০২:১৯ এম
প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনা পদত্যাগ করেছেন ব্যাপক আর্থিক সংকট ও রাজনৈতিক চাপের মধ্যে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দেন, যখন দেশটির বড় ডিজিটাল ব্যাংক উয়েনো ধসে পড়ার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে স্বার্থের সংঘাত ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ব্যাংকটির পতনের ফলে দেশটির প্রায় অর্ধেক জনগণ নিজেদের ব্যাংক হিসাবের অর্থ ব্যবহারের সুযোগ হারিয়েছে। প্যারাগুয়ের জনসংখ্যা প্রায় ৬৫ লাখ, যেখানে উয়েনো ব্যাংকের গ্রাহক সংখ্যা ছিল প্রায় ৩০ লাখ।
একটি ভিডিও বার্তায় পেনা বলেন, "দেশের স্থিতিশীলতা, সামাজিক শান্তি এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সুরক্ষার কথা বিবেচনা করেই" তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
আরও পড়ুন: ইউরোপে বোমা হামলার ভুয়া হুমকিতে বাড়ছে ‘হাইব্রিড যুদ্ধের’ আতঙ্ক
তবে, তার পদত্যাগ কার্যকর হতে সিনেটের অনুমোদন প্রয়োজন। আইনপ্রণেতারা জানিয়েছেন, ক্ষমতার দ্রুত ও সুশৃঙ্খল হস্তান্তর নিশ্চিত করতে সিনেট এ বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারে। বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় কংগ্রেসের অধিবেশন বসার কথা রয়েছে, যেখানে পদত্যাগপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করা হবে। পরে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ভাইস প্রেসিডেন্ট পেদ্রো আলিয়ানা প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিতে পারেন।
উয়েনো ব্যাংকের আর্থিক বিপর্যয় ঘিরে প্যারাগুয়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতি কয়েক দিন ধরেই উত্তপ্ত ছিল। সংকটের কারণে মঙ্গলবার দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান পদত্যাগ করেন। একই দিনে ব্যাংকটির আট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়, পরে তারা আত্মসমর্পণ করেন। তদন্তের অংশ হিসেবে আদালত তাদের সম্পদ জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন এবং কয়েকজন কর্মকর্তাকে গৃহবন্দি রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
বিরোধী দলগুলো বৃহস্পতিবার কংগ্রেসে অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরুর জন্য বিশেষ অধিবেশন আহ্বান করেছিল। প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের দাবিতে রাজপথেও বিক্ষোভ চলছিল। এমন পরিস্থিতিতে পেনা নিজ দলের রক্ষণশীল নেতাদের একাংশের সমর্থনও হারান, ফলে তার রাজনৈতিক অবস্থান আরও দুর্বল হয়ে পড়ে।
উয়েনো ব্যাংকের পতনের ঘটনায় প্রেসিডেন্ট পেনার অতীত ব্যবসায়িক সম্পর্ক নতুন করে আলোচনায় উঠে আসে। ২০২৩ সালে নির্বাচিত এই অর্থনীতিবিদ ব্যাংকটির মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান গ্রুপো ভাসকেজের শেয়ারহোল্ডার ছিলেন। ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত ওই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাঁর ব্যবসায়িক সংশ্লিষ্টতা ছিল।
আরও পড়ুন: ইরান নিয়ে অনিশ্চয়তা, আবারও বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম
আইনপ্রণেতাদের অভিযোগ, ব্যাংকটির আর্থিক বিপর্যয়ের সঙ্গে পেনার স্বার্থের সংঘাত, পেনশন তহবিলের অর্থের অপব্যবহার এবং প্রাতিষ্ঠানিকভাবে অনিয়ম আড়াল করার বিষয় জড়িত। তবে পেনা এসব অভিযোগ বারবার অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, "একটি কারিগরি ও নিয়ন্ত্রকসংক্রান্ত সমস্যা রাজনৈতিক বিতর্কে রূপ নিয়েছে।" কোনো অপরাধ হয়ে থাকলে তা আদালতের মাধ্যমে তদন্ত ও বিচার করা উচিত।
দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক উয়েনোর আর্থিক অবস্থা পর্যালোচনা করে ন্যূনতম সচ্ছলতার শর্ত পূরণে ব্যর্থতার প্রমাণ পাওয়ার পর ব্যাংকটিতে হস্তক্ষেপ করে। এরপরই সংকট তীব্র আকার ধারণ করে। ব্যাংকটি সরকারি তহবিলের প্রায় ৮৫ কোটি ডলারের ব্যবস্থাপনার দায়িত্বেও ছিল।
পদত্যাগের ঘোষণায় পেনা বলেন, আটকে থাকা অর্থ ফেরত নিশ্চিত করা, আমানত সুরক্ষা তহবিলের যথাযথ ভূমিকা পালন এবং জনগণের অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তার প্রধান প্রত্যাশা।
আরও পড়ুন: মিসিসিপির সিনেট নির্বাচনে উত্তেজনা এখনও বাকি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন