ঢাকা শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

অধ্যক্ষকে অবরুদ্ধ করে মধ্যরাতে ছাত্রীদের বিক্ষোভ, পদত্যাগের দাবি


অধ্যক্ষকে অবরুদ্ধ করে মধ্যরাতে ছাত্রীদের বিক্ষোভ, পদত্যাগের দাবি

রাজধানীর গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সায়েন্সের (সাবেক হোম ইকোনমিকস কলেজ) অধ্যক্ষ অধ্যাপক মেহেরুন্নেছার পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীরা মধ্যরাতে সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেছেন।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে অধ্যক্ষকে তাঁর নিজ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রেখে বিক্ষোভ চলছিল।

রাত সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ এসে অধ্যক্ষকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। এরপর ছাত্রীরা কলেজের সামনের সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় শতাধিক ছাত্রী সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন এবং অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলে তাঁর পদত্যাগ দাবি করছেন।

আরও পড়ুন: বিএনপি নেতার প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে পিবিআই তদন্ত

এর আগে সকালে কলেজের প্রশাসনিক ভবনে অধ্যক্ষের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন ছাত্রীরা। এ সময় তাঁরা ‘দফা এক দাবি এক, প্রিন্সিপালের পদত্যাগ’ এবং ‘প্রিন্সিপালের কালো হাত, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও কলেজ প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, পূজার ছুটির আগে কলেজ অডিটোরিয়ামে তিনটি আবাসিক হলের পাঁচ বিভাগের স্নাতকোত্তর শেষ বর্ষের শিক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানটি প্রথমে রাত ১০টার মধ্যে শেষ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। পরে শিক্ষার্থীদের অনুরোধে সময় বাড়িয়ে রাত ১২টা পর্যন্ত করা হয়। তবে অনুষ্ঠান শেষ হতে ভোর ৫টা বেজে যায়।

নির্ধারিত সময়ের পরও অডিটোরিয়াম ব্যবহার করায় অধ্যক্ষ অধ্যাপক মেহেরুন্নেছা অনুষ্ঠানের সমন্বয়কারী দুই শিক্ষার্থীর আবাসিক হলের আসন বাতিলের সিদ্ধান্ত নেন। পরে ওই শিক্ষার্থীরা ক্ষমা চাইতে গেলে আসন ফিরিয়ে দেওয়ার শর্ত হিসেবে তাঁদের কাছ থেকে এক রাতের অডিটোরিয়ামের এসি ও বিদ্যুৎ বিল বাবদ ১২ হাজার ৬০০ টাকা জরিমানা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা।

কলেজের স্নাতকোত্তরের প্রথম পর্বের শিক্ষার্থী তাবাসসুম সাংবাদিকদের বলেন, ‘দুইটা স্টুডেন্টের সিট অযৌক্তিকভাবে বাতিল করার কারণেই এই আন্দোলন। আমরা ম্যাডামের কাছে হাত-পা জোর করে ক্ষমা চাইলে ম্যাডাম বলেন, আমাদের স্যরি অ্যাকসেপ্ট করেছেন এবং শাস্তিস্বরূপ এক রাতের অডিটোরিয়ামের বিল বাবদ ১২ হাজার ৬০০ টাকা দিতে হবে। আমাদের স্টুডেন্টদের পক্ষে এই টাকা দেওয়া সম্ভব না।’

আরও পড়ুন: শিক্ষার্থীদের জন্য খুলছে বঙ্গভবনের দরজা, ঘুরে দেখার সুযোগ দেড় ঘণ্টা

এ বিষয়ে অধ্যক্ষ মেহেরুন্নেছা সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা যা বলছে, তা টোটালি ঘটনার বিপরীত। আমি ওদের একটা অনুষ্ঠান করার অনুমতি দিয়েছিলাম রাত ১২টা পর্যন্ত। ওরা ৫টা পর্যন্ত অনুষ্ঠান করেছে। অনুষ্ঠান করার প্রেক্ষিতে আমি একটু রেগে গিয়ে ওদের দুইজনের আসন বাতিল করে দিয়েছি। পরবর্তীতে ওরা আমার কাছে মাফ চেয়েছে। আমি একটু নমনীয় হয়ে বলেছি, যেহেতু কোনো ডিসিপ্লিন মেইনটেইন করে নাই, ভবিষ্যতে শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য শাস্তির আওতায় আসতে হবে। ওরা লং টাইম বিদ্যুৎ অপচয় করছে, এই বিলটা ওদের কাছ থেকে আমি নিব। এই জরিমানার নোটিশ আমি দিয়েছি, এটাই আমার অপরাধ।’

অধ্যক্ষ বলেন, ‘তারা সাদা কাগজে আমাকে পদত্যাগের স্বাক্ষর করতে বলছে। আমি কেন তাদের কাছে পদত্যাগ করব?’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মোশারফ-তানভীরের ঝড়ে ২৬৮ রান, সোনারগাঁওয়ের ইউআইইউর বিরুদ্ধে বড় জয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:২৪ এম


মোশারফ-তানভীরের ঝড়ে ২৬৮ রান, সোনারগাঁওয়ের ইউআইইউর বিরুদ্ধে বড় জয়

এবিজি স্পোর্টস সিটির আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ব্যাটে-বলে দাপট প্রদর্শন করে এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপের গ্রুপ পর্বে সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটি একটি বড় জয় অর্জন করেছে। মোশারফ মুলার এবং তানভীর হোসেনের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ের পর বোলারদের সম্মিলিত নৈপুণ্যে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিকে (ইউআইইউ) ১০২ রানে পরাজিত করেছে তারা।

প্রথমে ব্যাট করতে নেমে সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটি ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ২৬৮ রানের বিশাল সংগ্রহ গড়ে। উদ্বোধনী জুটিতে মোশারফ মুলার এবং আলাউদ্দিন মনা ৯৯ রান যোগ করেন। আলাউদ্দিন ২৩ বলে ৩ চার ও ৫ ছক্কায় ৪৫ রান করে আউট হন। অন্যদিকে, মোশারফ ঝড় তুলতে থাকেন। তিনি মাত্র ৪০ বলে ৪ চার ও ১০ ছক্কায় ৯২ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন।

এরপর চার নম্বরে নেমে তানভীর হোসেন ব্যাট হাতে তাণ্ডব চালান। তিনি ৩২ বলে ৪ চার ও ৮ ছক্কায় ৮১ রান করেন। শেষদিকে সাইফুল ইসলামের ১১ বলে ২৬ রানের অপরাজিত ইনিংসের মাধ্যমে সোনারগাঁওয়ের সংগ্রহ ২৫০ ছাড়িয়ে যায়। ইউআইইউর হয়ে আসাদুল্লাহ সাঈদ ৩১ রান খরচায় ৩ উইকেট নেন। এছাড়া সাব্বির এবং মাহমুদুল একটি করে উইকেট শিকার করেন।

ইউআইইউ ২৬৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভালো শুরু পায়। দুই ওপেনার রেজওয়ান ইকবাল এবং মাহমুদুল আলমের ব্যাটে উদ্বোধনী জুটিতে ৭৯ রান আসে। যদিও বড় জুটি হলেও ইউআইইউ কঠিন লক্ষ্যে যে স্ট্রাইক রেটে খেলার প্রয়োজন ছিল সেটি করতে পারেনি। রেজওয়ান ৩৬ বলে ৪ চার ও ৫ ছক্কায় ৫৬ রান করে আউট হলে দলের ছন্দপতন ঘটে। মাহমুদুল ৩২ বলে ২৭ রান করেন। শেষদিকে এহসানুল হকের ১৬ বলে ৩০ রান কেবল পরাজয়ের ব্যবধান কমিয়েছে। নির্ধারিত ২০ ওভারে ইউআইইউ ৮ উইকেট হারিয়ে ১৬৬ রানে থামে।

সোনারগাঁওয়ের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন আসিফ হাসান। তিনি ৪ ওভারে একটি মেডেনসহ মাত্র ২৪ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন। অলরাউন্ড পারফরম্যান্স দেখান তানভীর। তিনি ৪ ওভারে মাত্র ১৪ রান খরচায় ২ উইকেট নেন। এছাড়া মোশারফ, জীবন এবং সাইফুল একটি করে উইকেট শিকার করেন। ৮১ রানের ঝড়ো ইনিংসের পাশাপাশি বল হাতে ২ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন সোনারগাঁওয়ের অলরাউন্ডার তানভীর হোসেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নোয়াখালীতে অসুস্থ সাংবাদিকদের রোগমুক্তির জন্য দোয়া মাহফিল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:২৪ এম


নোয়াখালীতে অসুস্থ সাংবাদিকদের রোগমুক্তির জন্য দোয়া মাহফিল

নোয়াখালী সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি দৈনিক সফল বার্তার সম্পাদক ও বৈশাখী টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি লিয়াকত আলী খানসহ সকল অসুস্থ সাংবাদিকদের রোগমুক্তি ও দ্রুত সুস্থতা কামনায় একটি দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় নোয়াখালী প্রেসক্লাবের মিলনায়তনে নোয়াখালী সাংবাদিক ইউনিয়ন (এনইউজে)-এর উদ্যোগে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

নোয়াখালী সাংবাদিক ইউনিয়নের সিনিয়র সহ-সভাপতি আজাদ ভূঁইয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত দোয়া মাহফিলে মোনাজাত পরিচালনা করেন জেলা জামে মসজিদের খতিব মাওলানা দেলোয়ার হোসেন।

অনুষ্ঠানে সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে নোয়াখালী সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, উপদেষ্টা সাইফ উল্লাহ কামরুল, আব্দুর রহিম বাবুল, আকাশ মো. জসিম, মো. মোজাম্মেল হোসেন, আব্দুস শাকুর হান্নান, ইমাম উদ্দিন আজাদ, ইদ্রিস মিয়া, কামরুল কানন, ফজলুল কাদের রাজু, আজাদুল ইসলাম, সালাহ উদ্দিন ও দিদারুল আলমসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

দোয়া পূর্ববর্তী আলোচনায় বক্তারা জানান, সাংবাদিক লিয়াকত আলী খান দীর্ঘদিন ধরে জটিল শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন এবং সম্প্রতি ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে তার একটি অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া সংগঠনের আরও কয়েকজন সদস্য—মো. হানিফ ভূঁইয়া, এমবি আলম, আকাশ মো. জসিম, এহসানুল আলম খসরু, ইমাম উদ্দিন আজাদ, ইদ্রিস মিয়া ও এম.এস জামাল অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আলোচনা শেষে অসুস্থ সকল সাংবাদিকের দ্রুত আরোগ্য লাভ ও দীর্ঘায়ু কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মিসিসিপির সিনেট নির্বাচনে উত্তেজনা এখনও বাকি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:২৫ এম


মিসিসিপির সিনেট নির্বাচনে উত্তেজনা এখনও বাকি

এটি যেন একটি ছোট গল্প, যা শেষ হলেও শেষ হচ্ছে না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রধান উত্তেজনা শেষ হয়ে গেছে। ডেমোক্র্যাটরা হাউস এবং সিনেট দুটিই দখল করে নিয়েছে। সুতরাং মিসিসিপিতে কে সিনেটর হলেন, তা খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। যে কেউ জিতুক, ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় কোনো পরিবর্তন আসবে না। তবে, মিসিসিপির দিকে সবার নজর রয়েছে। এখানে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের মজা আলাদা।

একজন অজনপ্রিয় প্রেসিডেন্ট, এক ক্যারিশম্যাটিক ডেমোক্র্যাট প্রার্থী এবং সাম্প্রতিক নির্বাচনে অন্যান্য রিপাবলিকানদের তুলনায় খারাপ করা একজন বর্তমান সিনেটর—এই তিনটি বিষয় মিলে মিসিসিপির সিনেট নির্বাচনের প্রতিযোগিতাকে এই মধ্যবর্তী নির্বাচনের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে পরিণত করেছে।

প্রথমে পরিসংখ্যানটি একটু দেখে নেওয়া যাক, তাহলে উত্তেজনার কারণ বোঝা যাবে। মিসিসিপির সিনেট নির্বাচনের ফলাফল এখনও চূড়ান্তভাবে ঘোষণা করা হয়নি কারণ দুই প্রার্থীর মধ্যে ব্যবধান খুবই সামান্য। বর্তমানে প্রায় ৯৫.৫৬ শতাংশ ভোট গণনা সম্পন্ন হয়েছে। এতে দেখা যাচ্ছে, ডেমোক্র্যাট প্রার্থী স্কট কলম পেয়েছেন ৪ লাখ ৬৬ হাজার ২২৬ ভোট (৪৯.০৪ শতাংশ)। অন্যদিকে, বর্তমান সিনেটর রিপাবলিকান সিন্ডি হাইড-স্মিথ পেয়েছেন ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫০২ ভোট (৪৮.৮৬ শতাংশ)। ডেমোক্র্যাট প্রার্থী মাত্র ১ হাজার ৭২৪ ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে আছেন। এখনও কয়েক হাজার ডাকযোগে আসা এবং প্রভিশনাল ব্যালট গণনা করা বাকি রয়েছে। তাই চূড়ান্ত ফলাফল নিশ্চিত হতে আগামী ১০ নভেম্বর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

স্কট কলমের নির্বাচনী শিবিরের মতে, এই প্রতিযোগিতার ভাগ্য এখন প্রায় ১৫ হাজার প্রোভিশনাল ব্যালটের ওপর নির্ভর করতে পারে, যা এখনও যাচাই-বাছাই করা বাকি রয়েছে। তবে এর মধ্যেই উভয় পক্ষই নিজেদের জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছে। বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে কলম বলেন, “প্রক্রিয়াটি পুরোপুরি শেষ হলে এবং ব্যালটগুলোর অবস্থান বিবেচনা করলে, আমরাই জিততে যাচ্ছি। আর এটি সম্ভব হয়েছে কারণ মিসিসিপির মানুষ এই মধ্যবর্তী নির্বাচনে এক ঐতিহাসিক সংখ্যায় ভোট দিতে এসেছেন।”

এদিকে, হাইড-স্মিথের নির্বাচনী প্রচার ব্যবস্থাপক জেক মনসেন এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন যে, দল এই নির্বাচনে এখনও বাকি থাকা হাজার হাজার ব্যালট নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তিনি আরো যোগ করেন, “আমরা আত্মবিশ্বাসী যে যখন আইনসম্মতভাবে দেওয়া প্রতিটি ভোট সম্পূর্ণ এবং নিখুঁতভাবে গণনা করা হবে, তখন মিসিসিপিবাসী সিন্ডি হাইড-স্মিথকেই পুনরায় নির্বাচিত করবেন।”

পুনর্গঠন যুগের পর মিসিসিপি থেকে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ সিনেটর হওয়ার জন্য কলম অক্লান্ত প্রচারণা চালানোর পর এই হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ৪৩ বছর বয়সী এই স্থানীয় ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি বারবার যুক্তি দেখিয়েছেন যে, রিপাবলিকানদের প্রতি জনগণের অসন্তোষ এবং রাজ্যের উল্লেখযোগ্য কৃষ্ণাঙ্গ ভোটার পর্যাপ্ত মনোযোগ ও অর্থ পেলে এই রিপাবলিকান ঘাঁটিতেও কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পারে। স্কট কলম মনোযোগ ও অর্থ দুটিই পেয়েছিলেন; বেশ কয়েকটি ডেমোক্র্যাটিক সুপার প্যাক প্রচারণার শেষ মুহূর্তে বিজ্ঞাপনে ব্যাপক অর্থ ঢেলেছিল এবং প্রচারণার শেষ সপ্তাহগুলোতে তাঁর পক্ষে জনসমর্থন বাড়াতে মাঠে নেমেছিলেন সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসসহ দলের বড় বড় সব নাম।

সিএনএন ভোটার পোল অনুযায়ী, এই নির্বাচনে মোট ভোটারের প্রায় ৩০ ভাগ ছিলেন কৃষ্ণাঙ্গ এবং তাদের প্রায় সবাই কলমকে ভোট দিয়েছেন। এনএএসিপি-র প্রেসিডেন্ট ও সিইও ডেরিক জনসন গত বুধবার এক বিবৃতিতে বলেন, “মিসিসিপিবাসী ভোটকেন্দ্রে এসে পুরো দেশকে চমকে দিয়েছে।”

রিপাবলিকানদের পক্ষে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মাত্র দুই বছর আগে ২৩ পয়েন্টের ব্যবধানে জেতা একটি রাজ্যে ভোটারদের উপস্থিতি বাড়াতে শেষ মুহূর্তে হাইড-স্মিথের সঙ্গে একটি নির্বাচনী সমাবেশে যোগ দিয়েছিলেন।

কলম আর স্মিথের এই লড়াইয়ের শুরুটা অবশ্য স্মিথই করেছিলেন। নিজের মেয়াদে হাইড-স্মিথ নিজেই ২০২৩ সালে কলমের একটি ফেডারেল বিচারক পদে মনোনয়ন আটকে দিয়ে এই চ্যালেঞ্জের ভিত্তি তৈরি করেছিলেন। যদিও কলমের পক্ষে রাজ্যের সিনিয়র রিপাবলিকান সিনেটর রজার উইকারসহ অন্যান্য রিপাবলিকানদের সমর্থন ছিল। হাইড-স্মিথ কলমের প্রথম ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি নির্বাচনের প্রচারণাকে সমর্থন করা একটি তহবিলে উদারপন্থী বিলিয়নিয়ার জর্জ সোরোসের দেওয়া অনুদানের বিরোধিতা করেছিলেন। সব মিলিয়ে একটি উত্তপ্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার আজহ তৈরিই ছিল। যার প্রতিফলন হয়েছে ব্যালটে।

তবে সিএনএন-এর সঙ্গে একটি সাক্ষাৎকারে কলম জোর দিয়ে বলেন যে হাইড-স্মিথকে আসনচ্যুত করার এই লড়াই কোনো ব্যক্তিগত ক্ষোভের ম্যাচ নয়। তিনি বলেন, “আমি একজন খ্রিষ্টান। আমি তাঁকে ক্ষমা করে দিয়েছি। আমার ফেডারেল বিচারক পদ না পাওয়াটা আমার জন্য মোটেও কোনো চালিকাশক্তি বা মোটিভেশন নয়।” তার বদলে তিনি যুক্তি দেখিয়েছেন যে, এই সিনেটর কংগ্রেসে তাঁর নির্বাচনী এলাকার জনগণের পাশে দাঁড়াতে ব্যর্থ হয়েছেন।

কলমের নির্বাচনী শিবির এই মধ্যবর্তী নির্বাচনের অন্যতম নজরকাড়া কিছু বিজ্ঞাপন প্রচার করেছিল, যেখানে দাবি করা হয় যে বর্তমান ইনকাম্বেন্ট সিনেটর মিসিসিপিবাসীর অর্থনৈতিক কষ্ট অনুধাবনে ব্যর্থ হয়েছেন। একটি ভিডিওতে হাইড-স্মিথকে উপহাস করা হয়, কারণ গরুর মাংসের দাম বৃদ্ধি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি মন্তব্য করেছিলেন যে ‘বেছে নেওয়ার জন্য অনেক প্রোটিন রয়েছে’। বিজ্ঞাপনে একজন নারী আঞ্চলিক টানে বলে ওঠেন, “অন্য প্রোটিন বেছে নেব? ওনার মাথা পুরোপুরি খারাপ হয়ে গেছে। আমি বরং অন্য একজন সিনেটর বেছে নেব।”

ভোট গণনা চলার সঙ্গে সঙ্গে উভয় পক্ষই এখন ফলাফলের ওপর একটি আইনি লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। ভোটার অধিকারকর্মী এবং আইনি পর্যবেক্ষকেরা আশা করছেন যে, যাচাই-বাছাইয়ের পর প্রায় ১৫ হাজার প্রোভিশনাল ব্যালট; যা এই রাজ্যে ‘অ্যাফিডেভিট ব্যালট’ নামে পরিচিত; তার মধ্যে কতগুলো চূড়ান্ত গণনায় যোগ হবে, তার প্রাথমিক ইঙ্গিত পেতে অন্তত আগামী সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। মিসিসিপির বেশ কয়েকটি কাউন্টি ইতিমধ্যে এই প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছে।

মিসিসিপিতে বিভিন্ন কারণে প্রোভিশনাল ব্যালট ব্যবহার করা হয়, যেমন—ফটো আইডি না থাকা, ভোটার তালিকায় নাম খুঁজে না পাওয়া, অথবা অসম্পূর্ণ ভোটার নিবন্ধন ফরম জমা দেওয়া।

এই সাময়িক ব্যালটগুলো যাচাইয়ের পাশাপাশি, নির্বাচন কর্মকর্তারা ডাকযোগে আসা ভোটগুলোও গণনা করবেন। রাজ্যটির নিয়ম অনুযায়ী, সঠিক পোস্টমার্কযুক্ত ভোটগুলো নির্বাচনের পর ৫ দিনের গ্রেস পিরিয়ডের মধ্যে নির্বাচন অফিসে পৌঁছালে তা গণনা করা হয়। তবে এই ডাকভোটের সংখ্যা অ্যাফিডেভিট ব্যালটের চেয়ে কম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মিসিসিপিতে সাধারণ কংগ্রেস নির্বাচনে কোনো পুনর্নির্বাচন হয় না। তাই যিনিই সবচেয়ে বেশি ভোট পাবেন, তিনিই এই সিনেট আসনটি জয় করবেন। স্কট কলম যদি শেষ পর্যন্ত এই ব্যবধান ধরে রেখে জয়ী হতে পারেন, তবে ১৯৮২ সালের পর তিনিই হবেন মিসিসিপি থেকে নির্বাচিত প্রথম ডেমোক্র্যাট সিনেটর এবং ১৮৭৫ সালের পর প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ সিনেটর।

সূত্র : সিএনএন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিএনপি নেতার প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে পিবিআই তদন্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:২৬ এম


বিএনপি নেতার প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে পিবিআই তদন্ত

চট্টগ্রাম নগরের বন্দর এলাকায় প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে বিএনপি নেতা মো. মামুন আলী আদালতে সাধারণ ডায়েরি দায়ের করেছেন। একইসাথে, তার মায়ের পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগও উত্থাপন করা হয়েছে। এই মামলায় ওই এলাকার বাসিন্দা মো. মহিউদ্দিন এবং বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুর রহিমসহ মোট ৮ জনকে প্রতিপক্ষ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আদালত সাধারণ ডায়েরিটি গ্রহণ করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) মেট্রোকে তদন্তের দায়িত্ব প্রদান করেছেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, সাধারণ ডায়েরির বাদী মো. মামুন আলী প্রকাশ কিং আলী (৪৮) গত ২ নভেম্বর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৪ এর বিচারক মোহাম্মদ মোস্তফার আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৪ ধারার বিধানমতে প্রতিকার চেয়ে আবেদন করেন। তবে বিষয়টি ৫ নভেম্বর বিকালে প্রকাশ্যে আসে।

ডায়েরির বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে, বাদী একজন ব্যবসায়ী এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরে পৈতৃক ও মাতৃসূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তি ভোগদখল করে আসছেন। বন্দর থানাধীন মধ্য হালিশহর মৌজার বিএস ৩৭০ নম্বর খতিয়ানের বিএস ৭৯০০ দাগে ৭.৭৫ শতক বাড়ি ভূমি নিয়ে প্রতিপক্ষ মহিউদ্দিনের সঙ্গে তার বিরোধ চলমান রয়েছে। এ বিষয়ে যুগ্ম জেলা জজ আদালতে স্বত্ব সাব্যস্ত ও দখল স্থিতাবস্থার দেওয়ানি মামলা এবং ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে মামলা চলমান রয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, আদালতের বিচারাধীন বিষয়কে তোয়াক্কা না করে প্রতিপক্ষরা জোরপূর্বক সম্পত্তি দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছে। বাদী মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মামুন আলী অভিযোগ করে জানান, বারবার থানায় জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি, বরং ওসির প্ররোচনায় প্রতিপক্ষরা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। গত ২০ অক্টোবর বাদীর নানার বাড়িতে গেলে প্রতিপক্ষরা তাকে খুন, ডাকাতিসহ বড় বড় মামলায় জড়িয়ে জেল খাটানোর হুমকি দেয়।

মামলায় প্রধান আসামি হিসেবে মো. মহিউদ্দিনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তিনি বন্দর থানার আনন্দ বাজারের মুনীর নগর এলাকার মৃত আব্দুল নুরের ছেলে। এছাড়া ২ নম্বর আসামি হিসেবে বন্দর থানার ওসি মো. আব্দুর রহিমকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মামলায় অন্যান্য প্রতিপক্ষরা হলেন জসিম, নেজাম, রাব্বি, সেলিম, নুরুল আলম ও শিবলু।

সাধারণ ডায়েরির বাদী মো. মামুন আলী বলেন, "আমার প্রধান প্রতিপক্ষ আওয়ামী যুবলীগের নেতা। তিনি তিন দফায় আমার মায়ের উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ৭ শতক জমি দখল করেছেন। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে ক্ষমতার অপব্যবহার করে আমার রাজনৈতিক প্রতিকূলতার সুযোগ নিয়ে নানার সূত্রে পাওয়া সম্পত্তি দখল করা হয়েছে। সম্প্রতি তারা আমার নানার বাড়ি দখল করে স্থাপনা নির্মাণ শুরু করেছেন। এই কাজে তাকে পুলিশও সহযোগিতা করেছে।"

তিনি আরও বলেন, "এছাড়াও আরও কয়েকটি স্থানে আমার নানার সূত্রে পাওয়া সম্পত্তি দখল করে একটি কোম্পানির ডিপো খোলা হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে কোন সহযোগিতা পাওয়া দূরে থাক, উল্টো তারা দখলদারকে সহযোগিতা করে যাচ্ছে এবং আমাকে মামলার হুমকি দিচ্ছে। আমি ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন রাজনৈতিক ঘটনায় পুলিশের ওসিসহ একাধিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করায় আমার ওপর আগে থেকে ক্ষুব্ধ পুলিশ। আমি আমার অধিকার ফিরে পেতে লড়াই করছি।"

এ বিষয়ে বন্দর থানার ওসি আব্দুর রহিমকে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

বাদীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট আশরাফুর রহমান জানান, জমি দখল ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগের সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। আদালত সাধারণ ডায়েরিটি গ্রহণ করেছেন এবং পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোকে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সাধারণ ডায়েরি নিয়মিত মামলায় রূপান্তরিত হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৭ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%