০৩:৪০ এম
মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের ছেলে শাহরিয়ার জামান রানার ওপর হামলার ঘটনার পর বিরোধীদলীয় নেতা এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান দ্রুত মামলা গ্রহণ এবং হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন। তিনি হামলার পেছনে কারা জড়িত এবং কারা তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে, তা তদন্তের মাধ্যমে বের করার আহ্বান জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শাহরিয়ার জামান রানাকে দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন জামায়াত আমির।
ডা. শফিকুর রহমান জানান, দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলাকারীরা রানাকে ছুরিকাঘাত করেছে। আহত অবস্থায় রানাকে উপজেলা হাসপাতালে নেওয়া হলেও সেখানে যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন।
আরও পড়ুন: জানাজা থেকে ফেরার পথে গ্রেপ্তার ইউপি চেয়ারম্যান, অসন্তোষ জানালেন প্রতিমন্ত্রী
হামলার কারণ সম্পর্কে শফিকুর রহমান জানান, মেজর আখতারুজ্জামান এলাকার খেলাধুলা ও সুস্থ বিনোদনের জন্য একটি বড় মাঠ তৈরি করে দিয়েছেন। সম্প্রতি ওই মাঠে মাদকসেবীদের উৎপাত বেড়ে যায়। রানা তাদের এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে সতর্ক করেছিলেন। তার দাবি, মাদকসেবীরা রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়ে এলাকায় এসব কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।
জামায়াত আমির বলেন, এ ঘটনায় মেজর আখতারুজ্জামান দুবার থানায় মামলা করতে গেলেও এখন পর্যন্ত তা নথিভুক্ত করা হয়নি। হামলাকারীদের নাম-পরিচয় উল্লেখ করে অভিযোগ দেওয়া সত্ত্বেও মামলা গ্রহণ না করার কারণ নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন।
তিনি বলেন, অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া পুলিশের দায়িত্ব। কিন্তু কী কারণে অভিযোগ গ্রহণ করা হচ্ছে না, তা বোধগম্য নয়। সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি বলেন, আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাদেরই আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে হবে। আইনের ওপর হস্তক্ষেপ করার অধিকার কারও নেই।
এ সময় মেজর আখতারুজ্জামানের সাম্প্রতিক গ্রেফতারের বিষয়টিও তুলে ধরেন শফিকুর রহমান। তার অভিযোগ, বিমানবন্দরে অনিয়ম এবং যাত্রীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের প্রতিবাদ করায় গত ৩ অক্টোবর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সরকারি কাজে বাধা দেওয়া ও কর্মকর্তাদের গায়ে হাত তোলার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হলেও এসব অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেন জামায়াত আমির।
আরও পড়ুন: মিয়ানমারে পাচারের সময় ৪৯২ বস্তা সারসহ ৮ পাচারকারী আটক
তিনি আরও বলেন, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে গ্রেফতারের পর হাতকড়া, ভেস্ট ও হেলমেট পরানো হয়েছে, যা মানবতার প্রতি অবজ্ঞার শামিল। বিমানবন্দরে সাধারণ যাত্রী ও প্রবাসীদের অধিকার রক্ষায় প্রতিবাদ করায় মেজর আখতারুজ্জামানকে হয়রানি করা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ছেলের ওপর হামলার সঙ্গে মেজর আখতারুজ্জামানের গ্রেফতারের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত নন জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।
তিনি দ্রুত মামলা গ্রহণ, হামলাকারীদের গ্রেফতারের এবং জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে তাদের পেছনে থাকা মদদদাতাদের শনাক্ত করার দাবি জানান। অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হলে সমাজে সন্ত্রাস ও মাদকচক্রের তৎপরতা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
হাসপাতালে এ সময় জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান, মাওলানা মাহফুজুর রহমান, আতাউর রহমান সরকার ও অ্যাডভোকেট আলাউদ্দিন সোহেলসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: ভৈরবে চাঁদা দাবির সংঘর্ষে আহত ১৫
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন