ঢাকা সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ঢাকা বায়ুদূষণে বিশ্বে ষষ্ঠ, শীর্ষে পাকিস্তানের লাহোর


ঢাকা বায়ুদূষণে বিশ্বে ষষ্ঠ, শীর্ষে পাকিস্তানের লাহোর

বিশ্বের ১২৬টি শহরের মধ্যে দূষণের দিক থেকে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা আজ ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে। এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (আইকিউএয়ার) অনুযায়ী, ঢাকার বায়ুমান ১৬৭ স্কোর নিয়ে ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অন্যদিকে, বিশ্বের দূষিত বায়ুর শহরের তালিকায় প্রথম স্থানে রয়েছে পাকিস্তানের লাহোর, যার বায়ুমান স্কোর ২৬৫। এই বাতাসের মান নাগরিকদের জন্য ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ বলে বিবেচিত হয়।

বুধবার (২১ অক্টোবর) সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুর মান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সের (আইকিউএয়ার) প্রকাশিত সূচক থেকে এই তথ্য জানা যায়। আইকিউএয়ারের এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স অনুযায়ী, এদিন বিশ্বের বায়ুদূষণ শহরগুলোর তালিকার শীর্ষে পাকিস্তানের লাহোর রয়েছে, যার বায়ুমান স্কোর ২৬৫। এই মান নাগরিকদের জন্য ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ বলে ধরা হয়। এছাড়া, বায়ুমান স্কোর ২৫৭ নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ভারতের দিল্লি, ১৮২ স্কোর নিয়ে তৃতীয় স্থানে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর, ১৮১ স্কোর নিয়ে চতুর্থ স্থানে ভারতের মুম্বাই এবং পঞ্চম স্থানে থাকা ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তার স্কোর ১৭৬।

আইকিউএয়ারের মানদণ্ড অনুযায়ী, স্কোর শূন্য থেকে ৫০-এর মধ্যে থাকলে বায়ুর মান ‘অনেক ভালো’ বলে ধরা হয়। ৫১ থেকে ১০০ হলে ‘মাঝারি বা সহনীয়’ এবং ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়। ১৫১ থেকে ২০০ পর্যন্ত স্কোর ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে ধরা হয়। স্কোর ২০১ থেকে ৩০০ হলে তা ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ এবং ৩০১-এর বেশি হলে ‘দুর্যোগপূর্ণ’ বলে গণ্য করা হয়।

আরও পড়ুন: সারাদেশে হাম উপসর্গে আরও ৬ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১,৪৬৬

বাংলাদেশে একিউআই নির্ধারণ করা হয় দূষণের ৫টি বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে, যা হলো বস্তুকণা (পিএম১০ ও পিএম২.৫), এনও২, সিও, এসও২ ও ওজোন (ও৩)। ২০১৯ সালের মার্চ মাসে পরিবেশ অধিদপ্তর ও বিশ্বব্যাংকের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ঢাকার বায়ুদূষণের তিনটি প্রধান উৎস হলো ইটভাটা, যানবাহনের ধোঁয়া ও নির্মাণ সাইটের ধুলা।

ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনের (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, বায়ুদূষণের ফলে স্ট্রোক, হৃদরোগ, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ, ফুসফুসের ক্যান্সার এবং তীব্র শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণের কারণে মৃত্যুহার বেড়ে গেছে। এর ফলে প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী আনুমানিক ৭০ লাখ মানুষ মারা যায়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মিসরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে ১৩ জনের মৃত্যু, আহত ৩৪

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:২৮ এম


মিসরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে ১৩ জনের মৃত্যু, আহত ৩৪

মিসরের রাজধানী কায়রোর পশ্চিমে একটি পর্যটকবাহী বাসের সঙ্গে ট্রাকের সংঘর্ষে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনার ফলে আহত হয়েছেন আরও ৩৪ জন। মঙ্গলবার এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম।

দেশটির সংবাদপত্র আল-আহরাম জানাচ্ছে, কায়রো-আসিউত ওয়েস্টার্ন ডেজার্ট সড়কে বাস ও ট্রাকের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ফলে ১৩ জন নিহত এবং ৩৪ জন আহত হয়েছেন।

বার্তা সংস্থা এএফপির একজন সংবাদদাতা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার পর একটি ক্রেনের সাহায্যে দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া বাসটি সরানো হয়। সংঘর্ষের ফলে বাসটির সামনের অংশ সম্পূর্ণভাবে ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। সড়কজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল বাসের ভাঙা ধাতব অংশ ও অন্যান্য ধ্বংসাবশেষ।

আল-আহরামের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আহত ব্যক্তিদের গিজা এলাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

মিসরে সড়ক দুর্ঘটনা প্রায়শই ঘটে থাকে। বেপরোয়া গাড়ি চালানো, যানবাহনের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং ট্রাফিক আইন প্রয়োগে দুর্বলতা এসব দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

দেশটির সরকারি পরিসংখ্যান সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত বছর মিসরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় ৬ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছে।

সূত্র: আরব নিউজ

আরএ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইতালি বিক্ষোভ ও দাঙ্গা দমনে নতুন আইন জারি করেছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:২৯ এম


ইতালি বিক্ষোভ ও দাঙ্গা দমনে নতুন আইন জারি করেছে

উত্তর ইতালির বিভিন্ন শহরে বিশৃঙ্খলা ও তাণ্ডব ছড়িয়ে পড়ার পর ইতালির সরকার দাঙ্গা ও সহিংসতা দমনে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ইতালি সরকার নতুন নিরাপত্তাব্যবস্থা অনুমোদন করেছে, যার আওতায় বিক্ষোভে সহিংস অংশগ্রহণকে নতুন অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে। দাঙ্গাকারীদের শাস্তি বাড়ানোর পাশাপাশি নাবালকরা যদি ভাঙচুর ও লুটপাটে জড়িত হয়, তবে তাদের বাবা-মাকে আর্থিক দায়ভার বহন করতে হবে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই অধ্যাদেশ উন্মোচন করার সময় ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, "ভাঙচুর ও চুরি কোনো প্রতিবাদ হতে পারে না, এগুলো স্রেফ অপরাধমূলক কাজ।"

অবিলম্বে কার্যকর হওয়া এই নিরাপত্তা প্যাকেজের আওতায়, অন্তত পাঁচজনের কোনো দলে অংশ নিয়ে জননিরাপত্তা বিপন্ন করলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার ইউরো পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। মুখ ঢেকে অপরাধ করা বা কেউ আহত হলে শাস্তির মাত্রা আরো বাড়বে। বিপদের আশঙ্কা থাকলে ১৪ থেকে ১৭ বছর বয়সী কিশোরদের আগাম আটক করা যাবে এবং নাবালকদের করা যেকোনো ক্ষয়ক্ষতির আর্থিক জরিমানা সরাসরি তাদের বাবা-মাকে পরিশোধ করতে হবে।

সম্প্রতি উত্তর ইতালির প্রধান অর্থনৈতিক কেন্দ্র মিলানসহ একাধিক শহরে একদল তরুণ তাণ্ডব চালিয়েছে। তারা দোকানপাটের কাচ ভেঙে লুটপাট করেছে এবং পুলিশ কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা চালিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং নতুন অশান্তির আশঙ্কায় মিলানে ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত পুলিশের পাশাপাশি ৫০০ সেনা মোতায়েন রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

উত্তর ইতালির সহিংসতার পাশাপাশি দেশটির দক্ষিণ অঞ্চলেও চাপ বাড়ছে। জ্বালানি তেলের (ডিজেল) আকাশছোঁয়া দাম ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে ট্রাকচালকরা সড়ক অবরোধ সৃষ্টি করায় ইতালিজুড়ে সরবরাহব্যবস্থা থমকে গেছে। এর প্রভাবে বেশ কিছু পাস্তা কারখানা উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে এবং ফল ও সবজি পচে নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

২০২৭ সালের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে এই অর্থনৈতিক অসন্তোষ ও সহিংসতা মেলোনি সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মন্দিরে অর্থ সহায়তা করলেন আলিনগর ইউপি নির্বাচনে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী কাওসার হাওলাদার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রিপোর্ট-শাহ্ জালাল সরদার, কালকিনি ও ডাসার(মাদারীপুর)

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৩৪ এম


মন্দিরে অর্থ সহায়তা করলেন আলিনগর ইউপি নির্বাচনে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী কাওসার হাওলাদার

শারদীয় দূর্গোৎসব উপলক্ষে হিন্দু সম্প্রদায়ের বেশ কয়েকটি মন্দিরে নগদ অর্থ প্রদান করলেন আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আলিনগর ইউনিয়ন পরিষদ সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী ও সমাজসেবক কালকিনি উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক কাওছার হাওলাদার।
সোমবার সন্ধ্যায় তার নিজ এলাকা আলিনগর ইউনিয়নে অবস্থিত রাজার চর এলাকায় বেশ কয়েকটি মন্দির পরিদর্শন করেন এবং মন্দির কর্তৃপক্ষের হাতে নগদ অর্থ তুলে দেন।

এসময়ে তিনি বলেন, এই রাজার চর দীর্ঘ দিন ধরে অবহেলিত, আপনারা আমাকে সুযোগ দিলে আমি আপনাদের সেবা করতে চাই এবং এই এলাকার উন্নয়নের অংশীদার হতে চাই হতে চাই।
এছাড়াও তিনি আরো বলেন, আলিনগর একটি মারামারি ও সংঘাতময় এলাকা। আমি চাই এখানে কোন সংঘাত থাকবেনা। সবাই মিলেমিশে থাকবে।

এসময়ে আরো উপস্থিত ছিলেন,আলিনগর ইউনিয়ন বিএনপি'র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মনির তালুকদার,
আলিনগর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বেপারী, মাদারীপুর জেলা ছাত্রদলের সদস্য রুবেল খান, ৪ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি নজরুল হাওলাদার,১ নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান হাওলাদারসহ আলিনগর ইউনিয়ন ছাত্র নেতা শোয়েব অহিদ হাওলাদার এলাকার মান্যগন্য ব্যক্তিবর্গ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দেশের ডিসি ও বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ৫.০৭ মেগাওয়াট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৪০ এম


দেশের ডিসি ও বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ৫.০৭ মেগাওয়াট

॥ ওবাইদুর রহমান ॥

ঢাকা, ২১ অক্টোবর, ২০২৬ : দেশের বিভিন্ন জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে স্থাপিত ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার মোট উৎপাদন সক্ষমতা ৫ দশমিক  শূন্য ৭ মেগাওয়াট।

এসব সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা সম্পূর্ণরূপে চালু হলে এবং নেট মিটারিং কার্যকর হলে বিদ্যুৎ বিল সাশ্রয়ের পাশাপাশি জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ নেওয়ার প্রয়োজন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে।

সরকারি প্রতিষ্ঠান ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ কর্মসূচি বাস্তবায়নের অগ্রগতির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত জুন মাসের মধ্যে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়গুলোতে স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার সক্ষমতা ৪ হাজার ৬৬৩ কিলোওয়াট।

অন্যদিকে, পাঁচটি বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে এই সক্ষমতা ৪০৫ দশমিক ৫ কিলোওয়াট বা ৫ দশমিক শূন্য ৭ মেগাওয়াট। এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে সরকারিভাবে মোট ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৫ কোটি ১৪ লাখ ৮৬ হাজার টাকা।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকারি কার্যালয়ের ভবনের ছাদগুলোতে ইতোমধ্যে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা চালু হয়েছে। তবে নেট মিটারিংয়ের অনুমোদনসহ কিছু প্রক্রিয়া এখনো চলমান রয়েছে।

এসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে সৌরবিদ্যুতের সর্বোচ্চ ব্যবহার এবং বিদ্যুৎ বিল সাশ্রয়ের সুযোগ বাড়বে। দিনের বেলায় নিজস্ব চাহিদার একটি অংশ সৌরবিদ্যুৎ থেকে পূরণ করা গেলে জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ নেওয়ার প্রয়োজনও কমতে পারে।

বিভাগ ও জেলাভিত্তিক সক্ষমতা এবং বিভাগওয়ারি ব্যয়:

ঢাকা বিভাগের জেলা কার্যালয়গুলোর মধ্যে কিশোরগঞ্জে সর্বোচ্চ ৩৬০, মানিকগঞ্জে ৭৭, গোপালগঞ্জে ৭৩, ফরিদপুরে ৫৯, ঢাকা ও রাজবাড়ীতে ৫০ করে, শরীয়তপুরে ২৪ এবং গাজীপুরে ১০ কিলোওয়াট সক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা রয়েছে। ঢাকা বিভাগের জেলাগুলোতে এই প্রকল্পে মোট ব্যয় হয়েছে ২ কোটি ৮৮ লাখ ৪১ হাজার টাকা।

খুলনা বিভাগের জেলা কার্যালয়গুলোর মধ্যে খুলনায় সর্বোচ্চ ১৮০, মেহেরপুরে ৮০, ঝিনাইদহ ও নড়াইলে ৬০ করে এবং বাগেরহাটে ৫০ কিলোওয়াট সক্ষমতা রয়েছে। এই বিভাগে মোট ব্যয় হয়েছে ২ কোটি ৭৪ লাখ ৬৩ হাজার টাকা। এছাড়া বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে ২০০ কিলোওয়াট সক্ষমতা স্থাপনে ব্যয় হয়েছে ৭৮ লাখ ৯৭ হাজার টাকা।

রংপুরের জেলা কার্যালয়গুলোর মধ্যে দিনাজপুরে ১৫১, গাইবান্ধায় ১২২, ঠাকুরগাঁওয়ে ৫০, নীলফামারীতে ৪৮, কুড়িগ্রামে ৪৫, রংপুরে ২৯, পঞ্চগড়ে ২৫ এবং লালমনিরহাটে ২০ কিলোওয়াট সক্ষমতা রয়েছে। এই বিভাগে মোট ব্যয় হয়েছে ২ কোটি ৮ লাখ ৫২ হাজার টাকা। বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে ৭৭ দশমিক ৫ কিলোওয়াট সক্ষমতায় ব্যয় হয়েছে ৩৬ লাখ ৮৭ হাজার টাকা।

রাজশাহী বিভাগের জেলা কার্যালয়গুলোর মধ্যে সিরাজগঞ্জে ১৫০, নওগাঁয় ১০৫, বগুড়ায় ১০০, রাজশাহীতে ৫০, পাবনায় ৪৭.২৬, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩০ করে এবং জয়পুরহাটে ১৩.১২৫ কিলোওয়াট সক্ষমতা রয়েছে। এই বিভাগে মোট ব্যয় হয়েছে ২ কোটি ৪৮ লাখ ৯৯ হাজার টাকা। আর বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে ৩৮ কিলোওয়াট সক্ষমতায় ব্যয় হয়েছে ১৮ লাখ ২১ হাজার টাকা।

সিলেট বিভাগের জেলা কার্যালয়গুলোর মধ্যে মৌলভীবাজারে ১৮০, সিলেটে ১০০, সুনামগঞ্জে ৯০ এবং হবিগঞ্জে ১০ কিলোওয়াট সক্ষমতা রয়েছে। এই বিভাগে মোট ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ৫৪ লাখ ৮ হাজার টাকা।

বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে ৭০ কিলোওয়াট সক্ষমতায় ব্যয় হয়েছে প্রায় ২৭ লাখ ৩৩ হাজার টাকা।

চট্টগ্রাম বিভাগের জেলা কার্যালয়গুলোর মধ্যে নোয়াখালীতে ২২৫, কক্সবাজারে ৮৫, চাঁদপুরে ৫০, ফেনীতে ৪৫, বান্দরবানে ৪১ এবং চট্টগ্রাম জেলায় ৩৯ কিলোওয়াট সক্ষমতা রয়েছে। এই বিভাগে মোট ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ২৮ লাখ ৯৪ হাজার টাকা।

বরিশাল বিভাগের জেলা কার্যালয়গুলোর মধ্যে বরগুনায় ৬০ এবং পিরোজপুর, পটুয়াখালী ও ঝালকাঠিতে ৫০ কিলোওয়াট করে সক্ষমতা রয়েছে। এই বিভাগে মোট ৪১ লাখ ২১ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে ২০ কিলোওয়াট সক্ষমতায় ব্যয় হয়েছে ৮ লাখ ৭০ হাজার টাকা।

ময়মনসিংহ বিভাগের জেলা কার্যালয়গুলোর মধ্যে জামালপুর ও নেত্রকোনায় ১০০ করে, শেরপুরে ৬০ এবং ময়মনসিংহ জেলায় ৫০ কিলোওয়াট সক্ষমতা রয়েছে। তবে এই বিভাগে ব্যয়ের কোনো হিসাব পাওয়া যায়নি।

ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার সক্ষমতা ও ব্যয়ের তথ্য পাওয়া যায়নি।

ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় ভাড়া ভবনে পরিচালিত হওয়ায় সেখানে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা সম্ভব হয়নি।

এ ছাড়া ঢাকা বিভাগের টাঙ্গাইল, মাদারীপুর, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জে দরপত্র আহ্বান করা হলেও সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা যায়নি। খুলনা বিভাগের চুয়াডাঙ্গায় বরাদ্দের তুলনায় দরপত্রের প্রস্তাবিত মূল্য বেশি হওয়ায় কাজ এগোয়নি। বরিশাল বিভাগের ঝালকাঠিতে বরাদ্দ থাকলেও অর্থ ব্যয় করা হয়নি।

অন্যদিকে, বরিশাল ও ভোলা এবং চট্টগ্রাম বিভাগের ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, খাগড়াছড়ি, লক্ষ্মীপুর ও রাঙামাটিতে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার সক্ষমতার তথ্য পাওয়া যায়নি।

ক্যাপেক্স মডেল ও বিদ্যুৎ বিল সাশ্রয়:

সরকার নিজস্ব অর্থায়নে অর্থাৎ ‘ক্যাপেক্স মডেল’-এ এই ব্যবস্থাগুলো স্থাপন করেছে। এর মাধ্যমে কার্যালয়গুলো দিনের বেলায় নিজস্ব চাহিদার একটি অংশ সৌরবিদ্যুৎ থেকে পূরণ করছে, যা গ্রিডের ওপর চাপ ও বিদ্যুৎ বিল কমাচ্ছে। নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ গ্রিডে সরবরাহের সুযোগ রয়েছে। তবে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়গুলোর নেট মিটারিংয়ের আবেদন এখনো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) শরীয়তপুর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ২৪ কিলোওয়াট সক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। তবে নেট মিটারিংয়ের আবেদন প্রক্রিয়াধীন থাকায় উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুতের বিপরীতে বিল সমন্বয় এখনো শুরু হয়নি।

ওজোপাডিকো আরও জানায়, শরীয়তপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রতি মাসে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৫ হাজার ইউনিট। ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা চালুর পর থেকে প্রতি মাসে প্রায় ৮০০ ইউনিট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। ফলে গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ নেওয়ার প্রয়োজন কমছে এবং কার্যালয়টির বিদ্যুৎ বিল সাশ্রয়ে ভূমিকা রাখছে।

ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিসের (আইইইএফএ) লিড অ্যানালিস্ট শফিকুল আলম বাসসকে বলেন, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের ছাদে স্থাপিত ৫ মেগাওয়াটের বেশি সক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা জাতীয় পর্যায়ে খুব বড় অবদান না হলেও এগুলোকে কার্যকরভাবে কাজে লাগানো গেলে অন্যান্য সরকারি ও বেসরকারি ভবনে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে দৃষ্টান্ত তৈরি হবে।

তিনি বলেন, ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের প্রসারে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও গ্রামীণ পর্যায়ে আরও গুরুত্ব দিতে হবে।

একই সঙ্গে নেট মিটারিং সংযোগ দিতে দীর্ঘসূত্রতা এড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন ও নেট মিটারিং সংযোগের কার্যক্রম সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।

মেহেরপুরের জেলা প্রশাসক শিল্পী রানী রায় বাসস’কে বলেন, সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের উদ্যোগের আওতায় মেহেরপুরে ইতোমধ্যে ৮০ কিলোওয়াট সক্ষমতার ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো গেলে জাতীয় গ্রিডের ওপর বিদ্যুতের চাহিদাজনিত চাপ কমাতে সহায়তা করবে। বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মোকাবিলা ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে এগিয়ে যাওয়ার বিকল্প নেই। এ ক্ষেত্রে সরকারি ভবনের ছাদ কাজে লাগিয়ে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বর্তমান সরকার নির্বাচনী ইশতেহারে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে অগ্রাধিকার দিয়ে ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র ২০২৬-২০৩০’ গ্রহণ করেছে। কৌশলপত্রে ২০৩০ সালের মধ্যে সাড়ে ১০ হাজার মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যার মধ্যে সাড়ে ৫ হাজার মেগাওয়াট আসবে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে।

টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (স্রেডা) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের মোট সক্ষমতা ১ হাজার ৯৩৫ মেগাওয়াট।

এর মধ্যে সৌরবিদ্যুতের অবদান ১ হাজার ৬৪২ মেগাওয়াট, যা নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের মোট সক্ষমতার বড় অংশ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৭
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%