ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

যৌন স্বাস্থ্যের রক্ষায় করণীয়


যৌন স্বাস্থ্যের রক্ষায় করণীয়

যৌন স্বাস্থ্য হলো শারীরিক, মানসিক, আবেগজনিত এবং সামাজিক সুস্থতার একটি অবস্থা যা যৌনতার সঙ্গে সম্পর্কিত। এটি কেবল রোগ, অক্ষমতা বা যৌন সমস্যা অনুপস্থিতির চেয়ে বেশি। যৌন স্বাস্থ্য মূলত সামগ্রিক স্বাস্থ্য ও কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যখন যৌন স্বাস্থ্য ভালো হয়, তখন মানসিক শান্তি, আত্মবিশ্বাস এবং সম্পর্কের গুণগত মানও বাড়ে। নিরাপদ যৌন অভ্যাস, যৌন সংক্রমণ ও রোগ প্রতিরোধে সহায়ক হয়। এর পাশাপাশি পরিবার পরিকল্পনা, নিরাপদ গর্ভধারণ ও সন্তান জন্মের অধিকারের মাধ্যমে প্রজনন স্বাস্থ্য নিশ্চিত করা যায়। ব্যক্তিগতভাবে, নিজের শরীরের যৌন ও প্রজনন সংক্রান্ত বিষয়ে সচেতনতা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। এর ফলে সমাজে সহনশীলতা ও মানবাধিকারের চর্চা উন্নত হয়। যৌন স্বাস্থ্য চর্চার এক গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সম্মতি, শ্রদ্ধা ও সমতা।

যৌন অঙ্গ শুধুমাত্র যৌনতা বা প্রজননের মাধ্যম নয়, এটি একটি সামগ্রিক শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য, যা আত্মবিশ্বাস এবং জীবনমানের প্রতিচ্ছবি। যৌন অঙ্গের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখা একটি সমন্বিত প্রক্রিয়া হিসেবে বিবেচিত হয়। এখানে জীবন যাপন, খাদ্যাভ্যাস, ব্যায়াম, মানসিক অবস্থা এবং সঠিক চিকিৎসা বিজ্ঞান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে সামাজিক সংকোচ বা ভুল তথ্যের কারণে যৌন স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা এখনো কম রয়েছে।

যৌন অঙ্গের সুস্বাস্থ্য বিজ্ঞানসম্মতভাবে বজায় রাখতে বিভিন্ন উপায় রয়েছে। যেমন- সঠিক পরিচ্ছন্নতা বজায় রেখে, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস মেনে চলা, সঠিক ব্যায়াম ও রক্ত সঞ্চালনের পদ্ধতি অনুসরণ করা, নেশা জাতীয় দ্রব্য পরিহার করা, মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেয়া, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা এবং সচেতনতা বজায় রেখে যৌন অঙ্গের স্বাস্থ্য লাভ অর্জন করা যেতে পারে।

আরও পড়ুন: ঢাকা বায়ুদূষণে বিশ্বে ষষ্ঠ, শীর্ষে পাকিস্তানের লাহোর

যৌন অঙ্গের স্বাস্থ্য রক্ষার প্রথম ধাপ হচ্ছে নিয়মিত পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা। বিশেষ করে পুরুষদের মধ্যে যারা সারকামসিশন অর্থাৎ খৎনা করেননি, তাদের ক্ষেত্রে লিঙ্গের ডগায় স্মেগ্মা নামক সাদা আবরণ জমে থাকে, যা মূলত ব্যাকটেরিয়া বা জীবাণুর সংক্রমণের উৎস হতে পারে।

যৌন স্বাস্থ্যের সঙ্গে রক্ত প্রবাহের সম্পর্ক জড়িত। সঠিকভাবে রক্ত প্রবাহের জন্য রক্তনালিগুলোর সুস্থতা বজায় রাখতে হয়। এ ক্ষেত্রে খাদ্যাভ্যাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেমন- ওমেগা থ্রী ফ্যাটি এসিডসমৃদ্ধ খাবার, অ্যান্টি অক্সিডেন্টসমৃদ্ধ ফলমূল, লাইকোপিনযুক্ত সবজি, আর্গিনিনসমৃদ্ধ খাবার ইত্যাদি বেশ কার্যকর। তবে কিছু খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। যেমন- অতিরিক্ত চিনি ও প্রসেসড খাবার খাওয়ার প্রতি বিরত থাকা উচিত। এছাড়াও ট্রান্স ও স্যাচুরেটেড ফ্যাট দূরে রাখতে হবে।

যারা সঠিক খাদ্যাভ্যাস মেনে চলেন, বিশেষ করে পুরুষদের ক্ষেত্রে লিঙ্গ উত্থানজনিত সমস্যা বা ইরেকটাইল ডিসফাংশনের ঝুঁকি ৩০ ভাগ কমে যায়।

নিয়মিত ব্যায়াম, বিশেষ করে পেলভিক ফ্লোর এক্সারসাইজ, যেমন-কেগেল এক্সারসাইজ নারী-পুরুষ উভয়ের লিঙ্গে রক্ত প্রবাহ উন্নত করে। পাশাপাশি যৌন স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করে। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা বা দৌড়ানোর পরামর্শ রয়েছে। শ্রেণিচক্রের মাংসপেশিকে শক্তিশালী করতে কেগেল এক্সারসাইজ করা উচিত। এছাড়াও যোগাসন রক্ত প্রবাহ বৃদ্ধি এবং মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। নিয়মিত ব্যায়ামের ফলে লিঙ্গের স্বাস্থ্য উন্নত থাকে।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশ-জাপান চিকিৎসা সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য সমঝোতা স্মারক সই

ধূমপান লিঙ্গে রক্তপ্রবাহ কমিয়ে দেয়, যা সেক্সুয়াল ডিসফাংশনের অন্যতম কারণ। একইভাবে, অতিরিক্ত অ্যালকোহল বা নেশা জাতীয় দ্রব্য সেবন করলে পুরুষদের সেক্স হরমোন টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমে যায়, যার ফলে যৌন স্বাস্থ্য ব্যাহত হয়। অনেক ক্ষেত্রেই যৌন ইচ্ছা ও সক্ষমতা দুটোই কমে যায়। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা বিভিন্ন ধরনের নেশায় আসক্ত, তাদের মধ্যে যৌন অক্ষমতার হার দ্বিগুণ।

অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা, উদ্বেগ, বিষণ্নতা ও ভয় ইত্যাদি মানসিক সমস্যা যৌন জীবনের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। যৌন উত্তেজনা মস্তিষ্ক নিয়ন্ত্রিত একটি প্রক্রিয়া। তাই যৌন স্বাস্থ্যের সুস্থতা বজায় রাখতে মস্তিষ্কের বিশ্রাম অত্যন্ত প্রয়োজন। যেমন- দৈনিক অন্তত ছয় ঘণ্টা ঘুম, মেডিটেশন ও গভীর শ্বাস প্রশ্বাসের অনুশীলনের প্রয়োজন রয়েছে।

মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি হলে সেক্সুয়াল ডিসফাংশনের লক্ষণ প্রায় ৪০ ভাগ কমে যায়।

যৌন স্বাস্থ্য সম্পর্কিত যে কোনো ধরনের সমস্যার ক্ষেত্রে যদি তা প্রাথমিক অবস্থায় শনাক্ত করা যায়, তাহলে সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য। বছরে অন্তত একবার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো উচিত। তবে সন্দেহজনক উপসর্গ ও লক্ষণ দেখা দিলে অবিলম্বে পরীক্ষা করা উচিত। নিয়মিত যৌন স্বাস্থ্যের সুরক্ষা যৌন স্বাস্থ্যের দীর্ঘসূত্র গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো প্রতিরোধে কার্যকর।

আরও পড়ুন: হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় ৩ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১২০০ শিশু

যৌন স্বাস্থ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হলে যৌনতা ও যৌন সম্পর্কে ইতিবাচক ও শ্রদ্ধাশীল মনোভাব থাকা অত্যন্ত জরুরি। নিরাপদ, আনন্দদায়ক ও সম্মতিসূচক যৌন অভিজ্ঞতা থাকা উচিত। বল প্রয়োগ, বৈষম্য ও সহিংসতা থেকে মুক্ত থাকতে হবে।

যৌন অঙ্গের সুস্বাস্থ্য রক্ষা করা মানে কেবল যৌন জীবনের সন্তুষ্টি নয়, বরং এটি সামগ্রিক স্বাস্থ্য, আত্মবিশ্বাস এবং সুখী দাম্পত্য জীবনের একটি পূর্ব শর্ত। পরিচ্ছন্নতা, খাদ্য, ব্যায়াম, মানসিক সুস্থতা এবং সঠিক চিকিৎসার সমন্বয়ের মাধ্যমে একজন ব্যক্তি তার যৌন স্বাস্থ্যকে দীর্ঘ সময় ধরে সুস্থ ও সক্রিয় রাখতে পারেন। সতর্কতা ও সচেতনতাই ভবিষ্যতের জটিলতা দূরে রাখতে পারে। নিজের শরীরকে ভালোবাসুন এবং নিজের যত্ন নিন।

যৌন স্বাস্থ্য শুধুই একটি চিকিৎসার বিষয় নয়, এটি ব্যক্তিগত অধিকার, মানব মর্যাদা এবং সমাজের সুস্থ বিকাশের একটি অপরিহার্য অংশ। যৌনতা নিয়ে সচেতনতা, শিক্ষা ও উন্মুক্ত আলোচনা যৌন স্বাস্থ্য উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি।

আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৫ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৩৬৬

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাবি উপাচার্যের সঙ্গে রাশিয়ার প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ ইং

০৮:১৪ পি.এম


ঢাবি উপাচার্যের সঙ্গে রাশিয়ার প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ

ঢাকায় নিযুক্ত রাশিয়ার দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি ও রাশিয়ান হাউসের পরিচালক মিস আলেকজান্দ্রা এ খেলভনয় বৃহস্পতিবার (১১ জুন) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সঙ্গে তার কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

এ সময় দূতাবাসের সাংস্কৃতিক কার্যক্রম বিভাগের প্রধান প্রশান্ত কুমার বর্মণ এবং সিনিয়র প্রশাসনিক কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেনও উপস্থিত ছিলেন।

সাক্ষাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং রাশিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ভাষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক চলমান যৌথ শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম আরো জোরদার করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

এ ছাড়া, বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে সাংস্কৃতিক দল বিনিময়ের বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পায়।

বৈঠকে রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গ স্টেট ইউনিভার্সিটির সহযোগিতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটে তিন মাসব্যাপী একটি বিনামূল্যের রুশ ভাষা কোর্স চালুর সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করা হয়।

সাথে, ইনস্টিটিউটে চলমান রুশ ভাষা কোর্সের সম্প্রসারণের ওপরও উভয় পক্ষ গুরুত্বারোপ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মোংলায় গ্রামবাসী-কোস্ট গার্ড সংঘর্ষে আহত ১০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ ইং

০৮:১৬ পি.এম


মোংলায় গ্রামবাসী-কোস্ট গার্ড সংঘর্ষে আহত ১০

বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার চিলা ইউনিয়নের জয়মনি ঠোঠা এলাকায় জেলে মিরাজ শেখের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্রামবাসীর সঙ্গে কোস্ট গার্ডের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে নারী-পুরুষসহ অন্তত ১০ জন গ্রামবাসী আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

 বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরে জয়মনি ঠোঠা এলাকায় নিখোঁজ মিরাজ শেখের বিষয়ে জানার জন্য স্থানীয়রা কোস্ট গার্ড ক্যাম্পের দিকে এগোলে সংঘর্ষ বাধে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানাচ্ছেন, নিখোঁজ মিরাজ শেখের খোঁজ নিতে আসার সময় গ্রামবাসীর সঙ্গে কোস্ট গার্ডের সংঘর্ষ সংঘটিত হয়। এই পরিস্থিতিতে নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য কোস্ট গার্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে। এ সময় আতঙ্কিত হয়ে পালানোর চেষ্টা করতে গিয়ে নারী-পুরুষসহ প্রায় ১০ জন আহত হয়।

 ঘটনার পর নিখোঁজ মিরাজ শেখের মা তাসলিমা বেগম, স্ত্রী মুক্তা বেগম এবং বোন লিজা ইসলামকে কোস্ট গার্ড হেফাজতে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বলে স্থানীয়দের দাবি। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মোংলা থানা পুলিশের, নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়।

 এ বিষয়ে কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বর্তমানে জয়মনি ঠোঠা এলাকায় পুলিশ, নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের যৌথ অভিযান চলমান রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

 মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ঘটনার বিস্তারিত পরবর্তীতে জানানো হবে।

 উল্লেখযোগ্য যে, জেলে মিরাজ শেখ সুন্দরবনে মাছ ধরা ছাড়াও ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালাতেন। পরিবারের সদস্যদের দাবি, গত ১০ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টার দিকে জয়মনি ঠোঠা এলাকার একটি চায়ের দোকানের সামনে থেকে সাদা পোশাক পরা দুই ব্যক্তি তাকে তুলে নিয়ে যান। খবর পেয়ে মিরাজের স্ত্রী মুক্তা বেগম সেখানে গিয়ে দেখেন, কোস্ট গার্ডের একটি স্পিডবোটে করে মিরাজকে মোংলার দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

 এরপর থেকেই মিরাজ শেখ নিখোঁজ রয়েছেন। এরপর মিরাজের সন্ধানে তার পরিবার মোংলা ও বাগেরহাট প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন, মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। তবে দীর্ঘ দুই মাস অতিবাহিত হওয়ার পরও তার কোন সন্ধান মেলেনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিদেশে উচ্চশিক্ষায় ইচ্ছুক বাংলাদেশিদের জন্য একটি বড় সুখবর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ ইং

০৮:১৬ পি.এম


বিদেশে উচ্চশিক্ষায় ইচ্ছুক বাংলাদেশিদের জন্য একটি বড় সুখবর

২০২৮ সালে শুরু হতে যাওয়া নতুন শিক্ষাক্রমের অধীনে বাংলা এবং ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় যেকোনো একটি ভাষা শেখা বাধ্যতামূলক করতে যাচ্ছে সরকার। সেই ভাষা শিখে বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য যাওয়ার ইচ্ছা পোষণকারী শিক্ষার্থীদেরকে ১০ লাখ টাকা ঋণ সুবিধা প্রদান করা হবে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তব্যে এই ঋণ সুবিধার প্রস্তাব রেখেছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

অর্থমন্ত্রী বলেন, জাতীয় শিক্ষাক্রমে বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় ভাষা; যেমন-জাপানিজ, কোরিয়ান, মান্দারিন, আরবি, ফ্রেঞ্চ, জার্মান ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত করা হবে। সরকার তৃতীয় ভাষাজ্ঞানসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের মধ্যে যারা বিভিন্ন দেশে উচ্চশিক্ষায় যেতে চান, তাদের ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধার প্রস্তাব করেছে।

এছাড়া আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আরো বলেন, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুল ইউনিফর্ম, জুতা ও স্কুলব্যাগ সরবরাহ, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং বিশেষায়িত সহায়ক প্রযুক্তি ও শিক্ষাসামগ্রী প্রদান করা হবে।

বক্তব্যে মিড ডে মিলের আওতা বাড়ানোর পরিকল্পনাও প্রকাশ করেছেন তিনি। অর্থমন্ত্রী বলেন, ছাত্র-ছাত্রীদের পুষ্টির চাহিদা মেটানো ও সুস্বাস্থ্য নিশ্চিতের উদ্দেশ্যে মিড-ডে মিল কর্মসূচি চালু করা হবে এবং পর্যায়ক্রমে সারাদেশে এর সম্প্রসারণ ঘটানো হবে। এতে ছাত্রী ও শিক্ষিকাদের স্যানিটেশন ও হাইজিনকে প্রাধান্য দিতেই স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রযুক্তিশিক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি। তিনি বলেন, প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিতকল্পে ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন এবং বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই সুবিধা সম্প্রসারণ করা হবে।

প্রসঙ্গত, ১৯৭২ সালে ৭৮৬ কোটি টাকার বাজেট দিয়ে বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হয়েছিল। পাঁচ দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে দেশের অর্থনীতির পরিধি বৃদ্ধি পেয়েছে, উন্নয়ন কর্মসূচি ও রাষ্ট্রীয় ব্যয়ের আকারও বেড়েছে।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম বাজেট এটি। বিশাল নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রতিগুলি পূরণে এবার সরকার দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বাজেট তৈরি করেছে। প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা।

এই বিশাল বাজেটে মোট রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বাকি অর্থ সংগ্রহ করা হবে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণ এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তা থেকে। বাজেট ঘাটতি ২ লাখ ৫১ হাজার কোটি টাকা দাঁড়াতে পারে, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৩.৬ শতাংশ।

বাজেটের এই বিশাল ঘাটতি পূরণে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক-দুই উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার।

প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে। এর মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য উৎস থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকার অর্থ সংগ্রহ করা হবে।

নতুন এ বাজেটের মাধ্যমে সরকারের লক্ষ্য অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আনা, ব্যবসা-বাণিজ্যে নিয়ন্ত্রণ শিথিল করা, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং বাংলাদেশকে ‘ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির’ পথে এগিয়ে নেওয়া।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইউটিউব নির্মাতা থেকে হলিউড সেনসেশন ‘অবসেশন’র ক্যারি বারকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ ইং

০৮:১৯ পি.এম


ইউটিউব নির্মাতা থেকে হলিউড সেনসেশন ‘অবসেশন’র ক্যারি বারকার

মুক্তির তিন সপ্তাহ পরেও থামে না হলিউডের হরর সিনেমা ‘অবসেশন’ এর ঝড়। মাত্র ৯ কোটি বাজেট দিয়ে নির্মিত সিনেমাটি বিশ্বজুড়ে ২০০ মিলিয়ন ডলার বা ২ হাজার ৪০০ কোটি টাকার আয় করেছে। বক্স অফিস কাঁপানো এই সিনেমার নির্মাতা ক্যারি বারকার বর্তমানে হলিউডে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আছেন।

স্বল্প বাজেটে নির্মিত ‘অবসেশন’ এত আয় করে অনেকের মনে বিস্ময় তৈরি করেছে। সিনেমার এই সাফল্য ও দর্শকপ্রিয়তা নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ফোকাস ফিচারের ইতিহাসে সর্বোচ্চ আয় করা চলচ্চিত্রের মর্যাদা এনে দিয়েছে।

বক্স অফিসে রিপোর্ট অনুযায়ী, ‘অবসেশন’ ১৫ মে যুক্তরাষ্ট্রে মুক্তি পায়। মুক্তির পর থেকেই সিনেমাটি বক্স অফিসে একের পর এক চমক দেখাতে শুরু করে। শুধু উত্তর আমেরিকায় এর আয় প্রায় ১৬১ মিলিয়ন ডলার।

ভৌতিক বা হরর ঘরানার সিনেমার ক্ষেত্রে এমন রেকর্ড বিরল ঘটনা। এর আগে ১৯৯৯ সালের কাল্ট ক্ল্যাসিক ‘দ্য ব্লেয়ার উইচ প্রজেক্ট’ এর দখলে ছিল এমন রেকর্ড। অবাক করা বিষয় হলো, ১৯৮২ সালের ‘ই.টি. দ্য এক্সট্রা–টেরেসট্রিরিয়াল’ এর পর ‘অবসেশন’ই প্রথম সিনেমা, যার দ্বিতীয় ও তৃতীয় সপ্তাহের আয় প্রথম সপ্তাহের তুলনায় উল্টো বেড়েছে।

সিনেমাটির নির্মাতা ক্যারি বারকারও হলিউডের আরেক বিস্ময়। হলিউডের সিনেমা জগতে তার নাম তেমন পরিচিত নয়। ইউটিউব ও স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণের মধ্যে তার পরিচিতি সীমাবদ্ধ ছিল। পূর্ণাঙ্গ সিনেমা নির্মাণে ক্যারি বারকারের প্রথম বড় পরীক্ষা ছিল ২০২৪ সালে, যখন তিনি চলচ্চিত্র ‘মিল্ক অ্যান্ড সেরিয়াল’ নির্মাণ করেন। এই সিনেমার বাজেট ছিল মাত্র ৮০০ ডলার। শুনতে অবিশ্বাস্য লাগলেও এটাই সত্যি।

বন্ধুদের নিয়ে প্রথম একটি সম্পূর্ণ চলচ্চিত্র নির্মাণ করার পর সিনেমাটি সরাসরি ইউটিউবে প্রকাশ করেন ক্যারি বারকার। মুক্তির পরপরই এটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। দর্শক একে অপরকে বোঝাতে থাকে যে, এই তরুণ নির্মাতার মধ্যে আলাদা কিছু আছে। সীমিত সম্পদ নিয়েও তিনি ভয় ও উত্তেজনার পরিবেশ তৈরি করার সক্ষমতা রাখেন।

তাহলে ‘মিল্ক অ্যান্ড সেরিয়াল’ ভবিষ্যতে বড় সাফল্যের ভিত্তি গড়ে দেয় ক্যারি বারকারের। এরপরেই ‘অবসেশন’ তার ক্যারিয়ার বদলে দিয়েছে। সিনেমাটি নির্মাণের পর ক্যারি বারকারকে হলিউডের নতুন প্রজন্মের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় হরর নির্মাতাদের একজন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%