০১:১৩ পি.এম
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক এবং কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ মন্তব্য করেছেন, রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাকে ব্যবহার করে বিরোধী রাজনৈতিক দলের ওপর নজরদারি চালানোর বার্তা দেওয়া একটি বিপজ্জনক এবং ফ্যাসিবাদী চিন্তাধারার প্রকাশ।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তার সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তিনি এসব কথা বলেন।
হাসনাত আবদুল্লাহ পোস্টে উল্লেখ করেন, বিরোধী রাজনৈতিক দলের ওপর গোয়েন্দা সংস্থা দিয়ে নজরদারি চালানোর বার্তা অত্যন্ত বিপজ্জনক। রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে তাদের মৌলিক দায়িত্ব থেকে সরিয়ে বিরোধী দলের পেছনে লাগানো এবং নজরদারি প্রযুক্তির অপব্যবহার ফ্যাসিবাদী চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ। এই ধরনের কর্মকাণ্ড অতীতের স্বৈরাচারী শাসনামলের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নলকূপ খননের স্থান থেকে গ্যাসের আগুন, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে
এনসিপির এই নেতা ফ্যামিলি কার্ড ও ফার্মার কার্ড প্রকল্পের ব্যয় নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তার অভিযোগ, গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সরকার বড় প্রকল্পগুলোতে উন্মুক্ত দরপত্রের পরিবর্তে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতির দিকে ঝুঁকছে। এ ক্ষেত্রে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং আন্তঃবাহিনী পরিচালিত প্রতিষ্ঠান বিএমটিএফকে সামনে রেখে পেছনে দলীয় ব্যক্তিদের সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
কার্ড তৈরির ব্যয়ের হিসাব তুলে ধরে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড ১২৫ থেকে ১৩০ টাকায় সরবরাহ করা সম্ভব হলেও ফ্যামিলি কার্ড ও ফার্মার কার্ডের ক্ষেত্রে প্রতিটির ব্যয় প্রায় ৩০০ থেকে ৩৬৫ টাকা ধরা হচ্ছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোসহ (বিবিএস) বিভিন্ন সরকারি ও বিদ্যমান তথ্যব্যবস্থা ব্যবহার করে দরিদ্র মানুষের একটি কার্যকর ডেটাবেজ তৈরি করা সম্ভব। মোবাইল ব্যাংকিং, বিদ্যুৎ-পানি-গ্যাসের বিল, মোবাইল রিচার্জ এবং খানা আয়-ব্যয় জরিপের তথ্য কাজে লাগিয়েও এ উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। তার মতে, এ জন্য নতুন করে বিপুল অর্থ বরাদ্দের যৌক্তিকতা নেই।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অজান্তে এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে—এমনটি বিশ্বাস করার কারণ নেই বলেও মন্তব্য করেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তার দাবি, প্রধানমন্ত্রী নিজেই বিভিন্ন সভা-সেমিনারে ফ্যামিলি কার্ড ও ফার্মার কার্ডের প্রচারণা চালাচ্ছেন। কার্ড কেনার নামে অনিয়মের দায় সামরিক বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর চাপানোর চেষ্টা হলে তা তাদের ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর হবে।
আরও পড়ুন: কুমিল্লায় রাজস্ব কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা মামলায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট
অতীতের রাজনৈতিক অপব্যবহারের প্রসঙ্গ টেনে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, শেখ হাসিনার শাসনামলে গুম, খুন, ক্রসফায়ার ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে বিভিন্ন বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থা দেশ-বিদেশে সমালোচনার মুখে পড়ে। তিনি সতর্ক করে বলেন, রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোকে কোনো রাজনৈতিক দলের স্বার্থে ব্যবহার করা হলে তা দেশের জন্য নতুন করে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় বাহিনী কোনো সরকারি দলের সম্পত্তি নয়। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো ১৮ কোটি মানুষের সেবা করার জন্য গঠিত হয়েছে। সরকার ও বিরোধী দলসহ দেশের সব নাগরিকের প্রতি তাদের দায়িত্ব রয়েছে। জনগণের স্বার্থের পরিবর্তে কোনো দলের রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত স্বার্থে এসব প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করা জনগণের অর্পিত দায়িত্বের সঙ্গে প্রতারণার শামিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন