ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় ৩ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১২০০ শিশু


হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় ৩ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১২০০ শিশু

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ১ হাজার ২১৭ শিশু হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে। এছাড়া ৪২ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গে নতুন রোগী পাওয়া গেছে ১ হাজার ২৫৯ জন।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম বিষয়ক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ২০ অক্টোবর সকাল ৮টা পর্যন্ত দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ হাজার ২০৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে মারা গেছে ১০৪ শিশু। বাকি ১ হাজার ১০০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে।

আরও পড়ুন: ভোটের পাঁচ দিন আগে বাইশিমাস নির্বাচন স্থগিত, প্রার্থীদের প্রতিবাদ

এ সময়ে দেশে সন্দেহজনক হামের উপসর্গের রোগী পাওয়া গেছে ২ লাখ ১৫ হাজার ৭৬৮ জন। নিশ্চিত হামে আক্রান্তের সংখ্যা ২৩ হাজার ১৯৯ শিশু। সব মিলিয়ে হামের উপসর্গ ও নিশ্চিত হাম শনাক্ত হওয়া শিশুর সংখ্যা ২ লাখ ৩৮ হাজার ৯৬৭।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, এই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ৯১ হাজার ৭৬১ শিশু। তাদের মধ্যে ১ লাখ ৮৪ হাজার ১৬৮ শিশু সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে মারা যাওয়া তিন শিশুর মধ্যে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ বিভাগের একজন করে রয়েছে।

এ সময়ে ঢাকা বিভাগে হামের উপসর্গের রোগী সবচেয়ে বেশি পাওয়া গেছে। এই বিভাগে নতুন করে ৪৯৯ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। এছাড়া ৩৪ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে।

আরও পড়ুন: হায় সেলুকাস, আমাদের এই বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলার অবনতি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কয়রায় সিজারের পর প্রসূতির মৃত্যু, কিডনি বিকলসহ গুরুতর জটিলতার অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৫৫ পি.এম


কয়রায় সিজারের পর প্রসূতির মৃত্যু, কিডনি বিকলসহ গুরুতর জটিলতার অভিযোগ

খুলনার কয়রা উপজেলার আমাদী ইউনিয়নে আনিসা ক্লিনিকে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পর ২১ বছর বয়সী প্রসূতি বৈশাখী রায়ের মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসায় অবহেলা ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ১০ সেপ্টেম্বর ক্লিনিকটিতে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। ২৫ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ৭ অক্টোবর তাঁর মৃত্যু ঘটে। নিহতের স্বজনেরা সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও ক্লিনিকের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। একই ক্লিনিকে অস্ত্রোপচারের পর আরও কয়েকজন রোগীর গুরুতর শারীরিক জটিলতা দেখা দেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে।

নিহত বৈশাখী রায় মৃত দিনবন্ধু রায়ের মেয়ে। তাঁর স্বামী বাধন ঘোষ অভিযোগ করেছেন যে, আনিসা ক্লিনিকে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পর থেকেই বৈশাখীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। চার দিন পর তাঁকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা জানান, তাঁর কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাধন ঘোষ বলেন, "আমার স্ত্রীর আগে কিডনির কোনো সমস্যা ছিল না। সিজারের পর থেকেই সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর জানতে পারি, তার কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ২৫ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর আমার স্ত্রী মারা গেছে। আমার সন্তান মাকে হারিয়েছে।"

বাধন ঘোষের অভিযোগ, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. সুজাত আহম্মেদ আনিসা ক্লিনিকে তাঁর স্ত্রীর অস্ত্রোপচার করেন। তিনি দাবি করেন, অস্ত্রোপচারের সময় বিশেষজ্ঞ অ্যানেস্থেসিয়া চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় সহকারী ছিলেন না। বাধন আরও জানান, চিকিৎসকের প্রভাব ও সম্ভাব্য হয়রানির আশঙ্কায় তাঁরা কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেননি।

বৈশাখীর মৃত্যুর পাশাপাশি আনিসা ক্লিনিকে অস্ত্রোপচারের পর আরও কয়েকজন রোগীর গুরুতর জটিলতার অভিযোগ পাওয়া গেছে। চার মাস আগে ওই ক্লিনিকে অস্ত্রোপচার করানো বেবী খাতুনের স্বামী ফারুক মোল্লা অভিযোগ করেছেন, তাঁর স্ত্রীর পেটে অস্ত্রোপচারের গজ বা কোনো সরঞ্জাম রয়ে গিয়েছিল। পরবর্তী অস্ত্রোপচারের সময় তাঁর স্ত্রীর মূত্রনালি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফারুক জানান, "বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা করাতে চার থেকে পাঁচ লাখ টাকা ব্যয় হলেও বেবী খাতুনের অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি।"

আরেক রোগী পলি দাসের স্বামী পঞ্চানন দাস অভিযোগ করেছেন, অস্ত্রোপচারের পর তাঁর স্ত্রীর মূত্রনালি গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে অন্য হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করে পাইপ বা স্টেন্ট বসাতে হয়। তিনি জানান, "খুলনার সিটি মেডিকেলসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এবং ভারতে চিকিৎসা করাতে প্রায় ১০ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। তারপরও তাঁর স্ত্রী পুরোপুরি সুস্থ হননি।"

ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অভিযোগ, চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁরা অসহায় বোধ করছেন। তাঁরা এসব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মূল ফটকের সামনে অবস্থিত আনিসা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারটি প্রায় দেড় বছর আগে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ক্লিনিকটির পরিচালনার সঙ্গে ডা. সুজাত আহম্মেদের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিন পরিদর্শনের বিবরণ অনুযায়ী, সেখানে সিজারিয়ান, অ্যাপেন্ডিসাইটিসসহ বিভিন্ন অস্ত্রোপচার করানো ১২ জন রোগী ভর্তি ছিলেন। তবে পরিদর্শনের সময় কোনো চিকিৎসক বা নার্সকে পাওয়া যায়নি। রোগীদের কেউ ছোট খাটে, কেউ মেঝেতে পাটি বিছিয়ে শুয়ে ছিলেন। স্বাভাবিক প্রসবের কক্ষের পরিবেশ নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

ক্লিনিকের অস্ত্রোপচারকক্ষের টিনের ছাউনি, দেয়ালের খসে পড়া পলেস্তারা এবং অপরিচ্ছন্ন শৌচাগার। সেখানে আধুনিক অস্ত্রোপচার-সরঞ্জামের পর্যাপ্ততা বলে দাবী ভুক্তভোগীদের। অস্ত্রোপচার-সংক্রান্ত ফরম ও পরবর্তী চিকিৎসাপত্রে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের নাম, স্বাক্ষর এবং অপারেশন নোট না থাকার অভিযোগও উঠেছে।

পরিদর্শনের সময় ক্লিনিকটিতে নিবন্ধিত ডিপ্লোমাধারী নার্স, ব্যবস্থাপক কিংবা ল্যাব টেকনিশিয়ানকে পাওয়া যায়নি। তানিয়া নামে এক নারীকে রোগীদের বিভিন্ন কাজ করতে দেখা যায়। তিনি কখনো নিজেকে নার্স, কখনো চিকিৎসকের সহকারী হিসেবে পরিচয় দিলেও তাঁর নিবন্ধন সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যায়নি।

ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুমোদন বা লাইসেন্স দেখাতে পারেনি। প্রতিষ্ঠানটির নিবন্ধনপ্রক্রিয়া অসম্পূর্ণ এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র না থাকার অভিযোগও রয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, ডা. সুজাত আহম্মেদ নিজেই অস্ত্রোপচারের পাশাপাশি রোগীদের অ্যানেস্থেসিয়া বা অচেতন করার ওষুধ প্রয়োগ করেন।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. সুজাত আহম্মেদের সাথে কথা বলতে গেলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পেলে সটকে পড়েন। বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তাঁকে খুদে বার্তা পাঠালেও কোন প্রতিউত্তর দেননি।

তাঁর বিরুদ্ধে সাবেক সিভিল সার্জন থাকাকালে নিয়োগে ঘুষ গ্রহণসহ বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলে জানাগেছে।

কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রেজাউল করিম বলেছেন, "উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে অবস্থিত আনিসা ক্লিনিকের অনিয়ম, নিবন্ধনসংক্রান্ত জটিলতা ও রোগীদের শারীরিক ক্ষতির বিষয়ে মৌখিক ও লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। সরেজমিনে পরিদর্শন করে অভিযোগের বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে। ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অমান্য করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

খুলনার সিভিল সার্জন ডা. মোছা. মাহফুজা খাতুন বলেছেন, "বিশেষজ্ঞ অ্যানেস্থেসিয়া চিকিৎসক ছাড়া অস্ত্রোপচারের সময় অ্যানেস্থেসিয়া প্রয়োগ এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে অস্ত্রোপচার করা চিকিৎসাসেবার নীতিমালা ও প্রযোজ্য বিধিবিধানের পরিপন্থী। আনিসা ক্লিনিকে রোগীর মৃত্যু এবং অন্য রোগীদের অঙ্গহানির অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

বৈশাখী রায়ের মৃত্যু এবং অন্য রোগীদের অস্ত্রোপচার-পরবর্তী জটিলতার অভিযোগের পর আনিসা ক্লিনিকের নিবন্ধন, জনবল, অস্ত্রোপচারকক্ষের পরিবেশ, চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি ও রোগী ব্যবস্থাপনা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবার ও সচেতন নাগরিকদের দাবি, প্রতিটি ঘটনার চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি পর্যালোচনা, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মাধ্যমে স্বাধীন তদন্ত প্রয়োজন। তদন্তে অনিয়ম বা চিকিৎসায় অবহেলা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া এখন সময়ের দাবী।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মিশরে বাংলাদেশ দূতাবাসে লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবস উদযাপন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৫৬ পি.এম


মিশরে বাংলাদেশ দূতাবাসে লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবস উদযাপন

মিশরের রাজধানী কায়রোয় বাংলাদেশ দূতাবাসে বাংলার মরমি সাধক, মানবতাবাদী দার্শনিক ও কালজয়ী বাউল সংগীতসাধক ফকির লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবস পালন করা হয়েছে। এই উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে লালনের জীবন, দর্শন ও সৃষ্টিকর্মের মধ্য দিয়ে মানবতা, সাম্য, অসাম্প্রদায়িকতা ও সম্প্রীতির চিরন্তন বার্তা তুলে ধরা হয়।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় দূতাবাসের হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মিশরে বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত গৌতম কুমার দে। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জি এম মেহেদী হাসান। বক্তৃতা করেন রেজাউল করিম, মাসুদ করিম চৌধুরী, নোমান করিম আজহারী এবং দূতাবাসের শ্রম সচিব মো. জাকির হোসেন।

বক্তারা বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে লালন সাঁইয়ের অবিস্মরণীয় অবদান তুলে ধরেন। তারা উল্লেখ করেন, লালনের গান ও দর্শন জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও সামাজিক পরিচয়ের বিভেদ অতিক্রম করে মানবতা, সাম্য, ভালোবাসা ও সামাজিক সম্প্রীতির শিক্ষা দেয়। তার কালজয়ী সৃষ্টি আজও মানুষকে উদারতা, সহনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করে।

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত গৌতম কুমার দে সভাপতির বক্তব্যে উপস্থিত অতিথিদের স্বাগত জানান এবং বাংলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ আধ্যাত্মিক ও মানবতাবাদী চিন্তাবিদ লালন সাঁইয়ের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

তিনি বলেন, ফকির লালন সাঁইয়ের গান ও দর্শন জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও সামাজিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সাম্য, মৈত্রী, প্রেম, সহনশীলতা ও সম্প্রীতির চিরন্তন বাণী বহন করে। ধর্মীয় সংকীর্ণতা ও সামাজিক বৈষম্যের বিপরীতে মানবতার জয়গান গাওয়া তাঁর দর্শন আজও বিশ্বজুড়ে শান্তিকামী মানুষ, মানবতাবাদী চিন্তাবিদ ও মানবিক মূল্যবোধে বিশ্বাসীদের অনুপ্রাণিত করে।

গৌতম কুমার দে লালন সাঁইয়ের কালজয়ী দর্শনের তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, তার সৃষ্টি বাঙালির সংস্কৃতি ও জাতিসত্তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। ভৌগোলিক ও ধর্মীয় সীমানা অতিক্রম করে লালনের গান প্রচলিত সামাজিক ও সাংস্কৃতিক গোঁড়ামিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে এবং মানবধর্মের চেতনাকে সমুন্নত করেছে। তিনি ধর্ম, বর্ণ ও সামাজিক পরিচয়ের বিভেদ পেরিয়ে অভিন্ন মানবসত্তাকে উপলব্ধি করার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, সহিষ্ণু, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে লালনের শিক্ষা আজও গুরুত্বপূর্ণ প্রেরণা জোগায়।

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত বাউল সম্প্রদায়ের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিক সাধনার প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, বাউল সংস্কৃতি বাঙালির চিরায়ত ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তার মতে, সহনশীলতা, মানবিকতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ক্ষেত্রে লালন সাঁইয়ের দর্শন বর্তমানের অনিশ্চিত ও জটিল বৈশ্বিক পরিস্থিতিতেও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। লালনের সৃষ্টি বাংলাদেশের সমৃদ্ধ লোকজ ঐতিহ্য এবং অসাম্প্রদায়িক, উদার ও মানবতাবাদী পরিচয়ের উজ্জ্বল প্রতিফলন।

তিনি নতুন প্রজন্মের মধ্যে লালন সাঁইয়ের মানবতাবাদী ও অসাম্প্রদায়িক দর্শন ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এই সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার সংরক্ষণ ও চর্চার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে লালনের জীবনদর্শন পৌঁছে দিতে হবে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশি শিল্পীরা লালনগীতি ও দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করেন। শিশুদের মনোমুগ্ধকর নৃত্য পরিবেশনও উপস্থিত অতিথিদের মুগ্ধ করে। এসব সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে অতিথিরা বাংলাদেশের আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক স্বতন্ত্র ধারার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পান।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে লালন সাঁইয়ের জীবন, দর্শন এবং বাঙালি সমাজ, সংস্কৃতি ও সাহিত্যে তার অবদান নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

অনুষ্ঠানে মিশরে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্য, দেশটির বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী, পেশাজীবী এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠান শেষে অতিথিদের বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী খাবার দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দেশে ব্ল্যাক রাইস চাষ শুরু, দাম ও গুণাগুণ নিয়ে আলোচনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৫৬ পি.এম


দেশে ব্ল্যাক রাইস চাষ শুরু, দাম ও গুণাগুণ নিয়ে আলোচনা

রাজশাহীর দুর্গাপুরে প্রথমবারের মতো পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করা হয়েছে পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ বিশেষ জাতের ব্ল্যাক রাইস বা কালো ধান। কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ প্রচলিত ধানের তুলনায় এই বিশেষ জাতের কালো ধানের চালের বাজার সম্ভাবনা বেশি দেখছে। কৃষকরা এই ধান চাষ করে আশাবাদী। কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ উচ্চ ফলনশীল ব্ল্যাক রাইস বা কালো ধানের জাত জনপ্রিয় করতে উদ্যোগী হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, দুর্গাপুরের দেবীপুর গ্রামের উদ্যোক্তা সোহান আলী শালঘরিয়া মাঠের ১৬ কাঠা জমিতে এবং মাড়িয়া ইউনিয়নের পালি গ্রামের কৃষক আবু তালেব আড়াই বিঘা জমিতে কালো ধান চাষ করছেন। নতুন এ ধানের চাষাবাদ, ফলন ও বাজারজাতকরণের সম্ভাবনা যাচাইয়ে উপজেলা কৃষি বিভাগ কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছে।

কৃষক আবু তালেব বলেন, "কালো ধান নতুন জাতের একটি ধান। কৃষি বিভাগের উৎসাহে ও সহায়তায় পরীক্ষামূলকভাবে প্রথমবার আড়াই বিঘা জমিতে চাষ করেছি। ফলন ভালো হলে এবং বাজারে চালের ভালো দাম পাওয়া গেলে আগামীতে আরও বেশি পরিমাণ জমিতে এই ধান আবাদের পরিকল্পনা আছে।" কালো ধান দেখতে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে কৃষকরা আসছেন।

দুর্গাপুরের এই দুই কৃষকের আশা, তারা প্রতি বিঘায় ১৬ থেকে ১৮ মন কালো ধান পাবেন। বাজারে প্রচলিত ধানের দাম প্রতি মন বর্তমানে ১ হাজার ১০০ টাকা করে। সেখানে কালো ধান প্রতি মন ৪ হাজার টাকা করে বিক্রির আশা করছেন তারা। বিভিন্ন বাণিজ্যিক কৃষি প্রতিষ্ঠান কালো ধানের চাল কেনার জন্য যোগাযোগ করছেন। সেই হিসাবে প্রতি বিঘাতে ৬৪ থেকে ৭২ হাজার টাকার চাল বিক্রি সম্ভব হবে। এ ধান আবাদের খরচ প্রচলিত ধানের মতোই। জানা যায়, কালিরায় ও শনি প্রতি বিঘায় ফলন হতো ১০ থেকে ১২ মন। আর এই কালো ধান বিঘায় সর্বোচ্চ ১৮ থেকে ২০ মন হতে পারে। কৃষিবিদরা বলছেন, ব্ল্যাক রাইস বা কালো ধানে অ্যান্থোসায়ানিন নামের প্রাকৃতিক রঞ্জক উপাদান থাকায় চালের রং কালো বা গাঢ় বেগুনি হয়। এতে ফাইবারসহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান রয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কারণে এ চালের বাজারমূল্য বেশি। তবে বাণিজ্যিক সাফল্যের জন্য স্থানীয় চাহিদা ও বাজারজাতকরণ ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ।

রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাহানা পারভীন লাবণী বলেন, "দুর্গাপুরে প্রথমবারের মতো কালো ধান চাষে ও কৃষিতে বৈচিত্র্য আনার ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। নতুন ও সম্ভাবনাময় ফসল চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কারিগরি পরামর্শ ও তদারকি করছেন তারা। ফলন, উৎপাদন ব্যয় ও বাজার সম্ভাবনা মূল্যায়ন করে ভবিষ্যতে এ ধরনের ধান চাষ সম্প্রসারণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে।"

এই কৃষি কর্মকর্তা বলেন, কালো ধান চাষের খরচ অন্য প্রচলিত ধানের মতোই। দেশে চেইন শপ ও ডিপার্টমেন্টাল স্টোরগুলোতে কালো চালের ক্রমবর্ধমান চাহিদা এই ধান আবাদ সম্প্রসারণ ও জনপ্রিয় করার ক্ষেত্রে আশা জাগাচ্ছে। এতে কৃষকরা লাভবান হবেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মোবাইলের পর্দায় পশ্চিমা সংস্কৃতির দাপট, হারিয়ে যাচ্ছে বরগুনার লোকজ ঐতিহ্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৫৭ পি.এম


মোবাইলের পর্দায় পশ্চিমা সংস্কৃতির দাপট, হারিয়ে যাচ্ছে বরগুনার লোকজ ঐতিহ্য

একসময় সন্ধ্যার পর বরগুনার গ্রামাঞ্চলে লোকজ বিনোদনের আয়োজন করা হতো। কোথাও পালাগান, কোথাও কবিগানের ছন্দময় বাক্যযুদ্ধ, আবার কোথাও জারি-সারি ও যাত্রাপালা ঘিরে রাতভর চলত মানুষের মিলনমেলা। ঢোল, করতাল, দোতারা আর একতারার সুরে মুখর হয়ে উঠত গ্রামীণ জনপদ।

হাটবাজার, মেলা, ধর্মীয় উৎসব ও সামাজিক অনুষ্ঠান ছিল এসব আয়োজনের প্রধান ক্ষেত্র। শিল্পীদের কণ্ঠে ফুটে উঠত মানুষের সুখ-দুঃখ, প্রেম-বিরহ, জীবনসংগ্রাম ও প্রতিবাদের কথা। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে সেই চির পরিচিত দৃশ্য ক্রমেই ফিকে হয়ে আসছে। মোবাইল ফোননির্ভর বিনোদন, বিদেশি সংস্কৃতির অনুকরণ, পৃষ্ঠপোষকতার অভাব ও শিল্পীদের আর্থিক অনিশ্চয়তায় বরগুনার নিজস্ব লোকজ ঐতিহ্য এখন অস্তিত্বের সংকটে।

বরগুনার লোকসংস্কৃতি নদী, সাগর, কৃষি ও মৎস্য আহরণনির্ভর জীবনযাত্রার মধ্যদিয়ে গড়ে উঠেছে। এটি এ অঞ্চলের মানুষের ইতিহাস, বিশ্বাস, ভাষা ও সামাজিক সম্পর্কের অবিচ্ছেদ্য অংশ। লোকগান, পালাগান, কবিগান, জারিগান, পুঁথিপাঠ, যাত্রাপালা, লাঠিখেলা, গ্রামীণ মেলা, আঞ্চলিক ছড়া ও লোককথা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বহন করেছে এই জনপদের নিজস্ব পরিচয়। তবে বর্তমানে এসব শিল্পের অনেক ক্ষেত্রেই চর্চা সংকুচিত হচ্ছে।

প্রবীণ শিল্পীদের অভিজ্ঞতা ও পরিবেশনা সংরক্ষণের কার্যকর উদ্যোগের অভাবে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মূল্যবান অধ্যায়গুলোতে।

এই সংকটের অন্যতম আলোচিত দিক মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমনির্ভর বিনোদনের বিস্তার। একসময় যে তরুণেরা গ্রামের মাঠে বসে পালাগান শুনতেন, কবিগানের আসরে ভিড় করতেন কিংবা যাত্রাপালার মঞ্চে রাত কাটাতেন, তাঁদের একটি অংশ এখন অবসর কাটান মোবাইলের পর্দায়। বিদেশি গান, নাচ, নাটক ও অনলাইন বিনোদনের বিপুল প্রবাহে পশ্চিমা সংস্কৃতির নানা অনুষঙ্গ তরুণদের জীবনযাপনে প্রভাব ফেলছে। এর বিপরীতে নিজস্ব লোকসংগীত, আঞ্চলিক ভাষা ও ঐতিহ্যবাহী বিনোদনের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের পরিচয় সীমিত হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

আধুনিক প্রযুক্তি ও বিদেশি সংস্কৃতির আদান-প্রদান নিজে নেতিবাচক নয়। সংকট তৈরি হয় তখনই, যখন অন্য সংস্কৃতির প্রতি আকর্ষণ বাড়লেও নিজের ঐতিহ্য জানার, চর্চা করার ও সংরক্ষণের আগ্রহ কমে যায়। মোবাইলনির্ভর বিনোদনের অতিরিক্ত ব্যবহার তরুণদের সময় ব্যবস্থাপনা, পড়াশোনা, পারিবারিক যোগাযোগ ও সামাজিক অংশগ্রহণেও প্রভাব ফেলছে। নিজস্ব সাংস্কৃতিক শিকড় থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লে একটি প্রজন্ম হারাতে পারে নিজের ইতিহাস ও পরিচয়ের সঙ্গে সংযোগ। তাই তরুণদের দোষারোপ নয়, বরং তাদের সামনে লোকজ সংস্কৃতিকে আকর্ষণীয়ভাবে তুলে ধরাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

বরগুনার সাংস্কৃতিক অঙ্গনের পরিচিত ব্যক্তিত্ব চিত্তরঞ্জন শীল। তিনি প্রবীণ সাংবাদিক, নাট্যকার, লেখক ও সাংস্কৃতিক সংগঠক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি সংগঠনটির নেতৃত্বেও দায়িত্ব পালন করেছেন। খেলাঘর কেন্দ্রীয় আসরের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য। তাঁর লেখা ‘পরিণতি’, ‘টিপসই’, ‘ঠকবাজ’ ও ‘পায়রাপাড়ের মাহিনুর’ নাটকের নাম উল্লেখযোগ্য। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়েও তিনি লিখেছেন। তাঁর দীর্ঘ সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বরগুনার ঐতিহ্য সংরক্ষণে ধারাবাহিক চর্চা ও সাংগঠনিক উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরে।

বরগুনা থিয়েটারের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে সুখরঞ্জন শীল স্থানীয় নাট্যচর্চার ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ নাম। সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ‘সুখা দা’ নামে পরিচিত এই ব্যক্তি নাট্যচর্চার পাশাপাশি সমাজসেবা ও ভূমিহীন মানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলনের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। ১৯৮১ সালে বরগুনা মহকুমা শহরের শিমুলতলায় বৈশাখী মেলা আয়োজনের উদ্যোগ ও পৃষ্ঠপোষকতায় ডা. এআর বিশ্বাস, চাঁদশী ডাক্তারসহ অনেকের ভূমিকার কথাও প্রচলিত থাকবে যুগ যুগান্তর। অন্যদিকে, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর প্রাথমিক সাংগঠনিক উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন সংগীত ও নাট্যশিল্পী শঙ্কর শাওজল।

বরগুনার লোকজ সংস্কৃতির ইতিহাসে হোসেন আলী বয়াতি, আব্দুল গনি বয়াতি ও কালু সরকারের নামও উল্লেখযোগ্য। হোসেন আলী বয়াতি ও আব্দুল গনি বয়াতি লোকশিল্পী হিসেবে পরিচিত; জেলা শিল্পকলা একাডেমির সম্মাননাপ্রাপ্ত। কালু সরকারের সাংস্কৃতিক অবদান সম্পর্কেও আরও তথ্য সংগ্রহ প্রয়োজন।

নাট্যশিল্পী মো. আব্দুল হালিম বাচ্চু, যন্ত্রসংগীতশিল্পী কাশিশ্বর চন্দ্র রায়, যাত্রাশিল্পী নিত্যানন্দ হাওলাদার ও নিরঞ্জন কর্মকার বরগুনার সাংস্কৃতিক ইতিহাসে স্মরণযোগ্য নাম। কণ্ঠশিল্পী প্রিয় বল্লভ কর্মকার ও মাধবী দেবনাথ, যন্ত্রসংগীতশিল্পী নিখিল চন্দ্র ঋষিদাস, চারুশিল্পী মনিন্দ্র নাথ মণ্ডল এবং নাট্যশিল্পী জাকিয়া সুলতানা নার্গিসও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে অবদানে ব্যাপক স্বীকৃতি পেয়েছেন। উদীচীর সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে অ্যাডভোকেট মো. শাহজাহান, প্রয়াত অ্যাডভোকেট মো. হাবিবুর রহমান, সংগীতশিল্পী হোসনে আরা লাভলী, অধ্যাপক স্বরোচিষ সরকার, চিত্রশিল্পী মোশাররফ হোসেন কনু ও আলোকচিত্রশিল্পী জহিরুজ্জামানের নাম উল্লেখযোগ্য। বরগুনায় নাট্যচর্চার মধ্যদিয়ে অভিনয়জীবন শুরু করে মীর সাব্বির পরবর্তী সময়ে জাতীয় পর্যায়ে অভিনেতা ও নির্মাতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।

বরগুনার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য শুধু গান, নাটক বা যাত্রাপালায় সীমাবদ্ধ নয়। তালতলী ও বালিয়াতলীসহ বিভিন্ন এলাকায় বসবাসকারী রাখাইন সম্প্রদায়ের ভাষা, তাঁতশিল্প, পোশাক, উৎসব ও সাংস্কৃতিক অনুশীলনও এ অঞ্চলের বৈচিত্র্যময় ঐতিহ্যের অংশ। গ্রামীণ মেলা, লোককথা, প্রবাদ-প্রবচন, আঞ্চলিক ভাষা ও খেলাধুলাও এই সাংস্কৃতিক পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

লোকজ সংস্কৃতির সংকটের পেছনে আর্থিক বাস্তবতাও বড় কারণ। অনেক শিল্পীর নিয়মিত আয়ের ব্যবস্থা নেই। পরিবেশনার জন্য মঞ্চ, বাদ্যযন্ত্র, যাতায়াত ব্যয় ও সম্মানী নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে নতুন প্রজন্মের কাছে লোকশিল্প পেশা হিসেবে আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে না। প্রবীণ শিল্পীদের কাছ থেকে নতুনদের শেখার সুযোগ কমে গেলে প্রজন্মান্তরে ঐতিহ্য হস্তান্তরের ধারাও দুর্বল হয়।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন, জেলা শিল্পকলা একাডেমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও স্থানীয় সরকারকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। প্রবীণ শিল্পীদের জীবনকথা, গান ও পরিবেশনা লিখিতভাবে এবং অডিও-ভিডিওতে সংরক্ষণ, নিয়মিত লোকজ সাংস্কৃতিক আয়োজন, শিল্পীদের সম্মানী ও প্রশিক্ষণ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে লোকসংস্কৃতিভিত্তিক অনুষ্ঠান বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে মোবাইল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে প্রতিপক্ষ না বানিয়ে লোকগান, পালাগান, কবিগান ও যাত্রাপালার মানসম্মত ভিডিও তরুণদের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার নিজস্ব সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে জনপ্রিয় করার কার্যকর মাধ্যম হতে পারে।

বরগুনার লোকজ সংস্কৃতি এ জনপদের সম্মিলিত সম্পদ। চিত্তরঞ্জন শীল, সুখরঞ্জন শীল, হোসেন আলী বয়াতি, আব্দুল গনি বয়াতি, কালু সরকার, অ্যাডভোকেট মনিরুজ্জামান মুনীর, মনির হোসেন কামাল, রতন সাহা, সিরাজুল ইসলাম কিসলু, প্রয়াত উজ্জ্বলসহ বিভিন্ন ধারার শিল্পী ও সংগঠকদের অবদান সংরক্ষণ করা এখন সময়ের দাবি। যে পালাগান একসময় মানুষকে রাতভর জাগিয়ে রাখত, যে কবিগানের আসর মাতিয়ে রাখত গ্রামবাংলা, যে যাত্রাপালার কাহিনি নিয়ে পরদিনও চলত আলোচনা, সেসব যদি কেবল প্রবীণদের স্মৃতিচারণে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে, তবে তা হবে একটি জনপদের সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার হারানোর বেদনাদায়ক পরিণতি। নিজস্ব ঐতিহ্য থেকে তরুণ প্রজন্মের দূরত্ব কমাতে হলে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক সংগঠনকে একযোগে এগিয়ে আসতে হবে। নইলে বরগুনার পরবর্তী প্রজন্ম হয়তো মোবাইলের পর্দায় বিশ্বকে চিনবে, কিন্তু নিজের জনপদের সংস্কৃতি ও শিকড়কে চিনতে পারবে না।

প্রবীণ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব চিত্তরঞ্জন শীল আক্ষেপ করে বলেন, 'একসময় বরগুনার সাংস্কৃতিক অঙ্গন দেশব্যাপী খ্যাতি অর্জন করেছিল। নাটক, সংগীত, যাত্রাপালা, লোকসংস্কৃতি ও নানা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে মুখর থাকত পুরো জনপদ। কিন্তু কালের বিবর্তনে সেই গৌরবোজ্জ্বল অবস্থান আজ অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। সাংস্কৃতিক চর্চা যেন শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। অথচ এই বরগুনাতেই একসময় সংস্কৃতিকে ঘিরে মানুষের মধ্যে ছিল প্রবল আগ্রহ, শিল্পীদের প্রতি ছিল সম্মান, আর সাংস্কৃতিক আয়োজন মানেই ছিল সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ।'

তিনি বলেন, 'বরগুনার সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে প্রাণবন্ত করে রাখতে অন্যান্য সাংস্কৃতিক সংগঠনের পাশাপাশি বরগুনা প্রেসক্লাবের ভূমিকাও ছিল অনন্য। সাংবাদিক, নাট্যকর্মী, সংগীতশিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠকদের সম্মিলিত উদ্যোগে একসময় এখানে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছিল। সেই ঐতিহ্য আবার ফিরিয়ে আনা অসম্ভব নয়। প্রয়োজন আন্তরিক উদ্যোগ, নিয়মিত সাংস্কৃতিক আয়োজন এবং শিল্পীদের প্রতি যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা।'

চিত্তরঞ্জন শীলের মতে, বরগুনা প্রেসক্লাব, স্থানীয় সাংস্কৃতিক সংগঠন, জেলা শিল্পকলা একাডেমি ও জেলা প্রশাসন সম্মিলিতভাবে এগিয়ে এলে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে আবারও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরিয়ে আনা সম্ভব। তিনি বলেন, “শিল্পীদের পাশে দাঁড়াতে হবে, নতুন প্রজন্মকে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে হবে এবং হারিয়ে যেতে বসা লোকজ ঐতিহ্য সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। নিয়মিত নাট্যোৎসব, লোকসংগীত, যাত্রাপালা, আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা গেলে তরুণদের মধ্যে নিজস্ব সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহ বাড়বে।'

তিনি এ ব্যাপারে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, 'বরগুনার সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য পুনরুজ্জীবিত করতে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও সুপরিকল্পিত কর্মসূচি প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো এগিয়ে এলে একসময় দেশব্যাপী পরিচিত বরগুনার সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে আবারও তার গৌরবের জায়গায় ফিরিয়ে নেওয়া সম্ভব।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%