বৃহস্পতিবার, ২৫শে জুন, ২০২৬ ইং
০৮:৩১ পি.এম
বৃহস্পতিবার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা উপলক্ষ্যে খুলনা অঞ্চলের কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
শিক্ষার পাশাপাশি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, আগামী জুলাই মাস থেকে দেশের প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘মিড ডে মিল’ বা দুপুরের খাবার চালু হতে যাচ্ছে।
তিনি জানান, ‘এই খাদ্য কর্মসূচিতে শিশুদের মাঝে যদি কোনো ধরনের পচা বা নিম্নমানের খাবার পরিবেশন করা হয়, তবে তার দায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরই নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অবহেলা প্রমাণিত হলে চাকরিচ্যুতিসহ কঠোর আইনি শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।’
আজ বৃহস্পতিবার খুলনা বিভাগীয় অডিটোরিয়ামে আসন্ন এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬ উপলক্ষ্যে খুলনা অঞ্চলের কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করে।
শিক্ষামন্ত্রী ড. মিলন কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পুষ্টি ও মেধা বিকাশের জন্য সরকার মিড ডে মিলের মতো বড় উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু কোনো কর্মকর্তা বা শিক্ষকের গাফিলতির কারণে যদি কোমলমতি শিশুদের পচা খাবার দেওয়া হয়, তবে সংশ্লিষ্টদের শুধু চাকরিচ্যুত নয়, প্রয়োজনে তাদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়ায় ‘প্যারালাইজড’ (স্থবির) করে দেওয়া হবে। এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’
আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষা প্রসঙ্গে আলোচনা করতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, পরীক্ষা কেন্দ্রে সনাতন পদ্ধতির নকল এখন আর নেই। তবে ‘ডিজিটাল নকল’ এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশ্ন ফাঁসের গুজব ছড়ানোর চেষ্টা হচ্ছে একটি চক্রের মাধ্যমে, যা শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংসের চেষ্টা করছে।
তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কড়া নির্দেশ দিয়ে বলেন, ‘ফেসবুকে কেউ প্রশ্ন ফাঁসের ভুয়া তথ্য বা গুজব ছড়ালেই দ্রুত আইনের আওতায় নিতে আসতে হবে। অপরাধ প্রমাণ হলে সাইবার ক্রাইম আইনের আওতায় সর্বোচ্চ কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। আমরা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে সোশ্যাল মিডিয়ার ট্রল বানাতে দিতে পারি না।’
মাঠ পর্যায়ের শিক্ষা কর্মকর্তাদের দীর্ঘদিনের এক জায়গায় জেঁকে বসার সংস্কৃতির সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকা ও দেশের বড় বড় শহরে যেসব শিক্ষা কর্মকর্তা দীর্ঘদিন ধরে অলস বসে আছেন, অথচ মাঠ পর্যায়ে তদারকি করছেন না, তাদের তালিকা তৈরি করুন। যারা নিষ্ক্রিয়, তাদের অবিলম্বে উপজেলায় বদলি করা হবে। কর্মকর্তাদের অলসতা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।’
পরীক্ষাকেন্দ্রে কড়া তল্লাশির নির্দেশ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘পরীক্ষাকেন্দ্রে মোবাইল বা কোনো প্রকার অবৈধ কাগজপত্র নিয়ে প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষেধ। কোনো পরীক্ষার্থীর কাছে যদি পরীক্ষার হলে বই বা কাগজ পাওয়া যায়, তবে তার দায় ওই কক্ষের পরিদর্শককে নিতে হবে। শিক্ষকরা নিজেদের দায় এড়িয়ে বলতে পারবেন না যে তারা দেখেননি।’
মাদ্রাসা বোর্ডের পাসের হার নিয়ে প্রশ্ন তুলে ড. মিলন বলেন, ‘বোর্ডগুলো শিক্ষকদের ৫০০ করে খাতা দিয়ে দেয়, কিন্তু শিক্ষকদের মূল্যায়নের পদ্ধতি সম্পর্কে বোর্ড তদারকি করে না। আমাদের খাতা দেখার এই ঢিলেঢালা পদ্ধতি আমরা বদল করতে চাই।’
বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ফারুখে আযম মু. আব্দুস ছালামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া মতবিনিময় সভায় খুলনা ও যশোর অঞ্চলের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান এবং পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফ্রান্স-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (সিসিআইএফবি) ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন ড. মো. এরশাদ হুসাইন রানা। ড. এরশাদ হুসাইন রানা বর্তমানে ডন গ্রুপের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
আজ বৃহস্পতিবার চেম্বারের বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে নতুন পরিচালনা পর্ষদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয়। এ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দুই বছরের জন্য নতুন নেতাদের নির্বাচন করা হয়।
নতুন কমিটিতে সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন এম. এ. রিয়াজ, যিনি এক্সপো হোল্ডিংস (বিডি) লিমিটেডের ব্যবসা উন্নয়ন পরিচালক হিসেবে কাজ করছেন। এছাড়া, আই লজিস্টিকস (প্রা.) লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মো. জাহাঙ্গীর আলম সরকারও সহ-সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। একই মেয়াদের জন্য কোষাধ্যক্ষ নির্বাচিত হয়েছেন অ্যাবিস্তা এফএস লিমিটেডের ফারজানা চৌধুরী।
চেম্বারের ১৭ সদস্যবিশিষ্ট পরিচালনা পর্ষদে নবনির্বাচিত কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেশের বিভিন্ন খাতের শীর্ষ ব্যবসায়ী ও করপোরেট ব্যক্তিত্বদেরকে পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে দেখা যাবে।
পরিচালক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন এবিএন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ সাদাত আহমেদ, আখতার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দাতো কে. এম. রিফাতুজ্জামান, বাংলাদেশ এক্সপোর্টস লিমিটেডের মার্কেটিং পরিচালক বদরিয়া আনিস, বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও আহমেদ সাইফুদ্দিন চৌধুরী, বেঙ্গল এয়ারলিফট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফ রহমান, এলিট সিকিউরিটি সার্ভিসেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শরীফ আজিজ, ফারিহা নিট টেক্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আসাদুল ইসলাম, নোভো কার্গো সার্ভিসেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস. এম. রহমান, প্যাসিফিক ডিজাইন অ্যান্ড সোর্সিংয়ের সিইও মোহাম্মদ রাশেদ, রেডিয়েন্ট করপোরেশনের প্রেসিডেন্ট ও সিইও এস. এ. বাহাদুর, তাশো এন্টারপ্রাইজেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সালিমুল হক এসা, ইউনিগ্লোবাল বিজনেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহমুদুল ইসলাম পারভেজ এবং ইউটাহ নিটিং অ্যান্ড ডাইং লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক সানা সাত্তার।
এজিএম-পরবর্তী বোর্ড ট্রানজিশন অনুষ্ঠানে নবনির্বাচিত নেতৃত্বকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হয়। পরে আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজে চেম্বারের সদস্য, ব্যবসায়ী ও অতিথিদের অংশগ্রহণ দেখা যায়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা উল্লেখ করেন, ফ্রান্স ও বাংলাদেশের মধ্যকার বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে সিসিআইএফবি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরো শক্তিশালী হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ির বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএলআরআই) আঞ্চলিক কেন্দ্র পরিদর্শন করেন।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, সরকার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ ও আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি উল্লেখ করেন, ক্ষুদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে প্রাণিসম্পদ খাতকে আরো কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আজ তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, নাইক্ষ্যংছড়ির বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএলআরআই) আঞ্চলিক কেন্দ্র পরিদর্শনকালে এসব কথা বলেন।
টুকু বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানে নাইক্ষ্যংছড়ির এই খামারটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এর বিশেষত্ব ছিল গয়াল সংরক্ষণ ও উৎপাদন বৃদ্ধি এবং পার্বত্য অঞ্চলের ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে এসব প্রাণী বিতরণের ব্যবস্থা করা। বর্তমান সরকার সেই লক্ষ্যে কাজ করছে এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত করা হচ্ছে।
ছবি: বাসস
তিনি জানান, ইতোমধ্যে বিভিন্ন খামারির মধ্যে ছাগল ও ভেড়া বিতরণ করা হয়েছে। গবেষণার মাধ্যমে খামারিদের সহায়তা করার জন্য সরকারের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এসব খামারে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিগত সময়ে খামারটির উন্নয়ন যথাযথ পরিচর্যা ও ব্যবস্থাপনার অভাবে পুরোপুরি করা সম্ভব হয়নি। বর্তমান সরকার এর সার্বিক উন্নয়ন ও আধুনিকায়নে পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
তিনি আরও বলেন, একজন প্রান্তিক মানুষ যদি কিছু ছাগল, ভেড়া, গরু কিংবা মুরগি পেয়ে সেগুলো বাড়ির আশপাশে লালন-পালন করতে পারেন, তাহলে তিনি উপার্জনের সক্ষমতা অর্জন করতে পারবেন এবং স্বাবলম্বী হয়ে উঠবেন। প্রান্তিক মানুষের আত্মনির্ভরশীলতা নিশ্চিত করাই সরকারের উদ্দেশ্য। এজন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আগামী দিনে একটি সমৃদ্ধ এবং সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার জন্য সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে।
এর আগে প্রতিমন্ত্রী নাইক্ষ্যংছড়ি আঞ্চলিক কেন্দ্রের গয়াল শেড, হরিণ শেড এবং ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের শেড পরিদর্শন করেন।
এ সময় তিনি গয়ালের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং অন্যান্য প্রাণীর সার্বিক সুবিধা নিশ্চিত করতে বিএলআরআই-এর কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা প্রদান করেন।
পরে তিনি স্থানীয় খামারিদের মাঝে মুরগি, ছাগী, ছাগলের পাঠা, ভেড়া ও ভেড়ার পাঠা বিতরণ করেন।
এ সময় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. খালেদ কনক, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান, বিএলআরআই-এর মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুক, মৎস্য অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন, অতিরিক্ত পরিচালক ড. এবিএম মুস্তানুর রহমান, পরিচালক ড. জিল্লুর রহমান, কক্সবাজার জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাজমুল হুদা, ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ খায়রুল বাশার, বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় খামারিরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সরকারের সব বাহিনীর মাধ্যমে তদন্ত করে যদি এক টাকার দুর্নীতির প্রমাণ দিতে পারে, তবে জাতীয় সংসদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনাকালে সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের উদ্দেশ্য করে তিনি এই চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন।
এদিন সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
এ সময় বাজেটে বরাদ্দ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ আহ্বান জানান যেন তার এলাকার মানুষকে কোনোভাবে বঞ্চিত না করা হয়।
বাজেটের ওপর নিজের বক্তব্য উপস্থাপনকালে হাসনাত আবদুল্লাহর বক্তব্যের প্রসঙ্গ টানেন চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান।
তিনি বলেন, ‘আমি আবুল হাসনাত আবদুল্লাহর একটি প্রসঙ্গ, যে আলাপটি তিনি করেছেন সেটি হলো- বাজেটে এবার তাকে আটকে দেয়া হবে কিনা। আপনাকে টাকা দেয়া হবে না-তো। আপনার এলাকায় টাকা দেয়া হবে, এলাকার মানুষের জন্য টাকা দেয়া হবে। সেজন্য আপনি ইন্টেরিম গর্ভনমেন্টে (অন্তর্বর্তী সরকারে) যেভাবে যেভাবে পেয়েছেন, আমরা অনেক কিছু শুনি, এলিগেশন আদান-প্রদানে অনেক কিছু বলা যায়। সেভাবেই চলবে হয়তো, কেননা জনগণের জন্যই সেই টাকা দেয়া হবে। কোনো ব্যক্তিকে দেয়া হয় না। কোনো এমপির আলাদা করে বরাদ্দ নিয়ে আমরা কিছু করি না।’
এরপর আরও একজন সংসদ সদস্যের বাজেটের ওপর বক্তব্য শেষে ২৭৪ বিধি অনুসারে ব্যক্তিগত কৈফিয়তের জন্য দাঁড়ান হাসনাত আবদুল্লাহ।
পরে ডেপুটি স্পিকার তাকে এক মিনিট সময় দিলে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘আমি আমার বক্তব্যের কোথাও এই শব্দ উচ্চারণ করিনি অথবা এই বাক্য বলিনি যে আমাকে যেন বরাদ্দবঞ্চিত না করা হয়। আমি বলেছি—আমার বক্তব্যের কারণে আমার এলাকার মানুষকে যেন কোনো কারণে বঞ্চিত না করা হয়।’
হাসনাত আবদুল্লাহ আরও বলেন, ‘আজকেও এই সংসদে আমরা দেখেছি জুলাই সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশ্য করে কিছু কথা বলা হয়েছে যে, আমরা আগে রিকশায় চড়তাম এখন আমরা গাড়িতে চড়ি। এই সংসদে আজকে সরকারে যারা আছেন, আমি আপনাদের কাছে বিনীতভাবে অনুরোধ করবো- এখন সরকারের যে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো আপনাদের নিয়ন্ত্রণে, ডিজিএফআই, এনএসআই, পুলিশ, মিলিটারি সবাই আপনাদের নিয়ন্ত্রণে। আমি আপনাদের কাছে অনুরোধ করবো- আপনাদের মতো দায়িত্বশীল জায়গা থেকে এলিগেশনের টোনে এলিগেশন না দিয়ে আপনারা তদন্ত করে ১ টাকার দুর্নীতি, ১ টাকার কোনো ধরনের অসৎ উপায়ের ন্যায়ের কোনো প্রমাণ দিতে পারলে আমরা এই সংসদ থেকে ইস্তফা দেবো।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপল-এ চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার পরিকল্পনা করছেন।
স্থানীয় সময় অনুযায়ী আগামীকাল শুক্রবার সকাল ১০টায় তাঁদের সাক্ষাৎ হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।
মাহদী আমিন বলেন, ‘শুক্রবার, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরের শেষ দিনে, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টায়, অর্থাৎ বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৮টায় ঐতিহাসিক গ্রেট হলে সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হবে।’
তিনি যোগ করেন, চীনের প্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশি প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ ও চীনের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় স্বাভাবিকভাবেই তুলে ধরবেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের মানুষের উন্নয়ন-অগ্রযাত্রা আরো সুসংহত করার লক্ষ্যে ইতিবাচক ফলাফলের আশা করছেন, ইনশাআল্লাহ।
মাহদী আমিন আরও বলেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক বহুমাত্রিক ক্ষেত্রে সাধনাগামী হবে। কৌশলগত সহযোগিতা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং উন্নয়ন প্রকল্প থেকে জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ সব ক্ষেত্রেই দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পৃক্ততা নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে আমাদের মনে হচ্ছে।
চারদিনের চীন সফর উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শুক্রবার বিকেলে বেইজিং থেকে ঢাকায় ফিরে যাবেন। এই সফরের সঙ্গে রয়েছে ২৪ জন সফরসঙ্গী।
সফরসঙ্গীদের মধ্যে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, পানি সম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, বেসামরিক বিমান চলাচল প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাদের মধ্যে রয়েছেন ৫ জন। তাঁদের মধ্যে হলেন— হুমায়ুন কবির, একেএম শামসুল ইসলাম, রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, মাহদী আমিন।
গত ২১ জুন প্রধানমন্ত্রী প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়ায় যান। এরপর সোমবার রাতে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বৈঠকে যোগ দিতে চীনের দালিয়ানে পৌঁছান। দুইদিনের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের পর বুধবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রী বেইজিং পৌঁছান।
সফরের শেষ দিনের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, সকালে ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের ন্যাশনাল স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ঝাও লেজির সাথে গ্রেট হলে সাক্ষাৎ এবং চীনের জাদুঘর পরিদর্শন। বিকেল ৫টায়, বেইজিং থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন প্রধানমন্ত্রীসহ সফরসঙ্গীরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ