌলিক কিতাবগুলো অপরিবর্তিত রেখে আনুষঙ্গিক কিতাবাদিতে যুগোপযোগী সংস্কার এবং ঈমান-আকিদা সংক্রান্ত নতুন কিতাব যুক্ত করা প্রয়োজন। তিনি আধুনিক আলেমদের রচিত বই সিলেবাসে অন্তর্ভুক্তির ওপরও গুরুত্বারোপ করেছেন, যা বাতিল মতবাদ ও নাস্তিক্যবাদের বুদ্ধিভিত্তিক মোকাবিলায় সহায়ক হবে।

বৃহস্পতিবার এক ভিডিও সাক্ষাৎকারে কওমি সিলেবাসের সংস্কার ও আধুনিকায়ন নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি এ অভিমত ব্যক্ত করেন।

মুফতি মিযানুর রহমান সাঈদ বলেন, “বর্তমান সময়ে নানা ধরনের যুগোপযোগী প্রশ্ন ও জটিলতা সামনে আসছে। আমাদের শিক্ষার্থীরা যেন এসব প্রশ্নের সঠিক ও দাঁতভাঙা জবাব দিতে পারে, সেজন্য ঈমান-আকিদা সংক্রান্ত আরও কিছু কিতাব কওমি সিলেবাসে যুক্ত করা অপরিহার্য।”

তিনি কওমি ধারার ঐতিহ্যবাহী ভিত্তি তুলে ধরে বলেন, “আমাদের কওমি নেসাবের যে মৌলিক কিতাবগুলো রয়েছে, সেগুলোতে হাত দেওয়ার বা পরিবর্তন আনার কোনো সুযোগ নেই। কারণ এগুলোই শিক্ষার্থীদের যোগ্যতা অর্জনের মূল বুনিয়াদ। এগুলোতে পরিবর্তন আনলে প্রকৃত ইলম অর্জন ব্যাহত হবে। প্রতিটি জামাতের মৌলিক কিতাবগুলো যেভাবে আছে, সেভাবেই বহাল রাখা উচিত।”

তবে তিনি সহায়ক ও আনুষঙ্গিক বিষয়ে পর্যালোচনার সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে বলেন, “সিলেবাসের আনুষঙ্গিক কিতাবগুলোতে প্রয়োজনীয় সংস্কার আনা যেতে পারে। গভীর গবেষণার মাধ্যমে সময়ের চাহিদার সাথে সামঞ্জস্য রেখে প্রয়োজনীয় সংযোজন-বিয়োজন করা যেতে পারে।”

বিশেষ করে আকিদা ও সিরাত অধ্যয়নের ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে শাইখুল হাদিস মুফতি মিযানুর রহমান সাঈদ বলেন, বর্তমান সিলেবাসে এই দুই বিষয়ের কিতাব খুবই কম। সমকালীন ফিতনা মোকাবিলায় আকিদার কিতাব বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রিয় নবীজির (সা.) সিরাত চর্চাকে আরো বিস্তৃত করতে পর্যাপ্ত কিতাব পাঠ্যভুক্ত করা দরকার।

একই সঙ্গে হাদিস মুখস্থকরণের ওপর জোর দিয়ে তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করেন, “আমাদের শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ শিক্ষাজীবন শেষ করে আলেম হয়ে বের হচ্ছে, অথচ অনেকেরই অন্তত একশ’ হাদিসও মুখস্থ থাকে না—এটি অত্যন্ত দুঃখজনক।” এ অবস্থা দূর করতে সিলেবাসে থাকা ছোট ছোট হাদিসের কিতাবগুলো গুরুত্বসহকারে ছাত্রদের হিফজ করানোর পরামর্শ দেন তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চট্টগ্রামে সরকারি অফিসের সামনে ৩ পেট্রোলবোমা নিক্ষেপ, আতঙ্ক ছড়িয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:১৬ এম


চট্টগ্রামে সরকারি অফিসের সামনে ৩ পেট্রোলবোমা নিক্ষেপ, আতঙ্ক ছড়িয়েছে

চট্টগ্রাম নগরের পাঁচলাইশ থানার ২ নম্বর গেট এলাকায় সরকারি দপ্তরের কার্যালয়ের দিকে ৩টি পেট্রোলবোমা নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। তবে, নিক্ষেপ করা তিনটি বোমার মধ্যে দুটিই বিস্ফোরিত হয়নি।

বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে ২ নম্বর গেট এলাকায় অবস্থিত স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সামনে দুটি পেট্রোলবোমা এবং পার্শ্ববর্তী চান্দগাঁওমুখী ভূমি অফিসের কার্যালয়ের সামনে একটি পেট্রোলবোমা নিক্ষেপ করা হয়।

পাঁচলাইশ থানার ওসি মোজাম্মেল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আমার দেশকে জানান, এলজিইডি অফিসের সামনে পড়া দুটি পেট্রোলবোমা বিস্ফোরিত হয়নি।

তিনি আরো বলেন, "কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তা আমরা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখছি। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে মনে হচ্ছে, ওপরের ফ্লাইওভার থেকে পেট্রোলবোমাগুলো নিচে নিক্ষেপ করা হয়েছে।"

এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে, ব্যস্ততম এলাকার সরকারি দপ্তরের সামনে এমন ঘটনায় স্থানীয় পথচারী ও অধিবাসীদের মধ্যে ক্ষণিক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৭ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%